| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকার বেশি আমানত নিয়ে উধাও একটি সমবায় সমিতি। ‘গ্রাম জনতা শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় বর্তমানে তালাবদ্ধ এবং ঘটনার পর থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল হালিম পলাতক রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের সূত্রে দৈনিক আমার দেশ জানায়, উপজেলার দিঘিরহাট বাজারে অফিস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল গ্রাম জনতা শ্রমজীবী সমবায় সমিতি। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও এমডি আব্দুল হালিম তার ভাগিনা সোহাগ ও সুমন এবং ভাগনি-বউ সুবর্ণাসহ মোট আটজন কর্মী নিয়ে এই এনজিও পরিচালনা করত।
অভিযোগ রয়েছে, ‘সহজ বিনিয়োগ প্রকল্প’ নামে একটি স্কিম চালু করে গ্রাহকদের জমানো টাকার ওপর অতিরিক্ত মুনাফা বা লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভন দেখান তারা। গ্রামের সহজ-সরল ও নিরীহ মানুষ সেই ফাঁদে পা দিয়ে কষ্টার্জিত অর্থ সেখানে জমা রাখে। এভাবে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে ১ কোটি টাকার বেশি আমানত সংগ্রহ করে সমিতিটি।
সম্প্রতি কয়েকজন আমানতকারী তাদের জমানো টাকার লভ্যাংশ চাইতে গেলে বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করে এমডি আব্দুল হালিম। একপর্যায়ে গ্রাহকদের না জানিয়েই কৌশলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সে ও তার সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যায়।
ভুক্তভোগী গ্রাহক মকবুল হোসেন জানায়, ‘সমিতিতে টাকা রাখলে মাসে ভালো লাভ হবে—এমন আশায় নিজের জমানো দেড় লাখ, ব্যাংক লোন করা ২ লাখ এবং আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে নেওয়া টাকাসহ মোট ৯ লাখ টাকা আমি ওই সমিতিতে রেখেছিলাম। এখন সমিতির অফিস বন্ধ, মালিকেরও খোঁজ নেই। আমি এখন দিশেহারা।’
আরেক ভুক্তভোগী সালমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, ‘আমাদের মতো অনেক মানুষ আজ সর্বস্ব হারানোর পথে। কেউ চিকিৎসার জন্য, কেউ চাষাবাদের জন্য টাকা জমিয়েছিল। টাকা ফেরত না পেলে পরিবার নিয়ে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্দুল হালিম সাপাহার উপজেলার কোচকুড়িলা গ্রামের অলিমুদ্দিনের ছেলে। সে একসময় একটি বেসরকারি ব্যাংকে নিরাপত্ত প্রহরী (সিকিউরিটি গার্ড) হিসেবে কর্মরত ছিল। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে আব্দুল হালিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং পলাতক এমডিকে আটক করে তাদের আমানতের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
©somewhere in net ltd.