| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সিলেটের রাতারগুল বাংলাদেশের একমাত্র দৃষ্টিনন্দন জলাভূমির বন হিসেবে প্রসিদ্ধ লাভ করেছে।রাতারগুল দেশের একমাত্র মিঠা জলের জলাভূমির বনাঞ্চল। এ জলাভুমি বন সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। শুধু বাংলাদেশে নয় এ ধরণের মিঠা জলাভূমির বনাঞ্চল পুরো পৃথিবীতেই খুব একটা দেখা যায় না। পুরো বন জুড়ে দেখা যায় করছ গাছ আর পাটি পাতার ঝোপ, কিছু হিজলও চোখে পড়ে। জেলেরা এ বনে আড়া পেতে কাঁকরা, চিংড়ি আর ছোট-ছোট মাছ ধরে।

বন্ধুদের সাথে ছুটিতে বেড়ানোর জন্য অসাধারণ একটি স্থান বেছে নিয়েছিলাম সিলেটের রাতারগুল৷ জায়গাটি ভ্রমন ও ঘুরে বেড়ানোর জন্য সতিই অসাধারণ। এটি বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন যা ‘সিলেটের সুন্দরবন’ নামে খ্যাত। এই অরণ্য বছরে ৪-৫ মাস পানির নিচে থাকে। তবে পানিতে কোমর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বনের গাছগুলো দেখতেই মন কাড়ে রাতারগুলের অপরুপ সুন্দর্য্য।
বনের মধ্যে ঘুরে ঘুরে প্রকৃতির অপরূপ সুধা উপভোগ করার জন্য ডিঙি নৌকায় চড়তে হবে। তাই প্রথমে সিলেট শহরের পাশের খাদিম চা বাগান ও খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানের ভেতরের রাস্তা দিয়ে খুব অল্প সময়ে রাতারগুল পৌঁছে গেলাম৷ তারপর রাতারগুল জঙ্গলে ঢুকার জন্য আমরা জেলেদের ছোট একটি নৌকা ৬০০ টাকা দিয়ে ভাড়া করলাম । একটি ছোট নৌকাতে আনয়াশে ৪-৬ জন চড়া যায়।
তারপর ডিঙি নৌকায় চড়তেই চোখে পরে বিশাল জলাভূমির মধ্যে কোমর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি গাছের একটি জঙ্গল। ডালে ডালে ঘুরে বেড়ায় নানা প্রজাতির পাখি আর কিছু বন্য প্রাণী। নৌকায় ঘুরে ঘুরে দেখা এ বন যেন অনেকটা আমাজনের মতো। ভেতরের দিকে জঙ্গলের গভীরতা এত বেশি যে, সূর্যের আলো গাছের পাতা ভেদ করে জল ছুঁতে পারে না।
রাতারগুল একটি প্রাকৃতিক বন, স্থানীয় বন বিভাগ এখানে হিজল, বরুণ, করচ সহ বেশ কিছু গাছ রোপণ করেন। এছাড়াও এখানে চোখে পড়ে কদম, জালিবেত, অর্জুনসহ প্রায় ২৫ প্রজাতির জলসহিষ্ণু গাছপালা।
রাতারগুল বেড়ানোর উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল। এ বনের চারিদিকে জলে পূর্ণ থাকে বলে ভ্রমণকালীন কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বর্ষায় বন ডুবে গেলে বেশিরভাগ সাপ আশ্রয় নেয় গাছের ডাল কিংবা শুকনো অংশে। তাই চারপাশ খেয়াল করে চলতে হবে। এ ছাড়া এ সময় জোঁকেরও উপদ্রব আছে।
©somewhere in net ltd.