নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তাহিমদ আনাফ

তাহিমদ আনাফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

গাউসুল আজম মসজিদের সামনে অর্ধনগ্ন বিলবোর্ড; মুসুল্লিরা বিক্ষুব্ধ

৩১ শে জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:৩২

সিয়াম সাধনার রমজানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এবং মসজিদে যাওয়া আসার পথে অর্ধনগ্ন নারীদেহের কুরুচিপূর্ণ অশ্লীল ছবির বিলবোর্ড টানানো হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে এসব বিলবোর্ড টানিয়ে দিয়েছে। এতে রজমানের পবিত্রতা যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন।



রাজধানীর মহাখালী গাউসুল আজম মসজিদের সামনে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের অর্ধনগ্ন একটি বিলবোর্ড নিয়ে মুসুল্লিদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে তা কর্তৃপক্ষকে রজমানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে সরানোর অনুরোধ করলে সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা উল্টো গণতন্ত্র আর আইন দেখান।



ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার শাহা দম্ভোক্তি করে বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে অর্ধনগ্ন নারীদেহের ছবি সংবলিত আমরা বিল বোর্ড লাগিয়েছি। এ ছবি কার ভালো লাগলো আর কার খারাপ লাগলো সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়।



জানা গেছে, গাউসুল আজম মসজিদের সামনে অর্ধনগ্ন নারীদেহের কুরুচিপূর্ণ অশ্লীল ছবি সম্বলিত একটি বিলবোর্ডে টানানো হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ পড়তে আসা যাওয়ার সময় ছবিটি দেখে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। তারা ছবিটি তুলে ফেলার দাবি জানান। কেউ কেউ ছবিটি ভেঙে ফেলার দাবি করলে মসজিদ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি রবিউজ্জামান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার শাহার কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি মুসুল্লিদের ক্ষোভের কথাও জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি বিলবোর্ডটি নামিয়ে নিবেন বলে আশ্বাস দেন। তবে বাস্তবে বিলবোর্ডটি এখনও নামানো হয়নি।



খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্যাপ্টেন বিপন কুমার শাহা ‘ডায়মন্ড ওয়াল্ড’ নামের প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল অংকের টাকা নিয়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে এ কুরুচিপূর্ণ বিলবোর্ডটি স্থাপন করেছেন। দীর্ঘদিন থেকে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচিত মেয়র না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজের খেয়াল-খুশি মতো প্রশাসন চালাচ্ছেন। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অনৈতিকভাবে অর্থ নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিলবোর্ড লাগাচ্ছেন।



এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিপন কুমার শাহা বলেন, আমাদের কাছে কুরুচি আর সুরুচি বলে কোন কথা নেই। কার কাছে ওই বিলবোর্ডের ছবি ভাল লাগল আর কার কাছে খারাপ লাগল সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। তবে তিনি গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে বিলবোর্ডটি সরিয়ে নিবেন বলে এ প্রতিবেদকের কাছে জানান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যোগাযোগ করা হলে বিলবোর্ডটি নামানো হয়েছে বলে জানান তিনি। অথচ বিলবোর্ডটি এখনও আগের অবস্থানেই রয়েছে।



সিটি কর্পোরেশনের এই কর্মকর্তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য মুসুল্লিদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ মুসুল্লিদের কয়েকজন জানান, তারা দু’একদিন দেখবেন তারপর নিজেরাই রজমানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে বিলবোর্ড নামিয়ে ফেলবেন। তবে মসজিদ কমিটির একজন জানান, সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতেই এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে ‘বড় অপ্রীতিকর’ ঘটনার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচিত মুসুল্লিদের অনুভূতির কথা বিবেচনা করে কুরুচিপূর্ণ বিলবোর্ডটি সরিয়ে ফেলা। একই সঙ্গে ইসলামবিদ্বেষী এ ধরনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কারণ এ ধরনের কর্মকর্তাদের কারণে মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষীর অভিযোগ উঠছে

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.