নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

খায়রুল আহসান

অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।

খায়রুল আহসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাতিঘর (Lighthouse)

০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ চোখে কোন বাতিঘর কখনো দেখিনি। শুধু ছোটবেলায় বড় ভাই বোনেরা যখন সাধারণ জ্ঞান সম্বন্ধে পড়তে গিয়ে কোন এলাকা কিসের জন্য বিখ্যাত, সেই তালিকাটা জোরে জোরে পড়তেন, তখন জেনেছিলাম যে আমাদের দেশে একমাত্র বাতিঘরটি আছে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া নামক একটি দ্বীপে। মূল ভুখণ্ড থেকে কুতুবদিয়া চ্যানেল দ্বারা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুতুবদিয়া শুধুমাত্র ঐ একটি কারণেই বিখ্যাত ছিল। ‘বাতিঘর’ কী, বড়দেরকে জিজ্ঞাসা করে সে সম্বন্ধেও একটা মোটামুটি ধারণা পেয়েছিলাম, যদিও ধারণাটি পরিপূর্ণ ছিল না। যাহোক, যত বড় হতে থাকলাম, মুভিতে কোন বাতিঘর দেখলেই কিংবা গল্প উপন্যাসে বাতিঘর সম্পর্কে কিছু পড়লেই বিস্ময়াভিভূত হয়ে থেমে যেতাম এবং বাতিঘর নিয়ে ভাবতাম। যে সকল নাবিক আঁধার রাতে এত বড় একটা জাহাজ নিয়ে উত্তাল সাগর পাড়ি দেয়, বাতিঘর দেখে তাদের মনে কেমন অনুভূতি জাগ্রত হয়? বাতিঘরবিহীন পথটা তাদের জন্য কি খুবই বিপদ-সংকুল হতো? যে মানুষগুলো কষ্ট করে প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার আগেই বাতিঘরে আলো জ্বালিয়ে দিত, তাদের প্রতি কি তারা কোন কৃতজ্ঞতা অনুভব করতো?

এ বছরের জানুয়ারি মাসে ফটোগ্রাফী সংক্রান্ত একটি ফেসবুক গ্রুপের (Dilettante Photographers Society- DPS) কিছু ছবির উপর চোখ বুলাচ্ছিলাম। সেখানে প্রতিভাবান ফটোগ্রাফার জনাব দুলাল উল্লাহ San Diego, California’র The Old Point Loma Lighthouse এর কিছু ছবি পোস্ট করেছিলেন। ছবিগুলো আমাকে ভীষণভাবে আকর্ষণ করেছিল। একটি ছবিতে দেখা যায়, আকাশে ঘনায়মান কালো মেঘ, মেঘকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে তিনটে পাখি মনের সুখে আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে। সুউচ্চ বাতিঘরের শীর্ষে ঠিক পেছনেই ছিল বাতিঘর রক্ষকের জন্য নির্মিত দু’কক্ষ বিশিষ্ট আবাস। আর তার পেছনে মাটির ঢালে ফুটে ছিল কাশফুলের ন্যায় কিছু সাদা সাদা ফুল। মনে প্রশ্ন জেগেছিল, জনমানবহীন বিরাণ এ ভূমিতে কে ফুল গাছ লাগায়? এগুলো কি অযত্নে বেড়ে ওঠা বনফুল? বাতিঘরের তত্ত্বাবধানে যে দু’জন মানব মানবী ভূমি থেকে এতটা উচ্চে এখানে একাকী বসবাস করেন, তারা বছরের পর বছর দিনের বেলায় সময় কাটান বিভাবে? (সাধারণতঃ যিনি বাতিঘর রক্ষক থাকেন, প্রশাসনিক সুবিধার্থে তার স্ত্রীকেই সহকারী রক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে।) রাতের বেলায় তো তাদের ব্যস্ত থাকতে হয় বাতিঘর অতিক্রমকারী নৌযানগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে এবং তাদের সাথে পারস্পরিক আলো বিচ্ছুরণ ও সাংকেতিক বার্তা বিনিময় করে।

দুলাল উল্লাহ সাহেবের পোস্টকৃত The Old Point Loma Lighthouse এর ছবিটা দেখতে দেখতে কিছুটা গুগল সার্চ করে এ সম্বন্ধে আরেকটু বিশদ জানলাম। এটি San Diego, California এর নৌপথের একটি ঐতিহ্য এবং বাতিঘরের এক টুকরো আদি ইতিহাস। পয়েন্ট লোমা উপদ্বীপের শীর্ষে অবস্থিত এই আলোকস্তম্ভটি বাতিঘরের একটি আইকনিক প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। দর্শনার্থীগণ এখানে এসে উপকূলীয় নৌ চলাচল ব্যবস্থার বিবর্তন সম্পর্কে এবং বাতিঘর রক্ষকদের কঠিন জীবন প্রণালী সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেতে পারেন। এই বাতিঘরের নির্মাণ কার্য সম্পন্ন হয়েছিল ১৮৫৫ সালের অক্টোবর মাসের মধ্যেই। কিন্তু এখানে প্রথম দীপশিখাটি জ্বালানো হয়েছিল ১৫ নভেম্বর ১৮৫৫ এর সূর্যাস্তের ঠিক আগে আগে। সাংকেতিক ক্রমসংখ্যা হিসেবে এটির নম্বর ছিল ৩৫৫। এটি ইউএসএ’র পশ্চিম ঊপকূলের (ওয়েস্ট কোস্ট) প্রথম আটটি বাতিঘরের মধ্যে অন্যতম ছিল। ৩৬ বছর ধরে সামুদ্রিক জাহাজ ও নাবিকদেরকে নিরাপদে স্যান ডিয়েগো উপসাগরে পৌঁছে দেয়ার পর এ বাতিঘরটিকে স্থানীয় আকাশ ঘন ঘন অত্যন্ত কুয়াশাচ্ছন্ন হওয়া ও নিম্নভাসী মেঘের (লো-ক্লাউড) আধিক্যের কারণে ১৮৯১ সালে ডি-কমিশন করা হয়। যদিও সমুদ্রতট থেকে নিকটতর একটি এলাকায় আরেকটি নতুন বাতিঘর নির্মাণ করা হয়, পুরাতন পয়েন্ট লোমা বাতিঘরটি আজও একটি ঐতিহাসিক সামুদ্রিক নিদর্শন হিসেবে সমুদ্রপ্রেমী মানুষের মনে রয়ে গেছে এবং মেরিটাইম ইতিহাসেও একটি আইকনিক ভূমিচিহ্ন হিসেবে এটি ঠাঁই পেয়েছে।

Old Point Loma Lighthouse Tower টি যতদিন অপারেশনে ছিল, ততদিন এটাই ছিল ইউএসএ’র সর্বোচ্চ বাতিঘর। একটি খাড়া পাহাড়ের ৪০০ ফিট উঁচু কিনারায় (Cliff এ) অবস্থিত হবার কারণে এটা প্রায়শঃই ঘন কুয়াশা ও লো-ক্লাউড দ্বারা আচ্ছাদিত থাকতো। ফলে, কাছে না আসা পর্যন্ত অতিক্রমকারী নৌযানগুলো থেকে এর আলো দেখা যেত না। তখন বাতিঘরে কর্তব্যরত ব্যক্তি শটগানের গুলি ছুঁড়ে নৌযানের চালকদেরকে হুঁশিয়ার করে দিত। এ কারণে নিকটবর্তী এলাকায় আরও কম উচ্চতায় আরেকটি বাতিঘর নির্মাণ করে ২৩ মার্চ ১৮৯১ তারিখে সেখানে আলো জ্বালিয়ে একই তারিখে এই বাতিঘরের আলো চিরতরে নির্বাপিত করা হয়। তবে এই বাতিঘরটি উদ্বোধনের ১৩০ তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আলো নির্বাপনের ৯৩ বছর পর ১৯৮৪ সালে আবার এটির আলো জ্বালিয়ে ৩০০০ অভ্যাগত দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়। তাদের মধ্যে প্রাক্তন বাতিঘর রক্ষক রবার্ট ইসরায়েল ও মারিয়া ইসরায়েল এর পারিবারিক বংশোদ্ভভূত শতাধিক ব্যক্তি আমন্ত্রিত ছিল। ‘ইসরায়েল’ নামটিকে আমরা একটি দেশের নাম হিসেবে চিনলেও, এখানে উল্লেখিত নামটি মানুষের নামের অংশ বিশেষ।

আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ার পিটসবার্গে জন্ম নেয়া Robert Decatur Israel ছিলেন এই পুরনো বাতিঘরের সর্বশেষ ও সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী (১৮ বছরব্যাপী) লাইটহাউসকীপার। তার বাবা ছিলেন ওলন্দাজ বংশোদ্ভভূত এবং মা স্কচ-আইরিশ। তিনি ধর্মবিশ্বাস মতে ইহুদি ছিলেন না, যদিও নামের কারণে অনেকে তাকে তাই মনে করে থাকেন। বিখ্যাত Battle of Chapultepec সহ তিনি মেক্সিকান-আমেরিকান যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। একজন খৃষ্টীয় ধর্মযাজকের হাতে ১৮৫২ সালে মারিয়ার সাথে তাদের বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তাদের চার পুত্রসন্তান ছিল। ওদেরকে নিয়েই তারা বাতিঘর সংলগ্ন নিবাসে সংসার পাতেন এবং ১৮ বছর সেখানে স্থায়ী ছিলেন। কোন ব্যত্যয় ব্যতিরেকে প্রতিদিন সন্ধ্যার আগেই বাতিঘরে আলো জ্বালানো ছিল তাদের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য। সেখানেই তারা তাদের সন্তানাদি ও নাতি-নাতনিদের বড় হওয়া প্রত্যক্ষ করেন। ১২ জানুয়ারি ১৯০৮ সালে রবার্ট ইসরায়েল মৃত্যুবরণ করেন। তাদের বংশধরগণ এখনও নতুন বাতিঘরটিতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে আসেন।

এবারে আবার ফিরে আসি আমাদের দেশের বাতিঘরের কথায়। কুতুবদিয়া বাতিঘর বাংলাদেশের একটি প্রাচীন বাতিঘর, যা কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপে অবস্থিত। এটি বঙ্গোপসাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে দিকনির্দেশনা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং দেশের একমাত্র দ্বীপভিত্তিক বাতিঘর হিসেবে পরিচিত। এটির নির্মাণকাজ ১৮২২ সালে শুরু হয়ে ১৮৪৬ সালে সম্পন্ন হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এই বাতিঘরটি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরবর্তীতে এটি একটি নতুন কাঠামো দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। এটি ছাড়াও স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে আরও ৬টি বাতিঘর বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হয়। যেমনঃ কক্সবাজার বাতিঘর, হিরণ পয়েন্ট বাতিঘর, পতেঙ্গা বাতিঘর, নর্মান পয়েন্ট বাতিঘর, সেন্ট মার্টিনস বাতিঘর, চট্টগ্রাম আউটার বার রেঞ্জ বাতিঘর, ইত্যাদি।

একটি বাতিঘরের কাজ কী? প্রধান কাজ হলো সমুদ্রে অথবা অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী নৌযানকে এবং মেরিটাইম পাইলটদেরকে আলোর সংকেতের মাধ্যমে আঁধারে পথ দেখানো। এছাড়া তট সংলগ্ন বিপজ্জনক চোরা বালুচর, প্রবাল প্রাচীর ইত্যাদি সম্পর্কে ওদেরকে সতর্ক করা। একটু ভাবলেই আমরা অনুভব করতে পারি যে আমাদের এই জীবন তরীতে চলার পথেও আমরা এক বা একাধিক বাতিঘরের সন্ধান পাই, যে বা যারা একই ধরণের কাজ করে আমাদেরকে আমাদের জীবনযাত্রা সম্পন্ন করতে সহায়তা করে। একটু ভেবে দেখুন তো, আপনার জীবন পরিক্রমায় আপনি এইরূপ কয়টা ‘বাতিঘর’ এর সন্ধান পেয়েছেন? আঁধার পাড়ি দেয়ার সময় আলোর ইশারা পেয়েছেন? আজ থেকে বহুকাল পূর্বে যখন বাতিঘর ছিল না, তখন নৌ-চলাচলের সময় নাবিকগণ ‘ধ্রবতারা’ এর সাহায্য নিয়ে রাতের আঁধারে দিক নির্ণয় করতেন। কবিগুরু বলে্ছেন, "তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা, এ সমুদ্রে আর কভু হব নাকো পথহারা"! আসল ধ্রবতারাকে তো আকাশে খুঁজলেই পাওয়া যায়। কিন্তু সত্যিই কি কবির উপমার এ ধ্রবতারাকে এ জীবনে কখনো খুঁজে পাওয়া যায়?

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া।
ছবিসূত্রঃ প্রথম দুটোর জনাব দুলাল উল্লাহ, বাকিদুটোর গুগল সার্চ।

উৎসর্গঃ পোস্টটি আমার সকল প্রাক্তন ও বর্তমান সমুদ্রগামী নাবিক বন্ধু, অগ্রজ ও অনুজদের প্রতি এবং পৃথিবীর সকল বাতিঘরে কর্মরত রক্ষকদের (লাইটহাউস কীপার্স) প্রতি উৎসর্গিত হলো।


ঢাকা
০৬ অগাস্ট ২০২৬
শব্দ সংখ্যাঃ ১০৮৩




আকাশে ঘনায়মান কালো মেঘ, মেঘকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে তিনটে পাখি মনের সুখে আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে।
মাটির ঢালে ফুটে ছিল কাশফুলের ন্যায় কিছু সাদা সাদা ফুল। মনে প্রশ্ন জেগেছিল, জনমানবহীন বিরাণ এ ভূমিতে কে ফুল গাছ লাগায়? এগুলো কি অযত্নে বেড়ে ওঠা বনফুল?

বাতিঘর এর চূড়া, এবং তার পেছনেই বাতিঘর রক্ষকের নির্জন নিবাস।

আঁঁধার রাতের আলো, নাবিকের দিশারী।

নাবিকের যাত্রাপথ সহজগম্য করে দেয় বাতিঘর রক্ষকদের কঠিন, ব্রতচারী কর্তব্যপালন।


নির্জন সাগরে, নিস্তব্ধ তিমিরে, একা দাঁড়িয়ে, পথের দিশারী হয়ে……

উত্তাল সাগরের উৎফুল্ল হিল্লোলের মাঝে, একাকী দাঁড়িয়ে ……

বিচ্ছিন্নতা ও নির্জনতার যুগল সাক্ষী - আবাসস্থল ও কর্মস্থল....

মন্তব্য ২১ টি রেটিং +৭/-০

মন্তব্য (২১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৫০

রাজীব নুর বলেছেন: ও আচ্ছা!! এই ব্যাপার।
জানলাম বিষয়টা।

০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৪৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: জ্বী, আচ্ছা।

২| ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৯

এম ডি মুসা বলেছেন: আমাদের বাংলাদেশের মানুষের কালচার এটাই ভিন্ন। রবার্ট ইসরাইলের মৃত্যু অর্থাৎ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে আসা। আমাদের দেশের মানুষগুলি আসলে আমরা যতটা নিয়ে গর্ব করি এত কত কবিতা লেখি। আসু কি আসলে কি জাতি হিসেবে অতটা শুদ্ধ হতে পারছি।

০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার বাক্যগুলো পড়ে আপনি ঠিক কী বলতে চাচ্ছেন, তা বোঝা যাচ্ছে না। কেননা, আপনার বাক্যগুলো কোনটাই সম্পূর্ণ নয় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোন সহজবোধ্য sense carry করে না।
তবুও, পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

৩| ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩

শেরজা তপন বলেছেন: অনেকেই এই বিচ্ছিন্ন একাকী জীবন পছন্দ করেন। সাধু-সন্ন্যাসীদের জন্য সেরা জায়গা।
ছবিগুলো চমৎকার- ক্যাপশানও দারুন হয়েছে।

০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: "সাধু-সন্ন্যাসীদের জন্য সেরা জায়গা" - হুম, তবে তারা তাদের অনুসারী/শিষ্য (ফলোয়ার্স) পাবেন কোথায়? শিষ্য না থাকলে গুরুকে/সাধুকে ভক্তি করবে কে?
"ছবিগুলো চমৎকার- ক্যাপশানও দারুন হয়েছে" -- অনেক ধন্যবাদ জানবেন।

৪| ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩০

ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: ইংল্যান্ডেন উলফ রক লাইটহাউজ -এর উপর একটা প্রামাণ্যচিত্র দেখেছিলাম মাস দু'য়েক আগেই। মূল ভূ-খন্ড থেকে বেশ দূরে আটলান্টিক সমুদ্রের মধ্যে একটা পাথরখন্ডের ছোট্ট দ্বীপের উপর নির্মিত এই লাইটহাউজ, বেশ ইউনিক। সময় করে ভিডিওটি দেখতে পারেন, ভালোলাগবে।

আমার জীবনের একমাত্র বাতিঘর ছিলেন আমার বাবা। আজ তিনি নেই, তবে তিনি গত হওয়ার পরে এখন ধ্রুবতারা হয়েও আমাকে জীবনের বাকি পথ চলার নির্দেশনা দিচ্ছেন বলেই আমি মনে করি। তার পরিশ্রমী জীবন, অন্যায়ের প্রতি আপোষহীন থাকা, তার নীতি-আদর্শ, সততা এবং সর্বোপরি তার পুরো জীবনটাই আমার জন্য একটা গাইডলাইন। তার মতো হওয়া সম্ভব নয়, তবুও আমি তার মতোই হতে চেষ্টা করে যাবো। ওপারে যদি কাউকে আবারও "বাবা" বলে সম্বোধন করা যায়, তবে আমি তাকেই আবারও "বাবা" হিসেবে চাইবো। মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করি, যেন তিনি আমার বাবাকে শান্তিতে রাখেন, জান্নাত নসিব করান যেন সেখানেই আমি আবার তার দেখা পাই।

০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার জীবনের একমাত্র বাতিঘর, আপনার বাবাকে নিয়ে যে কথাগুলো বললেন, তা পড়ে বেশ ভালো লাগল। আপনার বাবার মাগফিরাত কামনা করছি।
প্রামাণ্যচিত্রটি পরে সময় করে দেখবো। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

৫| ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৫৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



বাতিঘর নিয়ে লেখাটি পড়তে পড়তে মনে হলো, বাতিঘর আসলে শুধু সমুদ্রের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা একটি স্থাপনা
নয় এ যেন অন্ধকারে পথ হারানো মানুষের প্রতি দূর থেকে জ্বলে থাকা এক নীরব আশ্বাস। ছোটবেলার কৌতূহল
থেকে শুরু করে কুতুবদিয়ার বাতিঘর, জেলেদের জীবন, উত্তাল সমুদ্র আর রাতের অন্ধকারে জ্বলে ওঠা সেই আলো,
আপনার স্মৃতিচারণে বাতিঘরটি যেন ধীরে ধীরে একটি স্থাপনা থেকে জীবন্ত চরিত্র হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে যে প্রশ্নগুলো লেখাটি মনে জাগিয়ে দেয়, সেগুলো খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ঝড়-ঝঞ্ঝার রাতে উত্তাল সমুদ্র পাড়ি
দেওয়া নাবিকেরা বাতিঘরের আলো দেখলে ঠিক কী অনুভব করতেন? যে মানুষগুলো প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার আগেই
বাতিঘরে আলো জ্বালিয়ে দিতেন, তাঁদের প্রতি আমরা কতটা কৃতজ্ঞতা অনুভব করেছি? তাঁদের অদৃশ্য শ্রমের ওপর
কত শত মানুষের নিরাপদ ঘরে ফিরে আসা নির্ভর করত ,সেই ইতিহাস কি আমরা যথেষ্ট মনে রেখেছি?

ভাবতে ভালো লাগে, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বাতিঘরগুলো হয়তো ভিন্ন ভিন্ন ভূগোল ও ইতিহাসের সাক্ষী, কিন্তু তাদের
ভাষা এক অন্ধকারের মধ্যে আলো দেখানো।

এই প্রসঙ্গে বিশ্বের প্রাচীনতম এখনও কার্যকর বাতিঘর হারকিউলিসের টাওয়ার-এর কথা মনে পড়ে। স্পেনের গ্যালিসিয়া
অঞ্চলের আ করুণা শহরের সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন রোমান বাতিঘরটি প্রায় দুই হাজার বছরের ইতিহাস
বুকে ধারণ করে আজও আলো জ্বালিয়ে চলেছে। ২০০৯ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি
দেয়। এত দীর্ঘ সময় পেরিয়েও তার আলো নিভে যায়নি এ যেন সময়ের কাছে আলোর এক অসাধারণ জয়।

কুতুবদিয়ার বাতিঘর হোক কিংবা দূর স্পেনের হারকিউলিসের টাওয়ার ,দুটির গল্পের ভেতরেই যেন একই মানবিক
বার্তা লুকিয়ে আছে। বাতিঘর নিজে কোথাও যায় না, অথচ তার আলো বহু দূরের মানুষকে পথ দেখায়। সে নিজে
সমুদ্রে নামে না, কিন্তু সমুদ্রযাত্রীর নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের নীরব সঙ্গী হয়ে থাকে।

তাই বাতিঘরকে শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা হিসেবে দেখলে তার আসল সৌন্দর্যটুকু হয়তো ধরা পড়ে না। বাতিঘর
আমাদের মনে করিয়ে দেয়,অন্ধকার যত গভীরই হোক, দূরে কোথাও একটি আলো জ্বলতেই পারে; আর সেই
আলো কখনো কখনো শুধু পথ নয়, আশা, নিরাপত্তা এবং ঘরে ফেরার স্বপ্নও দেখায়।

আপনার লেখাটি সেই পুরোনো আলোকে নতুন করে দেখার একটি সুন্দর সুযোগ করে দিল। কুতুবদিয়ার বাতিঘর
নিয়ে শৈশবের যে কৌতূহল দিয়ে আপনার যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত যেন পৃথিবীর সব বাতিঘরের প্রতি
এক গভীর মমতায় এসে মিশেছে।

সুন্দর পেস্টটির জন্য ধন্যবাদ ।

শুভকামনা রইল

০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

খায়রুল আহসান বলেছেন: ধন্যবাদ, ডঃ এম এ আলী, চমৎকার এ মন্তব্যটির জন্য। মন্তব্যের প্রথম লাইনটিই একটি অনস্বীকার্য, কাব্যিক দর্শন।
এই পোস্টটা আমার বন্ধুমহলকে ঘিরে একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও পোস্ট করেছিলাম। সেখানে এটা আমেরিকা প্রবাসী আমার এক অবসরী মেরিন ক্যাপ্টেন বন্ধুর নজরে পড়াতে সে একটা বার্তায় আমাকে জানিয়েছে, লেখাটা কিভাবে তাকে নাড়া দিয়ে গেছে। তার বার্তাটাা এখানে তুলে দিলাম।

Thank you for your beautifully written words about the lighthouse and what it means to those of us who have spent our lives at sea. Your reflection captured not only the lighthouse as a guiding beacon but also its enduring place in the hearts and memories of ocean-going mariners like me.

Reading your tribute brought back countless memories of voyages where the reassuring flash of a lighthouse meant safety, hope, and the promise of land after days at sea. You expressed those emotions with remarkable warmth and understanding.

I truly appreciate your thoughtful tribute. Thank you for honoring a symbol that has guided generations of seafarers and continues to shine brightly in our memories.

With heartfelt gratitude and warm regards.
XXXXX

যে অনুভূতি নিয়ে লেখাটা লিখেছিলাম, সে অনুভূতির অনুরণন তার এ লেখাটিতেও পেয়েছি। তবে পার্থক্য এই যে, সে একজন সমুদ্রচারী নাবিক ছিল, আর আমি হ'লাম ডাঙার মানুষ। আমার অনুভব শুধুমাত্র কল্পনায়, তারটা বাস্তব চোখে ও অভিজ্ঞতায়। সে জন্যেই তার কথাগুলো হৃদয়স্পর্শী হয়েছে। লেখাটি তার স্মৃতিকে অতীত নাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছে দেখে আমি প্রীত ও প্রাণিত হয়েছি।

HSC এর পর মেরিন একাডেমিতে যাবার আমারও ইচ্ছে ছিল। কিন্তু যেদিন লিখিত পরীক্ষা, সেদিন এমন চোখ ওঠা উঠলো যে ঘর হতে বের হবার উপক্রম ছিল না। পরীক্ষাটা মিস করেছিলাম। কিন্তু সমুদ্র, নাবিকদের চ্যালেঞ্জিং জীবন, তাদের মনস্তত্ত্ব, ইত্যাদি প্রায়ই কেন যেন আমার ভাবনায় ও অন্তরদৃষ্টিতে ঘুরে ফিরে আসে। সমুদ্র ও তার জলরাশির গতিবিধি স্রষ্টার এক অপার বিস্ময়; হয়তো বা সে জন্যেই। কবিতাঃ নাবিকের মনের নোঙর নামে একটা কল্পনাপ্রসূত কবিতা লিখেছিলাম। সেটা পড়েও অনেক চেনা অচেনা নাবিক বন্ধু তদের অনুভূতির কথা জানিয়েছিল।

০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: "ভাবতে ভালো লাগে, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বাতিঘরগুলো হয়তো ভিন্ন ভিন্ন ভূগোল ও ইতিহাসের সাক্ষী, কিন্তু তাদের ভাষা এক, অন্ধকারের মধ্যে আলো দেখানো" - চমৎকার একটি পর্যবেক্ষণ এবং তার প্রকাশ!

প্রায় দুই হাজার বছরের বিশ্বের প্রাচীনতম কিন্তু এখনও কার্যকর বাতিঘর হারকিউলিসের টাওয়ার এর ছবি দেখে ও ইতিহাস জেনে মুগ্ধ হলাম।

"এত দীর্ঘ সময় পেরিয়েও তার আলো নিভে যায়নি, এ যেন সময়ের কাছে আলোর এক অসাধারণ জয়" - জ্বী, অবশ্যই, এ কথার সাথে দ্বিমত করার কোন উপায় উপক্রম নেই।

"বাতিঘর আমাদের মনে করিয়ে দেয়,অন্ধকার যত গভীরই হোক, দূরে কোথাও একটি আলো জ্বলতেই পারে; আর সেই
আলো কখনো কখনো শুধু পথ নয়, আশা, নিরাপত্তা এবং ঘরে ফেরার স্বপ্নও দেখায়"
- জ্বী, আমার বন্ধুর সেই বার্তাটিতেও একই অভিব্যক্তির প্রতিফলন দেখতে পাই।

৬| ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।

০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: স্বাগতম!

৭| ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৮

নীল-দর্পণ বলেছেন: বাতিঘরের কথা সম্ভবত তিন গোয়েন্দার বই পড়তে গিয়ে প্রথম জেনেছিলাম। কত কৌতুহল ছিল তখন! কক্সবাজার বাতিঘর এলাকার আসপাশ দিয়ে একাধিকবার গেলেও সাথের মানুষদের অগ্রহের অভাবে যেতে পারিনি। আপনার লেখা পড়ে আর ছবিগুলো দেখে ভাবছি কোন একদিন যাবো।

১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪১

খায়রুল আহসান বলেছেন: "আপনার লেখা পড়ে আর ছবিগুলো দেখে ভাবছি কোন একদিন যাবো" - অবশ্যই যাবেন।
এখন না হয় ঐসব এলাকা জনারণ্য থাকে। কিন্তু চিন্তা করে দেখবেন, দেড় শতাব্দী পূর্বে নির্মিত ঐ বাতিঘর এলাকায় কেবলমাত্র ঐ দু'টি মানুষই হয়তো বাস করতো। ওরা প্রতি সন্ধ্যায় বাতিঘরে বাতি জ্বালিয়ে রাতভর জিজ্ঞাসু নাবিকদেরকে আলোর দিশারী হয়ে পথ দেখাতো। কি সার্ভিসটাই না দিয়ে গেছে তারা! প্রাচীনকালের পৃথিবীর সব বাতিঘরের কাহিনী মোটামুটি একই ছিল।

৮| ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:২১

আলামিন১০৪ বলেছেন: বয়া দেখছেন কখনো? বাতিঘর দিয়ে কী হয় সবাই প্রায় আমরা জানি, কিন্তু নদী-সাগরের বয়া রহস্য সেদিন মাত্র জেনেছি

১২ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০১

খায়রুল আহসান বলেছেন: নদী-সাগরের বয়া রহস্য সম্পর্কে কী জেনেছেন, সেটা এখানে শেয়ার করলে আরও ভালো হতো। এখনও আরেকটি মন্তব্যের মাধ্যমে এখানে শেয়ার করে যেতে পারেন।

৯| ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪১

করুণাধারা বলেছেন: জনাব দুলাল উল্লাহর তোলা বাতিঘরের ছবি ভালো লাগলো।‌ আপনার লেখাটির যতটুকু পড়েছি ভালো লেগেছে।

পরে বাকিটা পড়ে আবার আসার আশা রাখি।

১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: আচ্ছা। অপেক্ষায় আছি।

১০| ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:০৭

করুণাধারা বলেছেন: বাতিঘর নিয়ে কোন কৌতূহল ছিল না কখনো, কিন্তু আপনার পোস্ট পড়ে প্রথমবারের মতো বাতিঘর নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম।

যে সকল নাবিক আঁধার রাতে এত বড় একটা জাহাজ নিয়ে উত্তাল সাগর পাড়ি দেয় বাতিঘর দেখে তাদের মনে কেমন অনুভূতি জাগ্রত হয়?

বাতিঘর বিহীন পথটা কি তাদের জন্য খুবই বিপদ-সংকুল হতো?


কক্সবাজারের বাতিঘর দেখে আমার কৌতুহল হয়েছিল। শুনেছিলাম সিঁড়ি দিয়ে সেই বাতিঘরের উপরে ওঠা যায়। ‌ ইচ্ছা হয়েছিল বাতিঘরের উপরে উঠে বহুদূর সমুদ্র দেখার... অবশ্য সেই বাতিঘরের কাছে আর যাওয়া হয়নি!

আরেকটা জিনিস ভাবছি, এত উঁচু, জনমানবহীন জায়গায় নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে গিয়ে বাতিঘর যারা বানিয়েছিলেন, তারা অনেক কঠিন একটা কাজ করেছিলেন!! লাইটহাউজকীপারদের না জানি কেমন লাগতো সেই জনমানবহীন জায়গায় থাকতে!! তারা কি সেলকার্কের মতো ভাবতেন, I'm the monarch of all I survey...

আমার মনে হচ্ছে, একবার পোষ্টের শিরোনাম শুধু বাতিঘর ছিল বলে দেখেছি। আমি কি ভুল করলাম?

চমৎকার পোস্ট। অনেক ধন্যবাদ।





১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: "I'm the monarch of all I survey..." - আপনার উল্লেখিত চমৎকার কবিতাটির পুরোটাই এখানে গুগল থেকে তুলে দিলাম, যদি কোন পাঠক উৎসাহী হন কবিতাটির পুরোটা পড়তে, এ কথা ভেবে। পোস্টের সাথে অসাধারণ সামঞ্জস্যপূর্ণ, এমন একটি চমৎকার কবিতার প্রথম লাইনটি উল্লেখ করে আমার মত একজন সাধারণ পাঠকের ঔৎসুক্য বাড়িয়ে দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

I am monarch of all I survey;
My right there is none to dispute;
From the centre all round to the sea
I am lord of the fowl and the brute
O Solitude! where are the charms
That sages have seen in thy face?
Better dwell in the midst of alarms,
Than reign in this horrible place.

I am out of humanity's reach;
I must finish my journey alone;
Never hear the sweet music of speech-
I start at the sound of my own;
The beasts that roam over the plain
My form with indifference see-
They are so unacquainted with man,
Their tameness is shocking to me.

Society, Friendship, and Love
Divinely bestow'd upon man,
Oh had I the wings of a dove
How soon would I taste you again!
My sorrows I then might assuage
In the ways of religion and truth,
Might learn from the wisdom of age,
And be cheer'd by the sallies of youth.

Religion! what treasure untold
Resides in that heavenly word!
More precious than silver and gold,
Or all that this earth can afford.
But the sound of the church-going bell
These valleys and rocks never heard,
Ne'er sighed at the sound of a knell,
Or smiled when a Sabbath appeared.

Ye winds that have made me your sport,
Convey to this desolate shore
Some cordial endearing report
Of a land I shall visit no more.
My friends, do they now and then send
A wish or a thought after me?
O tell me I yet have a friend,
Though a friend I am never to see.

How fleet is a glance of the mind!
Compared with the speed of its flight,
The tempest itself lags behind,
And the swift-wingèd arrows of light.
When I think of my own native land,
In a moment I seem to be there;
But, alas! recollection at hand
Soon hurries me back to despair.

But the sea-fowl is gone to her nest,
The beast is laid down in his lair;
Even here is a season of rest,
And I to my cabin repair.
There's mercy in every place;
And mercy- encouraging thought! -
Gives even affliction a grace,
And reconciles man to his lot.

William Cowper

১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: "আমি কি ভুল করলাম?" - না, এ রকম ভুল তো আপনার মত একজন সতর্ক ও সচেতন পাঠক ও লেখকের হবার কথা নয়; এবং ভুল আপনি করেনও নি।
এ লেখাটি আমি অন্যত্রও কয়েকটি গ্রুপে প্রকাশ করেছিলাম। সেখানে কিছু পাঠকের মন্তব্য পড়ে বুঝতে পারি, অনেকেই 'লাইটহাউজ' ঠিকই বুঝতে পারেন, কিন্তু 'বাতিঘর' সম্পর্কে, তারা শব্দটির সাথে পরিচিত হলেও, তাদের সঠিক ধারণা নেই। অনেকটা সেই 'বিশ্ববিদ্যালয়' এবং 'ইউনিভারসিটি' এর মত। তাই আমি সেকেন্ড থটে ব্রাাকেটে অপর শব্দটিও রেখেছি; এবং শব্দটি যেহেতু ইংরেজি, লিখেছিও ইংরেজি বানানেই।

"লাইটহাউজকীপারদের না জানি কেমন লাগতো সেই জনমানবহীন জায়গায় থাকতে!!" - হুম, এ ভাবনাটা আমাকেও বেশ তাড়িত করেছিল বলেই এ নিয়ে লিখেছি, এবং লেখায় সে অনুভূতিটা প্রকাশও পেয়েছে বলে মনে করি। গল্প, উপন্যাস বা যে কোন লেখা পড়তে পড়তে আমি সে লেখার চরিত্রগুলোর সাথে একাত্ম হয়ে যাই। এখানেও তাই হয়েছিল। একটি জনমানবহীন এলাকায়, যেখানে সম্মুখে শুধু বিস্তৃত জলরাশি আর মাঝে মাঝে কয়েকটা জলযানের আনাগোনা, মাথার ওপড়ে হয়তো কিছু গাঙচিলের ওড়াউড়ি, পেছনে শোয়া শুধু নিঃশব্দ ভূমি আর কিছু বন্যপ্রাণী ও সরিসৃৃপ, এমন একটি জায়গায় কি করে রবার্ট ডি ইসরায়েল সাহেব স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার পেতেছিলেন এবং দিব্যি আঠারটি বছর বাস করেছিলেন, তা ভাবতেও আমি যেন একটা অন্য জগতে চলে গিয়েছিলাম। সেখানেই তিনি তার নাতি-নাতনিদেরও বড় হয়ে ওঠা প্রত্যক্ষ করেছিলেন!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.