নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি

ইসলামিক স্কলার।

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি › বিস্তারিত পোস্টঃ

খেলাফত প্রতিষ্ঠার পথ ও পদ্ধতি, কিছু বিক্ষিপ্ত ভাবনা-৩

২২ শে মার্চ, ২০২৫ দুপুর ১২:৪০

খে-লা[ফ]ত প্রতিষ্ঠার পথ ও পদ্ধতি, কিছু বিক্ষিপ্ত ভাবনা-৩
শ-রী-য়াহ প্রতিষ্ঠায় অবৈধ ‘তাদাররুজ’
.
পক্ষান্তরে যদি কোনো ব্যক্তি মনে করে, মদ্যপ ও মদের বার কিংবা পতিতা ও পতিতালয় বন্ধ করতে হলে আগে তাদের সঙ্গ দিতে হবে এবং তারা যেসব অন্যায় কর্ম করে সেগুলোতে অংশ গ্রহণ করে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব তৈরি করতে হবে এবং সম্পর্ক তৈরি করলেই তাদেরকে দাওয়াত দিয়ে দ্বীনের পথে আনা যাবে, তাহলে এটার অনুমোদন শ[রী]য়ত দিবে না।
.
একইভাবে ইসলামী আন্দোলনকারীরা যদি মনে করে, ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগে গণতন্ত্রীদের সঙ্গ দিতে হবে, গণতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতা গ্রহণ করতে হবে, গণতন্ত্রে অংশ নিয়ে গণতন্ত্রীদের বুঝাতে হবে এটা কুফর, এটাকেও শ[রী]য়ত অনুমোদন করে না এবং এটা শ[রী]য়ত সম্মত তাদারুরজের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
কিছু বাস্তব উদাহরণ দিয়ে আরেকটু পরিষ্কার করা যাক!
.
গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতাসহ গণতন্ত্রের অনেক অনুসঙ্গই যে কুফর, এবিষয়ে আমাদের জানামতে নির্ভরযোগ্য কোনো ইসলামী দল কিংবা ব্যক্তির দ্বিমত নেই। এমনকি যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় খে-লা[ফ]ত প্রতিষ্ঠার প্রবক্তা, তাদেরও না।
.
তবুও মিশর কিংবা তুরস্কে যখন গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টারা ক্ষমতায় আসেন, তারা—
১. গণতান্ত্রিক সংবিধান গ্রহণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।
২. গণতান্ত্রিক কুফুরি সংবিধান রক্ষা করার শপথ নেন।
৩. কুরআন সুন্নাহকে রাষ্ট্রপরিচালনার একমাত্র ভিত্তি বানাতে পারেন না।
৪. কুরআন সুন্নাহর খেলাফ মানবরচিত আইন বহাল রাখেন।
৫. কুরআন সুন্নাহর আইনকে সংসদের অনুমোদনের মুখাপেক্ষী বানান।
৬. ক্ষমতায় যাওয়ার আগে তারা এমন কিছু বিষয়ে ছাড় দেন, যেগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাদেরকে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠায় বাঁধা প্রদান করে।
এই কাজগুলো সবই হয় কুফর-শিরক, না হয় অন্তত হারাম।
.
পক্ষান্তরে মু-জা[হি]দ তা-লে বা নরা যখন জি/হা/দের মাধ্যমে ক্ষমতায় যান, তারা—
১. প্রথম দিন থেকেই গণতান্ত্রিক কুফুরি সংবিধান বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। এক মুহূর্তের জন্যও তারা গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে বরদাশত করেন না।
২. কুরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে রাষ্ট্রপরিচালনার ঘোষণা দেন।
৩. কুরআন সুন্নাহর খেলাফ সকল আইন প্রথম মুহূর্তেই বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।
.
ফলে জি/হা/দিদের রাষ্ট্র প্রথম দিন থেকেই ইসলামী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়; যদিও তারা শক্তি সামর্থ্যের অভাবে এবং মাফসাদা-মাসলাহার বিবেচনায় কিছু মুনকারাতের ক্ষেত্রে নীরবতা পালন করেন বা পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্ব করেন। তাদাররুজ নীতির ভিত্তিতে ধীরে ধীরে অগ্রসর হন। কিন্তু তারা নিজেরা ব্যক্তিগতভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো কুফর শিরক ও হারামে লিপ্ত হন না। তাদের রাষ্ট্রে আগে থেকে চলে আসা কোনো মদের বার বন্ধ করতে যদি তারা বিলম্বও করেন, তবে সেটা থাকে অবৈধ হিসেবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে যার কোনো সম্মান ও নিরাপত্তার অধিকার থাকে না।
.
পক্ষান্তরে গণতান্ত্রিক ইসলামীদের রাষ্ট্র পাঁচ/দশ বছর পরও গণতান্ত্রিক ও স্যেকুলারই থেকে যায় এবং রাষ্ট্রপরিচালনায় তাদেরকে বিভিন্ন কুফর শিরক ও হারাম বিষয়ে যুক্ত হয়ে চলতে হয়, যা শ[রী]য়তে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটা বৈধ তাদাররুজের অন্তর্ভুক্তও নয়। কুফর-শিরক বন্ধ করার জন্য নিজেরা কিছুদিনের জন্য কুফর-শিরক গ্রহণ করা যায় না, নিজেরা কুফর-শিরক নাফেয করা যায় না। এটা শ[রী]য়তে অনুমোদিত নয়; যদিও উদ্দেশ্য ভল হয়।
.
হাঁ, গণতান্ত্রিক ইসলামী দলের কাজে রাষ্ট্রে একটি ইতিবাচক প্রভাব অবশ্যই পড়ে, তা আমরা অস্বীকার করি না। নিরেট সেক্যুলার গণতন্ত্রীদের রাষ্ট্র যেভাবে দিন দিন কট্টর থেকে কট্টর সেক্যুলার ও ইসলামবিদ্বেষী হয়ে ওঠে, ইসলামী গণতন্ত্রীদের রাষ্ট্র সেরকম হয় না; বরং তাদের হাতে ক্ষমতা থাকলে রাষ্ট্রটি দিন দিন কিছুটা ইসলামবান্ধব হয়ে ওঠে। কিছু ইসলামসম্মত আইন হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে কিছু ইসলামবিরোধী আইন সংশোধন বা বিলুপ্ত হয়। কিন্তু এতটুকু ইতিবাচক প্রভাবের জন্য শ[রী]য়ত কিছুতেই এক মুহূর্তের জন্যও কুফর-শিরক গ্রহণ করার অনুমোদন দেয় না।
.
উম্মতের এই ক্রান্তিলগ্নে খে-লা[ফ]ত প্রতিষ্ঠায় জি/হা/দি মা/ন/হা/জও গণতান্ত্রিক মানহাজের এই পার্থক্যটা আমাদের খুব ভাল করে অনুধাবন করা জরুরি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.