| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ধাতুকে প্রথমত দুই ভাগে ভাগ করা যায়ঃ
১. স্বর্ণ-রূপা
২. স্বর্ণ-রূপা ব্যতীত অন্যান্য ধাতু
স্বর্ণ-রূপার ব্যবহারঃ
পুরুষের জন্য সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ব্যতীত সর্বাবস্থায় স্বর্ণ-রূপা ব্যবহার হারাম। চাই তা অলংকার হিসেবে হোক বা পাত্র কিংবা অন্য কোন সামগ্রী হিসেবে হোক। অনেক হাদিসে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন ডান হাতে রেশম এবং বাম হাতে সোনা নিয়ে বললেন- এ দু’টি আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪০৫৯; সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৫১৪৪)[1]
পুরুষের জন্য সোনা-রূপা ব্যবহারের অনুমতি
কয়েকটি ক্ষেত্রে শর্ত সাপেক্ষে সীমিত পরিমাণে পুরুষের জন্য সোনা-রূপা ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। যথা-
১. রূপার আংটি। তবে শর্ত হলো তা এক মিছকাল (৪.৩৭গ্রাম) এর চেয়ে কম হতে হবে।[2] ২. অন্য ধাতু দ্বারা তৈরি তরবারি বা ছুরির নকশা করার জন্য সোনা-রূপা ব্যবহারের অনুমতি আছে। তবে শর্ত হলো যেখানে ধরে তরবারি বা ছুরি চালানো হয়, সেখানে সোনা-রূপা লাগানো যাবে না। তদ্রূপ সোনা-রূপা দ্বারা সংশ্লিষ্ট বস্তুর স্বতন্ত্র কোন অংশ যেমন- পূর্ণ বাট, ফলা ইত্যাদি তৈরি করা যাবে না। বরং অন্য ধাতুর অনুবর্তী হিসেবে সামান্য পরিমাণ ব্যবহার করা যাবে।[3] ৩. পুরুষের কাপড়ে মূল কাপড় যদি সাধারণ সুতার তৈরি হয়, তাহলে অনুবর্তী হিসেবে চার আঙ্গুল পরিমাণ প্রস্থ (দৈর্ঘ্য যাই হোক); সোনা-রূপার নকশা করাও জায়েয।[4] ৪. দাঁত নড়ে গেলে বা পড়ে গেলে সোনা-রূপা দিয়ে তা বাঁধাই করা যাবে। তদ্রূপ দাঁত নষ্ট হয়ে গেলে সোনা-রূপা দিয়ে ফিলিং করা যাবে। তবে শুধু সৌন্দর্যের জন্য সোনা-রূপা লাগানো জায়েয হবে না।[5] ৫. নাক কান কাটা গেলে তা সোনা–রূপা দিয়ে বানিয়ে নিতে পারবে।
৬. আঙ্গুলের মাথা কেটে গেলে তা সোনা-রূপা দিয়ে বানানো যাবে। তবে হাত বা আঙ্গুল কেটে গেলে তা বানানো যাবে না।[6] ৭.চোখের অসুস্থাতায় সুরমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সোনার শলা উপকারী হলে তা ব্যবহার করা যাবে।[7]
সোনা-রুপা ব্যতীত অন্যান্য ধাতব বস্তুর ব্যবহারঃ
পুরুষ সোনা-রুপা ব্যতীত অন্যান্য ধাতব বস্তু অলংকার ব্যতীত অন্য সকল কাজে ব্যবহার করতে পারবে । কাজেই ধাতব পাত্রে খানা-পিনা, অজু-গোসল ইত্যাদি করতে পারবে। তবে অলংকার হিসেবে (যেমন- চেইন, আংটি) ব্যবহার করতে পারবে না। কেননা এতে মহিলাদের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যায়, যা থেকে হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে।
হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরুষদের সাদৃশ্য গ্রহণকারী মহিলাদেরকে এবং মহিলাদের সাদৃশ্য গ্রহণকারী পুরুষদেরকে লা’নত-অভিশম্পাত করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং- ৪০৯৭)
আরেক হাদিসে হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাদের সদৃশ পোশাক পরিধানকারী পুরুষকে এবং পুরুষদের সদৃশ পোশাক পরিধানকারী মহিলাকে লা’নত-অভিশম্পাত করেছেন। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং- ৮৩০৯)[8]
©somewhere in net ltd.