নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি একটি পথ, আপনি চাইলে হেঁটে দেখতে পারেন....

জীয়ন আমাঞ্জা

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দর্শন হল হিসাব বিজ্ঞানের ডেবিট এবং ক্রেডিট । সবসময় যতখানি ডেবিট, ঠিক ততখানিই ক্রেডিট হয় । পরকালের হিসেব যা-ই হোক, এই ইহকালে আমরা ঠিক যেভাবে শূন্য হাতে পৃথিবীতে এসেছি, সেভাবে শূন্য হাতেই পৃথিবী ছেড়ে যাব । এটাই পৃথিবীর আবর্তনিক নিয়ম । অনেকে আমরা এটা বুঝতে ব্যর্থ হই ।আপনি কারো ক্ষতি করবেন তো আজ অথবা কাল আপনার ক্ষতি হবেই হবে । ভালো করলেও তার ফল আপনি জীবদ্দশাতেই পাবেন ।অনেকে দেখবেন রাস্তাঘাটে অযথা হোঁচট খায়, অসুখে ভোগে- এসব এমনি এমনি নয়, হয় এর অতীত, নয়তো ভবিষ্যৎ প্রসারী কোন কারণ আছে । যদি আপনি কারো ক্ষতি না করেন, তবে আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আপনার কোন ক্ষতি হবে না । কেউ চেষ্টা করলেও আপনার ক্ষতি করতে পারবে না ।শুদ্ধ থাকুন, শুদ্ধতার শুভ্রতাকে উপভোগ করুন । জীবন সুন্দর হবে ।আমি সবার মতের প্রতিই শ্রদ্ধাশীল।আশা করি আপনিও তাই।সৌজন্যবোধ ও মানবতার জয় হোক !

জীয়ন আমাঞ্জা › বিস্তারিত পোস্টঃ

কিছি ভালা আদমিনে কাহা...

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ৮:১১


কপিল শর্মা শো'তে একটা কৌতুক ছিল এরকম, রোজ আমরা মাইল মাইল পাড়ি দিয়ে হিমালয়ে যেতাম, তারপর কিছি ভালা আদমি নে কাহা, বরফ তো ফ্রিজেও পাওয়া যায়, হিমালয়ে যাবার কী দরকার?
ব্যস৷
এখন এই কোন না কোন ভালা আদমি সবার জীবনেই মারাত্মক সব আইডিয়া নিয়ে আসছে৷

উদাহরণ দেই, এক লোক চাকরী করছে৷ সকাল আটটায় কাজে যায়, রাত দশটায় ফেরে৷ বেতন যা পায়, দিনাতিপাত হয়ে যায় তাতে৷
অতঃপর তার একজন ভালা আদমির সাথে দেখা হল, সেই ভালা আদমি তাকে বলল, তুমি এতক্ষণ ডিউটি কর?? আমার তো দশটা থেকে পাঁচটা ডিউটি! এরপর ফ্যামিলি টাইম! তা বেতন পাও কত? বিশ হাজার?? আমি পাই ত্রিশ হাজার! তোমার কোয়ালিফিকেশন তো আমার চেয়ে কোন অংশে কম না, কোম্পানি তো ভীষণ ঠকাচ্ছে তোমাকে!

ব্যস, এরপর থেকে ওই লোক হতাশায় ভোগে, কাজের প্রতি তার শ্রদ্ধা চলে গেছে, পারফরম্যান্স খারাপ হতে লাগল, চাকরি যায় যায় অবস্থা, সেও কোম্পানির প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ইস্তফা দিয়ে দিল, এখন সে বেকার!


আমি ২০১৯ পর্যন্ত সাধারণ দোকান হতে যেসকল জিন্স প্যান্ট কিনেছি, সবই কমপক্ষে দেড় দুই বছর টিকেছে৷ ২০২০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত সাধারণ দোকান থেকে যে প্যান্টই কিনেছি তার কোনটাই ছয় মাসের বেশি টেকেনি৷ তারপর বুঝলাম, এখানেও কিছি ভালা আদমি কা হাত লেগেছে৷ নির্ঘাৎ গার্মেন্টস সেক্টরে নতুন এক্সপ্যাটরা ঢুকে আইডিয়া প্রয়োগ করেছে! কী আইডিয়া?
কস্ট মিনিমাইজেশন! ফেব্রিক কম্পোজিশন চেইঞ্জড! কী দরকার এত টেকসই করে, দ্রুত নষ্ট হোক, কাস্টমার আবার কিনতে বাধ্য হোক! দ্বিগুণ বিক্রি, তিনগুণ মুনাফা!

আমার খালার বিয়েতে মোশাররফ নানা একটা প্যানাসনিকের রেডিও উপহার দিয়েছিলেন! সেই রেডিও এখন ৪৫ বছর ধরে চলছে! এরপর আরো অনেক যন্ত্রই এল, অতটা আর টিকলো না কেউ! আগের নোকিয়া ফোন একেকটা অক্ষয় যন্ত্র ছিল৷ তখনকার ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস যে আয়ু পেত, এখন প্রযুক্তি উন্নতি হয়েও আয়ু পায় আগের চার ভাগের এক ভাগ! কারণ ওই উপরেরটাই! কিছি ভালা আদমি এসে শেখালো, কস্ট মিনিমাইজেশন, মেইক মোর প্রফিট!
কোয়ালিটি কম্প্রোমাইজ করলে যে ব্র্যান্ড ভ্যালু বলে একটা জিনিস হ্রাস পায়, তার বালাইও রইছে না কারণ প্রায় সবাইই ওই পথে হাঁটছে এখন৷ কতই না চালাক হয়েছে মানুষ! চালাকি বলতে আমরা শিখলাম ঘাপলা!

এই সাসটেইনেবিলিটির ঘাপলায় সম্প্রতি যোগ দিয়েছে বিভিন্ন সেলস এ্যান্ড মার্কেটিং বেইজড কনজ্যুমার গুডস কোম্পানি! কস্ট মিনিমাইজ করতে গিয়ে লোক ছাটাই করে তিন জনের কাজ চাপিয়ে দেওয়া হল একজনকে! ফলে কাজ তার সুক্ষ্মতা হারালো, নৈপুণ্য হারালো, এবং এতে সাময়িক প্রফিট দেখা গেলেও, পশ্চাতে যে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিটা কোম্পানির হল সেটা অনুধাবন করতে এখনও অনেকের সময় লাগছে!

এখানে একদল আরো এক কদম এগিয়ে গেছে, টার্গেট এচিভ না হলে স্যালারি আটকে দাও! এরপর কর্মী স্যালারি আদায়ের চেষ্টা করবে, না কাজের প্রতি মনোযোগ দেবে? ফলে, কাজ শিকেয় ওঠে, কর্মীর চেষ্টা থাকে কোনমতে স্যালারিটা আদায় করে বিদায় নেওয়া! ওদিকে ফিল্ডের যা ক্ষতি হবার ততদিনে হয়ে যায়!


আচ্ছা, খসখসে কথাবার্তা হচ্ছে, লেখায় এন্টারটেইনমেন্ট না ঢোকালে তো আবার পাবলিক টানবে না৷ পাবলিক লেখা না পড়লে লেখার চেষ্টাই বৃথা! তো একটু মশলা মিশ্রিত করি বরং—
এক ভদ্রমহিলা দিব্যি স্বামীর সংসার করছেন সুখ দুখ মিলিয়ে! তখন ইনবক্সে কিছি ভালা আদমিকা আগমন ঘটা! ভদ্রমহিলাকে সেই ভালা আদমিনে কাহা, কখনও আপনার সমুদ্র স্নানের সুযোগ হয়েছে?
রমনীটি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মনে মনে বললেন, আমার স্বামীর কি আর সে রোমান্টিকতা আছে!
ভালা আদমিটি এরপর ইনবক্সে বলল, খোঁপায় বকুলের মালা শেষ কবে পরেছিলেন?
রমনীটি উদাস হয়ে বললেন, মনে নেই তো!
কেন, আপনার হাজবেন্ড আনেন না আপনার জন্য?
এবার রমনীর বুকের সাথে মুখও ফাটলো, বলেই বসলেন, নাহ, তার এসব রোমান্টিকতা নেই!
ভালা আদমি এরপর শাড়ির কুঁচির ভাঁজ, কপোলের কালো তিল থেকে আরম্ভ করে জোছনার আলোয় প্রেম, খোলা পিঠে আঙুলের স্পর্শে প্রেমের কবিতা পর্যন্ত এগুলো...

অতঃপর রমণীটি ধরা দিয়ে বুঝলেন, সব ওই কোনমতে একবেলা সিলিং ফ্যান দেখার কৌশল! জোছনা- কবিতা- বকুল ফুল- রোমান্টিকতা— হেন তেন এসব কেবল ওই সিলিং ফ্যানের উদ্দেশ্যেই!

কিছি ভালা আদমির পর্ব শেষ করব আরেকটা উদাহরণ দিয়ে৷
আমাদের দাদা নানীরা ডজন ডজন শয়তান (থুক্কু সন্তান) পয়দা করেছেন৷ কখনও তাদের সেক্স লাইফ নিয়ে ভাবেননি নিশ্চয়ই?
ভাবার দরকারও নেই, তবে একটা বিষয়ে একটু দৃষ্টি আকর্ষণ করি, তখন সিলিং ফ্যানের শব্দ ছিল না, সাউন্ড প্রুফ রুম তো দূর, এঘর ওঘরের মাঝে অনেক ক্ষেত্রে দরজাও ছিল না! এর উপর আবার কাঠের বেড়ার ঘর, ঘরের শেষমাথায় কেউ নাক ডাকলে এই মাথা হতে তা স্পষ্ট টের পাওয়া যায় রাতের নির্জনতায়! এমতাবস্থায় একটু পাশ ফিরে শুতে গেলেও ক্যাচক্যাচ খাটের আওয়াজ! এতসবের মধ্যে উদাম প্রেম তো দূর, কোনমতে সন্তান পয়দা করার প্রক্রিয়াটুকু শেষ করেই ক্ষান্তি! অথচ এরপরও আদর সোহাগ, রঙ রসের কমতি দেখবেন না সেইসব বুড়োবুড়িদের মধ্যে! তাঁদের মধ্যকার শ্রদ্ধা- আকর্ষণ- মায়া- টান এখনও আপনার নজর কাড়বে!

অথচ, আশির দশকে কিছি ভালা অওরাত নে কাহা, হায় নারী সমাজ, তোমরা তো অর্গাজমই পাও নাই, আহা, সারাটা জীবনই বঞ্চিত হয়ে গেলা! আহা রে!

অতঃপর.…….
মনের মধ্যে দানা বাঁধল অজানা এক হুতাশন!

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ১০:৪৪

বিজন রয় বলেছেন: সমাজ-চিত্রের বেশ কিছু উদাহরণ দিলেন। বেশ ভালো।

আপনি অনেক দিনের ব্লগার।

শুভকামনা।

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ১১:৪৮

জীয়ন আমাঞ্জা বলেছেন: ধন্যবাদ, ভাই ❤️

২| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ ভোর ৫:০০

সোহানী বলেছেন: কঠিন কথাগুলো কি সহজেই না বলে গেলেন!!

এ ভালা আদমিরাই সেলিব্রেটি, ক্রাস, একজিকিউটিভ B-))

৩| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ ভোর ৫:৪১

জনারণ্যে একজন বলেছেন: ভালো পোস্ট। হিউমার আছে - সেই সাথে চমৎকার এক মেসেজ।

কোনো ভালো কাজে নিরুৎসাহিত করার জন্য সবসময়েই কিছু মানুষ পাবেন। এদের একমাত্র কাজ হলো মিষ্টি হেসে অন্যের পশ্চাৎদেশে আইক্কাওয়ালা বাঁশ অনুপ্রবেশ করানো। সমস্যা হলো, বাঁশ অনুপ্রবেশের সময় ব্যাথা-বেদনা কিছুই টের পাওয়া যায় না। এতটাই স্মুথ এই মানুষগুলি .....!!

ভদ্রমহিলার উদাহরণটা অসাধারণ ছিল। হা হা হা।

সুযোগ নেয়ার জন্য এরকম কিছু মানুষ নামক প্রাণী সবসময়েই আশেপাশে মশা-মাছির মতো ঘুর-ঘুর করে। কিন্তু সময়মতো এদের এদের চেনা খুব কঠিন। আর যখন চেনা যায়, অনেকক্ষেত্রেই তখন দেরি হয়ে গেছে।

আই মিন - বাঁশ অনুপ্রবেশের কাজ তখন অলরেডি ডান।

৪| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ সকাল ৯:০১

শেরজা তপন বলেছেন: চমৎকার কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন।
এইসব ভালা আদমিদের দেখা জীবনে না পাওয়াই ভালো।

৫| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ সকাল ৯:১৫

মনিরা সুলতানা বলেছেন: কোয়ালিটি কম্প্রোমাইজ করলে যে ব্র্যান্ড ভ্যালু বলে একটা জিনিস হ্রাস পায়,
খুব প্রয়োজনীয় কথা।

৬| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ বিকাল ৩:১৮

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্ট টি পড়ে ভালো লেগেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.