নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মাধু

মাধু › বিস্তারিত পোস্টঃ

"পুলিশি তদন্তে অসন্তুষ্ট হলে কী করবেন"

১৪ ই জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:২২

অপরাধসংক্রান্ত মামলার বিচারের

জন্য আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত

অভিযোগ প্রমাণ করতে ঘটনার সুষ্ঠু ও

নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যাবশ্যক।

পক্ষপাতহীন একটি তদন্ত রিপোর্ট

একদিকে যেমন মামলাকে একটি শক্ত

ভিতের ওপর দাঁড়

করিয়ে দিতে পারে, ঠিক

তেমনি তদন্ত-প্রক্রিয়া আসামিদের

দ্বারা কোনোভাবে প্রভাবিত

হলে তা পুরো মামলার মোড় ঘুরিয়েও

দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত

রাষ্ট্র

বাদী হয়ে মামলা করে এবং ঘটনা তদন্তের

দায়ভার পুলিশের ওপরই বর্তায়।

অভিযুক্ত আসামিদের অপরাধ

প্রমাণে প্রশ্নাতীত তদন্ত রিপোর্ট

দাখিল করতে পুলিশে লোকবল, সময়,

অবকাঠামো, আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদির

যেমন অভাব রয়েছে, তেমনি কিছু

পুলিশের কাছ থেকে অপরাধ

তদন্তে যে সব সময় যথেষ্ট দক্ষতা,

নিষ্ঠা, সততা ও

কর্মোদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয় না, এ

কথাও নিশ্চয়ই কেউ অস্বীকার করবেন

না।

পুলিশের বিরুদ্ধে প্রভাবমুক্তভাবে

তদন্ত রিপোর্ট দাখিল না করার

অভিযোগ অনেক পুরোনো। এ ধরনের

ঘটনায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই

দেখা যায়, আসামিদের

সঙ্গে পুলিশের

যোগসাজশে কিংবা রাজনৈতিক-

সামাজিক প্রভাব

খাটিয়ে অথবা অনৈতিক আর্থিক

লেনদেনের মাধ্যমে অভিযুক্ত পক্ষ

অভিযোগ থেকে রেহাই

পেতে পুলিশকে প্রভাবিত

করে তদন্তে অভিযোগের

সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে তদন্ত

প্রতিবেদন আদালতে পেশ করার

ব্যবস্থা করে।

অপরাধ সংঘটনের পর

মামলা করা হলে কিংবা ম্যাজিস্ট্রেটের

কাছ থেকে আদেশপ্রাপ্ত হলে পুলিশ

তদন্তকাজ শুরু করতে বাধ্য। পুলিশের

দায়িত্ব হলো, নির্দিষ্ট দিনের

মধ্যে তদন্তকাজ সম্পন্ন করা।

তবে ঘটনা বা অপরাধের মাত্রার ওপর

নির্ভর

করে ক্ষেত্রবিশেষে ম্যাজিস্ট্রেট

চাইলে পুলিশের সময়

চেয়ে করা আবেদন

আমলে নিয়ে তদন্তের মেয়াদ

বাড়িয়ে দিতে পারেন। আবার

তদন্তের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট

না হলে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট

তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বদলও

করতে পারেন।

পুলিশি প্রতিবেদন কী

অপরাধের তদন্ত শেষে অভিযোগ

বিষয়ে আদালতে দাখিল

করা প্রতিবেদনের নামই

পুলিশি প্রতিবেদন। তদন্ত শেষ

করে পুলিশ দুই ধরনের রিপোর্ট

আদালতে পেশ করতে পারে। অভিযুক্ত

আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ

করে যদি পুলিশি তদন্তে অভিযোগের

সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে পুলিশ

আসামিদের সংশ্লিষ্ট

আইনানুযায়ী অভিযুক্ত করে চার্জশিট

জমা দিতে পারে অথবা তদন্তে অভিযোগ

প্রমাণিত হয়নি মর্মে চূড়ান্ত

প্রতিবেদন (Final Report) দাখিল

করতে পারে। পুলিশ তদন্ত

শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল

করলে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট

তা গ্রহণ করতে বাধ্য নন। তাই

কোনো মামলায় পুলিশ আসামিদের

বিরুদ্ধে ফাইনাল রিপোর্ট দিলেও

হতাশার কিছু নেই;

বরং তদন্তে অযাচিত প্রভাব

পড়তে পারে জেনে আইনেও

তা থেকে প্রতিকার পাওয়ার

বিধান রাখা হয়েছে।

কীভাবে নারাজি দেবেন

যদি আপনি মনে করেন, আপনার

করা মামলায় পুলিশ নিরপেক্ষ

এবং পক্ষপাতহীনভাবে তদন্ত সম্পন্ন

করেনি, তাহলে সেই তদন্তের

বিরুদ্ধে আপত্তি ও

অসন্তুষ্টি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট

আদালতে দরখাস্তাকারে নারাজি আবেদন

পেশ করতে পারেন। মানে,

পুলিশি প্রতিবেদন

মেনে নিতে আপনি রাজি নন

মর্মে একটি দরখাস্ত দায়ের করবেন,

অর্থাৎ পুলিশের দাখিলকৃত প্রতিবেদন

আপনি কেন সঠিক মনে করছেন না,

সে কারণ দর্শিয়ে কিংবা আপনার

কাছে যদি পুলিশ প্রতিবেদন

প্রভাবিত হওয়ার সপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ

থেকে থাকে, তবে তা সংযুক্ত

করে ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর পুনরায়

অথবা অধিকতর তদন্তের আবেদন

জানাতে পারেন।

নারাজি আমলে নেওয়ার ফলাফল

আপনার কাছ থেকে আবেদনপ্রাপ্ত

হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিপক্ষ

এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাকে শুনানি করে যদি মনে করেন,

সংশ্লিষ্ট ঘটনার

ক্ষেত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত

প্রতিবেদন না দিয়ে চার্জশিট

দেওয়া উচিত ছিল অথবা তদন্ত

রিপোর্ট থেকে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত

কোনো আসামির নাম বাদ

পড়েছে অথবা কারও নাম যোগ

হওয়া উচিত ছিল,

তবে তিনি নারাজি দরখাস্তখানির

গুরুত্ব

বিবেচনা করে সেটিকে নালিশি দরখাস্ত

হিসেবে গণ্য করে বিষয়টি তৎক্ষণাৎ

তাঁর

আদালতে নালিশি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ

করে আবারও ঘটনা তদন্তে আদেশ

দিতে পারেন।

কিংবা তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ঘটনাটি পুনরায়

শুরু থেকে তদন্ত করার অথবা অধিকতর

তদন্ত করতে থানার ভারপ্রাপ্ত

কর্মকর্তাকে নির্দেশ

দিয়ে বিষয়টি আবারও থানায় ফেরত

পাঠাতে পারেন অথবা আগের

তদন্তকারী কর্মকর্তাকে পরিবর্তন

করে দিতে পারেন।

অথবা ফরিয়াদির আবেদনের

সত্যতা নিরূপণে আবেদনকারীকে শপথ

গ্রহণপূর্বক পরীক্ষা করে অভিযোগের

সত্যতা যাচাই করে সন্তুষ্ট

হলে আসামির বিরুদ্ধে সমন

জারি করতে পারেন

অথবা ক্ষেত্রবিশেষে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও

জারি করতে পারেন।

তবে আদালত চাইলে অপরাধের

নিরপেক্ষ তদন্তের

স্বার্থে তিনি নিজে বা তাঁর

অধস্তন কোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে

দিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত

করাতে পারেন।

এ সময় তিনি বিষয়টি নিশ্চিত

হতে স্থানীয় গণ্যমান্য

ব্যক্তি দিয়ে তদন্তও করাতে পারেন।

বিচার বিভাগীয়

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত

হলে তখন আসামির বিরুদ্ধে সমন

জারি অথবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে তদন্তকালীন সংশ্লিষ্ট

তদন্তকারী কর্মকর্তার

কোনো গাফিলতি প্রমাণিত

হলে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ

ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিতে পারেন

অথবা ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাজের

মূল্যায়নের বার্ষিক গোপনীয়

প্রতিবেদনে বিষয়টি সংযুক্ত

করতে তাঁর ঊর্ধ্বতন

কর্তৃপক্ষকে আদেশ

দিতে পারেন।

মামলাটি ঠিকমতো তদন্ত

করা হয়েছে কি না, তা যাচাই

করতে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার

বিভিন্ন নথিপত্র, কেস

ডায়েরি ইত্যাদি আমলে নিতে পারেন।

নারাজি খারিজ হলে করণীয়

উভয় পক্ষকে শুনে এবং মামলার

প্রয়োজনীয় সব নথি যাচাই

করে ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন,

পুলিশি তদন্তের বিরুদ্ধে নারাজির

কোনো ভিত্তি নেই,

তবে তিনি নারাজি দরখাস্ত

খারিজ করে দিয়ে পুলিশি তদন্তের

ওপর

ভিত্তি করে মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেন।

নারাজি আবেদন খারিজ

হলে খারিজাদেশের

বিরুদ্ধে আবেদনকারী ৬০ দিনের

মধ্যে দায়রা জজ

আদালতে অথবা হাইকোর্ট

বিভাগে রিভিশন আবেদন দায়ের

করতে পারেন।

সতর্কতা

আদালতের কাছে যদি প্রমাণিত হয়,

কেউ অযথা,

মিথ্যা কিংবা হয়রানিমূলকভাবে নারাজি দিয়েছে,

তবে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক

ব্যবস্থা নিতে পারেন। তাই

ঘটনা সম্বন্ধে নিশ্চিত

না হয়ে অযথা নারাজি দেওয়া ঠিক

নয়।

শেষ কথা

পুলিশি প্রতিবেদনে তাই

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সঠিকভাবে উপস্থাপিত

না হলে বিচলিত

না হয়ে অথবা নিজেকে অসহায়

মনে না করে নারাজি আবেদন

দাখিলের আশ্রয় নিতে পারেন।

প্রভাব-প্রতিপত্

তি খাটিয়ে আসামিপক্ষ

পুলিশি প্রতিবেদন থেকে রেহাই

পেলেও ম্যাজিস্ট্রেটের

কাছে আপনি ঘটনা প্রতিষ্ঠিত

করতে পারলে ন্যায়বিচার

পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন না।

কারণ, আসামি আইনের ফাঁক

গলিয়ে পালাতে চাইলেও আইনই

অবিচারের পথ রুদ্ধ

করে ন্যায়বিচারের দুয়ার উন্মুক্ত

করেছে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.