| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

বিগত কিছুদিন ধরে প্রায় সকল টিভি চ্যানেল, পত্রিকা, ফেসবুক, ব্লগ সহ প্রায় সকল ধরনের গন মাধ্যম গুলিতে একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে। অনেকে হাস্যকর ভাবে উপস্থাপন করেছে, অনেকে কৌতুক করেছে, আবার অনেকে রাজনৈতিক ভাবে ফয়দা লুটার জন্য ব্যবহার করেছে। অনেকেই মৃত ব্যাক্তির জন্ম পরিচয় নিয়ে কটুক্তি করতেও সামান্য সংকোচ বোধ করেনি।
ঘটনাটি ঘটেছে আমাদের দেশে সম্প্রতি সময়ে একজন ব্যাক্তির অকাল মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। বিদেশ থেকে তার লাশ দেশে আনার পর তার পরিচিত, অপরিচিত, বন্ধু-বান্ধব, আত্নীয়-স্বজন, রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব সহ অনেকেই শেষ দেখা দেখতে গিয়েছেন। এই দেখতে যাওয়াকেই অনেকে অনেক রকম ভাবে ব্যবহার করেছেন, অনেক রকম উদ্দেশ্যও ছিল এর পেছনে। যারা দেখতে গিয়েছেন, তাদের সবাই কম বেশি কান্না করেছেন, স্বাভাবিক ভাবেই অনেকের চোখ ভিজে গেছে জলে। আবার কেউ কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবেও অতিরিক্ত কান্নার ভাব দেখিয়েছে কাওকে খুশি করা বা মন জয় করার উদ্দেশ্যে।
যাহোক এত সব কান্নার ভিড়ে আমাদের চতুর মিডিয়া কর্মী ও সাংবাদিকদের নিকট একজন বিশেষ ব্যাক্তির কান্নাটাই শুধু বিশেষ ভাবে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দৃষ্টি গোচর হয়েছে এবং উক্ত কান্নার দৃশ্য বিশেষ গুরুত্ব সহকারে প্রায় সকল গন মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। উক্ত ব্যাক্তির কান্নার দৃশ্য যতটা গুরত্ব পেয়েছে, যেখানে মৃত ব্যাক্তির জন্মদাতা মায়ের কান্নাও মলিন আকার ধারন করেছে। মর্মান্তিক, দুঃখ জনক ও হৃদয় বিদারক এমন একটি ঘটনার মাঝেও এমন একটি কান্নার দৃশ্যকে অন্য আঙ্গিকে নিয়ে হাস্যকর ভাবে প্রচার করতে বিন্দু মাত্রও দ্বিধা বোধ উদয় হয়নি প্রচারিত গনমাধ্যম গুলোর কর্ণধারদের। তারা কেবল মাত্র জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্যই এমন ঘৃন্য কাজ করতে সামান্যতমও সংকোচ বোধ করেনি।
যার কান্না নিয়ে এমন আলোচিত হয়েছে, এর পেছনে অবশ্য কিছু রহস্যময় মুখরোচক ইতিহাস রটানো আছে। মৃত ব্যাক্তির মাকে নিয়ে কান্নারত ব্যাক্তির সাথে ব্যাক্তিগত সম্পর্ক জড়িয়ে অনেক রকমের গল্প রটানো আছে যা আমরা প্রায় সকল জনগনই কমবেশি জানি বা শুনেছি। কেননা উক্ত নারী মাঝ বয়সে (আনুমানিক ৩৪-৩৫ বছর) বিধবা হন। এর পরবর্তি সময়ে তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেননি। এই কারনে তার ব্যাক্তিগত জীবন-যাপন নিয়ে অনেক ধরনের রসালো গল্প রটানো আছে, যার কতটুকু সত্য তা অবশ্য কেউ কোন দিন জানতে চায়নি, জানার প্রয়োজন বোধও করেনি। এক শ্রেনীর জনগন অন্ধের মত বিশ্বাস করে গেছে। কেননা যেহেতু উক্ত নারী বিধবা, দ্বিতীয় বিবাহ করেননি, তাই তার বিরুদ্ধে এধরনের গল্প রটানো ও বিশ্বাস যোগ্য করে তোলা খুবই সহজ। কারন আমাদের সমাজ এতটা অজ্ঞ নয় যে তারা জানেনা মানুষ নামক প্রানীকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য তার কি কি শারীরিক চাহিদা মেটানো দরকার!
চিকিৎসা বিজ্ঞানে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ্য আছে যে একজন মানুষের সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার জন্য যেমন খাবার গ্রহন করা প্রয়োজন, ঠিক তেমনি একজন মানুষের শারীরিক ও মানষিক ভাবে সুস্থ থাকার জন্য পেটের চাহিদা পুরনের মতই শরীর ও মনের অন্যান্য সকল চাহিদাও মেটানো অতীবও প্রয়োজন। খাবার গ্রহন করা ছাড়া কোন মানুষই যেমন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারেনা, ঠিক একই ভাবে অন্যান্য চাহিদা পূরন না করতে পারলেও সে সুস্থ ভাবে বাঁচতে পারে না। তাই অতি প্রাচীন কাল হতেই কিছু রীতি অনুযায়ী সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার জন্য অন্যান্য শারীরিক চাহিদা মেটানোর নিয়ম চালু আছে, যা কিছু নিয়ম বা আইন অনুযায়ী প্রচলিত হয় এবং সুস্থ-স্বাভাবিক ভাবে সমাজে বসবাস করা যায় ও মানব জাতি পৃথিবীতে টিকে থাকে।
আমাদের ইসলাম ধর্ম অনুযায়ীও এ বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে ও পুরোপুরি বিজ্ঞান সম্মতভাবেই এ সকল চাহিদা বৈধভাবে পূরনের যথাযত নির্দেশনা দেওয়া আছে। প্রয়োজন বোধে এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিপেক্ষিতে দ্বিতীয় বিবাহ বা একাধিক বিবাহ করারও বিধান আছে। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায়ও আইনগত ভাবে দ্বিতীয় বা একাধিক বিবাহের বৈধ আইন আছে। এসব আইন বা ধর্মীয় বিধান কিছু কিছু ব্যাক্তিবর্গ অনুসরন করছেন আবার কেউ কেউ এগুলোর অপব্যবহারও করছেন। আবার কোন কোন ব্যাক্তি বা নারীর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কুসংস্কার বা সমালোচনার ভয়ে বৈধ ভাবে বা ধর্মীও বিধান অনুযায়ী তা করতে পারছেন না। কেননা এতে তার ব্যাক্তি মর্যাদা, সামাজিক মর্যাদা, রাজনৈতিক মর্যাদা ও জনপ্রিয়তা ইত্যাদি ক্ষেত্রে চড়ম বিপর্যয় ঘটার আশংকা থেকে যায়। এমত অবস্থায় উক্ত ভুক্তভুগী ব্যাক্তি বা নারী হয়তো বা অবৈধ কোন উপায় বেছে নেয় যাতে তারা মান মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি শারীরিক ও মানষিক সুস্থাতা সহ সমাজে বেঁচে থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে অবশ্য অন্য ভদ্র শ্রেনীর কিছু পিশাচ জাতি সুযোগের সদ্যবহার করতে পিছপা হয় না।
অতীতে ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর যখন হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহ প্রচলন করার জন্য আপ্রান চেষ্টা করে গেছেন, ঠিক একই সময়ে কট্রর হিন্দু ধর্মাবলম্বী সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'বিষবৃক্ষ' রচনার মাধ্যমে কঠোর ভাবে বিধবা বিবাহের বিরোধিতা করে গেছেন।
আমাদের এই আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় আজো ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের মত প্রগতিশীল, সমাজ হতে কুসংস্কার দুরীকরনে স্বোচ্চার ব্যাক্তিগনের অভাব পরীলোক্ষিত হলেও নিন্দুক, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, ধর্মান্ধ ব্যাক্তি বর্গের অভাব নেই। তাই আমরা এত আধুনিক যুগেও শুধু মাত্র আধুনিকতার মুখোশ পড়ে বর্বর কুসংস্কারাছন্ন মধ্যযুগীয় সমাজেই বসবাস করছি। আর এর ফলে সমাজের ভুক্তভোগী এক শ্রেনীর জনগন ধর্মীয় ও রাষ্টীয় ভাবে স্বীকৃত আইন ব্যবস্থা অনুসারন না করে শুধু মাত্র চক্ষু লজ্জা ও পাছে লোকে কি বলে, এই ভয়ে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে জীবন যাপনের উপায় বেছে নিচ্ছে।
পরিশেষে একট উদাহরন দিতে মন চাচ্ছে-
মানব গোত্রের কোন একটি প্রানীকে যদি একটানা সাত দিন কোন রকম খাবার না খাইয়ে রাখা হয় এবং এর পর তার সামনে যদি এক প্লেট খাবার নিয়ে তাকে দেখিয়ে দেখিয়ে খাওয়া হয়, খাবারের প্রতি যদি লোভ সৃষ্টি করা হয়, কিন্তু তার মধ্যে যদি বৈধ ভাবে এই খাবার গ্রহন করলে ভবিষ্যতের সমস্যা গুলি উল্লেখ করে ভীতি সৃষ্টি করা হয় এবং অবৈধ উপায়ে গ্রহনের সুফলতা বনর্না করা হয় ও অবৈধ ভাবে গ্রহনে আকৃষ্ট করা হয়। তবে উক্ত মানব নামক প্রানী সুস্থ ও স্বভাবিক ভাবে সমাজে সন্মানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য উক্ত খাবার গ্রহন করার জন্য কোন পথ বেছে নিবে? এবং এমন অসহায়ত্বের সুযোগে কোন চতুর ব্যাক্তির নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আমাদের সমাজ এমন সুযোগের ব্যবস্থা তৈরী করে দিলে উক্ত ব্যাক্তির পাশাপাশি আমাদের সমাজের অলিখিত সমাজ ব্যবস্থা কি কোন অংশে দ্বায়ী নয়?
©somewhere in net ltd.