| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতা বহিভূত শাসক দলগুলোর কামড়াকামড়ি এখন চরমে। এটা আরো বৃদ্ধি পাবে। এখানে জামাত-শিবির প্রসঙ্গটি বেশ আলোচিত বিষয়। জামাতের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে বামপন্থী দাবীদার বিভিন্ন দল, ব্যক্তি এমনকি ফেসবুক বিপ্লবীরাও বেশ সোচ্চার। বিজয়ের(!) মাসে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির এ আস্ফালন কিছুতেই মেনে নেয়া যায়না—ইত্যাদি আবেগ ঢালছেন তারা। জামাতকে নিষিদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আওয়ামী লীগকে চাপ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন কর্মসচী, লেখালেখি খুব জোরালো হচ্ছে। কথিত বামপন্থীরা হরতাল ডেকেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা ও জামাতকে শায়েস্তা করতে অনেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করে দেয়ার মত অবস্থা।
আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, জাতীয় পাটি হচ্ছে এদেশের শাসকশ্রেণীর রাজনৈতিক দল। এরা প্রত্যেকেই রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করে। এদের প্রত্যেকের প্রভূ হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষত: মাকিন সাম্রাজ্যবাদ। শ্রেণীগতভাবে এরা সবাই বড় ধণীশ্রেণীর পাটি। ক্ষমতায় গিয়ে এরা ধণীকশ্রেণী তথা বুজোয়া মালিকশ্রেণী, আমেরিকা-ভারত প্রভৃতির স্বাথ রক্ষা করে। আর শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপর শোষণ নিপীড়ন করে। বলা যায় এরা প্রত্যেকে দেশদ্রোহী গণশত্রু। এরা ক্ষমতায় টিকে থাকা ও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নানান ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করে থাকে। গ্রেনেড হামলা, বোমা হামলা, জেএমবি, মুফতি হান্নান, জজ মিয়া, বিশ্বব্যংক-পদ্মা সেতু, গ্রামীন ব্যংক-ইউনুস, গামেন্টস-বস্তিতে আগুন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইত্যাদি অনেক কিছুই ষড়যন্ত্রের ইস্যু। সাম্প্রতিক জামাত-শিবিরের কর্মকান্ড এই ষড়যন্ত্রেরই অংশ। হতে পারে খোদ আওয়ামী লীগই এই ষড়যন্ত্রের হোতা। তারা তাদের প্রভূ সাম্রাজ্যবাদীদের হয়তো বুঝাতে চায়, দেখ আমরা কেমন জঙ্গী-মৌলবাদকে মোকাবেলা করছি! সুতরাং আমাদের পূনরায় ক্ষমতায় না নিলে এদের আর দমানো যাবেনা, পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে! আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে এটা যারা মনে করে তারা হয় বোকা নাহয় তাদের উদ্দেশ্য খারাপ। জনগণকে ধোকা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মত নানান চটকধারী কথা বললেও এরা নিজেরা এসব অপরাধে সিদ্ধহস্ত।
আলোচিত যুদ্ধাপরাধী কয়েকজনের ফাঁসী হলেই কি হবে? দেশের নিরন্ন কৃষক কি তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবে? শ্রমিক কি তার বাঁচার মতো মজুরী পাবে? শিক্ষা-চিকিৎসার নিশ্চয়তা হবে? বেকার-যুবকদের ভবিষ্যতের কি অনিশ্চয়তা অন্ধকার কেটে যাবে? নারী হিসেবে বেঁচে থাকার অপমান ঘোচাতে মহিমা-ফাহিমাদের মত আর কোন বোন কি আত্মহত্যা করবে না? বিগত ৪১ বছর পালাবদল করে যারা ক্ষমতায় তারা শোষণ-লুটপাটের মাধ্যমে ফোলেফেঁপে বটগাছ হয়েছে, আর জনগণকে বঞ্চিত করেছে, নিষ্পেষিত করেছে, অত্যাচার করেছে। মুজিব, জিয়া, এরশাদ, খালেদা, হাসিনা এরা সবাই গুলি করে মানুষ হত্যা, ক্রসফায়ার, গুপ্ত হত্যা, গুম, পিটিয়ে হত্যা, ধষণ প্রভৃতি মানবতা বিরোধী অপরাধে অপরাধী। এরা যুদ্ধাপরাধীদের মতোই অপরাধী নয় কি? এদের কারনেই জেএমবি, জামাত ইত্যাদি অন্ধকার মৌলবাদী শক্তির উত্থান হচ্ছে না? তাহলে এরাই যুদ্ধাপরাধ বা মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার করবে কিভাবে? এদের কাছে বিচার চওয়ার তামাশা কেন? খুনিরা কখনো খুনের বিচার করতে পারে না। সত্যিকারের বিচার সেদিনই সম্ভব হবে যেদিন এদেশের মেহনতি শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা হবে। বিবেকবান সচেতন মানুষের দায়িত্ব হলো সেই লক্ষে কাজ করা, সংগঠিত হওয়া।
©somewhere in net ltd.