| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
তন্বী মজুমদার
এই মনটা,চায় কত জনটা ,জানেনা কেউ জানেনা...ওহ মন কত কিছু বুঝেনা হায় বুঝেনা। তবু এগিয়ে যাবার দৃপ্ত শপথে অবিরাম অজানার পানে পথ চলা...
প্রকৃতিতে এখন চলছে ঋতু রাণী শরতের রূপের রঙ্গমেলা। বর্ষার অবসানে স্নিগ্ধ-শান্ত শরতের আগমন। এ সময় বন-উপবনে পুষ্পের ছড়াছড়িও কম নয়। শিউলী ও কামিনী ফুলের সুভাস ও সৌন্দর্য নয়ন-মনকে করে তোলে মুগ্ধ। স্থলে ফোটে স্থলপদ্ম। নদীর তীরে কাশফুলের কমল-ধবল রূপে জ্যোসনা-প্লাবিত রাতে জাগে স্বপ্নের শিহরণ। রূপসী বাংলার রূপ সাগরে শরতের রূপ অপূর্ব। নাগরিক মন ঋতু বৈচিত্র্যের শরত-হেমন্ত-বসন্ত কখন আসে কখন যায় তার খোঁজ অনেকেই রাখে না। তবে ঋতুমালায় গ্রীষ্ম-বর্ষা আর শীতের প্রাধান্য মনোযোগ না দিলেও এদের আগমনে সচেতন হতেই হয়।
অনুপম রূপ সৌন্দর্যমন্ডিত শরত্ ঋতু শারদ লক্ষ্মী নামে পরিচিত। বর্ষণ-বিধৌত, মেঘ মুক্ত আকাশের সুনীল রূপ-কান্তি, লঘুভার মেঘের অলস-মন্থর নিরুদ্দেশ যাত্রা, আলোছায়ার লুকোচুরি, শিউলি ফুলের মন-উদাস-করা গন্ধ, প্রভাতের তৃণ-পল্লবে নব-শিশিরের আল্পনা, তাতে প্রভাত-সূর্যের রশ্মিপাত ও শুভ্র জ্যোসনা পুলকিত রাত্রি- এই অনুপম রূপ নিয়ে বাংলার বুকে ঘটে শারদ লক্ষ্মীর আনন্দময় আবির্ভাব। শরত্কালের মধ্যেই যেন বাংলাদেশের হূদয়ের স্পর্শ পাওয়া যায়। তাই শরত্ যখন চলে যায়, তখন আমাদের হূদয় সম্পূর্ণ শূন্য করে দিয়ে চলে যায়। তার বিদায়-পথে পড়ে থাকে অশ্রুসিক্ত শিউলী ফুলের মালা এবং বিগত আনন্দের বর্ণ-বিলসিত অজস্র স্মৃতি। সাদা সাদা মেঘগুলো যেন নীলাকাশে পেঁজা তুলোর ন্যায় ইতস্তত ঘুরে বেড়ায়। কবির ভাষায় ‘নীল আকাশে কে ভাসালো সাদা মেঘের ভেলা’। নদীর তীরে তীরে কাশফুলের সাদা হাসির প্লাবন। মাঠে মাঠে সবুজের মেলা। মোটকথা এত সবুজ, এত নীল আর এত সাদার একত্র সমাবেশ অন্য কোন ঋতুতে দেখা যায় না। হেম ঋতু বসন্তে আছে বর্ণের ঐশ্বর্য ও অহংকার কিন্তু শরতে বর্ণের স্নিগ্ধতা আর উদারতা।
কি শোভা-শরতের! এ সময় গ্রীষ্মের গরম নেই, বর্ষার অঝোর ধারার বৃষ্টি নেই, শীতের প্রচণ্ডতা নেই। আছে শুধু আলোকোজ্জ্বল ঝলমলে দিন, জ্যোসনা স্নাত রাত আর মৃদুমন্দ সমীরণ।
রূপসী বাংলার রূপ-বিচিত্র, ঋতুচক্রে নানা বর্ণে-গন্ধে গানের সমারোহে নিত্য আবর্তিত হয়ে চলে। কিন্তু অর্থদাস শহরবাসী আজ আর তার অন্তরে সে নিমন্ত্রণ (শরতের) অনুভব করে না। শরত্ ঋতু সেজেছে অপরূপ সাজে। অথচ শহরের যান্ত্রিত জীবনে তার রূপ দেখার সময় নেই। প্রকৃতির এই রূপ-সৌন্দর্য মনকে করে প্রফুল্ল। অন্তরের ব্যথা-বেদনা ক্ষণিকের জন্য হয় বিলীন। প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়ার যে কি আনন্দ তা কবির ভাষায় তাঁর গানে, কবিতায় ও বিভিন্ন লেখনিতে নানাভাবে প্রকাশ পেয়েছে। চলুন না, কর্মময় ব্যস্ততার মাঝে কিছুক্ষণের জন্য হলেও প্রকৃতিতে মিশে যাই। দেহ-মনকে করে তুলি উত্ফুল্ল। একগুয়েমী থেকে পাই পরিত্রাণ। হূদয়টাকে করে তুলি মুখরিত। এর মত আনন্দ আর কিছুতেই নেই।
©somewhere in net ltd.