| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
![]()
সদ্যপ্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের জানাজা শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শ্রদ্ধাঞ্জলির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির মরদেহ গ্রহণ করা হবে। সাড়ে ১২টায় শোভাযাত্রাসহ মরদেহ নেওয়া হবে বঙ্গভবনে। দুপুর দেড়টার সময় মরদেহ সামনে রেখে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে রাষ্ট্রপতিকে।
বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ গণভবনের সামনে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রীপরিষদ সদস্য, দেশের উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিক, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, তিন বাহিনীর প্রধানসহ উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও দেশের গণমান্য ব্যক্তিরা। বিকাল ৫টা থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন আত্মীয়স্বজন ও সর্বসাধারণ।
সাড়ে ৫টায় রাষ্ট্রপতির মরদেহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হবে। সেখানে জানাজা পর্যন্ত তার মরদেহ সংরক্ষণ করা হবে।
২২ মার্চ বাদ জুমা জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে রাষ্ট্রপতির জানাজা সম্পন্ন হবে। এরপর বেলা সাড়ে ৩টায় বনানী কবরস্থানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
খবর:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
এই দেশের রাজনীতিটাকে বার বার আমার কাছে নোংরা মনে হয় । কিন্তু এই নোংরা রাজনীতির ইতিহাসে কিছু ভাল মানুষ থাকবে না তা কি হয় । আজ ঠিকই আমরা এক এমন একজন রাজনীতিবিদ কে হারালাম ।দেশ আজ এক মহান অভিভাবককে হারালো ।। দেশ হারালো এক মহান মুক্তিযোদ্ধা , মুক্তিযুদ্ধের এক অন্যতম সংগঠক , উদার গণতন্ত্রমনা রাজনীতিবিদ এবং নিরহংকার একজন জাতীয় নেতাকে হারালো । তার মৃত্যু হলেও সারাজীবন বাঙালি জাতির জন্য তার জীবনাদর্শ প্রেরণা হয়ে থাকবে । একজন সাহসী ,দেশপ্রেমিক ,আপোষহীন রাজনৈতিক হিসাবে তিনি আমাদের মাঝে চিরদিন বেঁচে থাকবেন । আমরা গভীরভাবে আপনার মৃত্যুতে তে শোকাহত । আমরা আপনার আত্মার মাগফেরাত কামনা করিই ।আল্লাহ্ যেন আপনাকে বেহেশত নসীব করেন ।
জিল্লুর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনঃ
মোঃ জিল্লুর রহমান বাংলাদেশের ১৯ তম রাষ্ট্রপতি। ১৯২৯ সালের ৯ মার্চ তৎকালীন কিশোরগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) ভৈরব থানায় তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা মেহের আলী মিয়া ছিলেন খ্যাতিমান আইনজীবী।
জিল্লুর রহমান ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ১৯ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি ময়মনসিংহ জেলা বোর্ডের সদস্য এবং স্থানীয় বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। জিল্লুর রহমান ময়মনসিংহ কেবি হাই স্কুল থেকে ১৯৪৫ সালে ম্যাটিকুলেশন পাস করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্সসহ এমএ এবং এলএলবি ডিগ্রি গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক আমতলায় একটি ছাত্র সমাবেশে জিল্লুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। এই সমাবেশ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি সফল করার কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হয়।
তিনি ১৯৫৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের সহ-সভাপতি(ভিপি) নির্বাচিত হন।
ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশ গ্রহণের কারণে জিল্লুর রহমানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার এবং তার মাস্টার্স ডিগ্রি বাতিল করা হয়।
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সময় বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার জন্য গঠিত নির্বাচন স্টিয়ারিং কমিটির ভাইচ চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। তিনি সফলতার সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৫৬ সালে কিশোরগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন জিল্লুর রহমান। ৬০ এর দশকে জিল্লুর রহমান ঢাকা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
তারও আগে সেই ১৯৪৭ সালে জিল্লুর রহমান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংস্পর্শে আসেন। তখন জিল্লুর রহমান ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র ছিলেন। এই সময় ব্রিটিশ শাসন থেকে সিলেটের স্বাধীনতার জন্য প্রচারণা চলছিল।
সেই প্রচারণায় জিল্লুর রহমানও অংশ নিয়েছিলেন। জিল্লুর রহমান ১৯৬২ সালের সামরিক শাসন, ৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ৭৯ এর গণঅভ্যুত্থানসহ সকল গণ-আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহযোগী হিসেবে অংশ গ্রহণ করেন।
জিল্লুর রহমান ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন।
জিল্লুর রহমান ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। তিনি স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জয় বাংলা নামে প্রকাশিত মুজিব নগর সরকারের মুখপত্র ‘জয়বাংলা’র প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংবিধান প্রণয়নে জিল্লুর রহমান সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন। ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে জিল্লুর রহমান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে তিনি পুনরায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক নির্বাচিত হন।
জিল্লুর রহমান ১৯৭৩ ও ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৮১ সালে দীর্ঘ ৭ বছর নির্বাসন শেষে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা যখন দেশে ফেরেন তখন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে জিল্লুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।
১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর স্বৈরাচারি এরশাদ সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা পালন করায় জিল্লুর রহমানকে কারাবরণ করতে হয়।
১৯৯২ সালে তিনি পুনরায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তিনি আবারো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদেও তিনি সদস্য নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এ সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকারের তিনি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দয়িত্ব পান।
একই সঙ্গে তিনি জাতীয় সংসদের উপ-নেতা হিসেবেও ২০০১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর পর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর এ বছর ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হলে ক্রান্তিকালে জিল্লুর রহমান দক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দলের নেতৃত্ব দেন। শেখ হাসিনা ১১ মাস জেলে থাকা এবং এর পর কয়েক মাস চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকার সময় জিল্লুর রহমান আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিল্লুর রহমান ষষ্ঠবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯তম রাষ্ট্রপতির শপথ নেয়ার আগ পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদের উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন।
জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নারী নেত্রী আইভি রহমান ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সমাবেশ চলাকালে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তিন দিন পর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যন।
source: Click This Link
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ২:৪১
মহসিন০৮ বলেছেন: জাতি একজন বর্ষীয়ান নেতা হারাল।
http://www.ctgblog.com/post/1067