নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি মুক্ত বনের পাখি, গান গাওয়াই আমার নেশা

"অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে। নির্মল করো, উজ্জ্বল করো, সুন্দর কর হে"

জাহিদ পিয়াল

আমি মুক্ত বনের পাখি, গান গাওয়াই আমার নেশা

জাহিদ পিয়াল › বিস্তারিত পোস্টঃ

আদৌ কি এর সুবিচার হবে ?

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ৩:২৪

"আম্মা-আব্বা আমারে মাফ কইরা দিউ তোমাগোরে আর ঔষুধ কিনে দিতে পারবনা। ভাই তুই আম্মা আব্বার দিকে খেয়াল রাখিছ"



মূত্যুপুরী থেকে হঠাৎ বের হয়ে আসল একজনের লাশ, হাতের মধ্যে সাদা কাগজে লেখাছিল লাইন দু'টি। তোমার আব্বু-আম্মু হয়ত তোমায় মাফ করে দিতে পারবে কিন্তু তারা কি পারবে মাফ করতে ঐসব অর্থলোভীদেরকে, যারা সামান্য অর্থের লোভকে সামলাতে না পেরে কেড়ে নিল তোমার মত শতাধিক তাজা প্রাণ ? খালি করে দিল কত মায়ের কোল!



রাষ্ট্রযন্ত্র কি পারবে তাদের বিচার করতে? না,



কারন তাঁরা তো মালিক, শ্রমিকদের জীবন-মৃত্যু কি তাদের কাছে কোনো বিবেচ্য বিষয়? আর রাজনৈতিক নেতারা তো তাদের-ই রক্ষক।কেউ আবার নেতা নামধারী মুনাফালোভী।সরকার ও বিরোধী দল রাজনৈতিক হীন স্বার্থে আইন, বিধিবিধান লঙ্ঘনকারীদেরকে শুধু প্রশ্রয়ই দেয়না, দোষীদের যথোপযুক্ত শাস্তি না দিয়ে প্রকারান্তরে উৎসাহ যোগাচ্ছে। গার্মেন্টস খাতে একের পর এক ভবন ধস, অগ্নিকান্ড ও দুর্ঘটনার পর ও বিজিএমইএ আন্তরিকভাবে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তারা সবকিছু ধামাচাপা দেওয়া ও মালিকদের সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকে। তারাই তো কারওয়ান বাজার সংলগ্ন হাতিরঝিলে আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করেছে ১৮ তলা ভবন। আর এর মাধ্যমে তারা লঙ্ঘন করেছে নগর উন্নয়ন আইন, ১৯৫৩, মানা হয়নি ১৯৫২ সালের ভবন নির্মাণ আইন ও।



গত নভেম্বরে তাজরিন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড, মোহাম্মদপুরের স্মার্ট এক্সপোর্ট, নারায়ণগঞ্জের প্যানটেক্স গার্মেন্টস ও চট্টগ্রামে আগুনে অঙ্গার সহস্র শ্রমিকের মালিকেরও কিছু হয়নি।



সর্বশেষ আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশন লিমিটেডে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল, ওই সব কমিটির মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি প্রথম রিপোর্ট জমা দেন। এরপর বিভাগীয় কমিশনার, বিজেএমইএ এবং পুলিশের পক্ষ থেকে গঠিত কমিটি তাদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়।সবল রিপোর্টেই তাজরিন গার্মেন্টসের ফ্লোরের কলাপসিবল গেট বন্ধ থাকা ও বাইরে বেরোনোর জন্য জরুরি সিঁড়ি না থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটিগুলো তাদের সুপারিশে তাজরিনের কর্মকর্তাদের অবহেলার জন্য শাস্তির সুপারিশ এবং দেশের যেসব জেলায় শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে ওই সব জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালানার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছিল। এজন্য তাজরিনের মালিক দেলোয়ার হোসেনসহ ৯ জনকে দায়ী করা হয়েছিল।



তদন্ত রিপোর্ট জমা হওয়ার পর-ই তা হিমাগারে চলে গেছে, এরপর থেকে আর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। একইভাবে রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনায় ও এ পর্যন্ত চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা কি পারবে এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করতে? রানা প্লাজার মালিক সাভার পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক হওয়ায় ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। সূতরাং সরকার ও প্রশাসনকে এ বিষয়ে কতটা নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহের অন্ত নেই।



সাভার পৌরসভা এ ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিলেও রাজউক নাকি অনুমোদন দেয়নি। যারা অনুমোদন দিয়েছেন তারাও দুর্নীতিবাজ এবং খুনির সহযোগী। এ খুনিদের বিচার করতে হবে। শাস্তির আওতায় আনতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বলেছেন, "নির্দেশনা অনুযায়ী ইমারত নির্মাণ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে অন্য কেউ আর গাফিলতির মাধ্যমে এমন ঘটনা ঘটাতে না পারেন।"



শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, "জানতে পেরেছি, সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কবীর হোসেন সরদার দুর্ঘটনার আগের দিন --- প্লাজা পরিদর্শন করেছিলেন। ইউএনও সেখানে গিয়ে বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ নয়। এজন্য ইউএনও’র বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।"



সাভারের রানা প্লাজা ধসে এ পর্যন্ত ২৫৪ জনের প্রাণহানি ও বহু হতাহতের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে সারাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকরা রাজপথে নেমে আসে,সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে, বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সঘংর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ও সংঘর্ষে শতাধিক শ্রমিক আহত ও হয়েছে । পরিস্থিতি সামালতে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ডিইপিজেডসহ বিভিন্ন স্থানে কারখানা ছুটি ঘোষণা করছে মালিক কর্তৃপক্ষ।



এদিকে ওই ভবনে ছিল বৃটিশ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রাইমার্কের এক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। তারা এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে। ওয়াল-মার্ট তদন্ত করে দেখছে রানা প্লাজায় তাদের কোন সরবরাহকারী ছিল কিনা। সাভারে রানা প্লাজায় মর্মান্তিক ঘটনায় প্রায় ২০০ শ্রমিকের মৃত্যুর পর গতকাল বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এভাবেই শিরোনাম করে ‘বাংলাদেশ গার্মেন্ট ট্রেড আন্ডার ফায়ার অ্যাজ ডিজঅ্যাস্টার টোল রাইজেস’।



যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কংগ্রেসের ফরেন রিলেশন কমিটির সদস্য নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস ওম্যান গ্রেস মেংও পৃথক এক বিবৃতিতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন ।যুক্ত বিবৃতিতে কংগ্রেসম্যান স্যন্ডার লেভিন ও কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলি বলেছেন, এই দুর্ঘটনা প্রমান করেছে বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরের নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তারা বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকারের প্রতি কর্তৃপক্ষের যথাযথ শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। এছাড়াও এ ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাদের আইনের আওতায় আনার আহবান জানান।



ওয়াশিংটন ভিত্তিক ওয়ার্কার্স রাইটস কনসোর্টিয়ামের নির্বাহী পরিচালক স্কট নোভা বলেছেন, বছরের পর বছর বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তৈরী পোশাক শিল্পের নিরাপত্তার মান বাড়ানোর। কিন্তু তারা কখনও সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি। সূত্রমতে, গত বছর আন্তর্জাতিক রিপোর্টে উঠে এসেছিল যে, বাংলাদেশ হচ্ছে গার্মেন্ট খাতের ‘পরবর্তী চীন’



কিন্তু আজ সেসব বোধহয় স্বপ্নই থেকে যাবে।সরকার যদি সত্যিকারার্থে দেশকে ভালবাসে,শিল্পের উন্নতি চায় তাহলে ব্যক্তিস্বার্থ ও চলমান রাজনৈতিক হীনমন্যতাকে উপেক্ষা করে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষিদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।



বৃহস্পতিবার মাসিক ব্রিফিংয়ে দুদকের সচিব মো: ফয়জুর রহমান চৌধুরী বলেন, ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদন, নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুদকের অনুসন্ধানযোগ্য কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখবে দুদক।সচিব আরও বলেন, কোনো অনিয়ম ঘটলে ভবনের মালিক ও সম্পৃক্ত সরকারি কর্মকর্তা, রাজউক ও স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে দুদক।



সরকার, দুদক ও বিজিএমইএ'র এ ঘোষণা সত্বেও কতটুকু আন্তরিক হবে তদন্ত করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে? আদৌ কি এর সুবিচার হবে ? নাকি এটাও একদিন চলে যাবে হিমাগরে ? সেটাই এখন দেখার বিষয়।



লন্ডন,২৬/০৪/১৩

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.