| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
উলামায়ে কেরামের সঙ্গে মুজাহিদদের সম্পর্ক
শায়খ মুসান্না হাসসান হাফিযাহুল্লাহ বলেন,
"এ যুগে কারা উলামায়ে হক আর কারা উলামায়ে সূ-এর স্তরে অধঃপতিত এবং কোন সে আমল যা এ বিষয়টি পরখ করার কষ্টিপাথররূপে বিবেচ্য এবং আজকের মুসলমান কোন জায়গাটায় বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির শিকার!
…৩. মুসলিম জনপদগুলোতে অসংখ্য উলামায়ে কেরাম এমন আছেন, যাঁদের ইলম ও জ্ঞান সর্বসাধারণের কাছে সুবিদিত, সমাদৃত। দীনের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক, তাঁদের দীনি খিদমাত সবার কাছে স্বীকৃত এবং তাঁদের পুরো যিন্দেগি নেক আমল দ্বারা সুসজ্জিত। তাঁদের জীবন ইলমে দীন অর্জনে এবং তার প্রচার প্রসারে অতিবাহিত হয়েছে। তাঁদের অবদান, কর্ম ও কীর্তি সন্দেহাতীত। এত কিছু সত্ত্বেও মুসলিম ভূখণ্ডগুলোতে শরীয়াহ বাস্তবায়নের জন্য সশস্ত্র চেষ্টা-প্রচেষ্টার তাঁরা বিরোধী। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে ইসলামী রাষ্ট্র বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন এবং মু*জা*হি*দদের বিরুদ্ধে স্থানীয় শাসকদের পদক্ষেপগুলোতে সহযোগিতা করেন। শাসক নিজ স্বার্থে এই সকল উলামা হযরতের দস্তখত নিয়ে সম্মিলিত ফতোয়া প্রকাশ করে অথবা বয়ান লিখিয়ে নেয়।
এ সকল উলামায়ে কেরাম (সামগ্রিকভাবে) হকপন্থী, কেবল এই অবস্থানে এসে তাঁরা ভুল করে ফেলেন। এটা তাদের ভুল এবং পদস্খলন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তো যবরদস্তি ও চাপের মুখে পড়ে এই অবস্থান গ্রহণ করতে বাধ্য হন। আর কেউ কেউ এমন আছেন, যাদের কাছে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে দলীল রয়েছে। তারা মনে করেন, সশস্ত্র চেষ্টা-প্রচেষ্টায় সফলতার সম্ভাবনা কম, আমাদের যথাযোগ্য সামর্থ্য ও সক্ষমতা নেই। অথবা তাদের দৃষ্টিতে সশস্ত্র চেষ্টা-প্রচেষ্টার পরিণতিতে আরও বড় ক্ষতি ও বিপদের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথবা তারা মু*জা*হি*দীনের ভুল পদক্ষেপগুলোর কারণে শঙ্কিত কিংবা সমকালীন পশ্চিমা জীবনব্যবস্থার ইসলামাইজেশনের পক্ষে দলীল প্রমাণ দাঁড় করান।
কোনো সন্দেহ নেই, সে দলীলগুলোর একটাও সহীহ নয়; তাদের এই অবস্থান একটা বড় ভুল; যাতে তারা লিপ্ত হয়ে আছেন। কোথায় ধর্মহীন শাসক, তাদের দীন-দুশমনি আর ধর্মহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা, আর কোথায় নেফাযে শরীয়তের পবিত্র তাকবীর ধ্বনি ও সে তাকবীরের ঝাণ্ডাবাহী সিপাহিদের ত্যাগ ও কুরবানী! এদের মধ্যে কোন পক্ষের সমর্থন ও পক্ষাবলম্বন করা হবে তা তো খুবই স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন।
কিন্তু (মনে রাখতে হবে) এই ভুলগুলো সত্ত্বেও তাঁদেরকে উলামায়ে সূ’-এর কাতারে ফেলা তাঁদের কৃত ভুলের চেয়েও বড় না-ইনসাফি। আর তাঁদের সঙ্গে উলামায়ে সূ’-এর মতো আচরণ করাও কিছুতেই দীনের শিক্ষা নয়। তাঁদের নিয়তের উপর সন্দেহ করা, তাঁদেরকে ধর্মহীন শাসকদের ক্রীড়নক মনে করা, মু*জা*হি*দীনের দুশমন মনে করা, তাঁদের অসম্মান করা, গীবত করা কোনোটিই জায়েয নয়। তাঁদের ভুল আপন জায়গায়। এ ভুলের উপর উলামায়ে হকের পক্ষ থেকে অস্বীকৃতি ও নিন্দা জ্ঞাপন অবশ্যই হওয়া উচিত। তবে তাঁদের সম্মান ও মর্যাদাও মুসলমানদের মধ্যে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে এবং এমন কোনো আচরণ ও আন্দায গ্রহণ করা যাবে না, যার কারণে তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা সমাজের সামনে ক্ষুণ্ন হয়ে যায় এবং তাঁদের দীনি অবস্থান নিঃশেষ হয়ে যায়।
এমন আলেমদের ব্যাপারে পূর্ণ আস্থার সঙ্গে বলা যায়, তাঁরা ইসলাম এবং ইসলামের বিজয়ের প্রতি আন্তরিক এবং মু*জা*হি*দদের তাঁরা মুহব্বত করেন। তবে তাঁদের ইজতেহাদ তাঁদেরকে এমন অবস্থান গ্রহণে বাধ্য করেছে।” -উলামা সে মুতাআল্লেক তারযে তাআমুল: ইতেদাল কি রাহ: ৭৪-৭৭
.
শায়খের এই কিতাবটি বিশেষ করে দাঈ ও দায়িত্বশীলদের সকলের পড়া দরকার। এখানে আহলে হক আলেম হিসেবে শায়খ যাঁদের চিহ্নিত করেছেন, তাঁদের বিষয়টা আমাদের স্বতন্ত্রভাবে ফিকির করা জরুরি। ভুল ইজাতিহাদের ভিত্তিতে দীনের জন্য মুখলিস ও ফিদা আলেমদের জি*হা*দ বিরোধিতাকে উলামায়ে সূ’দের থেকে আলাদা মূল্যায়ন করা জরুরি। তাঁদের সঙ্গে কল্যাণকামিতা, সহমর্মিতা ও নম্রতার আচরণ করা জরুরি। তাঁদের অন্তরের বিষয়ে আক্রমণ করা মারাত্মক বিভ্রান্তি।
চিন্তা করা দরকার, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ দয়া ও করুণায় আমাদের মতো যাদের উপর আল্লাহ অনুগ্রহ করে জি*হা*দের সমঝ দান করেছেন এবং মু*জা*হি*দদের জামাতভুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন, আমাদেরও কারো কারো অবস্থা কিছুদিন আগে এমন ছিল। মু*জা*হি*দদের আমরা ভুল বুঝতাম। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনই দয়া করে আমাদের বুঝ দান করেছেন। সুতরাং এখন যারা আমাদের বুঝতে ভুল করছেন, তাঁদের প্রতিও আমাদের কল্যাণকামী ও বিনয়ী হয়ে হেকমতের সঙ্গে কাজ করা জরুরি, যাতে ভুল বুঝাবুঝির অবসান হয়।
কোনো কোনো দাঈ; এমনকি কতিপয় আলেম দাঈ ভাইও এখানে বিভিন্ন ভুলভ্রান্তির শিকার হন এবং তাদের থেকে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও উচ্চারণ প্রকাশিত হয়, যা আলেমদের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব তৈরি করে। অবশ্য এটা অনেকটাই পরিষ্কার যে, যারা গ্রহণযোগ্য কোনো জি*হা*দি তানজীমের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন এবং তাদের তারবিয়াহ গ্রহণ করেন, তাদের তুলনায় এমন দাঈদের থেকেই এমন ভ্রান্তি বেশি প্রকাশ পায়, যারা ব্যক্তিগতভাবে কাজ করেন এবং গ্রহণযোগ্য কোনো জি*হা*দি তানজীমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন না বা হন না। কখনো কখনো অবস্থা এতই ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে, যেখানে বলা যায় الدين محجوب بأهله (দীনের অনুসারী দ্বারাই দীন বাধাগ্রস্ত) মাআযাল্লাহ।
আশা করি, জি*হা*দি আন্দোলনের সকল দাঈ ও কর্মী ভাই বিষয়টি আত্মস্থ করার চেষ্টা করবেন, যদি আপনি জি*হা*দকে ভালোবাসেন; চাই আপনি কোনো জি*হা*দি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হোন বা না হোন।
যে বিন্দুগুলোতে অসতর্কতার কারণে আলেমদের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব তৈরি হয়, আল্লাহ তাওফীক দিলে সামনে এমন কিছু বিন্দু ভাইদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
পুরো আর্টিকেলঃ Click This Link
©somewhere in net ltd.