| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
পরপর তিনদিন আমি কোনো কাজে মন বসাতে পারলাম না, তিন রাত ঘুমাতে পারলাম না । নিশিতা আমাকে কবিতা লিখতে বলেছে! যে করেই হোক কবিতা লিখতে হবে আমায়, যে কোনোভাবে । অনেক তো কবিতার বই পড়েছি, একটা কবিতা লিখতে পারব না? অন্তত একটা কবিতা?
কেন পারব না?—নিজেকেই যেন বললাম আমি । জীবনানন্দ দাশের ছিল বনলতা সেন । জয় গোস্বামীর মেঘবালিকা । আমার তো নিশিতা আছে । ওর জন্য শুধু একটা কবিতা লিখতে পারব না? তা কী করে হয়!
অবশেষে চতুর্থ রাত না ঘুমানোর ফসল হিসেবে দাঁড়িয়ে গেল বারো লাইনের একটা কবিতা । শুনবে নাকি কবিতাটা? চাইলে শোনাতে পারি ।
অনেক রাতের স্বপ্ন আমার, অনেকদিনের শখ
গহীন অরণ্যের ধারে, গভীর সমুদ্রের পাড়ে,
একদিন একটা কাঠের দোতলা কুটির বানাবো ।
নিচতলাটা শুধুই খুঁটি; উপরতলায় আমরা রবো;
নির্জনতা, নীরবতা সঙ্গী হবে সেই আমাদের
চার গোলাপের বাগান হবে, যত্ন মোরা করব তাদের ।
লাল, নীল, হলুদ, কালো; চার রঙেরই গোলাপ হবে
শালিকজোড়ার ভালোবাসা ঠোঁটের ফাঁকে টিকে রবে
পেজা তুলো মেঘ জমবে গভীর সুনীল ঐ আকাশে
সেই আকাশই রাঙবে আবার বিকেলবেলায় আবির রঙে
আমি শুধুই মুগ্ধ হবো, হারিয়ে যাব একটা আমি;
চতুর্দিকে জড়িয়ে রবে—শুধুই তুমি! শুধুই তুমি!
কবিতাটার নাম আমি দিয়েছিলাম ‘স্বপ্নকুটির’ । কেমন হয়েছে কবিতাটা? নিশ্চয়ই ভালো না, তাই না? ভালো হবেই বা কী করে বলো? তাল-ছন্দ-মাত্রার জ্ঞান নেই, শুধু গোটা কয়েক কবিতার বই পড়ার অভিজ্ঞতাই সার । তবুও নিশিতাকে নিয়ে লেখা কবিতা, একদম ফেলনা কিছুও কিন্তু নয় । আমার কাছে এই কবিতাটাই অনেক কিছু, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর কবিতা ।
আরেক দিনের কথা । নিশিতা জিজ্ঞেস করল, ‘আচ্ছা তুমি কোন ব্র্যান্ডের সিগারেট খাও?’
‘আমি তো সিগারেট খাই না ।’
‘একেবারেই খাও না? কোনোদিন খাওনি?’
‘না । কিন্তু কেন?’
‘এমনি । আসলে আমার কাছে কেন জানি সিগারেট না খাওয়া ছেলেদের ঠিক ম্যানলি মনে হয়না ।’
এই তাহলে ব্যাপার! অবশেষে নিশিতার কাছে ‘ম্যানলি’ হবার আশায় সিগারেটে প্রথম টান দিলাম আমি । একদিন কলেজ শেষে নিজ থেকে যেচে গিয়ে অংশুর কাছ থেকে সিগারেট চেয়ে একটা টান দিয়ে দেখলাম । টান দিয়েই সে কী কাশি আমার! কাশতে কাশতে মরে যাবার দশা আমার, আর সহপাঠীরা আমার অবস্থা দেখে হেসেই বাঁচে না । অংশু অপ্রস্তুতের একশেষ, সবাইকে কোনোরকমে থামিয়ে সিগারেটটা আমার হাত থেকে নিয়ে নিল । বলল, ‘থাক, অনেক হয়েছে । আজকে বাদ দে, একদিনে বেশি না খাওয়াই ভালো ।’
এরপরও কিন্তু সিগারেট খেতাম আমি । তবে আর দলবল নিয়ে নয়, একা একা । প্রতিদিন দু’টা করে খেতাম । ব্ল্যাক, দশ টাকা দামের । নিশিতার কাছে ‘ম্যানলি’ হতে হবে না আমাকে!
প্রায়ই তো নিশিতা আমার কাছে কিছু না কিছু আবদার করে, একদিন আমিই ওর কাছে আবদার করে বসলাম । ‘নিশিতা, আর কতদিন এভাবে ফোনের মধ্যে কথা বলে বলে কাটাব?’
‘কেন খারাপ কী? ভালোই তো চলছে ।’ নিশিতার সহজ-সরল জবাব ।
‘উঁহু, মোটেও ভালো চলছে না । তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করে নিশিতা । চলো না একদিন দেখা করি ।’
‘কিন্তু...’ আমার সাথে দেখা না করার একশ’ একটা অজুহাত দেখাল নিশিতা । কিন্তু আমিও নাছোড়বান্দা, এইবার যেভাবেই হোক নিশিতার সাথে দেখা করব আমি, যেকোনো ভাবে । প্রয়োজনে পুরো শহর পায়ে হেঁটে এক চক্কর দিয়ে আসব আমি, জাহাজে চড়ে সমুদ্র পাড়ি দেব; তবুও নিশিতার দেখা চাই আমি ।
শেষ পর্যন্ত রাজি হলো নিশিতা । দেখা করবে সে আমার সাথে, এই শহরেরই এক উন্মুক্ত উদ্যানে, আগামী শনিবার ।
আমাকে তখন আর পায় কে! ভেতরে ভেতরে আনন্দে ফেটে পড়ছি । কবে কাটবে একটা সপ্তাহ! কবে আসবে আগামী শনিবার!
(চলবে)

©somewhere in net ltd.
১|
২৬ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ১০:৫৭
কালো আগন্তুক বলেছেন: দারুন গল্প। প্রথম থেকে পড়ে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আমিও লিখছি....আমার গল্প পড়ে দেখলে খুশি হব। আর নতুন হিসেবে আপনার কাছ থেকে কিছু পরামর্শ আশা করছি।