| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
পশ্চিমা গণমাধ্যম The New York Times সম্প্রতি আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ কাবুল–কান্দাহার মহাসড়ককে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে রাজধানী কাবুল থেকে ঐতিহাসিক নগরী কান্দাহার পর্যন্ত সড়কপথে সাংবাদিকদের সরেজমিন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত এই পথ এখন শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও উন্নত অবকাঠামোর নতুন বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। এ যেন ইমারাতে ইসলামিয়ার শাসনে আফগানিস্তানের বদলে যাওয়া চেহারার এক জীবন্ত দলিল।
দেশটির প্রাণকেন্দ্র কাবুল থেকে বাণিজ্যনগরী কান্দাহার পর্যন্ত ৪৮৩ কিলোমিটারের এই পথ একদিন ছিল আতঙ্কের নাম। জীর্ণ সড়কের জন্য কুখ্যাত এই মহাসড়ক এখন যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত এক নিরাপদ দিগন্ত।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একসময় কাবুল থেকে কান্দাহার পৌঁছাতে ১৮ ঘণ্টার মতো সময় লাগত। কিন্তু পুনর্নির্মিত এই মহাসড়কে এখন সময় লাগে মাত্র আট ঘণ্টা। মহাসড়কের সংস্কার কাজ শেষে এখন দ্বিতীয় লেন নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। ভারী যানবাহনের বহনক্ষমতা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবং প্রতি সত্তর কিলোমিটার অন্তর অন্তর নির্মাণ করা হয়েছে মসজিদ। মসজিদগুলো শুধু ইবাদতের জায়গা নয়, পথচারীদের জন্য নিরাপত্তা চৌকি হিসেবেও কাজ করছে।
এই উন্নয়নের ছোঁয়া শুধু কাবুল-কান্দাহার সড়কেই সীমাবদ্ধ নেই। ইমারাতে ইসলামিয়ার অন্যান্য প্রকল্পের কথাও তুলে ধরা হয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে নানামুখী নির্মাণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। সম্প্রতি ফারিয়াব প্রদেশের দৌলতাবাদ জেলা থেকে আন্দখয় লবণ খনি পর্যন্ত একটি নতুন সড়ক নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া। পঞ্চাশ হাজার জেরিব (প্রায় ২৪ হাজার ৭০০ একর) জমিতে কৃষি খাতের প্রসার ঘটিয়েছে ইমারাতে ইসলামিয়ার কৃষি সেচ ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং পানি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
দখলদার মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার পর ইমারাতে ইসলামিয়ার ছায়ায় আজ যে নতুন আফগানিস্তানের উদ্ভব হয়েছে, নিরাপত্তা আর শৃঙ্খলার সেই কাঙ্ক্ষিত রূপই যেন বাস্তবে ধরা দিয়েছে কাবুল-কান্দাহার মহাসড়কে। একসময় যে সড়কের বুকে ছিল বিভক্তির গ্লানি আর ভয়ের কালো ছায়া, আজ সেই পথই ইমারাতে ইসলামিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ আফগানিস্তানের এক অপূর্ব নিদর্শনে পরিণত হয়েছে।
©somewhere in net ltd.