| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
‘খুব ভালো জঙ্গ চলছে। একের পর নাপাক হিন্দু সেনা হালাক (মৃত্যু) হচ্ছে। রাজাকার আলবদরদের নিয়ে পাকিস্তানের বীর সেনা যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। দুয়েক দিনের মধ্যেই হিন্দুস্থান হাঁটু গেড়ে বসে ক্ষমা ভিক্ষা করতে চলেছে। হিন্দুস্থানের সাথে মিলে গাদ্দার মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান ভাঙার ষড়যন্ত্র চূড়ান্তভাবে নস্যাৎ হয়েছে; ইসলামপসন্দ বাঙালিরাই রুখে দিয়েছে। মুজিবুর রহমানের পাশে দাঁড়ায়নি বাঙালি। জঙ্গে মুসলমানদের জয়, পাক সার জমিনের জয় অবশ্যম্ভাবী। শীঘ্রই চূড়ান্ত সুখবর পেতে যাচ্ছেন। যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে পাকিস্তান। পাকিস্তান পায়েন্দাবাদ।’ পিটিভির আর্কাইভে দেখেছিলাম। ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ এর দুদিন আগের খবর এগুলো, জনৈকা সংবাদ পাঠিকা পড়ছিলো। পড়ুক। অসুবিধা নেই। সে যুদ্ধ জয়ের দাবি করতেই পারে। যুদ্ধ মানেই যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ। আশা ছাড়লেই শেষ। কিন্তু সমস্যা হলো, পুরো যুদ্ধটাকে সম্পূর্ণভাবে হিন্দু মুসলিম রঙে রাঙিয়ে দিয়েছিলো। যুদ্ধ যেন দুটো ধর্মের মাঝে হচ্ছে। একদিকে পাকিস্তানের বীর মুসলিম সেনা, অপরদিকে ভারতের নাপাক কাফির সেনা। মুসলমানদের সাথে কিছুতেই পারবে না হিন্দুরা। পাকিস্তানি মুসলমানদের একেকটা বীর সেনা, হিন্দুস্তানের দশটা ডরপোক সেনার সমান। ফলাফল এসব খবর পাঠের দুদিন পরই পাজামা খুলে ৯৩০০০+ সৈন্যের রেসকোর্স ময়দানে হিন্দুস্তানের সামনে আত্মসমর্পণ। আমার আগের এক লেখায় একজন মন্তব্যে খুব মিডিয়া মিডিয়া করছিলো দেখে ঘটনাটা মনে পড়ে গেলো। পিটিভির আর্কাইভে দেখা, খবর পাঠিকার উর্দুতে সুর করে পড়া; মুক্তিযুদ্ধ ৭১। বাস্তবতা থেকে বহু দূরে মিথ্যা কাল্পনিক এক ধর্মীয় ন্যারেটিভ দাঁড় করিয়ে দুদ্দাড় উলম্ফন পিটিভির। একাত্তর সাতচল্লিশের হিন্দু মুসলিম সংঘাত ছিলো না। এখানে বাঙালিরাও মুসলিম। পিটিভির খবরে সবকিছু বাদ, শুধু হিন্দু মুসলিম যুদ্ধ। এটা আসলে এক ধরনের ব্যবসায়িক পলিসি। যে খবর পাবলিক খায়, আনন্দ পায়, প্রচার বেশি, সে খবরই প্রকাশ করো। বাংলাদেশই শুধু নয় সারা বিশ্বের মিডিয়ার এ প্রবণতা আছে। একাত্তরে যেটা করেছিলো পিটিভি। যেটা পাকিস্তানের জনগণ শুনতে চায়, আনন্দ পায়, উল্লাস করে; সেটাই জনগণকে গেলানো। ১৪ই ডিসেম্বরের খবরেও পাকিস্তানের নিশ্চিত বিজয়ের কথা বলা হয়েছিলো। একের পর এক কাফির হিন্দুর মৃত্যু। মুসলিম পাকসেনার বীরদর্পে এগিয়ে চলা। শীঘ্রই চূড়ান্ত সুখবর আসছে। হিন্দুস্তান হাঁটু গেড়ে বসে ক্ষমাভিক্ষা করতে চলেছে। পাকিস্তান জয়ের দ্বারপ্রান্তে। তারপর ১৬ই ডিসেম্বর ৯৩০০০+ সৈন্য নিয়ে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বহুধর্মের কর্মকর্তাদের সামনে রেসকোর্সে অসহায় আত্মসমর্পণ। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম। সপ্তাহান্তে বন্দী পাকসেনাদের বিবিদের সন্তান নিয়ে ভুট্টোর বাসভবনের সামনে মাতম; দলে দলে বুক চাপড়ে, চুড়ি ভেঙে প্রদর্শন। ‘ভুট্টো, আমাদের স্বামীদের ফিরিয়ে আনো হিন্দুস্তান থেকে। ভুট্টো, হায় হায়!’ সে একই কাজ আজ বাংলাদেশের মিডিয়া করছে। কাল্পনিক ইহুদি মুসলিম যুদ্ধ ফেঁদে বসেছে ভিউ বাণিজ্যের জন্য। ইসরায়েলের ইহুদি সেনারা নাস্তানাবুদ হচ্ছে হামাস হিজবুল্লা আনসারুল্লা’র বীর মুসলিম সেনাদের কাছে! ইসরায়েল শেষ! ইহুদিরা শেষ! হা হা হা। সত্য তথ্য বাস্তবতা থেকে বহুদূর। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে উল্লু বানানো হচ্ছে আর কিছু নয়। কিন্তু এর পরিণাম ভয়ঙ্কর। ধর্মান্ধ অসভ্য উগ্র বর্বর সমাজ জাতি হয়ে গড়ে উঠছি আমরা প্রতিনিয়ত। যেমন হয়েছে পাকিরা। আমাদের অবস্থা আসলে পাকিদের থেকেও খারাপ হতে চলেছে!
২|
১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বাংগু/পাংগু মিডিয়া শিরোনামে যোগ করেন । মিডিয়া মিডিয়া কোনো ভালো হেডলাইন হতে পারে না ।
১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮
অর্ক বলেছেন: একদম ঠিক। এই শিরোনাম বদলাবো। ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫৭
অর্ক বলেছেন: লেখাটা হুট করে পোস্ট করে বসলাম। এলোমেলো লাগলে দুঃখিত। পরে এডিট করে আরেকটু ভালো করবো। ধন্যবাদ।