নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্যের সন্ধানে ও শান্তির অন্বেষায় ...

সব বিষয়ে জানতে ও শিখতে আগ্রহী একজন উদার মনের মানুষ।

জোবাইর

বিনয়ী মূর্খ অহংকারী বিদ্বান অপেক্ষা মহত্তর। Copyright © Zobair

জোবাইর › বিস্তারিত পোস্টঃ

খোকার উত্থান : বামপন্থী থেকে মুক্তিযোদ্ধা, কমিশনার থেকে মেয়র, সম্পাদক থেকে মন্ত্রী

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৯


সাদেক হোসেন খোকা (১২ মে ১৯৫২ - ৪ নভেম্বর ২০১৯) ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের রাজধানী অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ মেয়র। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সহ-সভাপতি ছিলেন এবং অবিভক্ত ঢাকা শহর বিএনপির সভাপতি ছিলেন দীর্ঘদিন। ঐতিহাসিক বায়ান্নোয় জন্ম নেওয়া খোকা একই সাথে নন্দিত ও নিন্দিত রাজনৈতিক জীবন পেরিয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন ৬৭ বছর বয়সে। তিনি প্রাণের মায়া ত্যাগ করে জীবনের নয়টি মাস উৎসর্গ করেছিলেন বাঙালি জাতির সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে। বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে পারি যে ৬৭ বছর বয়সের একজন মানুষকে শুধুমাত্র নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ দিয়ে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অনেকেই আজ দলবাজির উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধের পতাকা হাতে নিয়ে খোকার গুণগানের মিছিলে হাজির! খোকা মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও জীবনে আরো অনেক ভালো ভালো কাজ করেছিলেন। তাই তাঁকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে হলে তাঁর জীবনের ভালো-মন্দ সব ঘটনাকে আলোচনায় আনতে হবে। দলবাজি ও ব্যক্তিপূজার মন-মনসিকতা ছেড়ে সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলতে হবে। টানা এক দশকেরও বেশি সময় ঢাকার মেয়র ছিলেন তিনি। শুধু মেয়রই নন, দুই দুবার মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন তিনি। দল হিসাবে বিএনপির সফলতা নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে কিন্তু বিএনপির নেতা হিসাবে তিনি যে সফল তাতে কোন মতভেদ নেই। তিনি দুই মামলায় দণ্ডসহ ২৫টির অধিক মামলায় আসামি ছিলেন। খোকার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা তাঁর বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির মামলায় তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে যেতে পারেন নি বা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন নি। যাই-হোক, সাদেক হোসেন খোকার বর্ণাঢ্য জীবনের ঘটনা ও কাহিনী এখানে তুলে ধরলাম:

জন্ম ও ছাত্রজীবনে
সাদেক হোসেন খোকার জন্ম ১৯৫২ সালের ১২ মে মুন্সীগঞ্জের সৈয়দপুরে। তার বাবা এম এ করীম ছিলেন প্রকৌশলী ছিলেন। জন্ম গ্রামে হলেও তিনি বড় হয়েছেন বাবা-মায়ের সঙ্গে পুরান ঢাকার গোপীবাগে। শিশুকাল থেকেই খোকার বন্ধু-বান্ধবদের গন্ডি ছিল অনেক বড়। এই বন্ধুদের সঙ্গে মিলেই গড়ে তোলেন ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব। তিনি গোপীবাগ রামকৃষ্ণ মিশন স্কুল, কলতাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়দেবপুর রানী বিলাস মনি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। তারপর জগন্নাথ কলেজ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলনে নাম লিখিয়ে খোকা হয়ে উঠেছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা। রুশ-চীন দ্বন্দ্বে কমিউনিস্ট পার্টির ভাঙন দেখা দিলে তিনি নাম লেখান চীনপন্থি শিবিরে। উল্লেখ্য, চীনপন্থী বামদলগুলো চীনের প্ররোচনায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থ করেনি। বন্ধুত্বের সূত্র ধরেই তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।


মুক্তিযুদ্ধে
১৯৭১ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় ছাত্র ইউনিয়নের তৎকালীন নেতা রুহুল আমীন এবং গোপীবাগের মাসুদসহ বেশ কয়েকজন মিলে ট্রেনিং নেওয়ার জন্য আগরতলার পৌঁছলে তাদের রিসিভ করেন শহীদুল্লাহ খান বাদল (রাশেদ খান মেননের ছোট ভাই)। সেখান থেকে খোকা চলে চলে যান দুই নম্বর সেক্টরে। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ছিলেন সেই সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার। মেজর হায়দারের (পরে কর্নেল হায়দার) নেতৃত্বে ঢাকার মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। দুই নম্বর সেক্টরের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের নাম ছিল ‘মেলাঘর’। মেজর হায়দারের অধীনে তিন সপ্তাহ গেরিলা ট্রেনিং শেষে তারা সম্মুখ যুদ্ধের ট্রেনিং গ্রহণ করেন ক্যাপ্টেন গাফফারের (পরে জাতীয় পার্টি নেতা ও মন্ত্রী) নেতৃত্বাধীন সাব সেক্টরে। ওখানে ট্রেনিং শেষ করার পর প্রথমদিকে কসবা-মন্দভাগ (মির্জাপুর) বর্ডার এলাকার সাব সেক্টরে কয়েকটি সম্মুখযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন তিনি। ট্রেনিং শেষে একটি গেরিলা গ্রুপের কমান্ডার হিসাবে ঢাকায় আসেন সাদেক হোসেন খোকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের কাছে বিমান বাহিনীর রিক্রুটিং অফিস, বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সফল অপারেশনের নেতৃত্ব দেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ঢাকায় অনেকগুলো সফল অপারেশনের নেতৃত্ব দেন ভয়ংকর সাহসী গেরিলা নেতা সাদেক হোসেন খোকা। যুদ্ধের ৯ মাসই প্রতিদিন এক বা একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি।

কর্মজীবনে
মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি ফুটবল নিয়ে কাজ করেন। ১৯৭২ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের দায়িত্ব নেন। তিন বছরে ঘরোয়া ফুটবলের তৃতীয় ডিভিশন থেকে প্রথম ডিভিশনে উঠে আসে ব্রাদার্স ইউনিয়ন, মোহামেডান ও আবাহনীর সমপর্যায়ে চলে আসে। এছাড়া ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, ফরাশগঞ্জ ক্লাব এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। তিনি ঢাকা মহানগর ফুটবল সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে পদোন্নতি লাভ করেছিলেন। কাজী জাফর আহমেদ নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস লীগে (ইউপিপি) যোগ দিয়েছিলেন খোকা। এরপর খোকা মাওলানা ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ) যোগদানের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঊষালগ্নে চীনের পাকিস্তানকে সমর্থন এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের সদস্য হওয়ার বিরুদ্ধে ভেটো দেওয়ার কারণে অনেক কর্মী চীনপন্থী বামদলগুলো ত্যাগ করেছিলেন। তাছাড়া আশির দশকে আভ্যন্তরীন মতবিরোধে ভাঙ্গনের ফলে বাংলাদেশের বামপন্থী দলগুলো যখন বিলীন হওয়ার পথে তখন অনেকেই তাদের দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক আদর্শ-নীতি পরিত্যাগ করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোতে যোগ দেন। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে যখন খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন, তখন চীনপন্থি অনেক বাম নেতাকে অনুসরণ করে খোকাও ১৯৮৪ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর খোকাকে আর পেছন দিকে ফিরে তাকাতে হয়নি। তারপরের ইতিহাস সামান্য ওয়ার্ড কমিশনার থেকে খোকার মেয়র, মন্ত্রী ও বিএনপি'র প্রভাবশালী নেতা হওয়ার ইতিহাস, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থবিত্তের পাহাড় গড়ার ইতিহাস।


বিএনপির রাজনীতিতে
শুরু থেকেই বিএনপিতে বেশি ছিল সুবিধাবাদী নেতা যাদের বেশিভাগই সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার অথবা ব্যবসায়ী। এদের সাথে সাধারণ মানুষের কোন সম্পর্ক ছিল না, তাছাড়া এরা রাজনৈতিক সংঘটন ও দলীয় কর্মকান্ডের ব্যাপারে অভিজ্ঞ ছিলেন না। খোকা তাঁর অতীতের রাজনৈতিক সংঘটন ও দলীয় কর্মকান্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিএনপিতে উল্কার গতিতে শীর্ষ ও সিনিয়র নেতাদের সারিতে চলে আসেন। বিএনপিতে যোগদান করার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা খোকা সহ-সাংগঠনিক পদ দিয়ে শুরু করে নানা পদ পেরিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত।

১৯৯০ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙা কেন্দ্র করে পুরান ঢাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার চেষ্টা হলেও তা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর পাহারা দিয়ে সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করেন। এতে খোকা পুরান ঢাকাবাসীর আস্থা অর্জন করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি) থেকে বিএনপির মনোনয়নে জয়ী হন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হারিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন খোকা। এর পর তাকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়।


১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ঢাকার আটটি আসনের মধ্যে সাতটিতে বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হলেও একমাত্র খোকা নির্বাচিত হন। রাজনীতিবিদ খোকা প্রথমে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য বিরোধী দল কঠোর আন্দোলন শুরু করলে ঢাকায় বিএনপি কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় খোকাকে ১৯৯৬ সালে মহানগর বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়। ওই সময় পুরান ঢাকায় বিএনপির রাজনীতিতে নিজস্ব বলয় তৈরির পাশাপাশি প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে দলকে শক্তিশালী করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল খোকার। ২০০১ সালের নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী হন।

মেয়র পদে
পরে তাকে ঢাকার মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া হয়। ২০০২ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৪ সালে তিনি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন, এর আগে তিনি একই সাথে মেয়র ও মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তাকে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার ২০০৪ দেয়া হয়। ২৯ নভেম্বর ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে ঢাকা মহানগরের মেয়র ছিলেন তিনি। বিএনপির সবশেষ কমিটিতে খোকাকে ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে
২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে দলে যে সংস্কারের দাবি উঠেছিল, তার প্রতি সাদেক হোসেন খোকার সমর্থন ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে খোকা সেই অভিযোগ অস্বীকার করতেন।


মেয়র খোকার সম্পদের পাহাড়
দুদকের তথ্য: ঢাকার মেয়রের ৫ বাড়ি, ফ্ল্যাট ৬টি, জমি ৯৫ বিঘা, প্লট ৮, নগদ সাড়ে ৫ কোটি টাকা, ৪০টি ব্যাংক এ্যাকাউন্ট, গাড়ি ২টি। ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা অর্থ-বিত্তের পাহাড় গড়েছেন। জমি-জায়গা-প্লট-ফ্ল্যাট, গাড়ি-বাড়ি, ব্যাংক একাউন্টের যে হিসাব তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করেছেন তা রীতিমত পিলে চমকানো। সাদেক হোসেন খোকার পক্ষে তার আইনজীবী এডভোকেট এসএমএ কাইয়ুম ও এডভোকেট আশরাফউদ্দিন দুদকের সচিব মো. মোখলেস-উর-রহমানের কাছে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করেন। দুদকের দেয়া তথ্যানুযায়ী ঢাকা শহর ও এর উপকণ্ঠে মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ও তার স্ত্রী, পুত্র ও কন্যার নামে প্রায় শত বিঘা জমি, ১১টি বাড়ি-ফ্ল্যাট, ৮টি প্লট, ৪০টি ব্যাংক একাউন্ট, দুইটি বিলাসবহুল গাড়ি, নগদ সাড়ে ৫ কোটি টাকা রয়েছে। দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী অনুয়ায়ী জানা যায়, তার নিজ নামে গোপীবাগে দুইটি বাড়ি, মুন্সিগঞ্জে একটি বাড়ি, আরকে মিশন রোডে তিনতলাবিশিষ্ট একটি অধিগ্রহণকৃত বাড়ি, গুলশানে ৬ তলাবিশিষ্ট একটি আলিশান বাড়ি রয়েছে। তার স্ত্রী ইসমত আরার নামে গুলশানে একটি ও ঢাকার অন্য স্থানে একটি ফ্ল্যাট, ছেলে ইশরাক হোসেনের নামে দুইটি ফ্ল্যাট, মেয়ে সারিকা সাদেকের নামে দুইটি ফ্ল্যাট রয়েছে। ২০০৮ সালে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি মামলা করে দুদক।

দেশত্যাগ
২০১৪ সালের ১৪ মে সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। এর পর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। তারপর থেকে সাড়ে পাঁচ বছর ধরে ছিলেন নিউইয়র্ক সিটির ইস্ট এলমহার্স্ট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায়। সার্বক্ষণিক তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ইসমত হোসেন। এ সময়কালে দেশে তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি দুর্নীতি মামলা হয়।

ফোনালাপে তোলপাড়
২০১৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার দুটি টেলিফোন কথোপকথন ফাঁসের পর দেশব্যাপী তোলপাড় হয়েছে। ‘জেনারেলদের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী মান্না’ এবং ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ চান মান্না’ শিরোনামে দুটি অডিওবার্তা ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মান্না এবং খোকা। মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে পাড়ার চায়ের দোকান- সর্বত্রই চলছিল মান্না-খোকার ফোনালাপ নিয়েই তর্ক-বিতর্ক। এ বিষয়ে খোদ মাহমুদুর রহমান মান্নার বক্তব্য ছিল, তার ফোনালাপ সত্য।



মান্না ও খোকার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা
০৫ মার্চ ২০১৫ নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা হয়েছে। খোকা-মান্নার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই অনুমতি মেলার পর গুলশান থানায় তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর-১০। এর আগে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মান্না ও খোকার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল।

খোকার ১৩ বছর কারাদণ্ড, ‘অবৈধ সম্পদ’ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ
২০ অক্টোবর ২০১৫, সম্পত্তির তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তিনি অবৈধভাবে ১০ কোটি ৫ লাখ ২১ হাজার ৮৩২ টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন ঘোষণা করে, ওই সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে। মঙ্গলবার ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার সাত বছর আগের এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। এই রায় যখন হল, বিএনপির সাবেক ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক খোকা তখন ‘চিকিৎসার জন্য’ নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। তাকে পলাতক দেখিয়েই এ মামলার বিচার চলে। রায়ে বলা হয়, আসামি খোকা অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার পাশাপাশি নয় কোটি ৬৫ লাখ তিন হাজার টাকার সম্পদের ওপর প্রযোজ্য কর ফাঁকি দিয়েছেন।



পার্কিং ইজারায় দুর্নীতি: পলাতক খোকার ১০ বছর সাজা
২৮ নভেম্বর ২০১৮, রাজধানীর বনানীর ডিসিসি সুপার মার্কেট হাউজিং কমপ্লেক্সের বেইজমেন্টে কার পার্কিং ইজারায় দুর্নীতির দায়ে ঢাকার সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকাসহ চার আসামিকে দশ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র খোকা ছাড়া দণ্ডিত তিন আসামি হলেন- সিটি করপোরেশনের ইউনিক কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল বাতেন নকী, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান আজাদ ও গুডলার্ক কার পার্কিংয়ের ম্যানেজার এইচ এম তারেক আতিক। আসামিদের কেউ রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সাদেক হোসেন কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তাকে পলাতক দেখিয়েই এ মামলার বিচার শেষ হল। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ডিসিসির বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং কমপ্লেক্সের বেইজমেন্টের কার পার্কিং ইজারার জন্য ২০০৩ সালে দরপত্র ডাকা হয়। জমা পড়া চারটি দরপত্রের মধ্যে মিজানুর রহমান নামের ব্যক্তি বার্ষিক এক লাখ ১০ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হন। কিন্তু তখনকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশে ইজারার কার্যক্রম স্থগিত করেন।

জীবনাবসান
সাদেক হোসেন খোকা ৪ নভেম্বর ২০১৯ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি রেখে যান স্ত্রী ইসমত হোসেন, মেয়ে সারিকা সাদেক, ছেলে ইশফাক হোসেন। তিনি মারা যাওয়ার আগে মির্জা ফখরুলের কাছে বাংলাদেশে আসার আকুতি জানিয়েছিলেন।

দুর্নীতির মেঘে ঢাকা সব অর্জন

সাদেক হোসেন খোকা শুরু থেকেই একজন দক্ষ সংগঠক ছিলেন। রাজপথের আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্র সেনানী। তার রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে । সরকারবিরোধী আন্দোলনে বারবার মার খাওয়ার পরও কর্মী বাহিনী নিয়ে সব সময় রাজপথে ছিলেন বিএনপির একমাত্র এই নেতা। খোকার রাজনীতির আদর্শ ও ধরন বদল হলেও মানুষকে নিয়েই তিনি সবসময় রাজনীতি করেছেন। জনপ্রতিনিধিত্ব করেছেন দীর্ঘ সময়। এমপি-মন্ত্রী-মেয়র পদে থেকে ঢাকার মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। তারেক, বাবরসহ বিএনপির অনেক নেতার বিরুদ্ধে হত্যা, সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র ও অবৈধ অস্ত্রের অভিযোগ/মামলা থাকলেও খোকার বিরুদ্ধে এই ধরনের কোনো অভিযোগ ছিল না। সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বেশির ভাগ নেতাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে জরুরি ভিত্তিতে মামলা হয়েছিল। এর থেকে খোকাও বাদ ছিলেন না।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর আইন-আদালতের নিয়মাতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এ ধরনের বেশির ভাগ মামলা খারিজ হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের নেতাদের কথা বাদই দিলাম, বিএনপির মওদুদ, আনোয়ার, মিলন, মোরশেদ খান, নাজমুল প্রমুখ অনেকেই বেশির ভাগ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে খারিজ পেয়ে যায়। কারো কারো বিরুদ্ধে কিছু মামলা এখনও চলছে। তবে বাবরের মতো কয়েকজন ব্যতিক্রম ছাড়া কাউকেই এখনো জেলে যেতে হয়নি। তাই আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে সাদেক হোসেন খোকার মত একজন জনপ্রিয় নেতা দুর্নীতির মামলায় নিজে হাজির হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন না করে প্রবাসে স্বেচ্ছায় নির্বাসন নিলেন কেন? খোকা আদালতে হাজির না হলেও তাঁর পক্ষের উকিলও প্রমাণ করতে পারেন নি যে খোকার বিরুদ্ধে আনীত দুদকের অভিযোগ মিথ্যা। তাছাড়া জমি-জায়গা-প্লট-ফ্ল্যাট, গাড়ি-বাড়ি, ব্যাংক একাউন্টের যে হিসাব তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করেছেন তা ছিল রীতিমত দুর্নীতির আত্মস্বীকৃত দলিল।

শেষ কথা
ভুল-ত্রুটি, দোষ-গুণের সমন্বয়েই মানুষ। খোকাও এর উর্ধ্বে নন। বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার মহাপ্রয়ানে বেদনা-বিধূর হৃদয়ে দোয়া করি আল্লাহ তার জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিয়ে তাকে বেহেস্ত নসীব করুক। নদীর উৎপত্তি পাহাড়, পর্বত, ঝর্না, হ্রদ যেখান থেকেই হোক না কেন উদ্দেশ্য থাকে এঁকেবেঁকে সব বাঁধা পেরিয়ে সাগরে মিলিত হওয়া। আমাদের বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিকদের অবস্থাও তাই। বামপন্থী, মধ্যপন্থী, ডানপন্থী, কৃতি ছাত্র, পরোপকারী, ক্রীড়াবিদ,ধর্মভীরু, সমজসেবক–শুরু যেখান থেকে যেভাবেই হোক না কেন, রাজনীতির সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে দলের শীর্ষ নেতা সবারই উদ্দেশ্য শর্টকাট পথে স্বল্প সময়ে বৈধ-অবৈধ উপায়ে আগাধ সম্পদের মালিক হওয়া। নিজের দল, নেতা বা ব্যক্তিকে সমর্থন করতে গিয়ে আমরা আমজনতা যদি এই ধরনের দুর্নীতি বা অবৈধ কাজকে প্রশ্রয় দিই, দুর্নীতিবাজকে সৎ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করি, তাহলে সৎ ও দেশপ্রমিক নেতা এই দেশে আর কখনো পয়দা হবে না।

তথ্য ও ছবিসূত্র:
১। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
২। দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সমকাল
৩। উইকিপিডিয়া
৪। ইউটিউব
৫। SATV, N-TV
৬। ইন্টারনেট

মন্তব্য ৩২ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৩২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:২৬

মা.হাসান বলেছেন: অনেক পরিশ্রমি লেখা।

ওনার প্রতিবেশির কাছ থেকে শোনা, ওনারা পারিবারিক ভাবে সম্পদশালী ছিলেন। একই কথা মির্জা আব্বাস এবং সাবের হোসেনের নামেও শুনেছি। উনি দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন, পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। ভিত সরকার দেশে ফেরার সুযোগ না দিয়ে পলাতক দেখিয়ে এক তরফা রায় আদায় করেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজনের দশ কোটি টাকার সম্পদ বেশি বলে মনে হয় না।

মৃত্যু সবাইকে সমান করে দেয়। উনি ওনার কৃত ভালো এবং মন্দ কাজের ফল ওপারে পাবেন আশা করি।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:০৬

জোবাইর বলেছেন: প্রথম মন্তব্যের জন্য প্রথম শুভেচ্ছা। খোকা শিক্ষিত ও সম্পদশালী পরিবারের সন্তান ছিলেন। উনি দেশে ফিরতে পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আবেদন করেছিলেন দুই বছর আগে ২০১৭ সালে। এর আগে উনার হাতে দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথেষ্ট সময় ছিল। তাছাড়া খালেদা-তারেক-বাবরদের উপরে ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামী লীগের যেরকম আক্রোস ছিল খোকার উপর তা ছিল না। দুদকের মতে খোকার নগদ টাকার পরিমান সাড়ে ৫ কোটি টাকা। তাই স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তির আর্থিক মূল্য ১০ কোটি থেকে অনেক বেশি হবে। মৃত মানুষদের চরিত্র নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি আলোচনা করা ঠিক নয়। তারপরেও ইতিহাসে তাদেরকে মূল্যায়ন করতে হবে তাদের কর্ম দিয়ে।
ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

২| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৪

মোঃজাহিদুল ইসলাম সবুজ বলেছেন: ভাল ইনফরমেটিভ লেখা। ভালো লাগলো

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:০৭

জোবাইর বলেছেন: লেখা ভালো লাগলো জেনে খুশি হলাম। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৩| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৫০

নীল আকাশ বলেছেন: বেশ কষ্ট করে লিখেছেন। অনেক তথ্য পেলাম।
তবে দুর্নীতির যে তথ্য দিয়েছেন বর্তমান সরকার আন্ডাবাচ্চারাও এর চেয়ে বেশি কামাই করেছে।
সেটা বলবে কে?

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:২৪

জোবাইর বলেছেন: একজন মানুষকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার জন্য ভালো-মন্দ সব রকমের তথ্যের প্রয়োজন। উনার অনেক তথ্য আমি নিজেও আগে জানতাম না। লেখার প্রয়োজনে ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে আমিও জানলাম। বর্তমান সরকার উন্নয়ন ও জিপিডি প্রবৃদ্ধির উর্ধ্ব গতি নিয়ে যতই চিৎকার করুক না কেন, ইতিহাসে তাদের মূল্যায়ন করার সময় দুর্নীতি, দলীয় সন্ত্রাস ও ভোটাধিকারের মতো কালো মেঘগুলোতে তাদের সব অর্জন মনে হয় ঢেকে যাবে! ধন্যবাদ।

৪| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৫৪

রাকু হাসান বলেছেন:

জুবাইয় দারুণ লিখেছেন । নির্মহ । বিশ্লেষণ ভালো লেগেছে । অজানা অনেক কিছু জানলাম । লাইক ও প্রিয়তে নিলাম । তাহলে খোকার আজাদের সাথে যোগাযোগ ছিল । আজাদ ,রুমিরাও তো মেলাঘর থেকে ট্রেনিং নিয়েছেন যতদূর মনে পড়ছে । খোকার গেরিলা তৎপরতার ইতিহাস জানি না । খোকার দেশে ফেরা নিয়ে কি বলবেন ভাইয়া । খোকা সংগঠক হিসাবে দক্ষই বলবো । কিন্তু শেষ জীবনে এসে স্থিমিত হয়ে পড়ছিল । শত ব্যস্ততার মাঝেও সুন্দর পোস্ট উপহার দেওয়ার জন্য ভালোবাসা । আপনার পোস্ট দেখেই লগ ইন করলাম । আশা রাখছি ভালো আছেন ভাইয়া ।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৯

জোবাইর বলেছেন: অনেকদিন পর আপনাকে ব্লগে কাছে পেলাম। আমি ভালো, আশা করি আপনিও ভালো আছেন।

মেঘালয় ক্যাম্পে বেশিরভাগই ছিল ঢাকা শহরের ছেলে। সেই ক্যাম্পেই খোকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয় আবু সাইদ খান, শাহাদত চৌধুরী, ফতেহ আলী চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সুলতান উদ্দিন রাজা, আতিকুল্লাহ খান মাসুদ, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, পল্টনের মানিক (পরে শহীদ), গাজী গোলাম দস্তগীর, মিজান উদ্দিন আহমেদ, শহীদুল্লাহ, শিল্পী শাহাবুদ্দিন, মাসুদ, কাজী ভাই, বাকী (পরে শহীদ) ও উলফাৎসহ আরো অনেকের সাথে। ওখানে ট্রেনিং শেষ করার পর প্রথমদিকে কসবা-মন্দভাগ (মির্জাপুর) ও শেষের দিকে ঢাকা শহরে গেরিলা আক্রমণে অংশগ্রহণ করেছিলেন খোকা।

জীবনের শেষ দিনগুলোতে খোকার অন্তিম ইচ্ছা ছিল দেশে ফেরার। এ দেশের স্বাধীনতার জন্য যিনি মাকে না জানিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন তার লাশ যদি এ দেশে আসতে না পারে সেই স্বাধীনতা আমরা ১৬ কোটি মানুষের জন্য অভিশাপ হবে।
আন্তরিকতার পরশ মাখা মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা, আপনার দিনগুলো ভালো কাটুক।

৫| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৫৭

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: দারুণ লিখেছেন জুবাইয় ভাই । অনেক তথ্য পেলাম। আপনার পোস্টের অপেক্ষায় থাকি। ভালো থাকবেন।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:১২

জোবাইর বলেছেন: আপনার চমৎকার মন্তব্যে উৎসাহ বোধ করছি। তথ্য সমৃদ্ধ পোস্ট লিখতে অনেক সময় লাগে, সেইসাথে নিজের ব্যস্ততা তো আছেই। তাই ইচ্ছা থাকা সত্বেও পোস্ট দিতে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। আপনার প্রতিও অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

৬| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:০৭

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: ভালো বিশ্লেষণ।

তবে আজ থেকে ১০ বছর পূর্বে এলাকার যে যুবলীগ নেতাকে হেটে হেটে চলাফেরা করতে দেখেছি, আজ সে প্রাইভেট কার নিয়ে চলাফেরা করে। আয়েশি, বিলাসী জীবনযাপন করে।
১০ বছর পূর্বে তার বাৎসরিক আয় ছিলো ০০০ টাকা। ব্যাংকব্যালেন্স ০০০। এখন আয় ৫ লক্ষ +। ব্যাংকব্যালেন্স মেলা আছে।

ফেইসবুকে একদিন তারে নিয়ে পোস্টে দিলে, তার এক চামচা হিসেব দিলো। ফ্ল্যাট, ইনপুট আউটপুট ব্যবসা, গাড়ির ব্যবসা.....
মনে হলো তার আয় ৫০ লাখ হাওয়ার কথা।

রাজনীতিবিদরা ব্যবসাবাণিজ্য লোকসান হয় না, ইনভেস্ট করলেই লাভ আর লাভ।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১২

জোবাইর বলেছেন: অভিজ্ঞতাসহ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। রাজনীতি বিশেষ করে সরকারের দলের রাজনীতি তাড়াতাড়ি বড়লোক হওয়ার সহজ পথ–এই ধারণা থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হলে এদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে, ঘৃণা করতে হবে। শুধু আইন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

৭| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৭

বলেছেন: এককথায় অসাধারণ লিখেছেন - যাকে বলে ব্যালেন্সড রাইটিং।
এ ধরনের আর্টিকেল লিখতে অনেক পরিশ্রম ও বির্তকের অবকাশ থাকে কিন্তু আপনার টা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।।।

সব রাজনৈতিক নেতাদের মূল উদ্দেশ্য হলো - অন্তরে টাকা আর মুখে দেশপ্রেম...
সাদেক খোকা প্রথমে দেশপ্রেমিক, মুক্তি যোদ্ধা পরে যা হোক।।


একজন ভেটেরান রাজনীতিবিদকে বিনম্র শ্রদ্ধা।।।।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৯

জোবাইর বলেছেন: কবি ও লেখক ল ভাই, আপনার প্রশংসিত মন্তব্যে প্রীত হলাম। দল-মত নির্বিশেষে সকল দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের প্রতি প্রকাশ্যে ঘৃণা প্রকাশ করতে হবে। আমরা আমজনতা এর থেকে বেশি কিছু করতে পারবো না।
আপনার লেখাগুলো দেরিতে হলেও পড়ি। সময়ের অভাবে সবসময় মন্তব্য করা সম্ভব হয় না। ভালো থাকুন।

৮| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:২৪

রাজীব নুর বলেছেন: খোজ নিলে জানা যাবে প্রতিটা মন্ত্রী এমপি এবং তাদের ছত্রছায়ায় থাকা লোকজনের সবার'ই সম্পদের পাহাড় আছে।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৬

জোবাইর বলেছেন: সঠিক বলেছেন। ব্যতিক্রম আছে, তবে খুবই কম।
উদাহরণ: প্রাক্তন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সিলেটের সৈয়দ মহসিন আলীর কথা মনে আছে? বক্তৃতার সময় ভুপেন হাজারীর গান শুনাতেন। অনেক সময় মঞ্চে ধুমপান করে বিতর্কিত হয়েছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন সংগঠক এবং ত্যাগী আওয়ামী লীগার এই লোক আর যাই হোক দুর্নীতিবাজ ছিলেন না।

৯| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৪

ইসিয়াক বলেছেন: মৃত্যুর পর একজন মানুষের জন্য আমার মনে হয় দোয়া টুকুই প্রাপ্য ।
দোষে গুণে মানুষ ......সর্বোপরি সে দেশের ক্রান্তিকালের অসম সাহসী যোদ্ধা।
তার প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৯

জোবাইর বলেছেন: অবশ্যই, খোকার প্রতি আমাদের মনপ্রাণ থেকেই দোয়া করা উচিত। তবে কাউকে মূল্যায়ন করতে হলে ভালো-খারাপ দুই ধরনের কর্মকেই সামনে আনতে হবে।

১০| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৯

ঢাবিয়ান বলেছেন: সব রাজনীতিবিদই এক গোয়ালের গরু। দেশের সম্পদ লূট করা ছাড়া এদের আর কোন অবদান নাই। দেশটার আজকের এই অবস্থানের পেছনে এরা সবাই সম্মিলিতভাবে দায়ী।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৪

জোবাইর বলেছেন:
সবচেয়ে মূল্যবান কথা বলেছেন:
দেশটার আজকের এই অবস্থানের পেছনে এরা সবাই সম্মিলিতভাবে দায়ী।
সুতরাং নিজ নিজ অবস্থান থেকে দল-মত নির্বিশেষে আমাদের উচিত সামাজিক মহামারী "দুর্নীতি"-র বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং দুর্নীতিবাজদেরকে ঘৃণা করা।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

১১| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪১

সাইন বোর্ড বলেছেন: পোষ্ট পড়ে বিস্তারিত জানতে পারলাম, অনেক ভাল লাগল ।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:১৩

জোবাইর বলেছেন: ভালো লাগলো জেনে খুশি হলাম। ভালো লাগাটুকু মন্তব্য করে জানাবার জন্য ধন্যবাদ।

১২| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪২

আহমেদ জী এস বলেছেন: জোবাইর,




যতোখানি নিরপেক্ষ থাকা যায় তেমন থেকেই লেখাটি লিখেছেন। নির্মোহ একটি লেখা।

আপনার "শেষ কথা"র সূত্র ধরেই বলি- সকল শ্রেনী, তাদের শুরু যেখান থেকেই হোকনা কেন, সম্ভাব্য শর্টকাট পথে বৈধ-অবৈধ উপায়ে যতোখানি সম্ভব বিত্ত-বৈভব হাতিয়ে নিয়ে সম্পদশালী হতে চান, হতে চেয়েছেন এবং হয়েছেন।
সেক্ষেত্রে আলবদর-রাজাকার থেকে যাদের শুরু কিম্বা "ধরি মাছ না ছুঁই পানি" দিয়ে যাদের শুরু, তাদের নয়, যাদের শুরুটা মুক্তিযুদ্ধ দিয়ে তাদেরকে তাদের ঐ কাজটুকুর জন্যে প্রাপ্য সম্মান জানাতেই হয়। মুক্তিযোদ্ধা বাদে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া বাকী সবাইকে ধিক্কার দেয়াই বিধেয় এবং সঙ্গত। মুক্তিযোদ্ধাদের বেলায় কেবল দীর্ঘশ্বাস।

এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার জন্যে তাই ততোটা ধিক্কার নেই আমার মনে তবে একজন মুক্তিযোদ্ধা বলে কেবল দীর্ঘশ্বাসই ছাড়তে পারি।
ইসিয়াক সুন্দর বলেছেন, "দোষে গুণে মানুষ ......সর্বোপরি সে দেশের ক্রান্তিকালের অসম সাহসী যোদ্ধা।"
এটুকু সাদেক হোসেন খোকার প্লাস পয়েন্ট।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৪৬

জোবাইর বলেছেন: আহমেদ জী এস ভাই, আপনার দীর্ঘ মূল্যবান মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতার সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ঠিক আপনার মতই খোকার জন্য কেবল দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কিছুই করার নাই। খোকা সময়ের সাথে দল ও রাজনৈতিক আদর্শের পরিবর্তন করেছে, কমিশনার থেকে মেয়র মন্ত্রী হয়েছে, তারপরেও সব সময় সাধারণ মানুষের সাথে ছিলেন। আসলে ক্ষমতা ও সুযোগের সদব্যবহার করে বিত্তশালী হওয়ার লোভ সামলানো বড়ই কঠিন! শুধু ব্যক্তির দোষ দিয়েও লাভ নেই। আজকাল পরিবার, সমাজ ও পারিপার্শ্বিকতার কারণেও অনেকে দুর্নীতি করতে বাধ্য হয়। সততা, সম্মান বা ভয় যে কারণেই হোক যারা দুর্নীতি না করে সৎ থাকার চেষ্টা করেছে পরবর্তীতে তাদেরকে পরিবার ও আত্বীয়-স্বজনের লাঞ্চনা সহ্য করতে হয়েছে, যেমন: "তোমার একই পদে চাকুরি করে অমুক গাড়ি-বাড়ি এতকিছু করেছে, তুমি কিছু করতে পারলে না। তোমার বোকামীর কারণে আজ আমাদের নুন আনতে পান্থা ফুরায়। যাও এখন তোমার সততা ধুয়ে পানি খাও।"

ভালো থাকুন।

১৩| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৩০

ধ্যত্তেরিকাষতড়এএতধ্যত্তেরিকা বলেছেন: ৯০এর পর থেকে বেশির ভাগ রাজনীতিকই তাদের চরিত্র হারিয়েছেন কম বেশি। সেই স্রোতধারা কে উপেক্ষা করে রাজনীতি করা শুধু কঠিন না অসম্ভবই হয়ে গেছে প্রায়। বোনের বিয়ে কি পিতার চিকিৎসার জন্য সাহায্য না পেলে সাধারণ মানুষই ভোট দেয় না আজকাল। আর কর্মীদের হিসেব তো আছেই।
শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা বলেই কতটুকুন ছাড় প্রাপ্তি সে এক মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন বটে। যে যোদ্ধা সে আজীবনের যোদ্ধা।
পরিশ্রমী আর তথ্যবহুল পোষ্টের জন্য সাধুবাদ। এই নিরপেক্ষতা অব্যাহত থাকবে প্রত্যাশা করছি।

গেরিলা যুদ্ধ নিয়ে খোকা সম্পর্কে বেশ কিছু দুঃসাহসি গল্প প্রচলিত রয়েছে। সে সকল সত্য ধরে নিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপণ করছি। খোকা শান্তিতে ঘুমাক।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৫৭

জোবাইর বলেছেন: আপনার সাথে শতভাগ একমত। এখন গ্রামে-মহল্লায় নিজেই দেখেছি মানুষ নিজের এলাকার উন্নয়ন নিয়ে ভাবে না নিজের ব্যক্তিগত লাভ-লোকসান নিয়ে চিন্তা করে। নির্বাচনী প্রার্থীর কাছে উন্নয়নের আশ্বাস শুনতে চায় না, ভোট দেয়ার বিনিময়ে নগদ টাকা চাই। নগদ টাকা দিয়ে ভোট কিনে নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রার্থীরাও টাকা কামানোর ধান্ধায় নেমে পড়ে।
মন্তব্যে সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ।

১৪| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:১০

জগতারন বলেছেন:
ভাবিয়াছিলাম আজকে আর আপনার এই পোষ্টে মন্তব্য করিবো না। গতকাল বিভিন্ন সম্মানীত ব্লগারগন সাদেক হোসেন, খোকা সমন্ধে পোষ্ট দিয়াছিল আমি সেই ব্লগারদের পোষ্টে আমার প্রায় সকল মন্তব্যগুলি করিয়াছিলাম। তার পরও আরও কিছু কথা আমার বলিবার আছে; প্রসঙ্গগত সাদেক হোসেন, খোকা সমন্ধে। তাই আবার এই পোষ্টে মন্তব্য করিতে আসা।
শুনেন ভাই; আপনি একজন অনুসন্ধনী লেখক বলেই আমি মনে করি। এবং
ভদ্র ব্লগার তা না হইলে আর একটু কড়া ভাষায় সাদেক হোসেন, খোকার অতীত কর্মকান্ড নিয়া কথা বলা উচিৎ ছিল;
‘মোনাফেক কাজ, ষড়যন্ত্র, ব্যাক্তিস্বারথ দিয়ে রাজনীতি করা যায় না।‘
বি-এন-পি এর প্রতিষ্ঠা হয়ে ছিল ষঢ়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে। – এর প্রতিষ্ঠা দাতা জিয়া বিলীন হইয়াছে অকালে। আচ্ছা আপনি দেখানতো বি-এন-পি’র বর্তমান ও যাহারা লোকান্তরে গিয়াছে; তাহাদের মধ্যে কোন নেতা ত্যাগী ও প্রকৃত দেশপ্রেমী ? আমি যদি এই প্রশ্ন করি; আপনি হয়তো পাল্টা প্রশ্ন করতে পারেন; তাহইলে কী আওয়ামী লীগের নেতা’রা কী ধোয়া তুলসী পাতা নাকি ? না আমি তা বলি না। কিন্তু আপনাকে ও এই ব্লগ পাঠক-পাঠীকাদের বিবেক হইতেই বলিতে হবে; ‘হাঁ, আওয়ামী লীগে আগেও ত্যাগী ও দেশপ্রেমীক নেতা ছিল ও বর্তমানেও আছে বলিয়াই তাহাদের নেতৃত্বে আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে স্বাধীন করিতে পারিয়াছিলাম। বার্তান নেতৃত্ব গুনেই আমরা কালো আইন;
"জেলে জাতীয় চার নেতাকে খুন এবং ১৫ আগস্টের খুনীদের বিচার করা যাবেনা।"
রহিত করিয়া খুনিদের বিচার করিতে সক্ষম হইয়াছিল। যা- এই দেশে; মুস্তাক, জিয়া, আঃ ছাত্তার, এরশাদ, খালেদার মতো শাসকরা বলবদ রাখিয়া দেশের ক্ষমতায় ছিল।
আচ্ছা আপনি বলেনতো; মূর্খ খালেদা যে ১৫ আগষ্ট শোকের দিনে কেক কাটিয়া জাল জন্ম দিন পালন করে; সে এই দেশের ক্ষমতায় তিনবার ছিল ; সে কেন
“১) খালেদা জিয়া ‘স্বামীর (!) লাশ কেন দেখতে চাননি?
(অথচ সে লাশের উপর উবুদ হয়ে পড়ে কাঁদে কিন্তু স্বামীর মুখ দেখে না)
২) ছেলে তারেক আজ বড় কথা বলছে, মরা বাপের মুখ দেখতে চেয়েছে? রহস্য কী?
(আসলে যে কফিনে জিয়ার লাশ বলে চালিয়েছিল সেখানে জিয়ার কোন লাশই ছিল না)
৩) জিয়া হত্যার মামলা চট্টগ্রাম কোর্টে, বিএনপির কেউ মামলা চালাচ্ছে?
এই বিচার কেন বিএনপি ক্ষমতা থাকার সময় করল না? খুনের মামলা এখনো আছে।
৪) খালেদা জিয়া তিন তিনবার ক্ষমতায় থাকলেন, তারেক ব্যবসা করল, বাপ হত্যার বিচার করল না। কারন কি ?”
কারনঃ এক মুনাফেক জিয়া মুনাফেক কাজ করতে যাইয়া বিলীন হইয়াছে। সে মুনাফেকের আবার বিচার কী !"

অহ; আমি কি বলিতে চাহিয়াছি আর কি বলিয়াছি!
(যদিও আমার ঐ কথাগুলি প্রসংক্রমে আসিয়াছে)
মন্তব্য করিতে হইবে আজকের আপনার এই পোষ্ট নিয়া। তা হলো;
বি-এন-পি’তে অতীতে ও বর্তমানে যাহারা নেতৃত্ব দিয়াছেন তারা সবাই আত্মকেন্দ্র ও নিজ সার্থ ছাড়া আর কিছুই বুঝে না।
সাদেক হোসেন, খোকাও তাহাদেরই একজন। তাই আমাকে বলিতেই হয়ঃ
সাদেক হোসেন, খোকা;
বাংলাদেশের জনগনের কষ্টে অর্জিত
হাজার হাজার কোটি টাকা লুটকারী এবং
২৩ বছরের কারাদন্ডপ্রাপ্ত একটা চোর।
কারা সাস্তি ভয়ে সে সেচ্ছায় দেশ ত্যাগী এক ভিতু মোনাফেক।
তার জন্য জাহান্নাম-ই উপযূক্ত।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:২৩

জোবাইর বলেছেন: আপনার দীর্ঘ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। এই পোস্ট যেহেতু খোকা প্রসঙ্গে তাই অন্য প্রসঙ্গ নিয়ে আলাপ এখানে না করাই ভালো। খোকার অনেকগুলো ভালো গুণ ছিল কিন্তু বিএনপিতে যোগ দিয়ে দুর্নীতি করে নিজের ইহকাল পরকাল দুটোরই সর্বনাশ করেছে। সেই সময় বিএনপির সবাই প্রতিযোগিতা করে দুর্নীতি করেছে, যার কারণে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে পরপর তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

১৫| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ২:২৪

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
সাদেক হোসেন খোকা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

উনি দন্ডপ্রপ্ত আসামী হলেও উচ্চআদালত থেকে চিকিৎসা জামিন নিয়ে বিদেশ যান। ২০১২ তে নয়, ২০১৪র শুরুতে।
কিন্তু চিকিৎসা ঠিকমত করতে দেখা যায় নি, বার বার লন্ডন গেছেন, বক্তৃতা দিছেন, বঙ্গবন্ধুকে মুজিব সম্বোধন করে আজেবাজে কথা বলেছেন তারেক উপস্থিতির কারনেই। জামাত আয়োজিত সভায়, তারেকও উপস্থিত ছিল।
প্যারিস রোম টরন্টোতেও বক্তৃতা করেছেন।

২০১৭তে পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হলে তার লন্ডন প্যারিস ঘোরা বন্ধ হয়।
উনি বাংলাদেশে কখনোই আসতে চান নি। পাসপোর্ট রিনিউ চেয়েছিলেন ঘন ঘন লন্ডন যাওয়া-আসা করতে।

তবে আমি বলবো উনি অন্যান্নদের মত জামাত তোষন, তারেক বন্দনা করতেন না বললেই চলে। কারন উনি রিয়েল মুক্তিযোদ্ধা

ওনার দুর্নিতি তেমন না। অন্যান্ন বিএনপি নেতাদের তুলনায় অতি সামান্য, ধর্তব্যের বাইরে।
বাংলাদেশে থাকাতে মামলাগুলো জামিন হচ্ছিল, কিন্তু পরে বিদেশে অবস্থানে মামলা সঠিকভাবে মোকাবেলা সম্ভব হয় নি।
বাংলাদেশে চলমান মামলাগুলো লড়েন নি, তাই একতরফা রায় হয়ে যায়।

তাকে নিয়ে মিথ্যাচার শুরু হয়েছে উনি কোমাতে যাওয়ার পরে।

আইনমত একজন দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি পাস্পোর্ট পেতে/ রিনিউ পারে না, ওনার দেশেও আসতে চাওয়ার কথা না।
নিউইয়র্কে বাংগালী কমুনিটিতে অনেক বক্তৃতা করেছেন, কখনোই বলেন নি বাংলাদেশে যেতে চান।
উনি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থি আবেদন করেছিলেন। এসাইলেম প্রাপ্ত বা আবেদনকৃত কেউ আক্রান্ত দেশে গেলে রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল হয়ে যায়।

তার ক্যানসারের কথা জানা যায় এই বছরই,
মৃত্যু নিশ্চিত জেনে মাত্র ৫ দিন আগে বাংলাদেশে এসে মরতে চেয়েছিলেন টুকুর কাছে ফোনে।
বিদেশে ঘোরাফেরা করতে পাসপোর্ট লাগে, বাংলাদেশে যেতে পাস্পোর্ট লাগার কথা না। দুতাবাস থেকে ওয়ান টাইম ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে শুধু বাংলাদেশে ফিরতে পারতেন।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৪

জোবাইর বলেছেন: আপনার মন্তব্য থেকে প্রবাস জীবনে খোকার কর্মকান্ড সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম। আমার মনে হয় খোকা বিএনপিতে ভবিষ্যতে নিজের গদি ঠিক রাখার জন্য তারেক রহমানের মন জয় করতে চেয়েছিলেন।
"এসাইলেম প্রাপ্ত বা আবেদনকৃত কেউ আক্রান্ত দেশে গেলে রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল হয়ে যায়।" তাই তিনি আগে কখনো দেশে আসতে চায়নি।

"মৃত্যু নিশ্চিত জেনে মাত্র ৫ দিন আগে বাংলাদেশে এসে মরতে চেয়েছিলেন টুকুর কাছে ফোনে।" যাই-হোক, বাংলাদেশে এসে মরতে না পারলেও তার লাশ বাংলাদেশে এসেছে এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিক হিসাবে সম্মান দিয়ে তার লাশ দাফন হচ্ছে - এটাই সান্তনা। খোকা সবচেয়ে বড় ভুল করেছে দেশে এসে মামলাগুলো সঠিকভাবে মোকাবেলা না করে।
তথ্যসমৃদ্ধ মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

১৬| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৪৪

সোহানী বলেছেন: চমৎকার একটি পূর্নাঙ্গ লিখা। অনেক কিছুই জানলাম। বলতে গেলে সমসাময়িক বেশীরভাগ রাজনিতিক ব্যাক্তিত্ব সম্পর্কে অনেক কিছুই আমরা জানি না। তাই নিয়ে এ ধরনের লিখা খুব দরকার। বিশেষ করে দলীয় দৃষ্টিকোন থেকে নয়, সামগ্রিক দৃষ্টিকোন থেকে।

+++++

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৪:৩৬

জোবাইর বলেছেন: আপনার চমৎকার মন্তব্যের জন্য প্রথমেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমার লেখা এই রাজনৈতিক পোস্টে আপনার মন্তব্য দেখে অভিভূত হয়েছি। কারণ এখানে মন্তব্যকারীদের সবাই পুরুষ, আপনি ছাড়া! আমাদের দেশে রাজনীতি মানে দলাদলি, তর্কাতর্কি, গালাগালি, হাতাহাতি ইত্যাদি। যার কারণে মেয়েদের কথা বাদ দিলাম অনেক পুরুষ লোকও এখন রাজনীতি নিয়ে আলাপ-আলোচনা এড়িয়ে চলে।

বাস্তবতা হচ্ছে, রাজনীতির মাধ্যমেই সরকার গঠন হচ্ছে এবং সরকারই দেশের জন্য, মানুষের জন্য নীতি নির্ধারন করছে। সুতরাং আমাদের নিষ্ক্রিয়তা, উদাসীনতা এবং অসচেতনার সুযোগে যদি ভুল ব্যক্তি/দল ক্ষমতায় যায় দেশ ও দশের ক্ষতি। বাংলাদেশে এখন পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার বেশি। অথচ বেশিরভাগ নারীরা এখনও রাজনৈতিক সচেতন নয়। তারা নির্বাচনের সময় ভোট দিতে আগ্রহী নয়। আবার ভোট দিলেও পিতা/স্বামী/ভ্রাতার নির্দেশিত দলকেই ভোট দেয়। রাজনীতি মানে কোনো দলের কর্মী বা সমর্থক হতে হবে তাই নয়। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এবং দলগুলোর নেতাদের নীতি, আদর্শ, কর্মকান্ড, উদ্দেশ্য ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা যে কোনো সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। আমি মনে করি আমাদের দেশের শিক্ষিত মেয়েরা এই ব্যাপারে এখনো উদাসীন।

তাই আশা করি আপনার মতো আরো অনেক নারী ব্লগাররাও রাজনীতিক পোস্টে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। এতে রাজনীতি ও রাজনীতিক ব্যাক্তিত্ব সম্পর্কে পোস্টগুলো আরো প্রাঞ্জল হয়ে উঠবে এবং আমরাও এ ধরনের পোস্ট লিখতে উৎসাহিত হবো।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইলো, ভালো থাকুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.