| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে ‘ক্ষ’ ব্যান্ডের নতুনত্ব নাকি ছেলেখেলা ???
কিছুদিন আগে লন্ডনভিত্তিক একটি ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ব্যান্ড ‘ক্ষ’ আমাদের জাতীয় সঙ্গীতটিকে নতুনভাবে গেয়ে “আমার সোনার বাংলা” নামের একটি অ্যলবামে প্রকাশ করে।জন্মের পর থেকেই আমরা আমাদের জাতীয় সঙ্গীতটিকে একই রকম ভাবে শুনে আসছি,সেই একই সেকেলে ৺ধাচে গাওয়া।ফলে আমাদের অনেকের কাছে হয়তো একঘেয়ে হয়ে গেছিল আমাদের জাতীয় সঙ্গীতটি । ‘ক্ষ’ ব্যান্ড আমাদের জাতীয় সঙ্গীতটিকে নতুনভাবে গেয়েছে, কিছু পাশ্চ্যাত্ত বাদ্যযন্ত্র ব্যাবহার করে।ফলে আমাদের দেশের তরুন প্রজন্মের বেশ কিছু পাশ্চ্যাত্তমনা ছেলে মেয়ে নতুনভাবে গাওয়া আমাদের জাতীয় সঙ্গীতটিকে পছন্দ করেছেন। পছন্দ হতেই পারে।কারন বিভিন্ন ব্যক্তি, বিভিন্ন ধরনের সঙ্গীত পছন্দ করে। পাশ্চ্যাত্ত বাদ্যযন্ত্র ব্যাবহারে কোন দোষ নেই।কিন্তু অনেক ভুল ত্রুটি হয়েছে সুর,স্বরলিপি ও গায়কিতে। রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়ার কিছু নিয়ম কানুন আছে।যে কেউ ইচ্ছা করলেই যেমন তেমন করে রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়তে পারেনা। ইদানিং রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে অনেক কাজ হচ্ছে, কিন্তু তার ৯৯% সুর,স্বরলিপি ও গায়কি মেনে। এইতো গেল রবীন্দ্রসঙ্গীত বিষয়ে ত্রুটি। রবীন্দ্রসঙ্গীতের সাথে এটি আমাদের জাতীয় সঙ্গীতও বটে। দেশের সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কিছু প্রোটোকল আছে। যার কোনোটায় ‘ক্ষ’ ব্যান্ড মানেনি। যা আমাদের সংবিধানকে অবমাননা করা।
আইন তো বলছেঃ
Singing of National Anthem by civilians - (1) The National Anthem may be sung on an occasion which, though not strictly ceremonial is significant because of the presence of any Minister. (2) In all schools, the day's work shall begin with the singing of the National Anthem. (3) Whenever the National Anthem is sung, the whole of it shall be sung.
‘ক্ষ’ ব্যান্ড বলেছে যে তারা গানটি জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গাই নাই। তাহলে তারা তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে গানটির সাথে Bangladesh, National, Anthem, শব্দ তিনটি কেন ট্যাগ করেছ ??তারা গানটি শুরু করেছে গানের মাঝখান থেকে এবং পুরো গানটি গেয়ে শেষ করে নাই। যা জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা।
তারা জাতীয় সংগীতের উপর এক্সপেরিমেন্ট করেছে।দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মৌলিকতা নিয়ে যেভাবে টানাহেচড়া আর বিকৃতি চলছে তাতে এই ধরনের এক্সপেরিমেন্ট মোটেও কাম্য নয়। গানটির মধ্যে তারা কোন Feel আনতে পারেনাই। গানটির মধ্যে বাংলার যে রস আছে,তা পুরোপুরি লোপ পেয়েছে। যন্ত্রশিল্পীরা বসে বসে বাজিয়েছে যা দেখে মনে হয়েছে এমন অন্য কোথাও দেখিনি। জাতীয় সঙ্গীতের আদব হচ্ছে- সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দুই হাত দুই পাশে অর্ধমুষ্ঠি করে দাড়াতে হবে, সঠিক লিরিক আর সুরে গাইতে হবে।
‘ক্ষ’ ব্যান্ডের মূলউদ্দেশ্য আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের উন্নিত সাধন ছিলনা বরং তারা পরিচিতি লাভ করতে চেয়েছে।কারন জাতীয় সঙ্গীতের মতন একটি Sensitive বিষয় নিয়ে কাজ করে আলোচিত হয়াটাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। আমার ধারনা তারা তাদের উদ্দেশ্য সফল।
আমাদের জাতীয় সঙ্গীত হল আমাদের প্রাণের গান।যদি এই গানটিকে সুদ্ধভাবে গাওয়া যায় নতুন করে, তার সাথে যদি কিছু পাশ্চ্যাত্ত বাদ্যযন্ত্র ব্যাবহার করা হয়,তবে ‘ক্ষ’ ব্যান্ডের গাওয়া এই গানটিরচেয়ে শতগুণ ভাল লাগবে।অচিরেই আমরা এইরকম একটি উদ্দোগ নিব।
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৮:৩৭
আশিকুর রহমান অমিত বলেছেন: তাঁরা গানটা কে একটা দেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে না দেখে দেখেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা লিখা হিসেবে