| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ছড়াকার আবু সালেহ
১৯৬৭ সাল থেকে সাংবাদিকতা করি।ছড়া লেখা শুরু করি ষাটের দশকের শুরু থেকে।প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় রমনা মুকুল ফৌজের দেয়াল পত্রিকায়,ইংরেজী ১৯৫৪ সালে।১৯৬৫ তে ছড়াকে জনপ্রিয় করে তুলতে প্রচলিত আঙ্গিক ও উপস্থাপনা সমাজ সচেতনতা এবং ততকালীণ স্বৈরাচারী আইয়ূব বিরোধী আন্দলোন মুখী করে তুলি।ছড়াকে বক্তব্য প্রধান করা হয়।সমাজ বদল ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শক্তিশালী হাতিয়ার রুপে গড়ে তুলি।এই নবতর আঙ্গিকের ছড়াকে সকল শ্রেনী পেশার মানুষের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে একটি ছড়াকার বন্ধু গোষ্ঠী গড়ে তুলি।ছড়ায় সমাজতন্ত্র স্বৈরাচার বিরোধীতা ইত্যাদি কারণে ততকালীণ পুলিশ ও সরকারী প্রশাসন যন্ত্রের শিকার হই।হুলিয়া প্রাপ্ত হই।১৯৬২,১৯৬৬,৬৭,৬৮,৬৯,৭০ ও৭১এর অসহযোগ আন্দলনে এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করি।৬২,৬৭,৬৮,৬৯,৭০এর আন্দলনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও ট্যায়ার গ্যাসে আহত হই।বি এন আর এমং পাকিস্তান কাউন্সিল এবং ফিল্ম সেন্সর বোর্ডে বোমা নিক্ষেপের কর্মসূচীর সাথে সমপ্রিক্ত ছিলাম।ষাটের দশকের শেষ ভাগে শ্রেনী সংগ্রামে সশস্ত্র অংশগ্রহন করি। সকল আন্দোলন সংগ্রামে আমার ছড়া প্রভাব বিস্তার করে।
পাখির ছড়া
১.
অনেক শ্রেনীর পাখি আছে
কেউ যে শুধু মাঠের
কেউ বা থাকে পানির ধারে
পারাপারের ঘাটে
মাঠের পাখি নীল কন্ঠ
ফিঙে, হুপো, বক
শালিক ও কাক মাঠে থেকে
মেটায় তাদের শখ।
পানির পাখি হাঁস ও ডাহুক
খঞ্জন, কাদা খুঁচা
জলপিপি ও ডুবুরী যে
মাথা রাখে উঁচা।
ঘরের পাখি পায়রা দোয়েল
চড়ূই এবং কাক
যখন তখন শোনা যাবে
তাদের যে হাঁক ডাক
বাজ ও চিল শিকারি যে
পেচক ও যে তাই
নানা শ্রেণীর পাখি এসে
মুখর করে ভাই।
গাছের পাখি হলদে পাখি
কোকিল, হাড়িপাচা
যে দিকে যাও দেখতে পারে
নানা রকম নাচা।
শামার দেহের বর্ণ প্রায়
দোয়েল পাখির মত
চিকন কালো বুক ও পিঠ
অতি পরিচিত।
২.
এক সময়ে পাখি ছিল মেলা
মহানন্দে করতো তারা খেলা
পাখির সাথে সখ্য ছিল বেশ
তাদের সাথেই সময় হতো শেষ
কোন পাখি ছোঁ মারতো কোনোটা বা কাছে
বলতো সবাই পাখি ছাড়া বন কখনও বাঁচে
ঘুঘুর বাসা খুঁজতে গিয়ে মন ভরতো বেশ
শিকারীদের মহোৎসবে সবই যে আজ শেষ।
৩.
কত শত পাখি
করে ডাকাডাকি
নাম কি সবার জানি
কেউ রাজা কেউ রানী।
৪.
ঘুঘু ছিল দোয়েল ছিল
ছিল টুনটুনি
সন্ধ্যা বেলায় ঝিঁ ঝিঁ পোকার
কই সে ঝুনঝুনি ?
কই জ্বোনাকী রাতের শোভা
কইরে হুঁতুম পেঁচা
ফিরে পেতে সবাই আবার
হিজল তলায় চেঁচা।
৫.
চড়ূই বাবুই পাখি
বলে ভাল থাকি
চড়ূই থাকে কোঠায়
বাবুই তালের বোঁটায়।
৬.
শীতের পাখি এলো
ভালবাসা পেলো
ভেসে বেড়ায় বিলে
মেরো না কেউ ঢিলে।
৭.
ঘুঘু ডাকে হিজল বনে
বট পাকুড়ের শাখায়
হুতুম পেঁচা ভুতুম ভুতুম
মাথাটা তার ঝাঁকায়।
টুনটুনিটা ফুড়ৎ ফুড়ৎ
দুলিয়ে কোমর নাচে
আজকে ওদের মহাখুশীর
খবর নাকি আছে।
খরবটা যে এলো উড়ে
পুব আকাশের গায়
সুর্ষি মামা ঐ উঠেছে
আঁধার স’রে যায়।
৮.
যে পাখিটা উড়তো
ডানা মেলে ঘুরতো
সেই পাখিটা কই
অপোতে রই।
সেই পাখিটা ময়না
কেন কাছে রয়না
নেই বনানী তাই যে
চোখের পরে নাই যে
টিয়ে, ঘুঘুর বাসা
খুঁজে বেড়ায় চাষা
পায় না ঘুরে ঘুরে
তারাও গেছে উড়ে।
৯.
উট পাখিরা বড়
একটু দুরে সরো
দিতেও পারে ঠোক
সজাগ রাখো চোখ।
চামচিকে ও বাদুড়ে
সাজে দিনে সাধুরে
বের হয়না মোটে
রাতের বেলায় ছোটে।
১০. ফুটফুটি ঃ
হেমšেতর ঐ সকাল বেলা
ফুঠফুটি যে করছে খেলা
হলুদ মাখা দেহ
তাড়িয়ো না কেহ।
১১. ফটিকজল ঃ
ফটিকজল ফটিক জল
সূর্যমুখী ফুলে
আনন্দে যেই বসলো এসে
গাছ উঠলো দুলে
শেওড়া গাছের ভিতর থেকে
এসেছে সে উড়ে
ফুলের পালক মনের সুখে
গান দিয়েছে জুড়ে
ফটিকজল যে চালাক ভীষণ
বন-বাগানেই রয়
কোনমতেই তাকে ধরা
মোটেই সহজ নয়।
১২. ঝুঁটি শালিক ঃ
ঝুঁটি শালিক তাকায়
ঘাড়টা রাগে বাঁকায়
ঠোঁটের গোড়ায় ঝুঁটি
রঙীণ যে পাত দুটি
কমলা হলুদ রং
দেখায় না সে ঢং।
১৩. সোহেলি ঃ
বুকে যে তার আলতা মাখা
কালো ঘাড় ও গলা
উপর ভাগের ঠোঁট যে বাঁকা
পাহাড়ে তার চলা
সহেলিরা গাছের সখা
ফুল ও ফলের সাথি
সেই খুশীতে গান গেয়ে যায়
জঙ্গলে দিন রাতি।
১৩. বুলবুলি ঃ
বুলবুলির নাম দুধরাজ
চিনে রাখো সবাই আজ
দুঃসাহসী পাখি
শক্রকে সে তাড়িয়ে দিতে
করে ডাকাডাকি।
সুন্দর বনে সে ও হরিণ
এক সাথে রয় বেশ
মেছো বিড়াল তার ভয়ে যে
ছাড়ে যেন দেশ।
১৪. ময়না ঃ
ময়না পাখি খাঁচায়
খেতে দিও যা- চায়
ময়না শেখে বুলি
বুলি শুনে ভুলি।
১৫. বামন শালিক ঃ
মাথায় যেন ঝাঁকড়া চুল
বাধায় না সে হুলুস্থুল
মুখর করে গানে
খুশীর জোয়ার আনে
দেখতে যদি চাও
সুন্দর বনে যাও।
১৬. গাঙ শালিক ঃ
মাথা কালো ডানা কালো
আছে সাদা ছোপ
বুকটা ধুসর ঠোঁটটা হলুদ
বাসা মাটির খোঁপ
খোপ নয়তো নদী তীরের
গর্তে তারা রয়
দিনের আলোয় বেরিয়ে বলে
সব করবো জয়।
১৭. গো- শালিক ঃ
ঘাড় মাথা পিঠ লেজ
থুৎনি ও গলা
কোমরের কাছ থেকে
ঘাড়ের ঐ তলা
সব খানে সাদা সাদা
বেশ টান আছে
গো-শালিক মাঠে রয়
গরুটির কাছে।
১৮. নীলকন্ঠ ঃ
নীলকন্ঠের মাথা বড়
পা খাটো ঘাড় খাটো
চোখে থাকে ভয় ভয় ভাব
কমেনা তার ঠাঁটও।
মোটা এবং ধারালো ঠোঁট
লম্বা যে ডানা তার
দুরšত ও সাহসী সে তাই
তাড়ায় হানাদার।
১৯. মোহন চূড়া ঃ
ডোরাকাটা মোহন চূড়া
খুব সুন্দর পাখি
আমরা তাকে গাও গেরামে
‘হুপো’ বলে ডাকি
দুলে দুলে ওড়ে
ডানা ঝাঁপটায় জোরে
সুন্দর এই পাখি দেখে
ব’সে ছবি আঁকি।
২০. শ্যামা ঃ
দেবদারু বনে
শ্যামা আনমনে
শিস্ দেয় সুরে
মন যায় জুড়ে।
২১. লক্ষ্মী পেঁচা ঃ
দিনের বেলা চুপচাপ রয়
ঝোঁপের কোনো আড়ালে
রাত হলে যে বেরিয়ে পড়ে
অমঙ্গল যে তাড়ালে
সে নিশাচর পাখি
লক্ষ্মীসোনা ডাকি
ছোঁ মেরে নেয় ইঁদুর কিম্বা
কাঠ বিড়ালী বাড়ালে।
২২. ভুতুম পেঁচা ঃ
ভুতুম পেঁচা ভুতুম ভুতুম ডাকে
শহরে নয় গ্রামেই তারা থাকে
তেঁতুল গাছের কোটরে তার বাসা
ডাক যে ভারী শুনতে দারূন খাসা।
২৩. খুরলে পেঁচা ঃ
খুরলে পেঁচা শিকারি
নয় তারা কেউ ভিখারী
জোড়ায় জোড়ায় থাকে
সন্ধা নামায় ডাকে।
২৪. সাত ভায়লা ঃ
সাত ভায়লা সাত ভায়লা
খায় পলাশের মধু
তাকে দেখে যায় এগিয়ে
নোলক পড়া বধূ
সাত ভায়লা দলে থাকে
শব্দ করে নানা
জমি থেকে খাদ্য যোগায়
কেউ করে না মানা।
২৫. ফিঙে ঃ
কোথায় বাসা কোথায় ঘর
ফিঙেরা হয় যাযাবর
এই আছে তো এই নেই।
আয়রে ফিঙে, ডাক দেই।
২৬. ধুসর বক ঃ
দেখতে যদি চাও রে
চলন বিলে যাও রে
হাওর হ্রদ ও নদী চরায়
ধুসর বক যে পালক ছড়ায়
ঠোঁটটা হলুদ পা কালো
যেই উপরে তাকালো
ডানা মেলে উড়ে
চ’লে গেল দুরে।
২৭. হাঁস ঃ
লালচে ভুতি, খোপা, বালি
পাতারি ও লাল মাথা
গোলাপী শির পাšিতমুখী
নয় কোনটাই যা-তা
লেনজা পাতি, পিয়ার রাজ
নীল শিরও দেখায় কাজ
লাল শিরের ঐ হাঁস ফেলে যে
দেখো চোখের পাতা।
২৮. সুইচোরা ঃ
সবুজ রঙ এর ছোট পাখি সুঁইচোরা
সব খানে রয় দেখবি যদি আয় তোরা
জলাভূমি বাদে
টেলিগ্রাফের তারে এবং ছাদে
তাদের বড় গুন হলো যে প্রিগতির ওড়া।
২৯. কানঠুটি ঃ
লম্বা গলা লম্বা পা
কানঠুটিকে দেখে যা
কোথায় থাকে কোথায় বাস
চরাঞ্চলে দেখতে পাস
গান গায়না মোটে
গোল মতো ঐ ঠোঁটে
এক সময়ে মেলা
করতো চরে খেলা
পালিয়ে গেছে দূরে
খেলে না চর জুড়ে।
৩০. কা¯েতচরা ঃ
নিঝুম দ্বীপের চরায়
হেঁটে বেড়ায় গড়ায়
নেইরে পালক ভরা
ন্যাড়া কা¯েতচরা।
৩১. খঞ্জন ঃ
কবিদের প্রিয় পাখি খঞ্জন
তাকে নিয়ে আঁকা হয় অঞ্জন
চলাফেরায় চঞ্চলা অতি
ডানাটায় দ্রুততর গতি।
খঞ্জন হেমšের বার্তাবহ
ঝোঁপ ঝাড় সবখানে দেখি অহরহ।
পাখিটি অতিথি তাই যতœ করি
তাকে নিয়ে কবিতায় বহু কিছু গড়ি।
পোকা মাকড় পতঙ্গ খায় পেট ভ’রে
তবু তাকে ভালবাসি প্রাণ দিয়ে ওরে।
৩২. চিল ঃ
চিলের পা যে হলদে বরন
ঠোঁট ও নখর কালো
কারোর কাছে হিংস্র সে যে
কারোর কাছে ভালো।
সবাই চেনে তাকে
চিলের সাথে বিল-বাদারের
ঘনিষ্ঠতা থাকে।
সাপেরা ভয় পায়
ছোঁ মেরে যে ধরে তাদের খায়
মুরগী ছানা ধরে
ুধায় উদর ভরে।
৩৩.
হাট্টিমাটিম পাখি
তাকে কাছে ডাকি
ডিম পাড়ে সে মাঠে
খুকু ছড়া কাটে।
তার শিং যে খাঁড়া
দেখবি যদি দাঁড়া।
৩৪.
উড়ছে পাখি ডানা মেলে
ঐ আকাশে হেসে খেলে
নেই মনে তার ভয়
সব করেছে জয়।
মনের সুখে গায়
বনের সবুজ পায়
বাসা বাঁধে ডালে
আর পড়েনা জালে।
৩৫.
কাক পাখিটা করে কেন কা-কা
মনটা বুঝি তাঁর রয়েছে ফাঁকা
সবার সাথে সে পারেনা মিলতে
তাই সে খোঁজে গোপন কোন চিলতে
রংটি কালো তাই বুঝি হয় একা
তাকে নিয়ে হয়না কিছু লেখা
কোকিল কালো তবু যে রয় কদর
তার জন্য নয় বরাদ্দ সদর
শালিক চড়াই ঘুঘু সবাই এসে নাচে
কালো কোকিল থাকে উঁচু গাছে
কি আর অমন কন্ঠ মধুর কও
কুহু কুহু শুনেই মানুষ পাগল কেন হও
যে কখনও সমাজবদ্ধ নয়
বাড়াবাড়ি এসব কি আর নয় ?
কাক পাখিটা ধারে কাছে থাকে
মঙ্গল ও অমঙ্গলে ডাকে।
৩৬.
টুনটুনিদের বাসাটা
খুব ছোটটো আশাটা
গুঁড়িয়ে দিল কে
নয়তো মানুষ সে।
৩৭.
ঘুঘুর ডাকে ঘুম ভাঙতো
সে ডাক গেছে হারিয়ে
বন-জংগল সাফ ক’রে যে
দিয়েছে সব তাড়িয়ে।
ডুমুর গাছের পাতার বাসায়
টুনটুনি আর নেই
তবু যেন কারা বলে
অসুবিধা নেই !
৩৮. বাঁশপাতি ঃ
বাঁশপতি পাখিরা ডিগবাজী খায়
ভূমির নিকটে এসে ধরে যা পায়
উড়ে উড়েই কীট ও পতঙ্গ ধরে
এভাবে শিকার ধরে পেটটা সে ভরে।
সুরঙ্গ বানিয়ে তারা বাধে ঐ নীড়
পাখিদের গোত্রে সাজে মহাবীর।
টেলিগ্রাফের তারে তারে বসায় আসর
গর্তের ভিতরে তারা জমায় বাসর।
৩৯.
কাকের ডাকে অমঙ্গলের চিহ্ন
বর্তমানে সে ধারণা যে ছিন্ন
দাঁড় কাক সে বড় তবে পাতিটা যে ছোট
তবু ভোরে কা কা স্বরে বলে সবাই ওঠো।
দলবদ্ধ হয়ে থাকে তাই শক্তি মেলা
আগের মত কেউ ফেলেনা তার প্রতি যে ঢেলা।
খুব সতর্ক প্রানী বলে পরিচিত সে
পাতি কাকের জীবন চলে মহা চ্যালেনযে।
৪০. ডাহুক ঃ
ডাহুক ডাকে ঐ কোয়াক
কখনও কুক্ কুক্
লেজ নাচিয়ে দৌড়ে বেড়ায়
সাহস ভরা বুক
পোকা মাকড় শামুক ও মাছ
শস্যদানা খায়
পাখির কাছে লতা পাতায়
বাসা বেধে যায়
ডাহুক পাখির ছোট্ট ছানা
তুলতুলে তার গা
ডাহুকিনী বুকের উমে
দেয় যে কেবল তা।
৪১. সারস ঃ
সারস পাখি সারস পাখি
লম্বা তোমার পা
কোথায় তোমার বসত বাড়ি
কোন সুদরে গাঁ
সারস বলে বাংলাদেশেই
বাপ-দাদাদের বাড়ি
অভিযানে দিয়েছিলাম
সাত-সমুদ্দুর পাড়ি।
৪২. কোড়া ঃ
এমন পাখি কোড়া
আÍগোপন ক’রে থাকে ওরা
খুব ভোরে ও গোধুলীতে বেড়ায়
শিকারীদের তীর ধনুক যে এড়ায়।
৪৩. টুনটুনি ঃ
ছোট্ট পাখি টুনটুনি
বাজায় ব’সে ঝুনঝুনি
ডুমুর পাতায় ঘর
টোনা-টুনির বর।
ফুড়ূৎ ফুড়ূৎ ওড়ে
ডিম নিয়ে যায় চোরে
টোনাটুনি কাঁদে
নতুন আশা বাঁধে।
৪৪. চড়ূই ঃ
চড়ূই থাকে দালানে
ধান খেতে যায় পালানে
ক’রে ডাকাডাকি
বলে সুখে থাকি।
পরের ঘরে রয়
করেনা তাও ভয়।
৪৫. দোয়েল ঃ
জাতীয় পাখি দোয়েলকে কেউ
দইরাজা নাম দেয়
আদর ক’রে কাছে নিলে
ভালই সে পোষ নেয়
ডালিম গাছে ব’সে ব’সে
লেজ উচিঁয়ে সে
মনের সুখে শিষ দিয়ে যায়
লাগে মধুর যে
দেখতে বড় সুন্দর সে
নানা রঙের সাজ
আগের মতো ঝাঁকে ঝাঁকে
যায়না দেখা আজ।
৪৬. কোকিল ঃ
কোকিল পাখি কালো
তবু অনেক ভালো
কুহু কুহু গানে
সবাইকে যে টানে
শিমুল ফুলের আড়ে
ডাকে বারেবারে।
৪৭. বই কথা কও ঃ
বউ কথা কও পাখিরে
কেন ডাকাডাকিরে
বাঁধছি এলো চুল
গুঁজবো খোপায় ফুল।
৪৮. মাছরাঙা ঃ
মাছরাঙা মাছরাঙা
ঠোঁট তার বড়
আবডালে ব’সে থাকে
হ’য়ে জড়সড়
যেই দেখে পুঁটি
গপ্ ক’রে দু’টি
ধরে গিলে খায়
জলাধারে তাকে দেখা যায়।
৪৯. টিয়া ঃ
টিয়ার ঠোঁটে কথা ফোটে
ঠিক মানুষের মতো
তাই যে তাকে খাঁচায় রাখে
শিখিয়ে বুলি শতো
টিয়া সবুজ টিয়া অবুঝ
টিয়ার আছে জিদ
বারেবারে কয় সবারে
কেড়ে নেবো নিদ।
৫০. কানিবক ঃ
কানিবক কানা নয়
চুপচাপ থাকে
গায়ে যেন কাদা রং
ভালো ক’রে মাখে
কেউ যাতে না দেখে
রং তেমনি
বিল-ধারে মাছ খেতে
রয় এমনি
কাছে গেলে উড়ে যায়
তার আগে নয়
কানিবক সারাদিন
ঝোপে ব’সে রয়।
৫১. বাবুই ঃ
তাল খেজুরের গাছের ডালে
বাবুই বাঁধে বাসা
বাসা তো নয় নৈপুন্যের
শিল্প সে এক খাসা
যদিও সে ছোট অতি
গর্ব আছে তার
নিজের হাতে গড়া বসত
দেখে বারেবার।
©somewhere in net ltd.