নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জেনেছি দৈন্য ঘুঁচাও এবার দীনতা

আগামি

সে এসেছিল আমার জীবনে প্রথমহয়তোবা সে-ই আমার শেষবিকেলের হলুদাভ আভায়আমি খুঁজি তারই লুন্ঠিত অবশেষ।

আগামি › বিস্তারিত পোস্টঃ

উত্তরাধিকারের ক্ষেত্র্র্রে নারী ও পুরুষের সমানাধিকার ইসলাম সম্মত ?

১০ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ১১:২৮

যারা মন্ত্রী পরিষদে পাশকৃত নারী নীতিমালায় উত্তরাধিকারের ক্ষেত্র্র্রে নারী ও পুরুষের সমানাধিকারের বিরোধীতা করছেন আমি মনে করি, বিষয়টা নিয়ে তাদের আরো ভাববার আছে। তাদের আলোচনায় সুরা নিসার ১১ ও ১৭৬ নম্বর আয়াতসহ মীরাস সম্পর্কীত অন্যান্য আয়াতের রেফারেন্স দিতে দেখি ।



আমি ইসলাম দরদী সেই সব বন্ধুদের বলতে চাই, কুরআন শরীফ খুলুন এবং দেখুন মীরাস এর আয়াতগুলো অবতীর্ণের সময়। সকল আয়াতই মদীনায় অবতীর্ণ। কেন ? কারণ এগুলো বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্র দরকার । একটা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল বলেই এই আয়াতগুলো মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে।



কুরআন অবতীর্ণের পদ্ধতিটিও কিন্তু লক্ষ্যনীয়। অন্যান্য আসমানী কিতাবের মত এক সঙ্গে অবতীর্ণ না হয়ে ধীরে ধীরে অবতীর্ণ হওয়ার কারণ কি ? কারণ হলো- ইসলামী আইনগুলো অনেক বেশি ফ্লেক্সিবল এবং তা অবশ্যই পরিবেশ-পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ । যখন যে পরিবেশ তৈরী হয়েছে তখনই সে সংক্রান্ত আইন অবতীর্ণ হয়েছে।



ইসলাম আপনাকে শুকরের গোস্ত খাওয়ারও অনুমোদন দেয় যদি জীবন বাঁচানোর জন্য অন্য কোন উপকরণ আপনার কাছে না থাকে। কেন ? কারণ মানবতা। ইসলাম মানবতাকে সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। মানবাধিকার লংঘন হলে ইসলামের প্রচলিত বিধি-বিধান অবশ্যই শিথিলযোগ্য।



যারা মনে করেন, অবতীর্ণ হয়ে যাবার পর কুরআনের সব আয়াত সব জায়গায় পালন করা ফরজ। তাদেরকে বলব, তাহলে আপনার এই মনে করাটাকে ইসলামের আলোকেই আরেকবার যাচাই করে নিন। ইসলাম কোন কিছুকেই আপনার উপর বোঝা হিসেবে চাপিয়ে দেয়না ।



এবার আসি ইসলামে নারীর অধিকার এবং মন্ত্রীপরিষদে পাশকৃত নারী নীতিমালা প্রসঙ্গে।



ইসলামী রাষ্ট্রে নারীর ভরণপোষনের দায়িত্ব সব সময় পুরুষের উপর ন্যস্ত থাকে। স্বামী-পিতা-ভাই-চাচা-মামা এমনকি শেষ পর্যন্ত যদি তার দায়িত্ব নেয়ার মত কোন পুরুষ জীবিত না থাকে তাহলে রাষ্ট্র সে দায়িত্ব নেয়। এ কারণেই ইসলাম দরদী বন্ধুগণ বলেন, ইসলামে আর্থিক সুবিধা পুরুষের চেয়ে নারীর বেশী।



কিন্তু আমাদের দেশে কি ইসলামী রাষ্ট্র্রের সে ব্যবস্থা বিদ্যমান ?



সুরা নিসায় বলা হয়েছে (আয়াত নং-৩৪)"পুরুষগণ নারীর তুলনায় মর্যাদাবান।কেননা আল্লাহ একজন থেকে আরেকজনকে বিশেষায়িত করেছেন (এটা এজন্য করা হয়েছে) যেহেতু পুরুষ নারীর জন্য অর্থ ব্যয় করে।" এই আয়াতাংশে স্পষ্ট করে নারীর উপর পুরুষের কর্তৃত্বের কারণ ব্যাখা করা হয়েছে। ইসলামী রাস্ট্রে নারীর কখনোই অর্থনৈতিক দায় নিতে হবেনা। এটা সবসময় পুরুষকেই বহন করতে হবে। আর এ কারণেই (ইসলামী রাষ্ট্রে)পুরুষ নারীর চেয়ে মর্যাদাবান।



আয়াতাংশে যে শর্তে পুরুষকে নারীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে (অর্থ ব্যয় করা) সে শর্ত যদি পুরুষ পালন না করে তাহলে কি হবে ? আরবীতে একটা কথা আছে " ইজা ফাতাশ-শারতু ফাতাল মাশরুত"। অর্থাৎ শর্ত অনুপস্থিত থাকলে মাশরুত (শর্ত প্রযোজ্য হলে যে কাজ করতে হত) পালনও দরকার নেই। একটা উদাহরণ দেই: নামাজ ফরজ হল সময় (ওয়াক্ত) হওয়া সপেক্ষে। এখানে ওয়াক্ত হল শর্ত আর নামজ পড়া হল মাশরুত। সুতরাং সময় না হলে নামাজ পড়তে হবেনা। এই আলোচনার পর আমরা কি বলতে পারি যে, পুরষ যদি নারীর জন্য অর্থ ব্যয় না করে তাহলে সে নারীর চেয়ে মর্যাদাবান হতে পারেনা ?



একই কথা কিন্তু মীরাসের ক্ষেত্রেও খাটে। আল্লাহ নারীকে কেন পুরুষের চেয়ে অর্ধেক সম্পদ দেবার কথা বলেছেন ? কারণ, ইসলাম দরদী সবাই বলবেন, ইসলামে আসলেই পুরুষের চেয়ে নারীর অর্থনৈতিক সুবিধা বেশী। কিন্তু যে সমাজে/রাষ্ট্রে এই আইন প্রয়োগ করতে চান সেই সমাজে/রাষ্ট্রে যদি নারী পুরুষের চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ না করে ? তাহলেও কি সে অর্ধেক সম্পত্তি পাবে ? আগের প্যারায় আমাদের প্রদর্শিত যুক্তি বলছে পাবেনা । যদি পায় তাহলে কি তা ন্যায় বিচার পরিপন্থী হবেনা ?



ঠিক এ কারণেই আমি মনে করি, মন্ত্রী পরিষদ কর্তৃক পাশকৃত নারী নীতিতে নারীকে সম্পদের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্র্র্রে পুরুষের সমান দেয়াটা ঠিকই আছে। কারণ সমাজ/ রাষ্ট্র যদি ইসলামের অনুসারী না হয় তাহলে সেখানে ইসলামের আইন মানতে গেলে ইসলামের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হয় তেমনি জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসতে পারে। আমাদের বুঝতে হবে, এই দেশ ইসলামের নিয়মে চলে না।



পরিশেষে, আমি ইসলাম দরদী বন্ধুদের বলতে চাই, আপনারা এ সমাজ/রাষ্ট্রকে ইসলামী সমাজ/রাষ্ট্রের সাথে গুলিয়ে ফেলে নারী নীতির বিরোধীতা করে প্রকারন্তরে নারী এবং ইসলাম উভয়েরই ক্ষতি করছেন। আসুন আরো ভালো করে ইসলাম সম্পর্কে জানি।

মন্তব্য ১১ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১১) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ১১:৪২

মদন বলেছেন: ইসলামী রাষ্ট্র না হয়েও যদি একটি ইসলামী আইন বাস্তবায়িত তাকে তাহলে তাকে পরিবর্তন করার দরকার কি? সরকার যদি কোরআন বিরোধী আইন পাশ করে, তাহলে তার প্রতিবাদ করা একজন মুসলমানের কর্তব্য হয়ে যায় না?

১০ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:০৭

আগামি বলেছেন: সারারাত রামায়ণ শুনে যদি কেউ বলে-সীতা কার বাপ ? তাইলে কি তারে কিছু বলার থাকে ?

আপ্নার প্রশ্নের উত্তরে শুধু এটুকু বলব আবার পড়ুন লেখাটা। লেখায় যা বলতে চেয়েছি তা মনে হয়না এত দুর্বোদ্ধ যে আপ্নি বুঝবেন না ।

২| ১০ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:৩৫

পাগলমামা বলেছেন: ভাইজান আপনি নিজে কতটুকু ইসলাম দরদী জানিনা । তবে আপনি যদি সত্যিকারে মুসলমান হয়ে থাকেন তাহলে আপনার দায়িত্ব হল ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত না করা । সুরা নিসার ১১ ও ১৭৬ নং আয়াতে স্পস্ট ভাবে যে লেখা আছে "একজন পুরুষের অংশ দুইজন নারীর সমান " সে আয়াত কি রহিত (মানসূখ) হয়ে গেছে ? শরয়ী কোন প্রমান কি আপনার হাতে আছে ? মনগড়া কিছু যুক্তির আশ্রয় নিয়ে আপনি কুরআনের আয়াতকে পরির্বতন করতে চান ? বিস্তারিত আলোচনা একটু পর করবো ইনশাআল্লাহ । আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন ।

১০ ই মার্চ, ২০১১ বিকাল ৪:২৭

আগামি বলেছেন: আপনি নিশ্চয়ই কুরআনের কোন না কোন তাফসীর পড়েছেন। সেখানে কোন আয়াতের ব্যাখ্যার আগে শানে নুযুল, অবতীর্ণের সময়কাল নিশ্চয়ই আলোচনা করতে দেখেছেন ? কোরআনের আয়াতের অর্থ করার জন্য এগুলো কেন দরকার ?

আবারো বলছি -মীরাসের আয়াতগুলো কেন মদীনায় নাযিল হল সেটা ভাইবা দেখেন। তাহলেই উত্তর পাবেন আশা করি।

৩| ১০ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:৩৭

কুয়াশা বলেছেন: লেখক খুব সুন্দর আলোচনা করেছেন। যদি নারী পুরুষের সমান সম্পিত্ত পায় তাহলে নারীর কি কি সমস্যা হবে তা একটু বলি। এই আলোচনাটা আমার শোনা। দুইজন নারীর মধ্যে আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরলাম। তাদের একজন আবার আইনজিবী আর অপর জন ফার্মাসিস্ট। দুই জনেই টিচার। তাদের স্বামীরাও প্রতিষ্ঠিত। তাদের আলোচনার মূল বিষয় বস্তু হচ্ছে

(১) নারীকে যদি স্বাধীনতা দিতে হয় তাহলে সবার আগে তাকে রান্না করার কাজ থেকে মুক্তি দিতে হবে তাহলেই তারা স্বাধীনতার কিছু সুফল ভোগ করতে পারবে। ল'ইয়ার ম্যাডাম একটা উদহারণ দিলেন তিনি কোন কাজে তার ভাইয়ের সাথে বাইরে গিয়েছিলেন সেখান থেকে ফিরতে প্রায় ১১টা বেজে যায়। বাসায় ফিরেই প্রথমে তাকে যে কাজটা করতে হয়েছে সেটা হচ্ছে তার স্বামীর জন্য রুটি বানাতে হয়েছে। কারণ তার স্বামী ডায়বেটিসর রোগী।

(২) নারী যদি সম্পত্তিতে সমান অধিকার পায় তাহলে পারিবারিক বন্ধন ভেঙ্গে যাবে। কারণ সে সমান অধিকারের ভিত্তিতে তার সম্পত্তি নিয়ে গিয়েছে। তার ভায়েরা তাকে আর দেখার দায়িত্ব মনে করবে না। এখন ঐ নারী যদি কখনো কোন বিপদে পড়ে তবে ভাইয়ের ফ্যামিলি থেকে কোন সাপর্ট পাওয়ার সম্ভবনা শূণ্য %। যদি কোন ভাই নারীর বিপদে এগিয়ে আসে তাহলে এটা হবে ঐ ভাইয়ের করুনা বা দয়া।

(৩) বর্তমান অবস্থাতেও নারী যতটুকু সম্পদ পায়, সাধারণত ঐ সম্পদে নারীর কোন কর্তীর্ত থাকেনা। সেটার দেখভাল স্বামীকেই করতে হয়। স্বামী যদি জোর করে বা অন্য কোন উপায়ে স্ত্রীর কাছ থেকে ঐ সম্পদ নিয়ে নিতে পারে তাহলে ঐ নারী হয়ে গেল একেবারে অসহায়। কারণ সে তার ভাইয়ের কাছ থেকেও কোন সহানুভূতি পাচ্ছে না তার স্বামীর কাছ থেকও পাবেনা। তাহলে সম্পদে সমান অধিকার থেকে তার লাভটা কি হল।

(৪) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা সেটা হচ্ছে মা বাবারা সাধারণত থাকে ছেলে সন্তানের দিকে। কখনও মেয়ে সন্তানের দিকে থাকে না। ৯৯% ক্ষেত্রে মা বাবার দেখাশুনা ছেলে সন্তানকে করতে হয়। মেয়েরা চাইলেও অনেক সময় কিছুই করতে পারেনা। তাহলে সম্পদে সমান অধিকার নিয়ে নারী পিতামাতার প্রতি কি দায়িত্ব পালন করবে সেটাও এই খসড়ায় উল্লেখ থাকা দরকার।

পরিশেষে দুই ম্যাডামের ঘোষনা আমরা ইসলামী আইনেই আমাদের সম্পত্তি নিব। আমরা শান্তি চাই।

১০ ই মার্চ, ২০১১ বিকাল ৪:৪৮

আগামি বলেছেন: আপনি যে চারটা পয়েন্ট উল্লেখ করলেন সেগুলোকে আপাত: দৃষ্টিতে ভাল যুক্তি বলে মনে হলেও প্রকৃত পক্ষে অপযুক্তি। একটু লক্ষ্য করুণ-

০১. কোন কোন বাসায় একাধিক কাজের লোক থাকে । কেন ? কারণ স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলেও সব কাজ শেষ করতে পারেনা এজন্য অতিরিক্ত কাজের লোক দরকার। অথবা তাদের সংগতি আছে কাজের লোক রাখার। যেমন-রান্না করার জন্য, বাজার করার জন্য, বাগান পরিচর্যা, গাড়ী চালানো, বাচ্চাদের দেখাশোনা ইত্যাদি। এখন স্ত্রী যদি ইউনিভার্সিটির টিচার হয় তাকে আপনি রাতে এসে আপনার জন্য রুটি বানাতে বলতে পারেননা। এজন্য আপনাকে অবশ্যই একজন কাজের লোক রাখতে হবে। যেমনটি আপনাকে রাখতে হবে গাড়ীর জন্য ড্রাইভার। কোন নারীর এটা আশা করা ঠিক হবেনা তার স্বামিটিই গাড়ী ড্রাইভ করবে সব সময়।

০২.
কোন ফ্যামিলিতে দুই ভাই আছে। বাবার সম্পদ তারা সমান দুভাগে পেল। এখন যদি একজনের কোন বিপদ হয় তাহলে আরেকজন তার সাহায্যে আসবেনা ? কারণ দুজন সমান ভাগ পেয়েছে ? ভাই সমান পেলে যদি সমস্যা না হয় বোন সমান পেলেও সমস্যা হবার কথা নয়।

০৩.
স্বামী স্ত্রীর সম্পদ কেড়ে নিয়ে যাবে একারণে তাকে তার প্রাপ্য দেয়া হবেনা ? তাহলে তো ব্যাংকের লোকেরা গ্রাহকদের টাকা দিতে অস্বীকার করতে পারে । কারণ টাকা নিয়ে বের হলেই সে ছিনতাইকারীর কবলে পড়তে পারে।

০৪.
এখনকার বৃদ্ধাশ্রম গুলো কেনো ভরে যাচ্ছে ? ছেলেরা মা-বাবার সম্পদ পাচ্ছেনা বলে ?

আপনি আপনার মা-বাবার খেদমত করবেন তার সম্পদ পাবেন বলে নাকি কর্তব্যের খাতিরে ?

আপনার বাবা-মার কোন সম্পদ না থাকলে আপনি তাদের খেদমত করবেন না ?

যে যুক্তিগুলো দিলেন সেগুলো আদতেই যুক্তির মধ্যে পড়েনা সেটা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। আসলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরী। তাহলে দেখবেন যেগুলোকে সমস্যা মনে করছি সেগুলো আদতেই কোন সমস্যা নয়।

৪| ১০ ই মার্চ, ২০১১ বিকাল ৫:১২

শান্তি প্রিয় মানুষ বলেছেন: আপনি ওলামা লীগ করেন না কি?আপনার অবস্থা খুব একটা সুবিধার মনে হচ্ছে না। ইসলাম নিয়ে ফাযলামি করা থেকে বিরত থাকুন। আপনি সুরা নিসার মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে কি বোঝাতে চাচ্ছেন???

আমাদেরকে কি ফিডার খাওয়া শিশু মনে হয়?

১০ ই মার্চ, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০২

আগামি বলেছেন: সুরা তওবার ৪১ নং আয়াতটা দেখুন-এই আয়াতে বলা হয়েছে-

তোমরা বেরিয়ে পড় হালকা অথবা ভারী অবস্থায় (যে অবস্থায় থাকো সে অবস্থায়ই) এবং আল্লাহর পথে জেহাদ কর মাল ও জান- দিয়ে এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝতে পার।

এই আয়াতে ব্যবহৃত ইনফিরু (বেরিয়ে পড়) শব্দটি আমর বা আদেশবাচক। এর মাধ্যমে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ এই আয়াত অনুযায়ী আপনার বাসায় বসে থাকা আল্লাহর আদেশের পরিপন্থী। তবু আপনি বাসায় বসে আছেন কেন ?

কারণ এই আদেশটা একটা বিশেষ প্রেক্ষিতে এসেছে। তাবুক যুদ্ধের আগে।রোমানদের সাথে সেই যুদ্ধে যাতে সবাই অংশগ্রহণ করে সে জন্য এই ব্যাপক আদেশ দেয়া হয়। (আরো ভাল হয় যদি আপনি সুরাটি ব্যাখ্যা সহ পড়েন)

অর্থাৎ কুরআনের আয়াত সর্ববস্থায়ই পালন করা ফরজ এটা মনে করা ঠিক নয়। এর জন্য ক্ষেত্র আছে পরিবেশ-পরিস্থিতি আছে।

৫| ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১০:১৭

পাগলমামা বলেছেন: আপনি নিজে সুরা নিসার ব্যাখ্যা ভাল করে দেখুন । আপনার কাছে যদি সুরা নিসার ১১ ও১৭৬ নং আয়াত রহিত হওয়ার শরয়ী কোন প্রমান থাকে তা উল্লেখ করুন । আপনি যে সমস্ত মনগড়া যুক্তি দিয়ে এই আয়াত দুটির হুকুম বাতিল বলতে চান এমন যুক্তি দিয়ে পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতের হুকুমকে আপনি বাতিল বলতে পারবেন । আল্লাহ তাআলা শরীয়তের বিধানাবলী পর্যায়ক্রমে অবর্তীন করেছেন । মীরাসের আয়াতগুলো মদীনায় কি প্রেক্ষাপটে অবতীর্ন হয়েছে ? যার কারনে আপনি সুরা নিসার এই দুই আয়াতের হুকুমকে বাতিল বলার দুঃসাহস দেখাচ্ছেন অনুগ্রহ করে তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করুন । পরিশেষে একটি কথা বলি ঘুমন্ত ব্যাক্তিকে ঘুম থেকে জাগানো যায় ।কিন্তু যারা জেগে থেকে ঘুমানোর ভান করে তাদের জাগ্রত করা খুবই কঠিন ।

১৫ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ৯:৩২

আগামি বলেছেন: সময় কম থাকাতে আপনাকে আগের উত্তরটিই কপিপেস্ট করেছিলাম। আগের উত্তর যথেস্ট থাকলেও আরেকটা উদাহরণসহ জবাব দিলাম-

সুরা আল-মায়েদাহ্ এর ৩৮ নম্বর আয়াতে মহান রব্বুল আলামীন বলছেন- “চোর-পুরুষ বা নারী যেই হোক না কেন,উভয়ের হাত কেটে দাও। এটা তাদের কর্মফল এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত শাস্তি। আল্লাহ পরম পরাক্রান্তশালী এবং সর্বজ্ঞ।”

এই আয়াতের আদেশ আমরা কেন মানছিনা ? এর সম্ভাব্য যে উত্তরগুলো হতে পারে, সেগুলো হলো-
০১. এটা ইসলামী রাস্ট্র নয়। তাই এখানে ইসলামের এই হুকুম পালন করা যাবেনা।
০২. তখনি এই হুকুম প্রযোজ্য যখন চুরি করার কোন কারণ থাকবেনা। এবং চোর তার কোন প্রয়োজন মেটানোর জন্য নয় বরং বদঅভ্যাসের বশবর্তী হয়ে চুরি করবে। যেহেতু আমাদের দেশে মানুষের অভাব বেশী এবং সম্পদ বন্টনে রয়েছে অনেক অনিয়ম তাই এখানে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ইত্যাদি।(এগুলো এদেশের আলেমরাই বলেন)

যত উত্তরই দেইনা কেন, এটা কিন্তু ঠিক এই আয়াতের হুকুম মানছিনা। এখন কথা হলো এই না মানাটা কি ইসলাম সম্মত হচ্ছে নাকি ইসলাম বিরুদ্ধ হচ্ছে ?

উপারের দুটি উত্তর যদি ঠিক হয়ে থাকে তাহলে এই না মানাটাও কিন্তু ইসলাম সম্মত হচ্ছে। আমরা আরো নিশ্চিত হই যখন দেখি এই আয়াত বাস্তবায়নের জন্য কোন আলেমকে কোন বিবৃতি দিতে না দেখি। সুতরাং কুরআনের আয়াত পালন না করাটাও ইসলাম সম্মত হতে পারে !

এরকম অনেক কুরআনী বিধান আমরা ইসলাম সম্মতভাবেই পালন করছিনা উপযুক্ত ক্ষেত্রের অভাবে। এমনকি অনেক আলেমও মনে করেন এদেশে ফতোয়া প্রদান করা ঠিক নয় কারণ এটা ইসলামী রাস্ট্রের কাজ।

যাহোক আর কথা বাড়াচ্ছি না । আমার ঘুম নিয়ে চিন্তা না করে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখুন তো আপনি কি জেগে আছেন নাকি ঘুমিয়ে পার করছেন সময় ?

৬| ১৫ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ৯:৪০

আগামি বলেছেন: যারা এ লেখার বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন তাদের প্রতি অনুরোধ রইল আমি আপনাদের কথার যে জবাব দিয়েছি সেগুলো যদি ভুল মনে করেন তা যুক্তিসহ খন্ডন করুন।

আমার ভুল হলে আমি যাতে নিজেকে সুধরিয়ে নিতে পারি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.