নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি

ইসলামিক স্কলার।

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি › বিস্তারিত পোস্টঃ

হাসপাতালে রোগী পাঠিয়ে কমিশন নেওয়া কি জায়েজ হবে

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৩৬

হাসপাতালে রোগী পাঠিয়ে কমিশন নেওয়া কি জায়েজ হবে?

উত্তর:
যে কোনো একটি ব্যবসার স্বাভাবিক নীতি হল, উন্নত গ্রাহকসেবা ও পণ্যের মান দিয়ে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা করা। এতে ক্রেতা বিক্রেতা বা সেবাদাতা ও সেবা গ্রহীতা উভয়ই লাভবান হয়। স্বল্পমূল্যে উন্নত সেবার পথ সুগম হয়। তাই স্বাভাবিক প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার বাইরে মধ্যস্বত্বভোগীর অনুপ্রবেশ শুধু শরীয়তই নয় বরং একটি সুস্থ ও সুষম অর্থব্যবস্থায়ও কাম্য নয়।
তাছাড়া বর্তমান বাংলাদেশে চিকিৎসার মতো একটি মানবিক সেবা খাত যেভাবে অসহনীয় মাত্রায় ধোঁকা প্রতারণার স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে, আমরা মনে করি নৈতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি এই কমিশন-বানিজ্যও তার প্রধানতম কারণ। সামান্য একটু চিন্তা করলেই যে কোনো ব্যক্তি বিষয়টি একেবারেই সহজে অনুমান করতে পারবেন যে, আপনার মতো ফার্মাসিস্টকেই যদি সে ৪০% অর্থ দিয়ে দেয়, তাহলে সে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে কত পার্সেন্ট দেয়? তার মুনাফা কত রাখে? সেবার মান আর সেবার অর্থমূল্যের ব্যবধানটা তাহলে কত আকাশ পাতাল?! এটা না করলে সে বর্তমানের চেয়ে বেশি মুনাফা করেও আরো কত কম মূল্যে একই মানের বা আরো উন্নত মানের সেবা দিতে সক্ষম হত?
এই কমিশন পদ্ধতিতে রোগী সংগ্রহের কারণে চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রতিযোগিতার বিষয় হয়ে গেছে, কে কত বেশি কমিশন দিতে পারে? পরামর্শকদের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, কোথায় পাঠালে আমার কমিশনের অংকটা একটু মোটা হবে; রোগীর কি হবে তা দেখার বিষয় নয়। অথচ রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-


مَن أشارَ على أخيه بأمرٍ يَعلمُ أنَّ الرُشْدَ في غَيرِهِ فَقَد خَانَه”
.

“যে ব্যক্তি তার (মুসলিম) ভাইকে কোন পরামর্শ দিল, অথচ সে জানে তার জন্য অন্য কিছু বেশী কল্যাণকর, তো সে তার সাথে খেয়ানত করলো।”
-সুনানে আবু দাউদ: ৩৬৫৭

অন্য হাদীসে এসেছে-

“الدين النصيحة. قلنا: لمن؟ قال: لله ولكتابه ولرسوله ولأئمة المسلمين وعامتهم”.

“দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা। সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করলেন, কার জন্য কল্যাণকামিতা? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ, তাঁর রাসূল, তাঁর কিতাব, মুসলমানদের ইমাম এবং জনসাধারণের জন্য”। -সহীহ মুসলিম: ৫৫

সুতরাং এসব কারণে হাসপাতালে রোগী পাঠিয়ে কোনো প্রকার কমিশন গ্রহণ করা জায়েয হবে না। তা হবে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না” -সূরা নিসা (৪): ২৯

নাজায়েয পন্থায় সম্পদ উপার্জন; দান করার নিয়তেও বৈধ নয়; বরং তাতে গোনাহের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

“من جمع مالا حراما، ثم تصدق به، لم يكن له فيه أجر، وكان إصره عليه”. أخرجه ابن حبان، وقال الشيخ شعيب: إسناده حسن … وأخرجه الحاكم … وصححه، ووافقه الذهبي.

“যে ব্যক্তি হারাম সম্পদ উপার্জন করে তা সদকা করলো, সে কোন সওয়াব পাবে না; বরং এর গুনাহ তার উপরই বর্তাবে” । (সহীহ ইবনে হিব্বান, ৩২১৬)
সুতরাং আপনার জন্য আবশ্যক হবে, কোনো রোগী পরামর্শ চাইলে কমিশন না নিয়ে আপনার জানামতে যেখানে রোগী স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা লাভ করবে, সেখানে পাঠানো। এটাই মুসলমানদের প্রতি কল্যাণকামিতার দাবী।

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদী (হাফিযাহুল্লাহ)

২২-০৩-২০১৮ ইং

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.