নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Avnv‡PŠ

আবদুল হাকিম চৌধুরী

Avnv‡PŠ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আউটার ক্যাম্পাসে আবারো ২৪১৪টি সনদবাণিজ্য এশিয়ান ইউনিভার্সিটির

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:৩৭

Click This Link



নিজস্ব প্রতিবেদক

নিষেধ সত্ত্বেও আউটার ক্যাম্পাসে ছাত্র ভর্তি করিয়ে আবারো সনদ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। আর এ অভিযোগের তীর বরাবারের মতো এবারো সনদ বাণিজ্যের জনকখ্যাত ড. আবুল হাসান সাদেকের দিকে। রাজশাহীতে অবস্থিত নিষিদ্ধ আউটার ক্যাম্পাসে এবার তার ২৪১৪টি সনদ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর ইউজিসিতে অভিযোগটি করেছেন ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মঞ্জুর এলাহী। তিনি প্রায় ১১ বছর রাজশাহী ক্যাম্পাসের দায়িত্বে ছিলেন। ১৮ জুলাই এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে অভিযোগ করা হলে এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ইউজিসি। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের পূর্বে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কোর্স সমাপ্তির পর আর কোনো ছাত্র ভর্তি করা যাবে না সত্ত্বেও ২০০৯ সালের ২২ নভেম্বর ইউজিসি বরাবর শিক্ষার্থী ভর্তি ও কোর্স শেষ করার অনুমতি চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি আবেদন করলে ইউজিসি অনুমতি দেয়নি বরং স্পষ্ট জানিয়ে দেয় অননুমোদিতভাবে পরিচালিত আউটার ক্যাম্পাস থেকে অর্জিত ডিগ্রি বৈধ নয়। তারপরও ইউজিসিকে ফাঁকি দিয়ে ২০০৮ সালের পর ডুয়েল আইডি অর্থাৎ আরইডি ও এইচআইডির মাধ্যমে ছাত্র ভর্তি করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি ড. সাদেক। এখানে আরইডি মানে হচ্ছে রাজশাহী আইডি আর এইচআইডি মানে হচ্ছে হেড অফিস আইডি। আইডি অনুযায়ী ২০০৯ সালের স্প্রিং সেমিস্টারে বিবিএ সেকশনের প্রথম স্টুডেন্টের নাম শারানিকা মুস্তাফি। তার রাজশাহী আইডি হচ্ছে আর০০৯১০০০১ আর হেড অফিসের আইডি হচ্ছে ২০০৯১১৩০১। সর্বশেষ আইডি ২৪১৪ নাম্বারের স্টুডেন্টর হচ্ছেন এমএসএস (ইকোনমিক্স) সেকশনের ছাত্রী মিস শাহনাজ পারভিন। তার রাজশাহী আইডি হচ্ছে আর০০৯২০৭০৭ আর হেড অফিসের আইডি হচ্ছে ২০০৯২০৭০৭।

এ বিষয়ে ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের পরিচালক মো. সামছুল আলম মানবকণ্ঠকে বলেন, আমরা কয়েকবার বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নোটিশ করেছি ভর্তি না করানোর জন্য। তবে আরো অভিযোগের কারণে আগেই গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে বিষয়টি তদন্তের জন্য বলা হয়েছে। ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, এ রকম ঘটনা ঘটে থাকলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এবার কঠোর ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করব।

এ বিষয়ে ভিসি ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলেননি। পরে ভিসির সহকারী মো. কামরুজ্জামান মানবকণ্ঠকে বলেন, এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। তবে মঞ্জুর এলাহী যেহেতু ওই ক্যাম্পাসের দায়িত্বে ছিলেন তিনিই বলতে পারবেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে মঞ্জুর এলাহীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মানবকণ্ঠকে বলেন, ভিসির নির্দেশেই ওইসব ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তির টাকা জমা নেয়াসহ ঢাকার মূল সার্ভারে সব ছাত্রছাত্রীর রেকর্ড রয়েছে।

এ বছরের জানুয়ারিতেও সনদ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিল এই ভিসির বিরুদ্ধে। টাকার বিনিময়ে ৬ হাজার জনকে বিবিএ এমবিএ ডিগ্রি দেয়ার অভিযোগ ওঠার পর ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. আতফুল হাই শিবলীকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এর আগে এশিয়ান ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট বাণিজ্য ও আর্থিক অনিয়মের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ইউজিসির একটি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ২০১০ সালের জুন মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। সে রিপোর্টের সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দুর্নীতি দমন কমিশনকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় ইউজিসির সুপারিশ অনুযায়ী পর পর দুটি (৪র্থ ও ৫ম) সমাবর্তন স্থগিত হয়ে যায়। তবে এরপর থেকে আর কোনো সমাবর্তনই হয়নি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের। ৩ বার ভিসি থাকার পর ৯ মে মেয়াদ শেষ হওয়ায় আবারো ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক ভিসি হওয়ার আবেদন করেছেন। কিন্তু সনদ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতি খতিয়ে দেখে বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ৭ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে চিঠি দেয়া হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট অনেকে মনে করছে, ইউজিসির সুপারিশে কাজ হয় না। এসব আউটার ক্যাম্পাসের সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসন এবং সরকারপক্ষের একাধিক লোক জড়িত থাকায় মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। আর এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগেই এসব আউটার ক্যাম্পাসে অবাধে চলছে সনদ বাণিজ্য।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.