| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জাহিদ পিয়াল
আমি মুক্ত বনের পাখি, গান গাওয়াই আমার নেশা
সুজলা,সুফলা,শষ্য শ্যামল এ বাংলা মায়ের রুপের বর্ণনা নাই বা দিলাম। সুন্দরবন আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য ও অহংকারের প্রতীক। কিন্তু যখন শুনি মেতেছে ওরা ধংশ লীলায়, টার্গেট ওদের সুন্দরবন। তখন আর চুপ করে থাকতে পারলাম না।
বিশ্বের সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ আমাদের সুন্দরবন, এটি ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো কর্তূক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। স্বনামে বিখ্যাত এ বনেরই রয়েল বেঙ্গল টাইগার। আজ সুন্দরবনকে নিয়ে শুরু হয়েছে ধংশাত্বক উন্নতি, যা কে অবনতি বলে অবহিত করাই শ্রেয়।
সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রামপালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনটি চুক্তির মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ক্রয়, কেন্দ্র বাস্তবায়ন ও সম্পুরক যৌথ উদ্যোগ।চুক্তি অনুযায়ী রামপালের পাঁচটি মৌজায় ১৮ হাজার একর জমির উপর এই কেন্দ্র নির্মিত হবে। পরিকল্পনা মতে ২০১৬ সাল উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
গবেষকদের মতে চুক্তি অনুযায়ী কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সুন্দরবনের ধ্বংস ডেকে আনবে। সুন্দরবন ছাড়া দেশে এখন আর তেমন বনাঞ্চল নেই। বিশেষজ্ঞদের ধারণা ২৩ ভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মাধ্যমে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গবেষকদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কয়লা পোড়ানোর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড, নাইট্রিক এসিড বায়ুমন্ডলে নির্গত হবে। ৫০০ মেগাওয়াটের কয়লা ভিত্তিক একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ১৮ মিলিয়ন টন সালফার ডাই অক্সাইড বাতাসে ছাড়ে। সেই হিসেবে রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৪০ মিলিয়ন টনের মত সালফার ডাই অক্সাইড নির্গত হবে। এসব রাসায়নিক উপাদান বৃষ্টির পানির সঙ্গে ক্রিয়া করে এসিড বৃষ্টি ঘটাবে। মাটির উব্ররতা হ্রাস পাবে। উদ্ভিদের বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুন্দরবন সংলগ্ন পশুর নদীটি হয়ত একদিন হারিয়ে যাবে।
পরিবেশবাদীরা সুন্দরবনকে বাঁচাতে এবং ওই এলাকায় গবাদি ও মৎস্য সম্পদের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ছাই নির্গমন বন্ধের দাবি করেছে। সুন্দরবনকে বাঁচাতে সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। সেই সাথে কৃষি জমি রক্ষা কমিটির দাবি খাস জমিতে এ প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রর জন্য কয়লার পরিবর্তে ফার্নেস ওয়েল ব্যবহার বিষয়টি পুনঃবিবেচনা করার জন্য পরিবেশ আন্দোলন কারীদের দাবি। সুন্দরবন কেবলমাত্র সৌন্দর্যের জন্য নয় আমাদের জীবন জীবিকার জাতীয় স্বাথেই নিশ্চিত হওয়া দরকার কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আসলেই কতখানি ক্ষতি করবে।
এর রয়েছে বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক। যেমন:
১,পানি দূষণ করবে
২,বায়ুর তাপমাত্রা বৃদ্ধি
৩,বিষাক্ত ছাই উৎপাদিত হবে
৪,শব্দ দূষণ করবে
৫,এছাড়া স্বাস্থ্যগত ঝুকি তো রয়েছেই।
সরকারি পরিবেশ সমীক্ষা ইআইএ অনুযায়ী,
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বছরে ৪৭ লক্ষ ২০ হাজার টন কয়লা ইন্দোনেশিয়া, অষ্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সমুদ্র পথে আমদানী করতে হবে। আমাদানীকৃত কয়লা সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে জাহাজের মাধ্যমে মংলা বন্দরে এনে তারপর সেখান থেকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। এর জন্য সুন্দর বনের ভেতরে হিরণ পয়েন্ট থেকে আকরাম পয়েন্ট পর্যন্ত ৩০ কিমি নদী পথে বড় জাহাজ এবং আকরাম পয়েন্ট থেকে মংলা বন্দর পর্যন্ত প্রয় ৬৭ কিমি পথ ছোট লাইটারেজ জাহাজে করে হাজার হাজার টন কয়লা পরিবহন করতে হবে!।
সরকারের পরিবেশ সমীক্ষাতেই স্বীকার করা হয়েছে, এভাবে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে কয়লা পরিবহনকারী জাহাজ চলাচল করার ফলে। পরিবহনকারী জাহাজ থেকে গুড়া, ভাঙা, টুকরো কয়লা, তেল, ময়লা আবর্জনা, জাহাজের দূষিত পানি সহ বিপুল পরিমাণ বর্জ্য নি:সৃত হয়ে নদী-খাল-মাটি সহ গোটা সুন্দরবন দূষিত করে ফেলবে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তারের নেতৃত্বে একদল গবেষক মংলা সমুদ্র বন্দরের অদুরে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ফলে সুন্দরবনের ওপর কি কি প্রভাব পড়বে তা নিয়ে গবেষণা করেছেন।তাদের প্রতিবেদনেও ফুটে এসেছে সুন্দরবনের কৃষি জমি, স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার উপর মারাত্বক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।
শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাইয়ীদ স্যার বলেছেন, যে কোনো কিছু করতে গেলে তার খারাপ দিক থাকে। কিন্তু রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে প্রথম থেকেই বিতর্ক উঠেছে। সবকিছু পলিটিক্যালি বা টেকনিক্যালি না দেখে জনগণের কথাও ভাবা উচিত।
পরিবেশ বিজ্ঞানীদের প্রতিবেদননে আরো বলা হয়েছে, পরিবেশ দুষণে পানি ও মাটির গুনগতমান এবং নদীগুলোর পরিবর্তন হবে। প্রাকৃতিক খাদ্য মাত্রাতিরিক্ত দুষণের ফলে হরিণ, বাঘসহ বিভিন্ন দুধের গুনগতমান নষ্ট করবে। পরিবেশ দুষণের কারণে প্রানীদের হরমন জনিত ক্ষমতা ও প্রজনন জনিত হ্রাস পাবে।
রামপালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহনের কাজ চলছে। এবং এটি স্থাপনে ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।সূতরাং আগামী দিনের কথা চিন্তা করে, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তূপক্ষের আশুদূষ্টি কামনা করছি।
লন্ডন, ২৬/০৪/১৩
©somewhere in net ltd.