নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কারণ থেকে ফলাফল

Francis Bacon, the famous philosopher said, "A little knowledge of science makes man an atheist, but an in-depth study of science makes him a believer in God."

আবদুল্লাহ সাঈদ খান

আমি বোকা! জানি কম, বুঝি কম! পড়াশুনা করে নাস্তিক হতে চাই। কিন্তু কেন জানি যতই পড়ি উল্টা হয়! অবাক ব্যাপার! নাস্তিকদের সাহায্য দরকার....!

আবদুল্লাহ সাঈদ খান › বিস্তারিত পোস্টঃ

মেমোরী, প্রোডিজি এবং ইচ্ছাশক্তি

২৫ শে মে, ২০১৩ রাত ৯:৩১

মেমোরী তথা স্মরণশক্তি দু ধরনের। ডিক্ল্যারেটিভ ও ননডিক্ল্যারিটিভ। প্রথমটি হল সে ধরনের মেমোরী যা আমরা কথার মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারি। যেমন: কোন কিছুর নাম, সংখ্যা, কোন ঘটনার স্মৃতি ইত্যাদি। দ্বিতীয়টি হল সে ধরনের যেগুলো কথার মাধ্যমে প্রকাশ করা যায় না। যেমন: যে কোন ধরনের কাজ- সাইকেল চালানো, ড্রাইভিং, কিবোর্ড টেপা ইত্যাদি। দ্বিতীয় ধরনের মেমোরী আমাদের 'সাবকনসাস'-এ প্রোথিত হয়। এমনকি এই ধরনের মেমোরী স্মরণ করতে গিয়ে সেটা সম্পর্কে 'কনসাস' হতে গেলে কাজটির ব্যাঘাত ঘটে। যেমন: একজন টেনিস খেলোয়ার বলে ব্যাট লাগাতে গেলে তার মন 'সাবকনসাসলি' মাপাঝোকা করে দেয়, এ সময় প্রতিপক্ষের মারা বলের দিকে মোনযোগ দিতে গেলে শট মিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।।



ডিক্ল্যারেটিভ ও ননডিক্ল্যারেটিভ দুধরনের মেমোরীই বৃদ্ধি করা যায়, পুন:পুন: চর্চার মাধ্যমে। তবে মনে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল যা শিখছি তার প্রতি গভীর আগ্রহ।



আলেকজান্ডার অ্যাটকিন ১৩ বছর বয়সে মনে মনে অঙ্ক কষার বিষয়টিতে গভীর আগ্রহ অনুভব করেন। তিনি 'পাই' এর মান দশমিকের পড়ে ১০০০ ঘর পর্যন্তু মুখস্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে এই ব্যাক্তি এডিনবার্গ এ ম্যাথমেটিক্সের প্রফেসর হয়েছিলেন। তবে বর্তমানে পাইয়ের মান দশমিকের পড়ে মনে রাখতে পারার 'ওয়ার্ল্ড রেকর্ড' টি গড়েছেন চিনের চাউ লু। এই ব্যাক্তি পাই এর- মান দশমিকের পর ৬৭৮৯০ ঘর পর্যন্ত বলতে পেড়েছেন, মুখস্ত!



ওলফগ্যাঙ এমাদেওস মোজার্ট চার বছর বয়সে পিয়ানো শেখেন এবং আট বছর বয়সে তার প্রথম সিমফোনী রচনা করেন। তাকে অন্যতম প্রধান মিউজিক প্রোডিজি বিবেচনা করা হয়। লাডউইগ ভ্যান বেথোভেন তার শেষ জীবনে বধির হয়ে গিয়েছিলেন। এ সময় তিনি কিছু সোনাটা ও কোয়ার্ট্রেট রচনা করেন। সমসাময়িক মিউজিসিয়ানদের অবোধ্য হওয়ায় সমালোচিত হলেও পরবর্তীতে এই মিউজিকগুলোকেই তার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।



পাবলো পিকাসোকে পূর্ণাঙ্গ আর্টিস্ট হিসেবে বিবেচনা করা হত যখন তার বয়স বারো। লিউনার্দো দ্যা ভিঞ্চি ছিলেন একজন পলিম্যাথ(অর্থাৎ বিভিন্ন বিষয়ের বিজ্ঞানী)। বিশ বছর বয়সে তিনি আর্টিস্টদের গাইড, 'গাইড অব সেন্টলুকের' মাস্টার নির্বাচিত হয়েছিলেন।



দাবার ওয়ার্ল্ড রেটিং এ বর্তমানে এক নাম্বার খেলোয়ার ম্যাগনাস কার্লসেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে গত জানয়ারী মাসে সে চেজ লিজেন্ড গ্যারী ক্যাসপারভের FIDE Rating 2851 কে অতিক্রম করে এবং এখন পর্যন্ত তার সর্বোচ্চ রেটিং 2872। ১৩ বছর বয়সে এই 'মোজার্ট অব চেজ' একটি খেলায় ক্যাসপারভকে হারাতেও বসেছিল।



শ্রিনিভাস রামানুজনের বয়স যখন তের তিনি নাম্বার থিওরী এবং বার্ণোলী নাম্বার এ নিজস্ব থিওরী দাড়া করান। ক্লডে শ্যানন যখন দেখান যে বুলিয়ান লজিক যে কোন লজিকাল, নিউমেরিকাল রিলেশনশিপ-এ ব্যবহার করা যায় তখন তার বয়স: একুশ। জেমস ওয়াটসন ডিএনএ’র গঠন আবিস্কার করছিলেন তেইশ বছর বয়সে। এনরিকো ফার্মি একটি ভাইব্রেটিং রডের পার্সিয়াল ডিফারেনশিয়াল ইকুয়েশন সমাধান করতে ফরিয়ার এনালাইসিস ব্যবহার করেন সতের বছর বয়সে। মার্ক জুকারবার্গ স্কুল লাইফে গেমস প্রোগ্রাম করে দিতেন আর তার বন্ধুরা সেই গেমস খেলত।



কম বয়সে স্কিল্ড এডাল্টদের মত দক্ষতা প্রদর্শন করলে তাদের প্রোডিজি বলা হয়। উপরে যাদের উদাহরণ দেয়া হল তাদের কেউ চাইল্ড প্রোডিজি, কেউ এডাল্ট। তবে সবার ক্ষেত্রে একটা সাধারণ ব্যাপার হল আগ্রহ, প্রচেষ্টা এবং সবার উপরে অবশ্যই আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা।



আগ্রহ ও প্রচেষ্টার বাইরেও আল্লাহর রহমত থাকা জরুরী। আর এ কারনেই একটি বিস্ময়কর উদাহরণ হল মুসলিম বিশ্বের হাজার হাজার হাফেজী মাদ্রাসার হাজার হাজার বালক বালিকা। ৪ থেকে ১২ বছর বয়সী কোরআনের অসংখ্য হাফেজ আছে সাড়া পৃথিবীতে। কোন প্রকার অর্থ না বুঝে পুরো কোরআন মুখস্ত করতে পারাটা আল্লাহর অশেষ রহমতের একটি উদাহরণ মাত্র। কোরআনের বিস্ময়কর ভাষাশৈলী, ছন্দবদ্ধতা ও সাহিত্যপ্রকরণ হল একে মনে প্রোথিত করতে পারার মূল কারণ।



অন্যদিকে, বেনজামিন লিবেট তার কনসাসনেস সম্পর্কিত এক্সপেরিমেন্টে দেখিয়েছেন যে মানুষ যখন কোন কিছু অনুভব করে সেটা কনসাসলি অনুভব করার ০.৫ সেকেন্ড আগেই তার অনুভব সম্পর্কিত নির্দিষ্ট ব্রেইন এরিয়াতে ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশন পৌছে যায়। আবার যখন সে কোন কিছু করতে ইচ্ছে করে যেমন: হাত আগানো, তখন তার ব্রেইনের ‘মোটর’ এরিয়াতে হাত আগানোর কনসাস ফিলিং (অনুভব) হওয়ার ০.৫ সেকেণ্ড আগেই ইলেকট্রিক্যাল এক্টিভিটি শুরু হয়ে যায়। তবে মানুষ সর্বচ্চো সেই এক্টিভিটিকে একটি ভেটো দিয়ে থামিয়ে দিতে পারে। এটাকি তাহলে এক্সপ্লেইন করে মানুষের প্রচেষ্টায় আল্লাহর সাহায্য কিভাবে আসে এবং কেন মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা শক্তি নির্দিষ্ট মাত্রায় আবদ্ধ?



Bibliography:

1. Neuroscience; D. Purves et el.

2. Mind Time: Temporal factors in consciousness; Benjamin Libet

3. The 100: A Ranking Of The Most Influential Persons In History; Michael H. Hart

4. en.wikipedia.org/wiki/List_of_child_prodigies

5. cracked.com/article_16266_8-child-prodigies-so-amazing-theyll-ruin-your-day_p2.html

6. pi-world-ranking-list.com/lists/details/luchao.html

7. en.wikipedia.org/wiki/Ludwig_van_Beethoven

8. en.wikipedia.org/wiki/Mark_Zuckerberg

9. en.wikipedia.org/wiki/Wolfgang_Amadeus_Mozart

10. en.wikipedia.org/wiki/Da_vinci

11. en.wikipedia.org/wiki/Magnus_Carlsen

12. en.wikipedia.org/wiki/James_Watson

13. en.wikipedia.org/wiki/Claude_Shannon

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে মে, ২০১৩ রাত ৯:৪০

খেয়া ঘাট বলেছেন: এই ব্যাক্তি পাই এর মান দশমিকের পড় ৬৭৮৯০ ঘর পর্যন্ত বলতে পেড়েছেন, মুখস্ত!----------- কী বিস্ময়কর স্মরণশক্তি।

২| ২৫ শে মে, ২০১৩ রাত ৯:৪৯

না পারভীন বলেছেন: অসাধারণ লাগল পোস্ট টি । কষ্ট করে লিখে শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ সাঈদ ভাই

৩| ২৫ শে মে, ২০১৩ রাত ১১:১০

ভারসাম্য বলেছেন: পাই এর মান ৬৭৮৯০ ঘর পর্যন্ত বলতে পারাটা সম্ভবতঃ স্মরণশক্তির চেয়েও গাণিতিক ভাগ, আর বিয়োগ দ্রুত করে ফেলার যোগ্যতার সাথে বেশি সম্পর্কিত। ৭ এর নামতা ১৪ গুণ পর্যন্ত জানলে যে কেউ এটা অসীম সংখ্যক ঘর পর্যন্ত বলে ফেলার চেষ্টা করতে পারে। তবে ৬৭৮৯০ ঘর পর্যন্ত নির্ভূল থাকাও চাট্টিখানি কথা না।

তবে একদম শেষে এসে যে তথ্য দিলেন তা রীতিমত বিষ্ময়কর! মানুষের ইচ্ছাও যে একটা শক্তি ( পদার্থবিদ্যার শক্তি, সাহিত্য বা দর্শনের শক্তি নয়) হতে পারে, হোক তা অল্প মাত্রার তার একটা উদাহরণ ( জানিনা কতটা প্রমাণিত) সম্ভবতঃ লেখার শেষের কথাগুলো। না জানলেও, বিশ্বাস অমনই ছিল প্রায়। ++++

২৫ শে মে, ২০১৩ রাত ১১:১৮

আবদুল্লাহ সাঈদ খান বলেছেন: মানুষের ইচ্ছাশক্তি বলতে পদার্থবিদ্যার শক্তি বুঝানো হয় নি। মানুষের ইচ্ছাশক্তির কোন ম্যাটেরিয়াল এক্সপ্লেনেশন নেই। তবে ইচ্ছাশক্তি কিভাবে শরীরের মধ্য দিয়ে ফাংশন করে তার ব্যাখ্যা আছে। ধন্যবাদ।

৪| ২৬ শে মে, ২০১৩ রাত ১২:০০

ভারসাম্য বলেছেন: মানুষের ইচ্ছাশক্তির কোন ম্যাটেরিয়াল এক্সপ্লেনেশন অচিরেই বা আদৌ সম্ভব না হলেও, আমার বিশ্বাস কিন্তু মানুষের ইছাশক্তিকেও ফিজিক্স এর শক্তির মতই ভাবতে বা সেই শক্তিরও উৎসের কথা ভাবতে প্রণোদিত করে।

আমি পদার্থের অতিপারমাণবিক স্তরে ভর ও শক্তির প্রকৃত কারণের জায়গায় এক মহান ইচ্ছাশক্তির ভূমিকা গাণিতিক(!) ভাবেই খূঁজে পাই আর অতি সীমিত মাত্রায় হলেও মানুষের মাঝেও সেই মৌলিক ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা আছে বলে বিশ্বাস করি।

যাই হোক, এটা এখনও একান্তই আমার বিশ্বাসের ব্যাপার। পোষ্টে পুরোপুরি এমনটা বলা না হলেও শেষের উদাহরণগুলো আমার বিশ্বাসের সাথে সাজুয্যপূর্ণ বলেই মনে হয়েছে আমার কাছে।

অনেক ধন্যবাদ এমন একটি লেখার জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.