| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ঘটনা মুক্তিযুদ্বকালীন সময়ের! মুসলিম লীগার নানা ছিলেন শান্তিকমিটির চেয়ারম্যান।
বড় নাতী হিসাবে নানার নেওড়া ছিলাম! বয়স-১০/১১ হবে !! নানা খই দিয়ে দুধ খেতেন প্রতিদিন বিকেলে!! তিন ভাগের এক ভাগ খেয়ে বাকিটুকু আমাকে দিয়ে দিতেন।
এমিন এক দিনে ,খুব সম্ভবত এপ্রিল -মে র কোন এক গোধুলীলগ্নে ( সঠিক সময় মনে করতে পারছিনা) কাধে রাইফেল নিয়ে "" ফরহাদ নানা"( বীর মুক্তিযোদ্বা শহীদ ফরহাদ-চট্রগ্রাম বিশ্বিবদ্যালযে উনার নামে সড়ক আছে! ) তার জেটাতো ভাইকে সালাম করলেন আর নানা দোয়া করে মাথায় হাত বুলালেন! কি আশ্চর্য!! রাজাকার দোয়া করলেন মুক্তিযোদ্বাকে যুদ্বে যাওয়ার জন্য!! তখনতো আর বুজতে পারিনি, উপলব্দির বয়েসর সাথে সাথে বিষয়টা আমার চিন্তা জগতে নাড়া দিল। এটার কি কোন মনস্তাত্বিক ব্যাখ্যা আছে? না বৈষয়িক?
এখানে শেষ করতে পারলে ভাল হতো, কিন্তু বিপরীত আর দুইটা ঘটনা উল্লেখ না করে শেষ করতে পারছিনা।
০১. -নভেম্বরের মধ্যভাগে দুধ-খই খাওয়ার সময়ে ভ্যান্ডাইয়া মামা (নানার বাড়ীতে কাজ করতেন) আসলেন ছালাম করে দোয়া চাইতে রাইফল কাধে। যথারিতি নানা মাথায় হাত বুলিয়ে ১০ টাকার নোট দিয়ে তাকে দোয়া করলেন! - মুক্তিযুদ্বে যাওয়ার জন্য না, রাজাকারে যোগদানের জন্য!
০২. পাকিস্হানী আর্মী নানা বাড়ীতে দুপুরের ভাত খাওয়ার সময় ,নানা তার খালাতো ভাইয়ের সাথ কানে কানে কথা বললে ,পাকিস্তানী আর্মী নানার বুকের দিকে রাইফল থাক করেন! শুধু তাইনা, তারা ভাত খাওয়ার আগে নানাকে দিয়ে টেস্ট করিয়ে নিলেন কোন বিষ আছে কিনা !
কেমন এলোমেলো ব্যাপার না? সন্দহ নাই,নানা ছিলেন কট্টর স্বাধীনতা বিরোধী মানুষ!! যুদ্বের পর (বয়স হওয়ার পর) উনার সাথে তর্কে মেতে উঠতাম! কোনভাবেই উনার বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্য মানতে পারতাম না!
আগের দিনেতো পাবলিকলি বলার কোন উপায় ছিলনা, ব্যক্তিগতভাবে অনেক কে হয়তো বলেছি!! ভয় একটা ছিল-মামার বাড়ীর লোকজন বিষয়টা জানলে আমার সাথে বিতর্কে জড়াতে পারেন।
আসলে একটা সমাজে একটা মিথ্যা, বছরের পর বছর চলতে থাকলে এটা একসময় সত্যি হিসাবে প্রতিষ্টিত হয়ে যায়!!অাসল সত্যটা উৎঘাটন করতে গেলেই নিজেকে মিথ্যাবাদী করে ফেলে।
প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্বের কোন ঘটনা ব্যাক্তিগত হতে পারেনা!উত্তর প্রজন্মকে তা জানানো প্রয়োজন!! মুক্তিযুদ্বকালীন সময়ের ঘটনার বর্ণনা নির্মোহ,নৈর্বত্তিকভাবে ও নির্দলীয় দৃস্টিকোন থেকে ,সোসাল ও প্রিন্ট মিডিয়ায় জানানোর দরকার!!
দীর্ঘ নয় মাসের অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘটনার সমন্বিত রুপই তো মুক্তিযুদ্বের অমর মহাকাব্য।
বিদ্র: আমার লেখায় আমার মাতামহকে বড় করে দেখানার প্রচ্ছন্ন ইচ্ছাও ছিলনা, আমি ঘটনার বর্ননা করেছি মাত্র!
©somewhere in net ltd.