নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অদ্বিতীয় জিসান

নিজের সম্পর্কে এখন ভেবেই যাচ্ছি। জানি না কবে এ ভাবনার উত্তর পাব।

অদ্বিতীয় জিসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

হেফাজতীদের কাণ্ডকারখানা প্রসঙ্গে !

১০ ই মে, ২০১৩ সকাল ১১:৫০

পশ্চাদপদ, ধর্মান্ধ এবং বিভ্রান্ত এক সামাজিক গোষ্ঠির নাম 'হেফাজতে ইসলাম'।

মধ্যপ্রাচ্যের অভিশপ্ত জাহেলিয়াতের সংস্কৃতি ভর করেছে ওদের মস্তিষ্কে। এজন্য দায়ী: প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চনা, যুগোপযোগী জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্মত শিক্ষার অভাব, শ্রম ও কর্মহীনতা এবং সর্বোপরি নিজেদের গোঁড়ামী এবং রাষ্ট্রিয় উদাসীনতা।



এরা সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণ চিন্তা থেকে বাঙালি সভ্যতা বনাম ইসলামী সভ্যতার মধ্যে বিরোধ ও সংঘাত সৃষ্টি করেছে। অথচ মৌলিকভাবে এ দুইসভ্যতার মধ্যে হৃদ্যতার সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে বিদ্যমান। একে অন্যের পরিপূরক। বস্তুত: বাঙালি সভ্যতার ক্রমবিকাশে ইসলামী সভ্যতা ও সুফিবাদের বিরাট অবদান রয়েছে। বর্তমানে ইসলামী মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি বাঙালি সভ্যতার এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। প্রকৃতিবাদ, বৌদ্ধধর্ম, সনাতন (হিন্দু) ধর্ম, খৃষ্টান এবং ইসলাম ধর্মের সম্মিলিত মিথস্ক্রিয়ার পরিণতিই হচ্ছে বাঙালি সভ্যতা। তাই বাঙালি বৌদ্ধ, বাঙালি সনাতনী হিন্দু, বাঙালি খৃস্টান ও বাঙালি মুসলমান ভাই ভাই; পরস্পরের সাথে কোন বিরোধ বা সংঘাত ঐতিহাসিকভাবে অতীতেও ছিলনা এবং এখনও নেই। অতীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের মূলে ছিল আর্যধর্ম বা ব্রাহ্মণ্যবাদ, মধ্যপ্রাচ্যের জাহেলিয়াতি ওয়াহাবীবাদ, ভারতীয় মৌদুদীবাদ ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ। বর্তমান স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ যেমন বাঙালি সভ্যতার বাহক, তেমনি বাঙালি সভ্যতাকে অবলম্বন করেই বাংলাদেশকে এগুতে হবে এবং এগুচ্ছেও। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি হবে আমাদের সামনে চলার পাথেয়। ধর্মের প্রশ্নে আমাদের সুস্পষ্ট নীতি: ধর্ম যার যার দেশ/রাষ্ট্র সবার’।



এই আপ্তবাক্যকে ধারণ করে, বাঙালিদেরই অপরিহার্য অংশ বিভ্রান্ত এই সংকীর্ণ চিত্তের সামাজিক গোষ্ঠিকে দানবীয় চরিত্র ধারণ করার আগেই সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে হেফাজত করতে হবে। রাষ্ট্রকে ওদের প্রতি যত্নবান হতে হবে। প্রাচীনপন্থী ও গোঁড়া ধর্মীয় 'কওমী’ শিক্ষাকে সংস্কার করে বিজ্ঞানসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রচলন করতে হবে। দেশে এবং বিদেশে এদের জন্য কারিগরী ও দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। শান্তির ধর্ম ইসলাম’-এর সঠিক বৈশিষ্ট্য তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার নামে ভিক্ষা বৃত্তি বা আল্লাহর ওয়াস্তে পাওয়া’র উপর নির্ভরশীলতা, মিলাদ মাহফিলের নামে আর্থিক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি প্রভৃতি যে ইসলাম ও নবীর (স:) তরিকা বিরোধী, এ সত্যকে অনুসরণ করার জন্য তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মোট কথা, তাদেরকে মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।



তাদের ধর্মান্ধতা ও রাজনৈতিক অসচেতনতাকে পুঁজি করে বর্তমানে প্রচলিত দুষ্ট রাজনৈতিক চক্র যে মারাত্মক খেলায় মত্ত, তা দেশের জন্য ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। কাজেই সাধু সাবধান!

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.