| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কাজগুলো আজ খুব তারাতারি ই শেষ করে ফেলেছেন আকিব সাহেব,তাই সন্ধ্যার আগেই শরীর খারাপ বলে অফিস থেকে বাসার পথ ধরেছেন!
ইদানিং শহরে দুই ধরণের রিকশা,এমনে রিকশা আর মোটরের রিকশা,তিনি মোটরের রিকশার নাম দিয়েছেন সি এন জি রিকশা!
সাধারণত বাসায় ফেরার সময় তিনি সিএনজি রিক্সা নেন,কিন্তু আজ বিকালটা খুব দেখতে ইচ্ছা করছে বলে সাধারণ রিক্সায় উঠলেন!
যাওয়ার পথে এক তোরা ফুল ও নিয়েছেন,আজ যে তার বিবাহের এক মাস হল!
নাজিফা,মানে আকিব সাহেবের স্ত্রীর আবার লাল ফুল পছন্দ নয়,তাই তিনি রজনীগন্ধা নিলেন!
আজকের বিকালটাও অন্য বিকেলের মতই!
গরম আবহাওয়া! আকিব সাহেবের মতে সারাদিনের সব চাইতে সুন্দর সময় বিকেল,কারণ এই সময় আশ্চর্যজনক এক আবহাওয়া থাকে,নয় ঠান্ডা,নয় গরম! আর এই সময় আশেপাশেও শান্তি থাকে,তেমন কোলাহল থাকেনা!
তাই তিনি বিকালের সুন্দর একটি নাম ও দিয়েছেন,প্রশান্তির সময়!
এইতো একমাস আগে যখন আকিব সাহেবের সাথে নাজিফার বিয়ে হয়েছিল এর আগে নাজিফাকে শুধু দুইবার দেখেছেন! তেমন বিশেষ কোন কথাও হয়নি,নাজিফার পরিবার কেমন জানি তাড়াহুড়া করেই বিয়ের পিড়িতে বসিয়ে দিয়েছিলেন!
এক দিকে ব্যাপারটা অস্বস্তিকর মনে হলেও তিনি মনে মনে খুব খুশি হয়েছিলেন,কারণ এত সুন্দর বউ পাওয়া সবার কপালে থাকেনা!
বিয়ের প্রথম রাতেই নাজিফা আকিব সাহেবকে অবাক করে বলেছিল,সে কখনও উনাকে ভালবাসতে পারবেনা,বিয়ের আগে এ কথা বলে নি,কারণ মা বাবার ওয়াদা ছিল,কিন্তু সে ভাল স্ত্রী হয়ে থাকবে!
আসলেইতো নাজিফা স্ত্রী হিসেবে অসাধারণ এর ও উপরে!
বিয়ের ১০ দিন পর ই আকিব সাহেবে পায়ে ব্যাথা পেয়েছিলেন, নাজিফা রাত জেগে যেভাবে সেবা করেছিল তার ব্যাখা তিনি দিতে পারেন না!
মায়ের আদর তিনি পাননি,কিন্তু তার দৃঢ় বিশ্বাস মায়েরাও এভাবেই ভালবাসেন!
তিনি ভাবেন,এই যে নাজিফা আমাকে কত ভালবাসে,যদি শারীরিক চাহিদা মেটাবার নাম ই ভালবাসা হয়,তবে জাত মারি এমন ভালবাসার!
এসব ভাবতে ভাবতে বাসায় পৌঁছে যান,সন্ধ্যা হতে এখন ও ঢের বাকি!
কয়েকবার কলিংবেল দিয়েও দরজা খুলছেনা নাজিফা, হয়তো ঘুম,এই অসময়ে তিনি আসেন না,তাই অতশত না ভেবে নিজের চাবি দিয়ে দরজা খুলে নিজের রুমে গিয়ে চমকে দাড়ান তিনি!
এখনো যেন দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা,পরনে হলুদ রঙের শাড়ি। দাঁড়িয়ে আছে স্থির,নিস্পন্দ,নিষ্পলক। চোখজোড়া কেমন যেন বিষন্ন!
ফ্যানের সাথে দড়ি বেঁধে নিজেকে আকিব সাহেব থেকে চিরতরে মুক্ত করল এই মেয়েটি!
তাকে নামানোর সময় একটি চিঠি নজরে পড়ল আকিব সাহেবের!
উপরে খুব সুন্দর একটি গোলাপ।
চিঠিটা নিয়ে পড়া শুরু করলেন!
" জানিনা আমাকে এভাবে দেখার পর আপনার অভিব্যক্তি কেমন হবে,হয়তো সর্বপ্রথম আপনি নিজের কপালকে দোষবেন,কারণ প্রথমে ভাগ্য আপনার কাছ থেকে আপনার মা,এর পর বাবা এবং এখন স্ত্রী ও কেড়ে নিল!
ভাববেন না আমার এ অসহায় আত্মসমর্পণ এর কারণ আপনি কিংবা আপনার ভাগ্য,এর মুল হোতা আসলে আমি নিজেই। বলেছিলাম বিয়ের আগে আমি একজনকে ভালবাসতাম। তাকে আমি কখনওই ভূলতে পারিনি,আপনি আমাকে অজস্র ভালবাসা দিতে চেয়েছেন,কিন্তু জানেন আমি না এই অকৃত্রিম ভালবাসার যোগ্য নই। ছেলেটির সাথে আমার বিয়ের পরও যোগাযোগ ছিল,সে কয়েকদিন এখানে এসেছিল ও এবং...
বাকিটুকু বলতে পারব না। তাই ভেবে দেখলাম আমি আসলে এই পৃথিবীতে থাকার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছি,আপনার ভালবাসা পাওয়ার যোগ্যতাও হারিয়ে ফেলেছি। মানুষ হিসেবে এবং স্বামী হিসেবে উভয় ক্ষেত্রেই আপনি চমৎকার!
তাই ভেবে দেখলাম নিজের সাথে আপনার জীবন ও নষ্ট করার অধিকার আমাকে কেও দেয় নি। তাই বেঁছে নিলাম আত্মহননের পথ!
ভাল থাকবেন!"
চিঠিটা শেষ করে বসে পড়লেন তিনি!
খেয়াল করলেন চোখে জল! এ জল চোখের নয়,হৃদয়ের!
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই মার্চ, ২০১৪ সকাল ৯:২৩
দালাল০০৭০০৭ বলেছেন: বাহ খুব ভাল লাগল গল্পটা।