নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আহমেদ শুভ্র

আমি বাঙ্গালী, মুসলিম।

আহমেদ শুভ্র › বিস্তারিত পোস্টঃ

নায়িকা নিয়া টানা টানি আর আমার চাকরীর অবসান

২০ শে এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:৪৮

উকি দিতেই লজ্জা পেলাম। না এটা করা ঠিক হয়নি, কারো ব্যক্তি গত ব্যাপারে উকি দেওয়া নিজের জন্য অকল্যানকর। তাড়াতাড়ি সড়ে এলাম।



নরমাল চাকরী, এর উপড়ে যদি করি উস্তাদী তাহলে বিপদের সেড়া অংশ আমার। যা দেখলাম তা বর্ননা করা মুশকিল, তবুও কিঞ্চিৎ ধরনা দেই।



আমি ফিল্ম প্রডাকশনে নতুন চাকুরী পেয়েছি। আমার কাজ মাল শামসনা সামাল দেওয়া। যেনো কিছু চুড়ি না যায়। একটি সিনেমা তৈরি করা হচ্ছে নাম, "কমলাসনা" । এরকম নাম এর আগে শুনিনি, সিনেমার পরিচালককের নাম ননী । সিনেমার নায়ক বর্তমানের সুপার স্টার মাকু মির্জা, আর নায়িকার নাম মাল্লিকা ।



এখন বিরতি চলছে। আমি একটু ঘুমাব বলে শুয়েছি, কিন্তু রাহুল ভাই বললেন, গিয়ে দেখতো নায়িকা ঘরে কি করছে।



রাহুল ভাই হলেন, সিনেমার প্রডিউসার। তার কথা না শুনলে চাকরি নট হয়ে যাবে। উপায় নাই, তাই গেলাম নায়িকা আপার রুমে।



দরজা ভিড়ায় দেওয়া, আমি আস্তে ডাকলাম আপা বাহিরে আসেন। আপনারে ডাকে।

কোনো জবাব পেলাম না। তিনবার ডাকলাম, কোনো জবাব না পেয়ে চলে এলাম রাহুম ভাইয়ের কাছে। তাকে বললাম, ঘরে কেউ নাই।



তিনি আমাকে নিয়ে জঙ্গলের দিকে হাটা ধরলেন। আমি ভয়ে অস্থির, আমরা এসেছি সুন্দর বন। বাঘ টাঘ থাকলে জীবন শেষ!



রাহুল ভাই আগে আগে হাটছিলেন, আমি তার পেছন পেছন। হঠাৎ আমাকে থামিয়ে দিয়ে তিনি বললেন ঐদিকে দেখ।



আমি তাকালাম। হালকা ঝোপ ঝাড়, তার মাঝে অর্ধ নগ্ন হয়ে ননী ভাই আর মল্লিকা আপা দুজন দুজনকে জরিয়ে ধরে আছে। আমি তো চক্ষু লুকাতে যায়গা খুঁজে পেলাম না।

রাহুল ভাই মনে হয় রাগ করেছেন। তিনি বিদ্যুৎ বেগে স্পটে চলে এলেন, আমিও চলে এলাম।

রাহুল ভাই বললেন, দেখছিস জানোয়ারের কান্ড? আমার কথা আমি হইলাম গিয়া প্রডিউসার, আমার হাতেই নায়িকার বৌনি হবে। তানা করে নিজেই খাইয়া ফেলছে ।



আমি মাথা নিচু করে তাকিয়ে রইলাম।



কিছুক্ষন পর ননী ভাই আর মল্লিকা আপা ফিরে এলেন। তাদের বেশ হাসি খুশী মনে হচ্ছে।

আমাকে বলা হল, নায়ককে ডেকে নিয়া আসার জন্য । কল করো। সাইড নায়িকা নিয়া কোথায় গেছে কে জানে! কল দাউ



আমি নায়ককে ফোন করলাম। তিনি নেটওয়ার্কের বাহিরে আছে, সংযোগ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।



পরিচালক চেতে অস্থির, গলা ফাটিয়ে বললেন যেখান থেকে পারো খুঁজে নিয়া আসো। লুইচ্চার ব্যাটারে লাত্থি মারা হবে, ওর উচিৎ শিক্ষা দেওয়া হবে। ফকিরের বাচ্চা, মেয়ে মানুষ দেখলে লোল পড়ে!



রাহুল ভাই হুংকার দিয়ে বললেন, লুইচ্চা তো তুই জানোয়ারের বাচ্চা। তুই মনে করছিস আমরা কিছু দেখি নাই? জঙ্গলের ভিতরে মল্লিকারে নিয়ে কি করেছিস, আমরা কিছুই জানি না? আমরা সবই জানি, আমরা নির্বাক জনতা না, প্রতিবাদী জনতা। তোর ছবি বন্ধ, আমার টাকা দে।



কিসের টাকা?



ছবি বানানোর জন্য পঁচিশ লক্ষ টাকা নিয়েছিস, স্টাম্প করা আছে অস্বীকার করলে তোর বউরে বাজারে বিক্রি করে দিবো। জানোয়ারের বাচ্চা



কি! এতো বড় কথা !



বলতে বলতে ননী ভাই তার হাতের মাইক্রো ফোনটা ছুড়ে মারলেন রাহুল ভাইয়ের দিকে। পেট মোটা মানুষ বলে তিনি দৌড়ে সারতে পারলেন না, কপালে এসে লাগল মাইক্রোফোন। মুহূর্তে বসে পড়লেন মাটিতে, আমি এগিয়ে গেলাম তিনি ঝাটকা মেরে সড়িয়ে দিলেন। মুহূর্তে মাইক্রোফোন ছুড়ে মারলেন ননী ভাইয়ের দিকে, মুখে গিয়ে পড়ল। ননী ভাই কপালে হাত দিয়ে বসে পড়লেন।



দুজনই শান্ত হয়ে গেলেন। অন্যান্য লোকেরা হা হয়ে এসব দেখলো।



মাল শামানা সব রেডি, সিনেমা বন। আর করা হবে না, রাহুল ভাই ননী ভাইয়ের সাথে আর কাজ করবেন না, সাফ সাফ বলে দিয়েছেন । নায়ক হসপিটালে আছেন, যে মেয়েকে নিয়ে তিনি গিয়েছিলেন সেই মেয়ে মেরে নাক ফাটিয়ে দিয়েছে। এখন হসপিটালের বিশিষ্ট রোগী, সাংবাদিকরা এসেছেন বলে শুনেছি।





কি আর বলব! চাকরীর এক সপ্তাহ না যেতেই চাকরীর অস্তিত্বই গুম হয়ে গেলো!

পোড়া কপাল!



মেয়েদের নিয়ে বেশী টানা হেছরা করতে হয় না। মেয়েরা হল মায়া, যে তাকে টানবে তার ধংস হবে।



মেয়ে হতে সাবধান

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.