| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে তাঁরা পৌঁছে যাচ্ছেন গন্তব্যে। আমরা সাধারণত সবাইকেই বলি—তিনি পাহাড়ে উঠেছেন, তিনি মাউন্টেনিয়ার।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, পাহাড়ে উঠলেই কি কেউ মাউন্টেনিয়ার হয়ে যান?
একজন মানুষ পাহাড়ে চড়তে পারেন, কিন্তু তিনি মাউন্টেনিয়ার নাও হতে পারেন। কারণ মাউন্টেনিয়ারিং কেবল একটি গন্তব্যে পৌঁছানোর বিষয় নয়; এটি একটি শৃঙ্খলা, একটি দক্ষতা, একটি দর্শন।
পাহাড়ে চড়ার মূল লক্ষ্য সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট শৃঙ্গ বা ভিউপয়েন্টে পৌঁছানো। পথ আগে থেকেই জানা থাকে, অনেক সময় স্থানীয় গাইড থাকে, ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে এবং সফলতা মাপা হয় চূড়ায় পৌঁছানোর মাধ্যমে।
মাউন্টেনিয়ারিং ভিন্ন। এখানে শুধু শিখরে ওঠা নয়, বরং প্রশ্ন হলো—কীভাবে উঠলেন? কোন রুট বেছে নিলেন? আবহাওয়া কীভাবে পড়লেন? বিপদ মোকাবিলা করলেন কীভাবে? বরফ, হিমবাহ, খাড়া পাথর, তুষারধস বা ক্রেভাসের মতো ঝুঁকির মধ্যে নিজের ও সঙ্গীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেন কীভাবে?
একজন মাউন্টেনিয়ারকে দড়ি ব্যবহার জানতে হয়, উদ্ধার কৌশল জানতে হয়, নেভিগেশন জানতে হয়, আবহাওয়া বুঝতে হয়, ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হয়। অনেক সময় তাঁকে এমন পথও তৈরি করতে হয় যেখানে আগে কোনো পথ ছিল না।
সবচেয়ে বড় পার্থক্য সম্ভবত মানসিকতায়।
পাহাড়ে চড়ার ক্ষেত্রে চূড়া গন্তব্য। মাউন্টেনিয়ারিংয়ে চূড়া কেবল যাত্রার একটি অংশ। একজন মাউন্টেনিয়ার জানেন, শিখরে পৌঁছানো সাফল্যের অর্ধেক; নিরাপদে ফিরে আসাই আসল সাফল্য।
এই কারণেই পৃথিবীর অনেক কিংবদন্তি মাউন্টেনিয়ার কখনো তাঁদের জয় করা শৃঙ্গের সংখ্যা দিয়ে নিজেদের পরিচয় দেননি। তাঁরা পরিচিত হয়েছেন তাঁদের বিচারবোধ, প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা এবং পাহাড়ের প্রতি শ্রদ্ধার জন্য।
পাহাড়ে চড়া একটি কার্যক্রম হতে পারে। মাউন্টেনিয়ারিং একটি জীবনদর্শন।
তাই কেউ যদি পাহাড়ে ওঠেন, তাঁকে সম্মান জানানো উচিত। কিন্তু তাঁকে মাউন্টেনিয়ার বলার আগে হয়তো আমাদের ভাবতে হবে—তিনি কি শুধু পাহাড়ে উঠেছেন, নাকি পাহাড়কে বুঝতেও শিখেছেন?
©somewhere in net ltd.