| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আরেকটি বার আমাদের পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাস টি পড়ে পরীক্ষা দিতে যেতে হবে । আমি বুঝিনা ( যদিও আমি অনেক কম বুঝি ) কেন এমন উপন্যাস আমাদের পাঠ্যসূচি তে অন্তর্ভুক্ত করা হবে ?
এর আগে পড়ে এসেছি হাজার বছর ধরে । অবশ্যই অসাধারন একটি উপন্যাস কিন্তু সেখান এর টুনি মন্তু এবং পদ্মা নদীর মাঝি তে কুবের কপিলা পরকিয়া দ্বারা কি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে ?
বড়রা আমাদের এই কি শিখাচ্ছে যাতে আমরা বিবাওত্তর সম্পর্ক কে সাধারন ভাবতে শুরু করি ।
আমরা যে সমাজ এ বাস করি তাতে অবশ্যই পরকিয়া এত বেশি আকার ধারন করেনি যাতে করে ৪ টা বছর ছাত্র ছাত্রী কে সহপাঠ এর নামে এইসব পরানো হবে ?
আমি কোন ভাবেই এইসব লিখাকে ছোট করছি না । দুই টি উপন্যাস আমি সব থেকে বেশি বার পরছি , প্রায় ২০ বার এর উপরে , দুই টাই । ভাল লাগে অনেক পড়তে কিন্তু এটার বদলে অন্য শিক্ষা মুলক এবং সময় উপযোগী কোন উপন্যাস দেবার সময় কি আসে নি ?
০২ রা মে, ২০১১ রাত ১:৪৩
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: প্রস্নের উত্তর কে দিবে বলুন তো ?
২|
০২ রা মে, ২০১১ রাত ১:৩৫
সাহোশি৬ বলেছেন: পদ্মা নদীর মাঝিতে যদি শুধু কুবের আর কপিলার পরকীয়া খুঁজে পাও তাহলে ২০ বার পড়াই বৃথা।
পদ্মা নদীর মাঝি অনেক আগে লেখা একটি উপন্যাস। কিন্তু কুবেররা বাংলাদেশে আজও বিদ্যমান।
০২ রা মে, ২০১১ রাত ১:৪৬
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: আমি বলিনি যে শুধু পরকিয়া খুঁজে পাইছি । শুধু বলেছি পরকিয়া বিদ্যমান ।
৩|
০২ রা মে, ২০১১ রাত ১:৩৬
ইলুসন বলেছেন: Click This Link
ঠিক একই রকম একটি বিষয় নিয়ে আমি লিখেছিলাম কয়দিন আগেই! দেখা যাচ্ছে ব্যাপারটা শুধু আমাকেই না, অনেককেই ভাবাচ্ছে।
০২ রা মে, ২০১১ রাত ১:৪৯
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: হুম । আসলেই ভাবনার বিষয়
... যাই হোক না জেনে বেশি ভাবা ভালো না । এই পোস্ট দিয়েই ছোট খাটো বাস খাইতে চলেছি বুঝতে পারছি । নিচের মন্তব্য পড়ে জানের পানি শুকায় গেল । ভাই ভাবেন ভাবেন ভাইবা কিছু পেলে জানাবেন ।
৪|
০২ রা মে, ২০১১ রাত ১:৪১
ইমন কুমার দে বলেছেন: বয়স কম। আরেকটু বড় হও তাহলে বুঝতে পারবা। আর যদি তাড়াতাড়ি বুঝতে চাও তাহলে আরোও অন্ততপক্ষে ২০ বার পড়। এবং প্রতিটা লাইনের মানে বুঝে পড়।
জীববিজ্ঞান পড়তে গিয়ে যদি প্রজননতন্ত্রটার উপর বেশি জোর দাও তাহলে পুরাটা যেমন বুঝতে পারবা না তেমনি এইসব উপন্যাসের ক্ষেত্রে টুনি-মন্তুর ব্যাপারটা দিয়েই পুরো উপন্যাসে কি বলতে চাওয়া হয়েছে সেটা বুঝা অসম্ভব।
ভালো থেকো।
০২ রা মে, ২০১১ রাত ১:৫০
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: ওকে ভাইয়া । ভালো থাকব । ভাইয়া বড় হয়ে উপন্যাস টা বুঝে আপনাকে জানাবো কি জানলাম । ওকে ভাইয়া ?
৫|
০২ রা মে, ২০১১ রাত ১:৪২
আভাস রশিদ বলেছেন: হুমায়ুন আহমেদের 'জোছনা ও জননীর গল্প ' আমার কাছে পদ্মা নদীর মাঝির চেয়ে বেশি ক্লাসিক মনে হয়েছে । মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি যথেস্ঠ রেসপেক্ট রেখেই বলছি।
০২ রা মে, ২০১১ রাত ১:৫১
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: জোছনা ও জননীর গল্প বই টা পড়িনি এখনও । ভাইয়া পড়ে ফেল্বনি ![]()
৬|
০২ রা মে, ২০১১ রাত ১:৪২
মনে নাই বলেছেন: আমার মনে হয় আপনার বয়স খুব একটা বেশী নয়, বড়জোর ২০ এর আশেপাশে আছেন, কোনমতেই ২৫ পার করতে পারেন নি। আরেকটু বড় হন তাহলে ঐ ২টা উপন্যাসরে সাহিত্যগুন বিচার করতে পারবেন।
ভালো থাকবেন।
০২ রা মে, ২০১১ রাত ১:৫৪
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: ভাইয়া আমার কেবল ১৮ হইল । যদিও বুঝি অনেক কম । অনেকেই বলে আমার কমন সেঞ্চ কম
... ওকে ভাইয়া । বড় হয়ে বুঝে শুনে এই পোস্ট টা ডিলিট মেরে আরেকটা পোস্ট দিবো ![]()
৭|
০২ রা মে, ২০১১ রাত ১:৫৯
আয্দা বলেছেন: পদ্মা নদীর মাঝি পড়াইয়া পোলাপাইনগো কমুনিষ্ট বানাইবার সরযন্ত্র বামুদের ছিল এবং থাকবে।
০২ রা মে, ২০১১ দুপুর ২:৪৮
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: হুম ![]()
৮|
০২ রা মে, ২০১১ রাত ২:০২
সাইকোপ্যাথ্ বলেছেন: পুলাপান,হুমায়ুন আহমেদ আর জাফর ইকবালের গন্ডি এখনো পার কর্তে পারে নাই। বন্কিম,শিব্রাম,ডিকেন্স......... তোমার জন্য দিনে দুই ডোজ (খাবার পরে) ফরজ হয়া গেসে।
০২ রা মে, ২০১১ দুপুর ২:৪৯
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: শিব্রাম,ডিকেন্স এগুলা কারা ভাইয়া ?
৯|
০২ রা মে, ২০১১ রাত ২:০৪
অবধারিত বলেছেন: একটা কথা বলি। নিশ্চিত থাকুন একদিন মনে হবে এই উপন্যাসটাই ঠিক আছে...
জোসনা ও জননী আমারও খুব ভালো লাগা একটা বই। তবে সুনীল এর পূর্ব-পশ্চিম পড়ে হুমায়ুনের বইটার প্রতি আবেগ হারিয়েছি। সে যাই হোক, পদ্মা নদীর মাঝির সাথে এদের তুলনে চলে না।
০২ রা মে, ২০১১ দুপুর ২:৫১
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: ওকে ভাইয়া । ওই একদিন এর অপেক্ষায় আছি ![]()
১০|
০২ রা মে, ২০১১ রাত ২:৩৫
নোমান নমি বলেছেন: কম বয়সে বাঁকা জিনিসটাই নজরে আসবে।এই দুটি উপন্যাসের সাহিত্যগুন বাদ দিয়ে যদি কেবল দুটি সময়ের জীবন যাত্রাও খেয়াল করেন তবে বুঝবেন এগুলো আসলে কি?এত সহজে মাঝিদের বা গ্রামের যৌথ পরিবারের জীবন প্রণালী খুব কমই তুলে ধরা হয়েছে।
০২ রা মে, ২০১১ দুপুর ২:৫৪
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: হুম । ভাই রে অত বুঝার বয়স হয়নাই মনে হয় । দোয়া কইরেন যাতে পরীক্ষায় পাশ করি ![]()
১১|
০২ রা মে, ২০১১ রাত ৩:০৯
রাসেল মাহ্মুদ বলেছেন: তোমাকে সাধুবাদ। আমি যখন উপন্যাসটি পড়েছি আমার কিন্তু তোমার মত মনে হয়নি। তোমার সুবিধাটা হয়েছে যে তোমার মনে প্রশ্ন জেগেছে এবং শেয়ার করার সুযোগ পেয়েছ। প্রশ্ন করতে শিখলেই সে সবচেয়ে কার্যকর শিক্ষাটুকু অর্জন করতে পারে। ভাইয়া, পদ্মানদীর মাঝি বাঙলা সাহিত্যের এক অমর ও শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। সমাজের অসঙ্গতিগুলোই উপন্যাসের উপজীব্য, এজন্য সমাজের ভেতরের ব্যাপারগুলোই সেখানে উঠে আসে। মানিক উপন্যাসটিতে ম্যাসেজ দিতে চেয়েছেন সেটা কিন্তু তুমি ধরতে পারনি বা বলনি। যা হোক। পড়তে থাক অন্যান্য আরও অনেক কিছু তারপর একদিন আবারও খুলে পড়ে দেখবে, ওখানে এক অসাধারণ স্বপ্নের জাল বোনা আছে।
আভাস রশিদকে বলছি: আপনি মানিক চেনেননি। হুমায়ুনের সাথে মানিককে মেলানো চরম নির্বুদ্ধিতা। কোথায় আগরতলা, কোথায় খাটেরতলা। ক্লাসিক বিষয়টাই আপনার মগজ এড়িয়ে গেছে, খানিকটা রূচির অবনতিও ঘটেছে। আক্রমণ হিসেবে নেবেন না। আপনার মন্তব্য প্রত্যাহার করা উচিৎ।
০২ রা মে, ২০১১ বিকাল ৩:০৪
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া । অনেক অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর করে উত্তর দেবার জন্য । ওকে ভাইয়া । একদিন অবশ্যই বুঝব প্রমিস । ![]()
১২|
০২ রা মে, ২০১১ রাত ৩:৩৯
মিশুক এহ্সান বলেছেন: সহমত রাসেল মাহমুদ।
০২ রা মে, ২০১১ বিকাল ৩:০৪
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: ![]()
১৩|
০২ রা মে, ২০১১ ভোর ৪:৩৬
আভাস রশিদ বলেছেন: আমি অনেককে অনুরোধ করবো তারা যেন এশীয় বা ভারতীয় উপমহাদেশের পটভূমির উপর ভিত্তিকরে রচিত লেখার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের লেখা গুলোও পড়ার চেস্টা করেন।তাহলে 'বার্ডস ভিউ' দৃষ্টিকোন থেকে দেখার ক্ষমতা জন্মাবে।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৪২টি উপন্যাসের মধ্যে ২৪টি আমার সংগ্রহে আছে।পদ্মা নদীর মাঝি ,পুতুল নাচের ইতিকথা আর দিবা রাত্রির কাব্য এই ৩টার মধ্যে পুতুল নাচের ইতিকথা পুরোটাই একটা ক্লাসিক উপন্যাস।
রাসেলদা , আক্রমণ হিসেবে নেই নি। আপনি এবং আমি, দুজনেই এখানে স্বাধীন।
আই ওবে ইওর কমেন্ট।
(লেখকদের পুরো নামে সন্মোধন করা উচিত, শ্রদ্ব্দার সহিত)।
০২ রা মে, ২০১১ বিকাল ৩:১৪
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: ওকে ভাইয়া । চেষ্টা করবো প্রমিস ![]()
১৪|
০২ রা মে, ২০১১ সকাল ৭:২৬
মশিউর মামা বলেছেন: বেশিরভাগ ব্লগার এই লেখকরে উপদেশ দিতেছেন বয়স কম তাই বুঝবার পারতেছেনা এই উপন্যাস | তো বয়স কম পোলাপানরে কম বয়সী উপযোগী উপন্যাস দেয়া হোক | বয়স বাড়লে পদ্মা নদীর মাঝি পড়বনে |
০২ রা মে, ২০১১ বিকাল ৩:১৭
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: একদম ঠিক বলেছেন মামা ![]()
১৫|
০২ রা মে, ২০১১ সকাল ৮:০৩
ইলুসন বলেছেন: মশিউর মামা বলেছেন: বেশিরভাগ ব্লগার এই লেখকরে উপদেশ দিতেছেন বয়স কম তাই বুঝবার পারতেছেনা এই উপন্যাস | তো বয়স কম পোলাপানরে কম বয়সী উপযোগী উপন্যাস দেয়া হোক | বয়স বাড়লে পদ্মা নদীর মাঝি পড়বনে |
একমত।
০২ রা মে, ২০১১ বিকাল ৩:১৮
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: ![]()
১৬|
০২ রা মে, ২০১১ সকাল ৮:০৬
অসিমের সিমানা বলেছেন: ইলুসন বলেছেন: মশিউর মামা বলেছেন: বেশিরভাগ ব্লগার এই লেখকরে উপদেশ দিতেছেন বয়স কম তাই বুঝবার পারতেছেনা এই উপন্যাস | তো বয়স কম পোলাপানরে কম বয়সী উপযোগী উপন্যাস দেয়া হোক | বয়স বাড়লে পদ্মা নদীর মাঝি পড়বনে |
০২ রা মে, ২০১১ বিকাল ৩:১৮
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: ![]()
১৭|
০২ রা মে, ২০১১ সকাল ৮:২৫
আকাশ_পাগলা বলেছেন: ধরে নেই পদ্মা নদীর মাঝি আর হাজার বছর ধরে গল্পগুলাতে ১০০ টা পরকীয়া হইছে।
এখন এটা কী জীবনের বাইরে?
আমরা কী অই বয়সে এসব বুঝতাম না??
রাস্তায় জাম জট লাগলে, সেটা নিয়ে যদি প্রতিবেদন বাচ্চাদের দেখানো হয়, তখনও কী আপনি প্রশ্ন করবেন যে, বাচ্চাদেরকে দেশের খারাপ অবস্থা না দেখিয়ে ভাল দৃশ্য কেন দেখানো হল না? যেখানে গ্রাম দেশের ৭০ ভাগ, ওখানে ত যান যট নেই।
তখন ত এসব প্রশ্ন আসবে না, তাহলে কেন জীবনের যান জট তুলে ধরাতে এসব প্রশ্ন? গল্প গুলা পরকীয়া বুঝানোর জন্য না, মানুষের স্বপ্ন আর বাস্তবতা বুঝানোর জন্য।
গল্প গুলা দেয়া হয়েছে আমাদের বয়েসী ছেলেগুলাকে গল্পের বইয়ে আগ্রহী করতে। আমি একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই। আমার কাছের কিছু বন্ধুর ধারণা ছিল, গল্পের বই মানেই কাক পাখি আর কলসীর গল্প, ঈশ্বপের গল্প। আমি সারাদিন বই পড়তাম বলে ওরা ভাবত আমি অনেক জ্ঞানী, অনেক ভাল ছাত্র। কিন্তু আমার রেজাল্ট ছিল মোটামুটি মানের। তখন ওরা খুব পঁচাত আমাকে।
এই দুটা গল্প পড়ার পর সেই বয়সে গল্পের বই সম্পর্কে এদের মানসিকতা পরিবর্তন হয়েছে। তারা বুঝতে পারল গল্পের বই মানে ঈশ্বপ না, মাসুদ রানা না, তিন গোয়েন্দা না বা চাচা চৌধুরী না। যেই জেলেদের সাথে কখনও কথা হয় নি, সে জেলে জীবনটাও চোখের সামনে দেখে আসলাম। বাবা মা যেখানে প্রেম শব্দ টাও মুখে আনে না, বন্ধুরাও যখন প্রেম বলতে নাটক আর সিনেমার মত ভাবে, তখন শুধু এ ধরণের গল্পের বই -ই পাড়ে এমন একটা অনুভূতি দিতে যে, আরে, আমি ত বড়ো হয়ে গেছি। বইয়ের লেখক যেন আমার সাথে শেয়ার করছে। স্যার পড়াতে যেয়ে ইজি হচ্ছে।
যে আগে এ ধরণের বই পড়ে নি বা শুধু মাসুদ রানা চাচা চৌধুরী পড়ছে, সহপাঠ না পড়লে ও এটা টেরই পেত না।
@আভাস রশীদ
বঙ্কিমচন্দ্রের সময় মানুষ তাকে তেমন পাত্তা দেয় নি। প্রমথ চৌধুরীর সময়তেও না। কিছু মানুষ আছে, জ্ঞানী ভাব দেখাতে বড় বুলি ঝাড়ে। হূমায়ূনের ব্যাপারটাও তাই। মানিকের সাথে তুলনা করব না, কিন্তু জোছনা ও জননী বাংলা সাহিত্যের আরেকটা অমর কীর্তি। নেক্সট জেনারেশন এই বই নিয়ে গুরুগম্ভীর আলোচনা করবে আর যারা এই বইয়ের মর্ম বুঝেনি, তাদের নিয়ে হাসবে।
বইয়ের উদ্দেশ্য যদি থাকে পাঠক কে তৃপ্তি দেয়া আর পাঠককে কিছু একটা বোঝানো (গল্পের মূল) -- তাহলে জোছনা ও জননী সব দিক থেকেই উপরে।
আমি নিজে দুই লেখারই পাঠক। আমি জানি আমার উপর কোনটা বেশি এফেক্ট ফেলছিল। জোছনা ও জননী পড়ে এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আমার ধারণা পরিবর্তিত। আগে ভাবতাম, এক লেবু বেশি কচলালে তিতা হয়, কিন্তু এই বই পড়ার পরে আমি বুঝলাম সারাজীবন কচলালেও এই টপিকের গল্প নষ্ট হবে না।
পদ্মা নদীর মাঝির সাথে এটার কম্পিটিশন হতেই পারে। ওখানে সোনাদ্বীপ নামের ফালতু একটা ব্যাপার নিয়ে আসছে। চরম বাস্তবতার মাঝে সিনেমায় যেমন রিলিফ পেতে চাকভুম চাকভুম গান দেয়, সেরকম চরম কষ্টের মাঝে অবাস্তব রিলিফের সুযোগ। সেক্ষেত্রে জোছনা ও জননী মনে হয় যেন দেশ আর জননীরই আদরে মাথা। সবগুলো বাহুল্য শেষে অদ্ভূত ভাবে জোড়া লেগে গেল।
এমনকি রাজাকারটার কাজের ছেলে নিয়ে যে এত কথা, যা অকারণ লাগছিল, সেটাও অদ্ভূত ভাবে অর্থ পেয়ে গেল। হূমানয়ুন অনেক ফালতু লেখা দিছে, কিন্তু শুধু এই বইটার জন্য তার অনেক দোষ মাফ করা যায়।
০২ রা মে, ২০১১ বিকাল ৩:২৩
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: ভাইয়া আপনার কথা গুলো অনেক ভালো লাগল । আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা মন্তব্য করার জন্য । অনেক বড় উপকার করলেন । আপনি বিশ্বাস করবেন না , কাল এ এই উপন্যাস নিয়ে যা ভাবতাম আজ একদম অন্য জিনিস ভাবতে শুরু করছি ।
দোয়া করবেন ভাইয়া ।
১৮|
০২ রা মে, ২০১১ সকাল ১০:২৬
শুভ সকাল বলেছেন: যে পারিবারিক পরিবেশে আমরা বড় হচ্ছি তাতে সমাজের আসল চেহারা সম্পর্কে আমাদের সঠিক ধারণা গড়ে উঠছেনা। এদিক থেকে পদ্মা নদীর মাঝি উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ানো ঠিকই আছে। প্রেম, পরকীয়া এ বিষয়গুলো ঠিকভাবে বিশ্লেষন করার জন্য, জীবন সম্পর্কে পরিণত চিন্তা ভাবনা করার ক্ষমতা অর্জন করার জন্য এসব উপন্যাস পড়া দরকার। উপন্যাসটির মূল ভার্সন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর পড়েছি। পাঠ্যবইয়ে অনেক কিছু বাদ দেয়া হয়েছে, ফলে বেশ কিছু জিনিষ প্রথম পড়ার সময় অসঙ্গতিপূর্ণ মনে হয়েছিল। পাঠ্যবইয়ে মূল উপন্যাস হুবহু তুলে দিলে খুব বেশি ক্ষতি হত না।
হুমায়ূন আহমেদ আমার খুব পছন্দের একজন লেখক। তবে আমার মতে জোছনা ও জননীর গল্প উনার শ্রেষ্ঠ কাজের মধ্যে পড়েনা। উপন্যাসটি যে বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছিল শেষ পর্যন্ত সেটা উনি ধরে রাখতে পারেন নাই। তবে উপন্যাসটি অবশ্যই অসাধারণ। উপন্যাসের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জবানবন্দীগুলোর কথা আমি সারা জীবনেও ভুলতে পারব না। যে জিনিষটা খুব খারাপ লেগেছে সেটা হল বীরাঙ্গনাদের প্রসঙ্গ উনি পুরোপুরি এড়িয়ে গেছেন। ভূমিকাতে এ সম্পর্কে উনি যে কৈফিয়ত দিয়েছেন সেটা আমার কাছে খুবই হাস্যকর মনে হয়েছে। আমার বিচারে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের সেরা কাজ ১৯৭১। পাক বাহিনীর মানসিকতা বিশ্লেষনে এই উপন্যাসটি শতভাগ সফল। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে দেশের সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়গুলো সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে।
০২ রা মে, ২০১১ বিকাল ৩:৩০
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: জি ভাইয়া । অনেক ভালো লাগল
চেষ্টা করবো সম্পূর্ণ উপন্যাস টি পরার ... প্রমিস । ![]()
১৯|
০২ রা মে, ২০১১ সকাল ১০:৩৯
শুভ সকাল বলেছেন: @ আকাশ পাগলা:
পদ্মা নদীর মাঝিতে যে দ্বীপের কথা বলা হয়েছে সেটার নাম ময়না দ্বীপ, সোনা দ্বীপ না। ভাই আমরা সবাই একটা বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখি। ময়না দ্বীপ মানিকের সেই স্বপ্নের সমাজ। অশিক্ষিত মাঝি হোসেন মিয়ার চিন্তা ভাবনার সাথে মিল রেখে একটি বৈষম্যহীন সমাজ মানিক ময়না দ্বীপে তৈরী করেছেন। একজন শিক্ষিত শহুরে মানুষের জায়গা থেকে কাজটা করলে জিনিষটা হয়ত আরো সুন্দর হত, চাকভুম চাকভুম রিলিফ জাতীয় কিছু মনে হতনা।
০২ রা মে, ২০১১ বিকাল ৩:৩১
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন:
হুম
২০|
০২ রা মে, ২০১১ সকাল ১০:৪৬
আরহাসান বলেছেন: সমস্যা অন্যখানে, বই না পড়ার অভ্যাস। এটা এই জেনারেশনের সমস্যা-কেউ পাঠ্যপুস্তক এর বাইরে বই পড়ার সময় পাই না।
০২ রা মে, ২০১১ বিকাল ৩:৩৩
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: ঠিক বলছেন ভাইয়া ![]()
২১|
০২ রা মে, ২০১১ বিকাল ৩:১৪
ইনকগনিটো বলেছেন: লেখক কে একটা দুইটা কথা বলতে চাই ।
আপনি কি "পরকীয়া" শব্দটি আগে কখনো শুনেছেন ? কিংবা পরকিয়া কাকে বলে সেটা জানতেন ? আমার বিশ্বাস আপনি গল্প দুটি পড়ার আগেই এই বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ধারনা রাখেন । ধারনা রাখাটাই স্বাভাবিক । না রাখাটা অস্বাভাবিক ।
আচ্ছা ,এটা পাপ । মেনে নিলাম । আমাকে একটি বাস্তব ধর্মী উপন্যাস দেখান যেখানে মিথ্যা কথা বলা দেখানো হয়নি , যেখানে চুরি দেখানো হয়নি । যেখানে কোন পাপ নেই । উপন্যাসে চুরির ঘটনা থাকা আর চুরি শিক্ষা দেওয়া কি এক ? আমাকে উত্তর দিন ।
কেন এই উপন্যাস পড়ানো হবে ? কারন এগুলো বাঙালি জীবনেরই ছবি। এখানে অনেক কিছুই উপস্থাপন নাও করা যেতো , তাতে কি জীবনে যা কিছু ঘটে তাও মিথ্যা হয়ে যেতো ?
বলতে খারাপ লাগলেও বলছি , আপনার প্রশ্নটি আসলেই অপরিণত ।
০২ রা মে, ২০১১ বিকাল ৩:৩৬
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: মানছি আমি । আমার প্রস্ন টি অপরনত ...
আমি এটা নিয়ে দুঃখিত না । অনেক খুশি সত্যি । কারন এই পোস্ট দেবার আগে অনেক কিছু জানতাম না যা জানলাম । ![]()
২২|
০২ রা মে, ২০১১ বিকাল ৩:৫৭
রেজোওয়ানা বলেছেন:
গল্প উপন্যাস তো বাস্তব জীবনের আবর্তনেই লিখিত হবে তাই না? মানুষের জীবনে ভাল মন্দ অনেক কিছুই থাকে, সে গুলোকে পাশ কাটিয়ে কোন স্বাপ্নিক ঘটনা লিখলে তো আর সেটা পূর্নাঙ্গ লেখা হয় না! সেই লেখায় কোন গভীরতা থাকে না!
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসে আবহমান বাংলার সামজিক জীবনের টানপোড়নের ছবি একেছেন, একটা মেসেজ দিয়েছন, বার বার পড়েন, অনেক বার পড়েন, অবশ্যই একদিন মেসেজটা বুঝতে পারবেন!
০৩ রা মে, ২০১১ রাত ১২:৪৫
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: ওকে ।
দোয়া করবেন পিলিস যাতে জলদি বুঝতে পারি
ওকে অনেক বার পরবো । আর আপনি আমাকে তুমি করে বলতে পারলে খুশি হব । কারন আমি আপনার থেকে অনেক অনেক ছোট ।। ![]()
২৩|
০২ রা মে, ২০১১ বিকাল ৪:১২
ছোট ভাই বলেছেন: ভাইয়া, আমি কিন্তু আপনার থেকে ছোট। কয়েকদিন পর কলেজে ভর্তি হব।
০৩ রা মে, ২০১১ রাত ১২:৪৬
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: ভাইয়া তুমি আমার থেকে মাত্র এক বছরের ছোট ।
তোমাকে একমাত্র তুমি করে বললাম । ব্লগ লাইফ এ প্রথম
ভালো থেকো sweet ভাইয়া । তোমার কথা গুলো অনেক sweet লাগল ... ![]()
২৪|
০২ রা মে, ২০১১ বিকাল ৪:৩০
শেখ মিনহাজ হোসেন বলেছেন: লেখকের অপরিপক্কতার কথা অনেক আগেই আগের মন্তব্যকারীরা বলেছেন। তাই সেটা নিয়ে নতুন কোন কথা না। তবে "জোছনা জননীর গল্প" নিয়ে কয়েকটি কথা বলব। আমি কলেজে পড়ার সময় সত্যিই বিশ্বাস করতাম, "পদ্মা নদীর মাঝি" এর বদলে "জোছনা জননীর গল্প" পাঠ্য হওয়া উচিত। মূল কারণ, শুধু মাত্র বীরাঙ্গনা প্রসঙ্গটি বাদ দিলে বাংলাদেশের ইতিহাসে এর চেয়ে পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নেই। আর এর মধ্যে অনেক সত্যি ঘটনার উল্লেখ আছে। যেমন, রফিক আর হামিদুর রহমানের শহীদ হবার ঘটনা প্রায় একই। হামিদুর রহমান একজন বীরশ্রেষ্ঠ, আর রফিকের নাম মুক্তিযুদ্ধাদের তালিকায় নেই। আবার কয়েস আলীর বীরত্ব। আমি প্রথম এডিশনের পরের সবগুলো দেখেছি যদি কয়েস আলীর সঠিক নামটা পাওয়া যায়। এমন আরো অনেক কিছু। আর এই উপন্যাসটি পাঠ্য করার দাবীর পিছনে আরও একটা কারণ হচ্ছে, ছাত্র অবস্থা থেকে সত্যিকার অর্থে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক চেতনা উপলব্ধি করাতে পারে এই একটা উপন্যাস। এটি মুক্তিযুদ্ধের একটা যেতনা জাগ্রত করে যেটা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সত্যিকারের দেশপ্রেম জাগ্রত করে।
আর লেখকের প্রতি একটা উপদেশ, যত পারো সাহিত্য পড়ার চেষ্টা করো। আর সেই সাহিত্যের মধ্যে শুধু পরকীয়া না খুঁজে সত্যিকারের সাহিত্য খোঁজার চেষ্টা কর।
০৩ রা মে, ২০১১ রাত ১২:৫৩
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: ওকে ভাইয়া । আপনার উপদেশ আমি মাথা পেতে নিলাম
দোয়া করবেন যাতে সাহিত্য র মানে বুঝতে পারি ... ![]()
২৫|
০২ রা মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫১
নিয়ম ভাঙার কারিগর বলেছেন: পদ্মা নদীর মাঝি আর হাজার বছর ধর দুইটাই আমার খুব প্রিয় উপন্যাস।
অথচ আমার খুব কম বন্ধুরেই দেখসি এই উপন্যাস দুইটার মর্ম বুঝতে।
আফসোস! আপনিও মনে হইতাসে তাদের দলে!
০৩ রা মে, ২০১১ রাত ১২:৫৪
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: আমি তো ভাই ওই দলের অধিনায়ক
![]()
২৬|
০২ রা মে, ২০১১ রাত ৮:১৪
অতি সাধারন বলেছেন: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার খুবই প্রিয় লেখক।
টেক্সট বই হিসেবে যখন পড়েছি "পদ্মা নদীর মাঝির" মর্ম খুব ভাল উপলব্ধি করতে পারিনি। কারণ বোধোহয় টেক্সট এর প্রতি বিশাল অনীহা। কিন্ত পরে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর অন্যান্য বইগুলো যখন পড়ি তখন অন্যরকম এক ভাললাগা কাজ করেছে। এখন খুব ভালভাবেই উপলব্ধি করি।
তুমি লেখকের অন্যান্য বইগুলো পড়ে দেখতে পার।আশা করি ভাল লাগবে এবং শীঘ্রই তোমার প্রশ্নের উত্তরও পেয়ে যাবে।
০৩ রা মে, ২০১১ রাত ১:০১
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: ওকে ভাইয়া । পরবো । পরীক্ষা টা বের হোক , সব গুলাই পরার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ ![]()
২৭|
০২ রা মে, ২০১১ রাত ৮:৫২
আভাস রশিদ বলেছেন: আমি হুমায়ূন আহমেদকে অনুরোধ করবো তিনি যেন জোছনা ও জননীর গল্পের ইংরেজি অনুবাদটা শেষ করে যান। আর শাওন আহমেদ, এখানে আপনার ভুমিকা আপনি নিজেই জানেন।
আমার বিশ্বাস , সময় সাহিত্যের সাথে বিট্রে করে না।
হুমায়ুন আহমেদের কাছে এটা আমি,আমাদের এবং সময়ের দাবী।B
০৩ রা মে, ২০১১ রাত ১:০২
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: বই টা পড়তে হয় দেখছি
ভাইয়া লিঙ্ক দিবার পারেন ? জোছনা ও জননীর গল্পের । পিলিচ ? ![]()
২৮|
০২ রা মে, ২০১১ রাত ৯:১৯
আকাশ_পাগলা বলেছেন: লেখক বলেছেনঃ কাল এ এই উপন্যাস নিয়ে যা ভাবতাম আজ একদম অন্য জিনিস ভাবতে শুরু করছি ।
অনেক ধন্যবাদ ভাই। অন্যের মতকে মেনে নেয়া, চট করে শিখে ফেলা -- এটাও কিন্তু অনেক অনেক বড় গুণ।
আপনার আর আমার, আমাদের দুজনেরই আজকের ব্লগিং সার্থক হয়ে গেল।
আমরা দুজনেই খুশি ![]()
০৩ রা মে, ২০১১ রাত ১:০৫
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: আপানাকেও অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া
... আপনি খুশি আর আমি ডবল খুশি ।।
![]()
২৯|
০৩ রা মে, ২০১১ রাত ১২:২১
অবধারিত বলেছেন: চমৎকার, চমৎকার....
অনেকদিন পর একটা ব্লগ পড়লাম যাতে বেশ কিছু উপাদান থাকা সত্ত্বেও কেউই ব্যাক্তিগত আক্রমন না করে নিজের মতামত দিয়ে গেছেন। সবচে বড় কথা কেউই মূল বিষয় থেকে সরে যায়নি। লেখকের নিজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙিও লক্ষ্যনীয়।
০৩ রা মে, ২০১১ রাত ১:০৬
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন:
হুম (একটু ভাব মারলাম , ইদানিং ভাব মারাতা ভুলেই গেছি , মাফ কইরা দিয়েন )
...
ঠিক বলছেন ![]()
৩০|
০৩ রা মে, ২০১১ রাত ১২:৩৫
কুন্তল_এ বলেছেন: লেখার বিষয় ও মন্তব্যগুলো - দুটোই ভাবনার খোরাক যোগায়। ধন্যবাদ পোষ্টের জন্য। ![]()
০৩ রা মে, ২০১১ রাত ১:০৮
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: আপনাকেও অনেক অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাবার জন্য । ![]()
৩১|
০৩ রা মে, ২০১১ রাত ১২:৩৮
সাইফ বাঙ্গালী বলেছেন: দারুন, তবে সবাই লেখককে পরকিয়া খুজে পাবার দায়ে অভিযুক্ত করছেন।
আপনারাই একটু ভেবে দেখুননা, কতটুকু জেলে পাড়ার জীবন, আর কতটুকু পরকিয়া ও তার রতিক্রিয়া আছে?
আবার দু'টো একই প্লাটফর্মের প্রেম, ভেবেছেন কি? আরও সুন্দর কিছু পাওয়া গেলোনা। অনুলিখনের কপাল কুন্ডলা হতে পারতো কিশোর থ্রিলার, আসতে পারতো শরতের লেখা, কারন তা অনেক সহজ হতো। এমনকি অনুবাদ করে ডিকেন্স, হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড, হেমিংওয়ে, জ্যাক লন্ডন আসতে পারতেন।
কেন তা না করে দু'টো পরকিয়া প্রেমের সাথে যুক্ত কাহিনীই এলো?
কেউ বলবেন কি?
০৩ রা মে, ২০১১ রাত ১:১০
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: পাইছি
( হালে পানি পাইছি )
জি ভাইয়া । এই কথাটা আমার মনেও আচ্ছিল । দমায় রেখে দিছি ।
![]()
৩২|
০৩ রা মে, ২০১১ রাত ১:৪৬
স্তব্ধতা' বলেছেন: প্রথমত: এইটা (পদ্মা নদীর মাঝি) কোন পরকীয়া প্রেমের উপন্যাস না। এটা তৎকালীন এই বাংলার শ্রমজীবী সমাজের প্রতিচ্ছবি। কপিলা-কুবের সম্পর্ক বুঝতে হলে সমাজের স্তর গুলো বুঝতে হবে।আপনার কি কখনও মনে এসেছে মধ্যবিত্ত সমাজটাই কেন সব সময় সমস্ত কূপমন্ডকতা গুলোর ধারক হয়? মানিক সমাজটাকে ভাঙতে চেয়েছিলেন।তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন, সমাজের নিম্নশ্রেণীটা নিষ্পেষিত, শোষিত কিন্তু তারপরও তারা সৎ।তাই কপিলাকে নিয়ে কুবের কোন ছলা-কলা করেনা।তার কাছে তার পঙ্গু স্ত্রীর থেকে তার প্রেমটাই মূখ্য।এটা ভালো না খারাপ তার বিচার করার চেয়ে, প্রেমটাকে অস্বীকার করলে কি হতো সেটা বিচার করাটা জরুরী।কুবের যদি তার প্রেমটাকে অস্বীকার করতো, তাহলে কি আমরা চলমান একটা পরকীয়া দেখতে পেতাম না? মানিক কিন্তু পরকীয়ার অবসান ঘটিয়েছেন।
দ্বিতীয়ত: ময়না দ্বীপ বিষয়টাকে উপরে ব্লগার আকাশ পাগলা যে ভাবে ফালতু বানিয়ে দিলেন, তার প্রেক্ষিতে:
ময়না দ্বীপ একটা সিম্বলিক রিপ্রেজেন্টেশন।একটা আশাবাদের প্রতিচ্ছবি, যে আশাবাদ নিয়ে সমাজের নিম্নবিত্ত শ্রেণীটা বাঁচতে চায়, কিন্তু কঠোর বাস্তবতা হলো, সেই সপ্নটাও তাদের দেখায় শোষক শ্রেণী যার সমাপ্তি শেষমেষ ঐ মিঞা ভাই নামক শোষকের হাতেই। মানিক অনেক আগে লিখেছিলেন উপন্যাসটা কিন্তু এটা এমনই কালজয়ী যে, এর প্রতিফলন আমরা আমাদের চারপাশে এখনও দেখি।ক'জন গার্মেন্টস কর্মী একটা সুস্থ জীবন ধারণ করে বলতে পারেন? অথবা মাইক্রো ক্রেডিট নিয়ে জীবন বদলানোর স্বপ্ন দেখা কত জন লোন গ্রহীতা তাদের জীবন বদলাতে পেরেছে আর কতজন এক্সপোনেন্সিয়াল গ্রোথের চাকায় পড়ে তাদের সর্বস্ব খুইয়েছে? সেই স্বপ্নগুলো স্বপ্ন হয়েই থাকে, তবু মানুষ বাঁচতে চায়। আর সেই স্বপ্নটুকু তৈরী করে দেয়ার রসদ শোষকের হাতে সব সময়ই থাকে, তাই হোসেন মিঞা বলে ''হ, কপিলা চলুক লগে, কুবের একলা অতদূর পারি দিতে পারবনা'' (গল্পের শেষ লাইন)।একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে, এই উপন্যাসের প্রোটাগনিষ্ট (মূল চরিত্র) সমাজ, একক ভাবে কুবের, কপিলা বা হোসেন মিঞা নয়।
এরকম একটা কালজয়ী উপন্যাসকে আপনারা বলেন 'পরকীয়া' প্রেমের উপন্যাস!!!! আমরা যখন পড়েছি তখন কিন্তু বলিনি।কারন আমরা জানতাম, যে বয়সে আমরা ওটা পড়েছি, সেই বয়সে সুকান্তর অনেক গুলো কবিতার বই বেরিয়েছে।ঐ বয়সে মানিক, বুদ্ধদবে বসু, অমিয় চক্রবর্তীরা সাহিত্য আন্দোলনে নেমেছেন।আর সেই বয়সে আপনাদের এই বই পড়তে আপত্তি !!! অথচ ডি-জুস কালচার এডাপশন তার অনেক আগেই হয়ে যায়।
উপরে একজন দেখলাম হ্যাগার্ড, ডিকেন্স, জ্যাক লন্ডন পড়ানোর পড়ামর্শ দিয়েছেন।কেন ভাই, হ্যাগার্ড, ডিকেন্স পড়লে প্রেম শিখেনা পোলাপান? না কি সেইটা জায়েজ? আর জ্যাক লন্ডন পড়লে পশুর প্রেম দেখেও যদি পোলাপান প্রেম শিখে যায় তখন কি করবেন? এর থেকে পোলাপানরে বই পড়া বন্ধ কইরা দিতে বলেন, এখন ডি-জুস যুগ, এদের রস-ভান্ডারের অভাব হবেনা। যাবার আগে একটা কথা বলি, ডিকেন্সর সহ যাদের নাম বললেন, তারা হাজার বছর জন্মালেও মানিকের 'চতুষ্কোণ' এর মতো কিছু পয়দা করতে পারবেনা। আর বাংলা যদি আন্তর্জাতিক ভাষা হতো, মানিকের বোধ করি অনেক আগেই একটা নোবেল পাওনা হয়ে গিয়েছিলো।
০৩ রা মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০৪
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: আপনার বিরুদ্ধে বলার মত সাহস আমার নাই । যা বলছেন ঠিক বলছেন অবশ্যই । আমাকে এত কথা বলার জন্য ধন্যবাদ । আমি কিছু জানলে আপনার মন্তব্য এর বিপরীতে কিছু বলতে পারতাম কিন্তু সত্যি বলছি আমার জানার পরিসর অনেক অল্প । ব্লগ এও অনেক নিউ । বাংলা নতুন লিখা শিখলাম । যাই হোক অনেক ভালো থাকবেন । ওকে ?
৩৩|
০৩ রা মে, ২০১১ ভোর ৫:৩৪
শেখ মিনহাজ হোসেন বলেছেন: Click This Link
--এই সাইটে গিয়ে জোছনা ও জননীর গল্প বইটা নামিয়ে নিতে পারো। তিনটি পার্ট এ আছে।
আর আমি একটা কথা মানি যে, নোবেল কমিটির প্রচণ্ড দূর্ভাগ্য যে, তারা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নামক প্রচণ্ড শক্তিমান লেখকটির খোঁজ পায়নি। আমি জন স্টেইনবেক পড়েছি। এমনকি আর্নেস্ট হেমিংওয়ে সহ অনেক বাঘা বাঘা নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বইকেও আমার মানিকের কাছেদুর্বল মনে হয়েছে।
উপরে সাইফের সাথে একমত যে, কেন দুইটি বইয়ে অন্তত একটি কমন বিষয় হিসেবে "পরকীয়া" উঠে এসেছে!! কিন্তু আবারও "পরকীয়া" কোনমতেই দুইটি বইয়ের মূল বিষয় নয়। এজন্যেই মনে হয় মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক একটা বই থাকা উচিত ছিল। আনিসুল হকের "মা" একটা অসাধারণ উপন্যাস। আর বাংলা পাঠ্যবইয়ে কোন বিদেশি লেখকের লেখা নেই। একেবারে ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত। সে হিসেবে হ্যাগার্ড, ডিকেন্সের বই এর মধ্যে আসে না।
এর মধ্যে নিজের পড়া শ্রেষ্ঠতম বইটার কথা উল্লেখ করি। সম্ভবত ক্লাস সিক্সে অথবা সেভেনে থাকতে পড়েছিলাম হ্যারিয়েট স্টোর "আঙ্কল টমস কেবিন"। প্রথম কোন বই যেটি পড়ে, প্রচণ্ড কেঁদেছিলাম মনে আছে। হয়তোবা শৈশবে মনে গেঁথে যাওয়ার কারণেই, "আঙ্কল টমস কেবিন" এখনও আমার প্রিয়তম বই।
০৩ রা মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০৯
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: ভাইয়া লিঙ্ক এ তো কিছু পেলাম না ।। ![]()
হুম ভাইয়া ঠিক বলেছেন
"আঙ্কল টমস কেবিন" বইটা আমি অষ্টম শ্রেণীতে থাকার সময় পরেছি । আমিও কেঁদেছি ।
আপনার আমার মিল আছে তো । ![]()
৩৪|
০৩ রা মে, ২০১১ সকাল ১১:০০
শুভ সকাল বলেছেন: লেখকের উদ্দেশ্যে:
মানিকের অসাধারণ কিছু ছোট গল্প আছে। বাংলাদেশের অবসর প্রকাশনী আব্দুল মান্নান সৈয়দের সম্পাদনায় শ্রেষ্ঠ গল্পের একটা সংকলন বের করেছে। গল্পগুলো ভালো লাগার কথা। আরো কিছু ভালো বই
একাত্তরের দিনগুলি - জাহানারা ইমাম
আমি বীরাঙ্গনা বলছি - নীলিমা ইব্রাহিম
পথের পাচালি - বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
শ্রীকান্ত - শরতচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
কবি - তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
গণদেবতা - তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
পুতুল নাচের ইতিকথা - মানিক বন্দোপাধ্যায়
সূর্যদীঘল বাড়ি - আবু ইসহাক (আমার মতে 'হাজার বছর ধরে'র বদলে এটা পড়ানো উচিত)
সেই সময় - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
শঙ্ক্ষনীল কারাগার - হুমায়ূন আহমেদ
বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিকদের মধ্যে আছেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, মাহমুদুল হক, হাসান আজিজুল হক, সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ, হরিশংকর জলদাস। তবে উনাদের লেখা এখন কিছুটা দুর্বোধ্য মনে হতে পারে।
নারী-পুরুষের প্রেম ভালবাসার সম্পর্ক নিয়ে আমার পড়া শ্রেষ্ঠ উপন্যাস
ন হন্যেতে - মৈত্রয়ী দেবী
চোখের বালি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাত ভ'রে ব্রিষ্টি - বুদ্ধদেব বসু
০৩ রা মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:১২
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া ![]()
৩৫|
০৩ রা মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:১৬
সাদাকালোরঙিন বলেছেন: এই গল্পগুলো পড়ে যার পরকীয়াকে গল্পের প্রধান বিষয় মনে হয় তার আরব্যরজনীর মত আজগুবি গল্প পড়া উচিত।
০৩ রা মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২৩
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: টাই ।। অহহ থিঙ্কু । কয়েক্তা লিঙ্ক দেন , পড়ি । :p
৩৬|
০৩ রা মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২৩
আন্না০০৭ বলেছেন: অফলাইনে ছিলাম তোমার লেখাটা নজরে পড়ায় লগইন করলাম
এই একই প্রশ্ন আমারও ছিল স্কুল কলেজে থাকাকালীন।
হাজার বছর ধরে উপন্যাসের গ্রামীণ পটভূমি আর পদ্মা নদীর মাঝির জেলে জীবনের চিত্র চমৎকার কিন্তু উপন্যাস দুতর গভীরতা বঝার মতন মানসিক পরিপক্বতা মনে হয় নাহ স্কুল কলেজে পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের অধিকাংশের হয়ে থাকে।
আমি পদ্মা নদির মাঝি উপন্যাস শুধুই পরীক্ষায় পাশ করার জন্যে গিলে গিয়েছি কুবের /কপিলার চরিত্র আমার কাছে ছিল বিরক্তিকর। রাত্রে বেলা টুনি / মন্তুর মাছ ধরার অভিযান অহেতুক লাগত।
আমার বয়সী আমার বন্ধু বান্ধবদেরও এমনটাই ধারনা ছিল। এই ধরনের উপন্যাস পাঠ্যপুস্তক করার আগে কন বয়সী ছেলে মেয়েরা পড়বে আর তারা বুঝবে কিনা এটা বিবেচনায় রাখার দায়িত্ব শিক্ষা ব্যাবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট সবার।
জহির রায়হান আর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় দুজনের প্রতি যথার্থ সম্মান রেখেই কথা গুলো বললাম। কারন কলেজের গন্ডি পেরিয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসগুলো পড়ার সৌভাগ্য আমার হয় বলেই ছোটবেলায় নিজের ভুল বুঝতে পারি পরবর্তীতে পদ্মানদীর মাঝি আমি আবার পড়ি আর আমার তখন কার প্রক্রিয়াটা সম্পূর্ণই আগের চেয়ে ভিন্ন ছিল।
সব কিছুর জন্যেই একটা নির্দিষ্ট সময় দরকার আগে থেকে এত অসাধারন দুইটা উপন্যাস পাঠ্যপুস্তক হিসেবে প্রণয়ন করে জোর করে চাপিয়ে দেয়ার মতন হল কিনা কে জানে???
০৩ রা মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২৫
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: আপনার লিখাটি অসম্ভব ভালো লাগল ।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে আমাকে সমর্থন দেবার জন্য । আপনি অনেক ভালো । ![]()
৩৭|
০৪ ঠা মে, ২০১১ রাত ১২:৩৩
সাইফ বাঙ্গালী বলেছেন: স্তব্ধতা' @ ভাই এখানে প্রেম শেখার কথায় আপত্তি করবার আমি কে? প্রেম কেউ বই পড়ে শিখেনা, জৈবিক তাড়নায় শেখে। বিষয়টা হলো এমন প্রেম কেনো এলো প্রথমেই, যেটা কোন সভ্য-সমাজেই গ্রহন যোগ্য নয়? হ্যা অবশ্যই সেটা ইডিপাসের লেভেলে কিছু নয়, কিন্তু শুরুতে পাঠ্য বইয়ে প্রেম পড়ানো হচ্চে, যেটার নাম পরকিয়া। ব্যাপারটা কিন্তু আমাকে ভাবায়, একজন সাহিত্যের ছাত্র হিসেবেই ভাবায়, এবং মনে হয় ভেবেই যাবো। আপনি যদি আমাকে বলেন "খুব জনপ্রিয় উপন্যাস "রবিনসন ক্রুশো" পড়ার পর মানুষ রুটি ছেড়ে পোড়ানো মাছ খেতে অভ্যস্ত হয়েছে" আমি কিন্তু তা মেনে নেবোনা, এবং আপনিও বোঝেন এটা কতটা অযৌক্তিক কথা হবে।
আশা করি ক্লিয়ার হয়েছেন। আমি কোন ইনটেলেকচুয়াল নই, তবে আপনার সাথে আরও আলোচনা করতে পারলে খুশিই হবো।
৩৮|
০৪ ঠা মে, ২০১১ সকাল ৮:২৮
ইলুসন বলেছেন: এখানে তো লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করতে আসেনি। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় একজন বড় মাপের লেখক তাতে কোন সন্দেহ নেই। তাকে নিয়ে সমালোচনা করার ধৃষ্টতা কারো থাকা উচিৎ নয়। কিন্তু কথা হচ্ছে আমাদের দেশের সর্বকালের সেরা উপন্যাস কি এটা? আলোচনাটা এভাবে হওয়া উচিৎ ছিল যে হাজার বছর ধরে বা পদ্মা নদীর মাঝি এই দুটি উপন্যাসের বাইরে আর কি কি উপন্যাস আছে যা পাঠ্যসুচিতে নিতে পারে সরকার? লালসালুকে আপনাদের উপন্যাস মনে হয় না? মুক্তিযুদ্ধের বিষয় নিয়ে কোন উপন্যাস পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করার সময় কি আসে নি? এসব আলোচনা না করে অনেকেই দেখছি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বন্দনা করছেন। আপনাদের বোঝা উচিৎ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বা জহির রায়হানকে ছোট করতে এই পোস্ট দেয়া হয়নি। আর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বা জহির রায়হান যখন উপন্যাস দুইটা লিখেছিলেন তখন তারা এটা পাঠ্যবই হিসেবে পড়ার জন্য লিখেছেন বলে মনে হয় না।
৩৯|
০৪ ঠা মে, ২০১১ সকাল ৯:৩৮
আকাশ_পাগলা বলেছেন: @ স্তব্ধতা
মানিক অনেক বড় মাপের লেখক, উনার লেখার ক্ষমতা নিয়ে কিছু বলা হয় নি।
কিন্তু কোন একটা লেখার কোন একটা বিষয় একটু দমে যেতেই পারে। ময়না দ্বীপের ব্যাপারটা সবসময়েই অহেতুক মনে হয়েছে। যে কথাটা আপনিই বললেন, সমাজের নিষ্পেষিত গার্মেন্টস শ্রমিক সে কী সুস্থ জীবন পায় কখনও??
আমার প্রশ্ন হল, তার জন্য কী ময়না দ্বীপ থাকে?
কুবের যদি শোষিত সমাজের প্রতীক হয়, তার জন্য কেন ময়না দ্বীপ ???
নিঃসন্দেহে এটা লেখকের নিজস্ব মতবাদের প্রপাগাণ্ডা। হাল্কা কমুনিজম বা বামপন্থী ছিলেন তিনি, আমরা জানি সেটা। তাইনা?
পদ্মা নদীর মাঝির অসাধারণ দিক গুলা চিন্তা করেন। কুবেরের মাছ চুরি, আবার ওকে মাছে ঠকানো, যাকে চুরি করে দিল তার ধূর্ততা, মালার প্রতি টান, কপিলার জন্য আকাঙ্ক্ষা, মেলা, খাসির মাথার জন্য মশলা যাওয়া, পলিটিক্স -- এগুলার কাছে ময়না দ্বীপ কনসেপ্ট টা অনেক বেশি হাল্কা না???
এমনকি যদি এটাও হত, ওরা সবাই শহরে আসার স্বপ্ন দেখে। মনে করে হোসেন মিয়া শহরে এনে দিবে ওদের, ওরা শান্তিতে থাকবে। আর ময়না দ্বীপ এর বদলে শহরের পানে যাত্রা শুরু করে, তাহলে এটা আর দারুণ অর্থ আনত।
যে স্বপ্নের পিছনে ওরা রওনা দিচ্ছে শেষ মুহূর্তে, আমরা জানতাম সেটার আসলে অস্তিত্ব নেই। শহরে এসে ওরা আরও নিষ্পেষিত হবে, সেটা আমরা বুঝতাম। নিষ্পেষিত সমাজের পরিণতিটা আরও চোখে পড়ত।
সেখানে ময়না দ্বীপের কোন ইমেজ মনের মাঝে আসে না। পড়ার সময়েও না, পড়া শেষেও না। এন্ডিং টা পড়লে মনে হয়, মালার কী হল ??? মনে হয়না যে, এখন কুবেরের কী হবে !! কিন্তু ময়না দ্বীপের যায়গায় যদি শহরের কথা থাকত, হোসেন মিয়া যদি ময়না দ্বীপ না বানানোর চেয়ে, শহরে বস্তির জন্য যায়গা কিনত, তাহলে শেষে মনে হত -- হায়রে, কুবেররা ত এখন আরেক বিপদে পড়ল। মালার কথাও মনে হত। আর এটাও মনে হত, যে সুখের জন্য মালাকে ছেড়ে কপিলাকে নিয়ে গেল, সে সুখ আসলে ওরা পাবেনা। নিষ্পেষিত সমাজ যত চেষ্টাই করুক, দাঁড়াতে পারেনা।
এইটা পার্ফেক্ট ম্যাসেজ হত গল্পটার জন্য। তাইনা? লেখক সেখানে নিজস্ব প্রপাগাণ্ডা ঢুকাতে যেয়ে ম্যাসেজ টা চেঞ্জ করে ফেলছেন এভাবে - একমাত্র সবাই সমান এমন সমাজে গেলে কষ্ট করে হলেও কুবের আর কপিলা কিছুটা সুখে থাকবে। তাই দরকারে পুরান সব ফেলে হলেও আমাদের "সবাই সমান" বা কমুনিজমে যেতে হবে।
প্রশ্নটা আবারও, গার্মেন্টসকর্মীরা ময়না দ্বীপ পায় না। এই শোষিত সমাজের প্রতীক কুবের যদি পেয়ে থাকে, সেটা ফ্যান্টাসী। জীবনমুখী না। এমন একটা গল্পের মধ্যভাগের শেষ অংশ টুকু এমন !! খাইছে !!
যাবার আগে একটা কথা বলি, ডিকেন্সর সহ যাদের নাম বললেন, তারা হাজার বছর জন্মালেও মানিকের 'চতুষ্কোণ' এর মতো কিছু পয়দা করতে পারবেনা।
বেশি বেশি হল না? ওখানে যাদের কথা বলা হয়েছিল, তাদের লেখা আপনি ইংরেজিতে পড়লে, রসটা বুঝেননি। বাংলায় পড়লে অনুবাদে পুরো রসটা আসেনি।
প্রতিটা লেখকের নিজস্ব সম্মান আছে। মানিককে সম্মান দিতে হলে বাকিদের ছোট করতে হবে, এমন কোন কথা নেই। তাইনা?
@লেখক,
বস, আমিও কিছু জানি বাংলা সাহিত্যের ব্যাপারে। থিওরী জ্ঞান ত নাই-ই। আমি শুধু বই পড়ি আর চিন্তা করি। এটুকু দৌড়ে আমি এত কথা বলতে পারলে, আপনিও পারবেন। আপনি শুধু শুধু বার বার ভিন্ন বাতাসে গা ভাসালে শেষমেষ বুঝবেন না যে আপনি আসলে কী বুঝলেন। আপনি চিন্তা করে সবার সাথে মত দিন। সবার কথাতেই আপনি একমত হলে ক্যামনে হবে?
০৪ ঠা মে, ২০১১ দুপুর ১:৫২
অদেখা স্বপ্ন বলেছেন: ভাইয়া আমি আপনাদের থেকে অনেক অনেক ছোট , জানিও অনেক কম । কারও কথার বিরুদ্ধে কথা বলে তাকে ছোট করার সাহস আমার নেই । আমি যা জানি তা জানি এবং তা আমার কাছে । আপনারা আমার জানার সীমা তা বৃদ্ধি করছেন । আমি সবার কথা অনেক মন দিয়ে পরছি । কিন্তু কার বিরুদ্ধে বলার সাহস একবার ও দেখাতে মন চায় না । যার আরেকটি কারন আমি অনেক নতুন লেখক । চিন্তা করে নিজের মাঝেই রাখি ভাইয়া । কাও কে অপমান তো দূরে থাক তার বিরুদ্ধে কথা বলার মত ক্ষমতা আমার নাই । বলতে চাই না । তবে একদিন আমি বড় হব । কিছুটা জানব তখন আমার নিজের একটা মত অবশ্যই থাকবে । আমার মত আমি পোস্ট এই দিয়েছি । মানছি আমি অনেক কম জানি কিন্তু এততুকু বলতে পারব এই দুইটার থেকে অনেক ভালো উপন্যাস আছে দেবার মত । এই দুটা যে খারাপ আমি একটি বার ও বলিনি । তাও কেন যে আমাকেই রিমান্ড এ নিচ্ছে বুঝলাম না ।
ভাইয়া আপনার সাথে কথা বলে অনেক ভালো লাগল ।
৪০|
০৫ ই মে, ২০১১ বিকাল ৫:৪৪
আভাস রশিদ বলেছেন: ডিসকভারি : অদেখা স্বপ্ন
তোমার প্রশ্নটি অনেক প্রশ্নের প্রতিনিধি।স্বচ্ছ।সরল।নির্ভীক।কিছু তির্জক মন্তব্য।অবশেষে 'ছেড়েদে মা কেঁদে বাঁচি'। কেউ তোমাকে বলল না পদ্মা নদীর মাঝির মরালটা আসলে কি? হয়ত তাঁরা নিজেরাই জানেনা নয়তো সমালোচনার ভয়ে বিষয়টা এড়িয়ে গেছেন।
ডিসকভারি: পদ্মা নদীর মাঝি
সরল ভাবে বললে এই উপন্যাসের মরালটা হচ্ছে দারীদ্র কিভাবে মানুষের চরিত্রের উপর প্রভাব ফেলে।আরেকটু কঠিন ভাবে বললে বলা যায় 'খেটে খাওয়া মানুষের মনস্তাত্তিক বিস্লেশন।
গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের বিনোদন হচ্ছে মেলা,পার্বন,ভাল খাওয়া ,প্রজনন ইত্যাদি।তাই কুবেরের সাথে কপিলার সম্পর্ক স্নেহের নয় প্রেমের । কুবেরের অক্ষম হীনাঙ্গ স্ত্রী জীবিত থাকার কারনে তা হয়ে যায় পরকিয়া।মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখায়
মানুষের জটিল এবং কুটিল চরিত্রের যৌক্তিক ব্যখ্যা সবসময়ই বিদ্যমান। আর খুব কম সংখক লেখকই তাঁর নিজের সাইকোলজিকাল বৃত্তের বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেন(যেমন বিশ্ব কবি পেরেছেন))।এই উপন্যাস ব্যাতিক্রম নয়।
ময়নার দ্বীপ রুপক। লেখকের বায়োগ্রাফি পড়া থাকলে ব্যাপারটা খুব ভালভাবেই বুঝতে পারবে ।১৯৪৪ সালে উনি ইনডিয়ান কম্যুনিস্ট পার্টিতে অফিসিয়ালি যোগ দেন।
পদ্মা নদীর মাঝির প্রকাশ কাল ১৯৩৬। এর আগেই তিনি ফ্রয়েডের মনোবীক্ষণ দ্বারা প্রভাবিত( দ্রস্টব্য: কুবের-কুপিলা সম্পর্ক)।ফ্রয়েড নিজেও একজন মার্ক্সবাদী(এ সম্পর্কে ফ্রয়েডের নিজস্ব তত্ত আছে)।
আর তাই পদ্মা নদীর মাঝি যত বারই পড়ি সিগমুন্ড ফ্রয়েডকে মনে হয় ধনুক , মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মনে হয় তীর আর তাঁর লেখা গুলোকে মনে হয় অভিষ্ঠ লক্ষ্য।
আমি আমার বৃত্তের বাইরে বেরিয়ে আসতে পারি না ।
৪১|
১৮ ই জুলাই, ২০১৬ সকাল ৮:৪৪
রুদ্র জাহেদ বলেছেন: নোমান নমি বলেছেন: কম বয়সে বাঁকা জিনিসটাই নজরে আসবে।এই দুটি উপন্যাসের সাহিত্যগুন বাদ দিয়ে যদি কেবল দুটি সময়ের জীবন যাত্রাও খেয়াল করেন তবে বুঝবেন এগুলো আসলে কি?এত সহজে মাঝিদের বা গ্রামের যৌথ পরিবারের জীবন প্রণালী খুব কমই তুলে ধরা হয়েছে।
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা মে, ২০১১ রাত ১:৩৩
কাহিনীবাজ বলেছেন: ভালো বলেছ। আমারো একি প্রশ্ন...........................!!!