নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আদনান মাহমুদ

আদনান মাহমুদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

মায়াবী নদী

১৩ ই মার্চ, ২০১৬ দুপুর ২:১৯




আমি বসেছিলাম নদীর ধারটিতে, শামুকের খোলসের মত শরীরটাকে গুজে চোখদুটোকে নদীর ওপারের তরুছায়ায় নিবদ্ধ করলাম। পশ্চিমের দিকটায় কমলার খোসার আভা শান্ত অবিশ্রান্ত তটিনীর বুকে আলতো ছুয়ে ছুয়ে আমার কাছে আসার আগেই লজ্জায় মিলিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমি তার লজ্জাকে উপেক্ষা করে শতকালের রূপতৃষ্ণা ভরা নয়নে তারে ফিরে ফিরে দেখি। ওদিকের কংক্রিটের পুলটাতে গুবরে পোকার মত গাড়িগুলো যেন নিজ নিজ কাজ সেরে পেট ভর্তি খাবার নিয়ে স্ত্রী-সন্তান পানে ছুটছে। শরতের এ সময়টাতে নদী বড্ড নিঃস্পৃহ, যেন কেবল কুলু কুলু শব্দে বয়ে চলা বাদে ও আর কোন কথাই বলতে জানেনা। এখানে যে একজন তার রূপশ্রীর সাধক আনমনে তাকে দেখে চলেছে, সে এ বিষয়ে থোড়াই কেয়ার করে। কি যানি কার মোহে পড়ে এমন বাধ্য ছেলের মত ছুটে চলে। সক্ষম মাঝীর ব্যাটা মীন প্রাপ্তির আনন্দে ঠোটের কোনে যে অকৃত্রিম হাসিটা ধরে রেখেছে, তার দাতে সূর্য্যের প্রতিবিম্ব দেখে এই আধক্রোশ দূর থেকে তা বুঝতে পারছি। দূর দিগন্তে প্রায় শুন্য থেকে হঠাৎ আবির্ভূত পাখিদের দল মাথার ওপর দিয়ে ওপারের মৃত্তিকা-সন্তানদের কোলে আশ্রয় নিচ্ছে। এত দূর থেকে তাদের অতি স্পষ্ট কাকলিতে যা শুনলাম তা হল স্বাধীনতার গান, আত্ন-সুখের গান।
অভয়ারণ্য বৃক্ষশাখের স্থায়ী বাসিন্দা পাখিদের শেষ চিহ্ন আবিষ্কার করতে করতে কখন যে দিবাকর অস্ত গেছে তা এই ভবঘুরে বুঝতে না পারলেও ঝিঝি পোকার দল আমাকে জানিয়ে দিল। ফিরতে হবে, ঐ বিশ্রি শহর তার তার যান্ত্রিকতার পাশবিক আনন্দে দাত বার করে হাসছে। আমি হাটতে থাকলাম সরু মেঠো পথ দিয়ে অন্ধকার আলোর দোলাচলে কাশবনের ফাক দিয়ে। প্রকৃতি দক্ষ শিল্পীর মত নিচে সামান্য অন্ধকার ছড়িয়ে রেখে ওপরে উজ্জ্বল নীলাভ ক্যানভাসে সাদা রঙ ছড়িয়ে ভিভিন্ন আকার আর অবয়বের আঁকিবুঁকি করে রেখেছে। চারপাশে অবিশ্রান্ত ঝিঝিপোকার ডাক। বহুদিন পর আজকে আবার ব্যাঙের ডাক শুনছি। এই নির্জনতা আমার বুকের ধুপধুপানিকেও বুঝি অনুকরণ করে, প্রকৃতির সাথে আমাকে মিশিয়ে দেওয়ার প্রাণান্তর চেষ্টা চালায়। আর আমি নিজেকে যেন মানুষ রূপে নতুন ভাবে আবিষ্কার করতে থাকি। মহাকাল যেন থমকে দাঁড়ায়, সময়ের আপেক্ষিকতা যে কত দীর্ঘ হতে পারে তা মহাকাশে না গিয়েও যে উপলব্ধি করা যেতে পারে তা এ নির্জনতায় না গেলে কোনদিনও বুঝতে পারতাম না।
অবশেষে ফিরে এলাম আপন আলয়ে, কি পেয়েছি এই জীবনের এ ক্ষুদ্রতম প্রহর ঐ বোবা নদীটির তীরে কাটিয়ে তা আমি জানিনা, তবে যেটা পেয়েছি সেটা হল নিজেকে চেনা। আমার মাঝে যে আরেকটা আমি আছি সে অনুভূতি আরেকবার নেওয়ার জন্য হলেও মন আরেকটি বার ঐ নদীতীরের খেয়ালী পায়চারীর জন্য ব্যাকুল। নদীকি এখনো বয়ে চলেছে আমার অগোচরে শান্ত ভাবে। মায়াবী নদী।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.