নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তারছেরা০০৭

সে যেন আমার পাশে আজো বসে আছ.............................

তারছেরা০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

সারা দেশে বজ্রপাতে নিহত ১৩

১৯ শে জুন, ২০১৩ রাত ৯:৫৯

বুধবারে দুপুরে দেশব্যাপী প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতে রাজধানী ঢাকাসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ গাইবান্ধা, নীলফামারী, রাজশাহী ও শেরপুরে বজ্রপাতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতের ঘটনায় আহত হয়েছেন অনন্ত ১০ জন।



বুধবার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকার দূতাবাস সড়কে ব্রিটিশ হাইকমিশনের সামনে বজ্রপাতে সোহেল (১৯) ও ওয়াসিম (১৮) নামে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, তারা চারুতা নামক একটি ডেভেলপার কোম্পানির শ্রমিক। দুপুরের খাবারের পর রাস্তায় আড্ডা দেওয়ার সময় ব্রজপাতে তারা আহত হন।

পরে তাদের রাজধানীর বারিধারায় অবস্থিত ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতদেহগুলো বর্তমানে পুলিশের কাছে রয়েছে। তবে মৃতদেহগুলো আত্মীয়-স্বজনের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে ওসি জানান।



এছাড়া বুধবার দুপুরে চাপাইনবাবগঞ্জের সদর, গোমস্তাপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হন আরো তিনজন।



আহতদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।



স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুপুর আড়াইটার দিকে হালকা ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার চাদলাই মিরের বাগানে আম কুড়ানোর সময় বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে পাঁচজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চান্দলাই মহল্লার সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে ও নামোশংকরবাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র মিকাঈল ইসলাম (১৭) এবং শিবতলা পণ্ডিতপাড়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে ওমর আলী (১৮) মারা যান।



কর্তব্যরত চিকিৎসক ড. নাজির আহমেদ বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন।



এ সময় পৌর এলাকার মিরের বাগানে বজ্রপাতে আহত হয় আরও আরো তিনজন। আহতরা হলেন, চাদলাই গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে রিংক‍ু, মজিবুর রহমানের স্ত্রী রুলি বেগম ও উজির আলীর মেয়ে টুকটুকি খাতুন। তাদের মধ্যে রিংকুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।



একই সময়ে পৌর এলাকার নয়াগোলা নামক স্থানে সাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে জহরুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবক মারা যান। তিনি সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়ের আতাহার গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।



অন্যদিকে গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা এলাকায় দুপুর দেড়টার দিকে আমবাগানে আম পাড়ার সময় বজ্রপাতে মারা যান মোসলেম উদ্দীন (৪০) নামে এক ব্যক্তি। তিনি বাবুরঘোন গ্রামের ইসরাইল সরদারের ছেলে।



এদিকে, শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্রপুর গ্রামের শাহবুলের ছেলে শামিমের (২২) বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে।



মৃতের বাবা শাহবুল বাংলানিউজকে জানান, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বাড়ির পাশের আমবাগানে আম কুড়ানোর সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শামিম।



অন্যদিকে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বলরাম গ্রামে বজ্রপাতে মেরিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।



বুধবার দুপুর একটার দিকে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে এ ঘটনা ঘটে।



মৃত গৃহবধূ ওই গ্রামের আব্দুল মতিনের স্ত্রী।



মৃতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি পড়ছিল। বৃষ্টির মধ্যেই মেরিনা পাশের মাঠে ছাগল আনার জন্য যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।



সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি কাওছার আলী খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।



অপরদিকে, নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে রোকসানা বেগম (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।এ সময় আহত হয়েছেন আরো দুই নারী।



বুধবার দুপুরে কিশোরীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজিব গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত রোকসানা ওই এলাকার নুর হোসেনের মেয়ে।



আহতরা হলেন, বেলি (৪৫) ও তাহমিনা বেগম (৫২)। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।



স্থানীয়রা জানান, দুপুরে প্রতিবেশীর বাড়িতে যাওয়ার পথে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই রোকসানা মারা যায় এবং বেলি ও তাহমিনা বেগম আহত হন।



কিশোরীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান বাবুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।



অপরদিকে, শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বজ্রপাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো দুইজন।



বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বৃষ্টিপ‍াত শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।



নিহতরা হলেন, ডেফলাই গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী রেনু বেগম (৪০) ও রাংটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আ. লতিফ (৫০)।



আহতরা হলেন, নওকুচি গ্রামের আ. লতিফের ছেলে আলাল মিয়া (২২) ও নন্নী বাগবেড়ের চঞ্চল হকের স্ত্রী আমেনা খাতুন (৫০)।



নলকুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, নিজ বাড়িতে বৃষ্টির সময় বাইরে কাজ করা অবস্থায় বজ্রপাতে তারা মারা যান।



হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আহত দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।



এদিকে, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বজ্রপাতে রেজাউল (৩৬) ও তারিকুল (২৬) নামের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন তিন ভাই।



বুধবার দুপুরের পর মুষলধারে বৃষ্টির সময় উপজেলার বারীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।



স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বাংলানিউজকে জানান, বিকেল তিনটার দিকে চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের বারীনগর গ্রামে কৃষি কাজ করছিলেন পাঁচ যুবক।



এসময় বজ্রপাতে বারীনগর গ্রামের রাজ্জাকের ছেলে রেজাউল ও আব্দুল খালেকের ছেলে তারিকুল ঘটনাস্থলেই নিহত হন।



বজ্রপাতের বিকট শব্দে আহত হন আব্দুল খালেকের অন্য তিন ছেলে। পরে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।



আহতরা হলেন, আব্দুল খালেকের ছেলে সালাম (৪৫), হাসান (৩২) ও আলহাজ (২০)।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.