| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সেদিনটি ছিল আসলে অন্য রকম একটা দিন । প্রকৃতি তার বসন্তের অপার সৌন্দর্য দিয়ে সেজেছিল । প্রকৃতির সেই অবাক সৌন্দর্য অপলক দৃষ্টি দিয়ে দেখছিল একটি ছেলে আর কেন জানি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিল প্রকৃতির মাঝে । অনেকদিন পর জিতুর সাথে তিন্নির দেখা হবে ভাবতেই জিতুর মনের মাঝে একটা ভাল লাগা কাজ করছিল । জিতু উত্তরার একটা রেস্টুরেন্টে অপেক্ষা করছিল তিন্নির জন্য । তখনই হঠাৎ জিতু লক্ষ্য করল কাল শাড়ি পরা একটা মেয়ে তার দিক এগিয়ে আসছে । আগে তো অনেক দেখেছে কিন্তু আজ এক অচেনা রূপে তিন্নিকে দেখল । মনে হল প্রকৃতি তার সকল সৌন্দর্য দিয়ে আজ তাকে সাজিয়েছ । চোখে কাজল দিয়ে এসেছিল । জিতু বার বার তিন্নির ঐ মায়াভরা আঁখি দুটির দিকে তাকাচ্ছিল । হঠাৎ জিতুর চোখ দিয়ে দু ফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়লো । আসলে জিতু একটি অদ্ভুত রকমের ছেলে ছিল নিজের অনভুতি অথবা কষ্ট গুলো কারও কাছে প্রকাশ করতে পারত না ।অনেকদিন আগে জিতুর সাথে তিন্নির পরিচয় । তারপর তাঁদের মধ্যে একটা ভাল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে । প্রায়ই জিতুর সাথে তিন্নির ফোনে কথা হত । জিতু তখন ধীরে ধীরে বুঝতে পারল যে নিজের অজান্তেই সে তিন্নিকে ভালোবেসে ফেলেছে । সে তার মনের কথা একদিন তিন্নিকে বলে ফেললো । তিন্নি বুঝতে পারছিলনা কি বলবে প্রথমে সে জিতুকে না বলে দিল ।কিন্তু এর কিছুদিন পর তিন্নি বুঝতে পারল সেও জিতুকে ভালোবেসে ফেলেছে । এভাবেই তাঁদের ভালবাসাময় জীবন শুরু হল । সারারাত ফোনে কথা বলত , একসাথে চাঁদ দেখত ।অনেক জায়গায় একসাথে ঘুরে বেরিয়েছে । অনেক সুখে শান্তিতে তাঁদের জীবন কাটতে লাগলো । দেখতে দেখতে তারা একবছর পূর্ণ করে ফেলল । কিন্তু জিতু হঠাৎ খেয়াল করা শুরু করল তিন্নি কেন জানি একটু অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছে, আগের মত কথা বলে না ,কথার মাঝে একটা বিরক্তির ছাপ ,অকারনে ঝগড়া করে । তিন্নি ঠিক মত জিতুর ফোন রিসিভ করত না । এভাবেই করে তিন্নি একসময় জিতুর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয় । জিতু অনেকবার বলার পর তিন্নি দেখা করতে রাজি হয়েছে । আজ আবার প্রায় তিন মাস পর জিতুর সাথে তিন্নির দেখা ।
জিতু তিন্নির কথা ভাবতে ভাবতে তিন্নি তার পাশে এসে বসলো । জিতু অনেকক্ষণ তিন্নির দিকে তাকিয়ে থাকলো । হঠাৎ তিন্নি বলা শুরু করল
ঃ কি ব্যাপার ? চুপ করে থাকার জন্যই কি দেখা করতে এসেছি ?
জিতু তখন কল্পনার জগৎ থেকে বাস্তবে ফিরে এসেছে । জিতু মনে করেছিল আজ থেকে তাঁদের রিলেশনটা আগের মত হয়ে যাবে ।
তিন্নিই আবার বলা শুরু করল
ঃ দেখ আজকে তোমার সাথে ব্রেকআপ করতে এসেছি । তোমার মত মানুষের সাথে রিলেশন টিকিয়ে রাখা অসম্ভব । তাছাড়া তোমাকে আমার পরিবার কখনই মেনে নেবে না , তোমার কোন ভবিষ্যৎ নেই ইত্যাদি আরও অনেক কিছু বলল ।
জিতু তিন্নির কথা শুনে হতবাক হয়ে গেল । চারদিক অন্ধকার মনে হচ্ছে । এটাই কি তার সেই তিন্নি যে তাকে রাত জেগে গান শুনাত, গল্প বলত । জিতু একদিন রাগ করে তিন্নির সাথে কথা না বলার কারনে সারাদিন কিছু না খেয়ে কান্না করেছিল । জিতুর কাছে মনে হল তার সমস্ত স্বপ্ন গুলো এক নিমিষেই ভেঙে গেল । জিতু কি বলবে বুঝতে পারছিল না । সে তিন্নিকে অনেকবার বুঝানোর চেষ্টা করল এবং তিন্নিকে অনরুধ করলো তার সিদ্ধান্তটি ভেবে দেখবার জন্য ।কিন্তু তিন্নি জিতুর কোন কথা না শুনেই চলে গেল । জিতু কখনোও বুঝতে পারে নি যে এইভাবে তার জীবনের সুন্দর স্বপ্ন গুলো তার ঠিকানা চিরদিনের জন্য হারাবে । ব্রেকাপ হবার পর জিতু তিন্নির সাথে অনেকবার কথা বলার চেষ্টা করেছিল কোন লাভ হয় নি বরং তিন্নি তার সাথে খারাপ ব্যাবহার করে ফোন রেখে দিত ।![]()
জিতু অনেক সুন্দর ছবি আঁকতে পারতো । তিন্নি চলে যাবার পর জিতু কেমন জানি অন্যমনস্ক হয়ে গেল । কারোও সাথে কথা বলত না । ভার্সিটিতে ঠিক মত ক্লাস করত না । নিজের জীবনটাকে অনেকবার শেষ করে দেবার চেষ্টা করেছিল কিন্তু পরিবারের জন্য পারে নি । নির্ঘুম রাত্রিতে ছাদে বসে একা একা চাঁদ দেখত আর চোখের জল ফেলত । জিতু কখনো ভাবে নি তার জীবনে এতটা কষ্ট পেতে হবে । এরেই মাঝে সে শুনেছে তিন্নির নাকি অন্য একটি ছেলের সাথে রিলেশন হয়েছে ।সেদিন অনেক কষ্ট পেয়েছিল । বার বার তার কাছে মনে হচ্ছিল তার জীবন থেকে কিছু একটা হারিয়ে যাচ্ছে । কিছু কিছু মানুষ মনে হয় পৃথিবীতে শুধু কষ্ট পাবার জন্যই জন্ম নেয় এর মধ্যে জিতু মনে হয় একজন । পৃথিবীর সুখ গুলোকে সে কখনো কাছ থেকে উপলব্ধি করতে পারে নি । সবাই কেমন জানি পর হয়ে যেতে লাগলো ।
জিতু নিজের কষ্টটুকু কখনোই অন্য কাউকে বুঝাতে পারতো না । হয়তো জানালার পর্দার আড়ালে নয়তো খোলা আকাশের নিচে একলা ছাদে বসে আনমনে নিঃশব্দে কষ্টের অনুভূতিগুলো নাড়া দিতো তার মনকে ।।
কখনো হয়তো সহ্য করতে পারতো , তখন চোখ মুছেই দূরে সরে যেত ।।
আর যখন সহ্য হত না, তখন চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে যেত ।। ঘুম যখন ভেঙ্গে যেত তখন বুঝতে পারতো চোখ ভিজে , বালিশ চুপসে গেছে । এভাবেই তার জীবনটা এক অচেনা গন্তব্যে যেতে থাকলো ।
জিতু মাঝে মাঝে ছবি আকার সময় কল্পনায় চলে যেত আর ভাবত কোন একদিন মেঘলা বিকেলে যদি থাকি পাশাপাশি দুজন , অথবা ঝুম বৃষ্টিতে তার হাত ধরে ভিজি কোন এক বর্ষায় , কিংবা নিঝুম রাত্রিতে কল্পনার ছেঁড়া সুতোয় সপ্নের মালা গাঁথি একসাথে – আর একবার জানাই তাকে আমার মনের খবর । কান পেতে শুনুক সে আমার হৃদয়ের কম্পন,যার প্রতিটা স্পন্দনে শুধু তার নাম । অনুভব করুক সে আমার দীর্ঘশ্বাস , যাতে শুধু তাকে না পাওয়ার যন্ত্রণা ।
এভাবেই জিতুর সময় গুলো চলতে লাগলো ।
একদিন বিকালে জিতু ছাদে বসে ছিল হঠাৎ একটা অচেনা নাম্বার থাকে ম্যাসেজ আসলো । তাতে লেখাছিল " ১৫ ই সেপ্টেম্বর আমার বিয়ে , তোমার দাওয়াত রইল " । জিতু বুঝতে পারল যে এইটা তিন্নির ম্যাসেজ ।
বিয়ের দিন সে তিন্নির পছন্দের ১০০ টি গোলাপ ফুল এবং তার আঁকা তিন্নির কিছু ছবি নিয়ে গেল । পথিমধ্যে হঠাৎ সে তার আঁকা তিন্নির সাদাকালো ছবিগুলো দেখছিল আর ভাবছিল যে ছবি গুলোতে কখনো রঙ মেশানো হল না হয়তবা হবে না । হঠাৎ জিতুর হাত থেকে সবগুলো ছবি পরে গেল প্রচণ্ড বাতাসে । জিতু আনমনে ছবিগুলো তুলছিল হটাৎ করে পিছনদিক হতে একটা ট্রাক তার উপর দিয়ে চলে গেল । মাটিতে পরে রইল তার নিথর দেহটি । তিন্নির ছবিগুলো ঠিকই লাল রঙ্গে রঞ্জিত হল । জিতুর পকেটে একটি চিঠি পাওয়া গিয়েছিল ।পরে কোন এক মাধ্যমে জিতুর চিঠিটি তিন্নির কাছে পোঁছায় ।
" প্রিয় ,
জানি অনেক সুখে আছ । সৃষ্টিকর্তার নিকট সবসময় পার্থনা করি যেন জীবনে সবসময় সুখে থাক । কারন তোমার ঐ হাসিমাখা মুখ দেখে আমি সারাটি জীবন কাঁটাতে পারব । বিশ্বাস কর , আমার একটু কষ্টও হবে না । জীবনে অনেকের কাছ থেকে কষ্ট পেয়েছি।।তবুও ভেঙ্গে পড়ি নি,ভেবেছো তোমার দেয়া কষ্টেই থমকে যাবে আমার জীবনটা । কত চেষ্টা করেছি তোমাকে ভুলে যাবার কিন্তু ভুলতে পারি নি।জানি না কেন আমাকে ছেড়ে তুমি চলে গেলে । হয়তো আমি তোমার যোগ্য ছিলাম না । তোমার দেয়া কষ্ট গুলো যেন শেষ হচ্ছে না আর কতটা দিন আমি এই যন্ত্রণা বয়ে বেড়াবো বলতে পারো । বলতে পারো আর কতটা দিন আমাকে এই ভাবে কষ্ট দিবে তোমার সৃতিগুলো , তবে এমন তো কথা ছিল না এমন একটা একাকীত্বতা সময় তুমি আমাকে উপহার দিয়ে চলে যাবে আমি তো কল্পনাও করি নি ।তবে কেন আমায় তোমার ভালবাসার মায়ায় জড়ালে??মায়ায় জড়িয়ে কেনই বা আমায় ছেড়ে চলে গেলে?? আর প্রশ্ন করব না । সুখে থাক , জীবনটাকে উপভোগ কর ।আমি হয়তবা ভাল থাকবো যতটুকু তোমাকে ছাড়া থাকা যায় "
চিঠিটা পরছিল আর তিন্নির দুচোখ দিয়ে অশ্রু বয়ে পরতে লাগলো ।সে বুঝতে পারলো জীবনে কত ভুল করেছে কিন্তু তখন সব শেষ হয়ে গেছে ।
আর এভাবেই অসংখ্য অসমাপ্ত জীবনের গল্প সময় শুনছে ।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে মার্চ, ২০১৩ সকাল ১১:৩০
সাহেবুল বলেছেন: ভালো লাগলো।