| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডঃ এম এ আলী
সাধারণ পাঠক ও লেখক
ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?
ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের যাতাকলে
কার দখলে ফুটপাথ, রাস্তা কার আশ্রয়ে জুলুম
চাঁদাবাজের নাম বলার সাহস রাখে ক’জন?
পথ দোকানী হকারকে দিওনা একতরফা দোষ
তারা তো বাঁচতে চায় পেটে ক্ষুধার আগুন জ্বলে
তাদের মাথার উপর ছাতাই বা ধরে কারা?
আইন কানুন রক্ষাকারী আর মাস্তানের খারা।
ওয়ান-টু- উচ্ছেদ এসব লোকদেখানো নাটক
ভোট গেলে থামে, ক্ষমতায় গেলে সব চুপচাপ
আমরা চাই না এই নাম দেখানো সংস্কার
চাই স্থায়ী সমাধান আইনের শাসন পাক।
নির্বাচনী ইশতেহারে লিখে দাও স্পষ্ট ব্যনার
চাঁদাবাজী বন্ধ হবে এই আমাদের অঙ্গিকার
হকার পাবে বহুতল বিপনি বিতান বাজার
রাস্তা পাবে অধিকার, ফুটপাথ হবে জনতার।
সরকারি অর্থে পরিকল্পিত বিপণী বিতান
স্বচ্ছ হিসাব, কঠিন নাগরিক তদারকি
ট্রাফিক জাম কমবে, সময় বাঁচবে
শহর বাঁচবে এটাই তো রাজনীতি!
যানবাহনে যথাসম্ভব ন্যায্য কর বাড়াও
তবে লুটের পথ সব আগে বন্ধ করাও
কর দিবে মানুষ, যদি দেখে তার সুফল
দুর্ণীতি নয় শহর পাবে কল্যাণের দল।
আজ যারা ভোট চায় , কাল তারা শাসক
মনে রেখো এই শহরের সকলে্ই নাগরিক
ক্ষমতায় যেতে চাইলে শোনো জনগণের ডাক
ফুটপাথ ফেরাও সাধারণ মানুষের কাছে
এই হোক তোমাদের সকলের অঙ্গীকার।
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ মুল্যবান মন্তব্যটির জন্য।আপনার মন্তব্যটি কবিতার মূল সুরকে আরও স্পষ্ট করে তোলেছে এবং
কবিতাকে কেবল আবেগের জায়গা থেকে তুলে এনে নীতিনির্ধারণের বাস্তব মাটিতে দাঁড় করিয়েছে।
কবিতাটি যেখানে ফুটপাতকে “মানুষের অধিকার” হিসেবে তুলে ধরে, সেখানে আপনার মন্তব্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
একটি দিক যুক্ত করেছে ,নির্বাচনের আগে স্পষ্ট, বাস্তবসম্মত ও জবাবদিহিমূলক অঙ্গীকার। ফুটপাত দখলমুক্ত
করার কথা বহুবার শোনা গেছে, কিন্তু কীভাবে করা হবে, কারা বিকল্প পাবে, কবে পাবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর
না থাকলে সে অঙ্গীকার কেবল স্লোগান হয়েই থেকে যায়। আপনার এই দাবি তাই নিছক অভিযোগ নয়, বরং
গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চারই অংশ।
একইসাথে,হকারদের পুনর্বাসনের কথা উল্লেখ করায় মন্তব্যটি মানবিক ভারসাম্যও বজায় রেখেছে। ফুটপাত
যেমন পথচারীর, তেমনি জীবিকার প্রশ্নে হকারদের জীবনও উপেক্ষা করা যায় না। এক পক্ষকে উচ্ছেদ করে
আরেক পক্ষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এটি কোনো টেকসই সমাধান নয়। কবিতাটি যে “সকল মানুষের শহর”
এর স্বপ্ন দেখায়,আপনার মন্তব্য ঠিক সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপরেখা আঁকার আহ্বান জানায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার মন্তব্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দায়বদ্ধতার দাবি তুলেছে। ভোট
চাওয়ার সময় যদি দলগুলো নাগরিক অধিকার, নগর ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক পুনর্বাসনের প্রশ্নে সুস্পষ্ট
পরিকল্পনা দিতে বাধ্য হয়, তবে কবিতার মতো প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর সত্যিকারের পরিবর্তনের শক্তিতে রূপ
নিতে পারে।
আপনার মন্তব্য কবিতাটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে, তার বক্তব্যকে আরও ধারালো করেছে। এটি প্রমাণ করে
কবিতা শুধু অনুভূতির ভাষা নয়, সচেতন নাগরিক চিন্তারও শক্তিশালী বাহন।
শুভেচ্ছা রইল
২|
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার সাথে একমত ।
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার এই একমত পোষণ কেবল একটি প্রশংসাসূচক মন্তব্য নয়,এটি কবিতার বাণীর প্রতি এক ধরনের নৈতিক
সমর্থন ও নাগরিক সচেতনতার প্রকাশ।
কবিতাটিতে যে প্রশ্ন ও দাবিগুলো তোলা হয়েছে, আপনার সম্মতি সেখানে প্রমাণ করে যে এটি কোনো একক
কণ্ঠের আর্তি নয়; বরং বহু মানুষের নীরব ভাবনারই উচ্চারণ।
কবিতার বাণী তখনই সার্থক হয়, যখন কোন পাঠক নিজের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির সাথে তার মিল খুঁজে পান।
আপনার মন্তব্য সেই মিলনবিন্দুটিকেই স্পষ্ট করেছে।ফুটপাতকে মানুষের কাছে ফেরানোর দাবি আসলে মানবিক
মর্যাদা, চলাচলের স্বাধীনতা এবং একটি ন্যায্য নগর জীবনের দাবি। আপনি এই বার্তার সাথে একমত হয়ে
দেখিয়েছেন এটি কেবল কবিতার ভাষা নয়, সময়ের প্রয়োজন।
আপনার মত এমন সচেতন পাঠক প্রতিক্রিয়াই কবিতাকে কাগজের সীমা ছাড়িয়ে সমাজের আলোচনায় নিয়ে যায়।
আপনার সম্মতি কবিতার আহ্বানকে আরও জোরালো করেছে, এবং দায়িত্বশীল রাষ্ট্র ও রাজনীতির প্রয়োজনীয়তাকে
নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। এজন্য আন্তরিক ধন্যবাদ কবিতার বাণীকে অনুভব করে তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
শুভেচ্ছা রইল
৩|
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৮
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ফুটপাথ হবে জনতার।
চমৎকার লিখেছেন প্রিয় আলী ভাই। প্রতিটা কথার সাথে একমত।
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৫৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার মতো একজন প্রখ্যাত গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পীর কাছ থেকে এমন আন্তরিক উচ্চারণ
“ফুটপাথ হবে জনতার” এই কথাটুকুই যেন পুরো কবিতার সারকথা হয়ে উঠেছে। আপনার এই মন্তব্য কবিতার
বাণীকে শুধু সমর্থনই করেনি, বরং তাকে এক ধরনের শিল্পিত স্বীকৃতি দিয়েছে।
চমৎকার লিখেছেন কিংবা প্রতিটা কথার সাথে একমত এই কথাগুলো একজন সংবেদনশীল শিল্পীর কণ্ঠে
উচ্চারিত হলে তা আলাদা ওজন পায়। কারণ আপনি শব্দের শক্তি বোঝেন, সুরের ভেতর দিয়ে মানুষের দাবি
কীভাবে হৃদয়ে পৌঁছায় তা জানেন। তাই আপনার সম্মতি কবিতার বক্তব্যকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও গভীর
করে তুলেছে।
ফুটপাথ যখন জনতার, তখন সেই দাবি কেবল কবিতার পঙ্ক্তিতে সীমাবদ্ধ থাকে না তা গানে, কণ্ঠে, প্রতিবাদে
ও স্বপ্নে রূপ নেয়। আপনার মতো গুণী মানুষের এমন সহমর্মী প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে, শিল্পী সবসময় মানুষের
পক্ষে কথা বলে। এই অনুপ্রেরণাদায়ী মন্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা।
শুভেচ্ছা রইল
৪|
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০০
রাজীব নুর বলেছেন: কবিতায় নিজের মনের কথা সব ব্যক্ত করে দিয়েছেন।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১০
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর মন্তব্য“কবিতায় নিজের মনের কথা সব ব্যক্ত করে দিয়েছেন”কবিতাটির জন্য
এক অসাধারণ প্রাপ্তি। যিনি নিয়মিত “আজকের ডায়েরী”তে সমসাময়িক ঢাকা শহরের জটিল বাস্তবতা, নাগরিক
বঞ্চনা ও নীরব কষ্টগুলো তুলে ধরেন, তাঁর এমন অনুভব কবিতার সত্যতাকেই আরও দৃঢ় করে।
আপনি যেহেতু প্রায় প্রতিদিন শহরের কথাই লিখে যান, তাই আপনার এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে এই কবিতার ভাষা
কল্পনার নয়, বরং নগর জীবনের জমে থাকা দীর্ঘশ্বাসেরই রূপ। কবিতাটি যদি আপনার নিজের মনের কথারও
প্রতিধ্বনি হয়ে থাকে, তবে সেটিই তার সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
এই মূল্যবান প্রতিক্রিয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনার মতো সংবেদনশীল ব্লগারের পাঠ ও অনুভব কবিতাকে
নতুন শক্তি দেয়, আর সাহস জোগায় এই শহরের কথা আরও জোরে, আরও দায়বদ্ধভাবে বলতে।
শুভেচ্ছা রইল
৫|
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২
রাসেল বলেছেন: দেশপ্রেমিক (!!!) দালালদের স্বর্গভূমি আমাদের এই সোনার বাংলা
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২৯
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
বেশ প্রতিবাদী কন্ঠ । তবে এত নিরব কেন , গত ১১ বছরেও নীজের কোন পোস্ট নেই দেখে কিছুটা
অবাক হলাম । যাহোক। আশায় রইলাম আপনার কোন পোস্ট দেখার জন্য ।
শুভেচ্ছা রইল
৬|
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৩২
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান তথা গোটা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গনতান্ত্রিক অবস্থা এতো ভঙ্গুর কেন? এখানে কি কয়েকশো বছর শোষিত হওয়া কলোনিয়াল শাসন ব্যবস্থার কোন প্রভাব রয়েছে? স্বাধীনতা এতো বছর পড়ে ও দেশগুলো কেন মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না?
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:০৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
গুরুত্বপুর্ণ একটি প্রশ্ন তোলার জন্য ধন্যবাদ । এর উত্তর এক দুই কথায় সহজে দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয় ।
তবে আমার ধারনা আপনার সাথে কিছুটা শেয়ার করলাম, আমার ধারনা ও যুক্তিগুলির সাথে আপনার মুল্যবান
যুক্তি সমুহ যুক্ত হলে আরো ভাল হবে ।
আমি মনে করি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ভঙ্গুরতা কোনো একক ব্যর্থতার ফল না। এটা ইতিহাস, কাঠামো আর
মানসিকতার বহুস্তরী উত্তরাধিকার। বিষয়গুলি না হয় ধাপে ধাপে আলোচনা করা যাক ।
১) কলোনিয়াল শাসনের দীর্ঘ ছায়া শুধু শোষণ নয়, এটা বিকৃতি। হ্যাঁ, কয়েকশো বছরের উপনিবেশবাদ সরাসরি
দায়ী, কিন্তু কীভাবে সেটা বোঝা জরুরি। ব্রিটিশরা দক্ষিণ এশিয়ায় তিনটি কাজ খুব সফলভাবে করেছে:-
ক) শাসনের জন্য রাষ্ট্র বানিয়েছে, নাগরিকের জন্য না।প্রশাসন, পুলিশ, সেনা, আইন সবই ছিল শাসককে রক্ষা
করার জন্য, জনগণকে ক্ষমতাবান করার জন্য না।স্বাধীনতার পর আমরা কাঠামোটা রেখে দিয়েছি, শুধু শাসকের
চেহারা বদলেছে।ফলাফল রাষ্ট্র আজও জনগণের উপরে বসে আছে, জনগণের ভেতর থেকে উঠে আসেনি।
খ) ভাগ করো ও শাসন করো তথা divide and rule কে স্বাভাবিক রাজনীতি বানিয়েছে। ধর্ম, ভাষা, জাতি,
অঞ্চল সবকিছু ব্যবহার করে বিভাজন তৈরী করা হয়েছে।এই রাজনীতি এত গভীরে ঢুকেছে যে স্বাধীনতার পরও
ক্ষমতায় যেতে বিভাজনই সবচেয়ে সহজ অস্ত্র। ফলাফল গণতন্ত্র মানে মতের লড়াই না, পরিচয়ের যুদ্ধ।
গ) নেতৃত্ব তৈরি করেনি, মধ্যস্বত্বভোগী তৈরি করেছে।ব্রিটিশরা এমন এলিট শ্রেণি গড়ে তোলে যারা জনগণ ও
শাসকের মাঝখানে দালাল। স্বাধীনতার পর এই শ্রেণিটাই রাষ্ট্র দখল করে। ফলাফল জনগণের প্রতিনিধি নয়,
ক্ষমতার উত্তরাধিকারী।
২) স্বাধীনতা রাষ্ট্র দিয়েছে, কিন্তু গণতন্ত্র দেয়নি এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো স্বাধীন হয়েছে
কিন্তু নাগরিক শিক্ষা, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি,ক্ষমতা জবাবদিহির অভ্যাস এবং প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তির উপরে রাখার
মানসিকতা এসব গড়ে ওঠার সময় পায়নি। তাই আমরা কাগজে গণতন্ত্র পেলাম, বাস্তবে পেলাম:ব্যক্তিকেন্দ্রিক
রাজনীতি, পরিবার/দল/সেনা/আমলাতন্ত্রের আধিপত্য । নির্বাচন দাঁড়ায়েছে ক্ষমতার পরিবর্তনের সোপানে ।
৩) সেনাবাহিনী ও আমলাতন্ত্র: রাষ্ট্রের আসল মালিক,বিশেষ করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে, উপনিবেশিক সেনা ও
আমলাতন্ত্র ছিল সবচেয়ে শক্ত কাঠামো।স্বাধীনতার পর রাজনীতি দুর্বল, কিন্তু এই কাঠামো অক্ষত।
ফলাফল পাকিস্তানে সরাসরি সেনাশাসন,বাংলাদেশে বেসামরিক মুখোশে আমলাতান্ত্রিক-নিরাপত্তা রাষ্ট্র।
ভারতে তুলনামূলক ভালো হলেও এখনো কেন্দ্রীকরণ ও রাষ্ট্রীয় আধিপত্য বাড়ছে।
৪) অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা টেকে না এটা আরেকটা কঠীন সত্য । উপনিবেশ আমাদের
স্বনির্ভর অর্থনীতি ভেঙে দিয়েছে। অন্যদিকে স্বাধীনতার পর: ঋণনির্ভর উন্নয়ন,বিদেশি বাজার ও শক্তির উপর
নির্ভরতা,স্থানীয় উৎপাদন ও চিন্তার দুর্বলতা। ফলাফল রাষ্ট্র বাইরের চাপ সামলাতে গিয়ে ভেতরের গণতন্ত্রকে
বলি দেয়।
৫) মানসিক উপনিবেশবাদ সবচেয়ে গভীর ক্ষত।এটা খুব কম আলোচিত, কিন্তু সবচেয়ে শক্তিশালী। আমরা
এখনো শক্ত হাতের শাসক চাই,উদ্ধারক নেতা খুঁজি,ভিন্নমতকে রাষ্ট্রদ্রোহ ভাবি, প্রশ্ন করাকে অশ্রদ্ধা মনে করি।
এগুলো গণতন্ত্রের ঠিক বিপরীত মানসিকতা।কলোনিয়াল শাসন আমাদের শিখিয়েছে;শাসন মানে ভয়, শৃঙ্খলা
মানে নীরবতা এই মানসিকতা এখনো কাটেনি।
৬) তাহলে কি এই দেশগুলো কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না?এখানেই একটু আশার কথা বলি।
ইতিহাস বলে ইউরোপে গণতন্ত্র গড়ে উঠতে ৩০০–৪০০ বছর লেগেছে। রক্ত, বিপ্লব, ব্যর্থতা সব পেরিয়ে।
দক্ষিণ এশিয়া এখনো গণতন্ত্র শেখার পর্যায়ে, পরীক্ষায় ফেল করছে বারবার কিন্তু শেখা চলছে। এখঅনে
এখনো আশার আলো রয়েছে , তরুণদের প্রশ্ন করার সাহস বেড়েছে , বিকল্প মিডিয়া ও চিন্তার জায়গা ও
সামাজিক ন্যায় ও অধিকার নিয়ে নতুন ভাষা তৈরী হচ্ছে ।
তবে মুল কথা হল দক্ষিণ এশিয়ার সমস্যা মানুষ খারাপ না । সমস্যা হলো; বিকৃত উত্তরাধিকার,অসমাপ্ত
স্বাধীনতা এবং এখনো চলমান ক্ষমতার লড়াই। গণতন্ত্র এখানে দুর্বল, কারণ এটা এখনো লড়াই করে অর্জন
করতে হচ্ছে, উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া যায়নি।
শুভেচ্ছা রইল
৭|
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৩
রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন সেটা জানতে।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আবার এসে দেখার জন্য ধন্যবাদ । শুধু ফিরে আসা নয়, এটা আসলে দায়িত্ববোধ,আগ্রহ আর সম্মানের প্রকাশ।
যে পাঠক একবার মন্তব্য করেই থেমে যান না, বরং আবার ফিরে এসে অন্যদের ভাবনা-চিন্তা জানতে চান, তিনি
প্রমাণ করেন যে পোস্টটি তার কাছে নিছক স্ক্রল করার কিছু নয় বরং একটিচলমান সংলাপ।
এই ফিরে আসার মধ্য দিয়ে পোস্টটি একক বক্তব্য থেকে বেরিয়ে এসে সমষ্টিগত চিন্তার মঞ্চে পরিণত হয়।
বিভিন্ন মন্তব্য পড়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়, নিজের মতের সঙ্গে অন্যের মত মিলিয়ে দেখার সুযোগ হয়,
আবার কখনো ভিন্নমত থেকেও শেখা যায়। এতে করে আপনি যেমন অনুপ্রাণিত হন, তেমনি পাঠকরাও
বুঝতে পারেন তাদের মতামত গুরুত্ব পাচ্ছে, আলোচনাটি জীবন্ত আছে।
শুভেচ্ছা রইল
৮|
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩
রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ। ভালো থাকুন।
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:০৯
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ । আপনার জন্যও শুভ কামনা রইল ।
৯|
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০৯
এইচ এন নার্গিস বলেছেন: প্রতিটি কথা সত্য । ভালো লিখেছেন ।
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:১৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। এই কবিতাটি কেবল কিছু পঙ্ক্তির সমষ্টি নয়, বরং সাধারণ
মানুষের নিত্যদিনের বঞ্চনা, অধিকারহীনতা ও নীরব প্রতিবাদের এক স্পষ্ট দলিল। ফুটপাত ফিরে
পাওয়ার দাবি আসলে মানুষের মর্যাদা ফিরে পাওয়ার দাবি। পাঠকের অনুভব ও উপলব্ধির মধ্য
দিয়ে যদি কবিতার এই আহ্বান আরও বিস্তৃতভাবে প্রতিধ্বনিত হয়, তবেই এর সার্থকতা।
আপনার মতামত সেই প্রতিধ্বনিকে আরও দৃঢ় করল।
শুভেচ্ছা রইল
১০|
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৮
করুণাধারা বলেছেন: ফুটপাত ফেরাও সাধারন মানুষের কাছে
এই হোক তোমাদের সকলের অঙ্গীকার।
আসন্ন নির্বাচনের আগে, যখন ভোট প্রার্থী দলগুলো বিবিধ অঙ্গীকার জনসাধারণের কাছে পেশ করছেন, তখন চমৎকার একটা কবিতার মাধ্যমে তাদের কাছে অঙ্গীকার চেয়েছেন জনসাধারণের চলাচলের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত করে দেবার । আপনার কবিতা পড়ার আগে একবারও মনে হয়নি এমন একটি অঙ্গীকার আমরা ঢাকাবাসী জনসাধারণ ভোট প্রার্থী দলগুলোর কাছে চাইতে পারি, যদিও এই ফুটপাত দখলের কারণে আমরা ঢাকাবাসী প্রতিদিন অনেক সমস্যার মুখোমুখি হই।
এমনিতে, ঢাকার যে কোনো প্রধান রাস্তার পাশের ফুটপাত দখল করে স্থায়ী বা অস্থায়ী গড়ে ওঠে, যেন ফুটপাত পথচারীদের জন্য তৈরি হয়নি বরং ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি হয়েছে! স্থায়ী দোকানের মধ্যে আছে নার্সারি, বিকাশের দোকান, খাবার দোকান ইত্যাদি। অধিকাংশ হাসপাতালের সামনের পুরো ফুটপাত জুড়ে ফার্মেসি দেয়া থাকে স্থায়ীভাবে। এছাড়া সন্ধ্যা হলেই পুরো ঢাকার প্রায় সব ফুটপাত দখল হয়ে যায়, দোকান বসে সব ধরণের কাপড়চোপড়, গৃহস্থালি সামগ্রী, পাদুকা, সুগন্ধি এবং আরো নানা রকমের জিনিস যা কিনতে বিপণীবিতানে যেতে হতো। ফুটপাতের মার্কেটে আগত ক্রেতাদের রসনা তৃপ্তির জন্য ফুটপাতেই আছে নানা দেশী নানাধরণের খাবার আয়োজন, ফুটপাতের পাশে রাস্তায় ভ্যানের উপর ওভেন বা চুলায় রান্না আর ফুটপাতে প্লাস্টিকের চেয়ার টেবিল পেতে খাবার আয়োজন। এখানে আছে চায়নিজ, ইটালিয়ান, মেক্সিকান, ভারতীয় (দক্ষিণ ভারতীয়), মুগলাই, বাঙালি খাবার। আরো আছে পিঠার দোকান, গরম ভাজা জিলাপির দোকান, এমনকি কেকের দোকান সাজিয়ে বসেন তরুণীরা!
মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে ফুটপাতের দোকানের চাহিদা প্রচুর, তাই চাহিদার সাথে সাথে এমন দোকানের সংখ্যা বাড়ছে। এখানে বিক্রেতারাও স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা করতে পারছেন। এরফলে দিনের বেলা তো যানজট হয়ই, রাতের বেলা তা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে। যথার্থই বলেছেন,
ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেঁটে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের যাঁতাকলে
এই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ী এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কিম্বা ক্রেতারা নন, বরং দায়ী রাজনৈতিক দলের মদদপুষ্ট চাঁদাবাজেরা। একবার একটা নিবন্ধে পড়েছিলাম, ঢাকার ফুটপাতের দোকান থেকে মাসে কয়েকশ'কোটি টাকা আয় হয় চাঁদাবাজির মাধ্যমে। রাজনৈতিক দলগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় এই চাঁদাবাজি চলছে, আর ঢাকা পরিনত হচ্ছে স্থবির নগরে!
তাই রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে নানারকম সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার করেন, তেমনি এই সমস্যার সমাধানের বিষয়ে অঙ্গীকার করা প্রয়োজন। কিভাবে ফুটপাত হকার মুক্ত করা যায় আপনি তার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন কবিতায়।
আমি একটা ছবি দিলাম। মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটির রাস্তার পাশের প্রশস্ত ফুটপাত পুরোটা জুড়ে স্থায়ী দোকান, আর রাস্তায় চেয়ার পেতে খাবার আয়োজন! এর ফলে যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তার প্রতি কোনো রাজনৈতিক দল কিছু ভাবছে না।
উন্নত দেশে বসবাস করেও ঢাকার একটি প্রধান সমস্যা আর তার সমাধানের পথ দেখিয়েছেন, অসংখ্য ধন্যবাদ।
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:০২
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার এই সুগভীর, বাস্তবভিত্তিক ও সাহসী মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আপনি যে দৃষ্টিভঙ্গিতে
কবিতাটিকে পড়েছেন, তাতে স্পষ্ট বোঝা যায় এটি কেবল সাহিত্যপাঠ নয়, বরং নাগরিক জীবনের এক নীরব অথচ
তীব্র সংকটকে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করা। সত্যিই, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে কবিতার এই শিরোনাম ও বক্তব্য
এক ধরনের নাগরিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়যে প্রশ্ন এতদিন আমরা অভ্যাসের কারণে তুলতেই ভুলে গেছি।
ফুটপাত যে মূলত পথচারীদের জন্য শিশু, নারী, বৃদ্ধ, কর্মজীবী মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য এই মৌলিক
সত্যটাই আজ যেন সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। আপনি যেভাবে ঢাকার ফুটপাত দখলের চিত্র, তার বৈচিত্র্য ও
বিস্তার তুলে ধরেছেন, তা একদিকে যেমন বাস্তবতার নির্মম দলিল, অন্যদিকে তেমনি নগর ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার
স্পষ্ট প্রমাণ। এখানে যে ব্যবসায়ীরা আছেন, বা যারা ক্রেতা হিসেবে সেখানে ভিড় করেন তাদের এককভাবে
দোষারোপ করা যায় না। সমস্যার মূল যে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে গড়ে ওঠা চাঁদাবাজি ও দখলদারির কাঠামো,
সেটি আপনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছেন।
কবিতার উদ্দেশ্যও ঠিক সেখানেই ,হকার বনাম পথচারী এই সরল দ্বন্দ্বে না গিয়ে, সমস্যার শেকড়ে আঘাত করা।
ফুটপাত ফেরানোর দাবি আসলে কোনো শ্রেণির বিরুদ্ধে নয়; এটি একটি মানবিক, ন্যায্য ও টেকসই নগর জীবনের
দাবি। নির্বাচনী ইশতেহারে বড় বড় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির ভিড়ে এই ছোট মনে হওয়া, কিন্তু প্রতিদিনের জীবনকে
গভীরভাবে প্রভাবিত করা সমস্যাটিও যে সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত আপনার মন্তব্য সেই দাবিকে আরও
শক্তিশালী করেছে।
মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটির উদাহরণটি এই বাস্তবতার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ছবি, অভিজ্ঞতা ও সুন্দর
বিশ্লেষণের মাধ্যমে আপনি দেখিয়েছেন সমস্যা আমাদের চোখের সামনেই আছে, কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছার
অভাবেই তা উপেক্ষিত। আপনার মতো সমাজ সচেতন গুণী একজন ব্লগারের এমন গভীর পাঠ ও প্রতিক্রিয়াই
কবিতার মূল বাণীকে কাগজ ছাড়িয়ে বাস্তব জীবনের আলোচনায় নিয়ে আসে।
আশা রাখি, এই আলোচনা শুধু কবিতার পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং আগামী দিনে নাগরিক অধিকার, নগর
ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রশ্নে আরও অনেককে ভাবতে বাধ্য করবে। আবারও ধন্যবাদ এত যত্ন,
তথ্য ও উপলব্ধি নিয়ে কবিতাটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
কর্মজীানের প্রায় পুরাটাই দেশে কাটানোর পর এখন দেশে ও প্রবাশে কাটাচ্ছি । আমার সকল লেখাতেই পাবেন
দেশের মঙ্গলা কাংখার কথা , হতাশার চেয়েই বেশী আশার বাণী । রাতে বসে বসে সহধর্মিনী গিন্নীকে সাথে নিয়ে
৬৫ইঞ্চি টিভির পর্দায় ইউটিউবে বেশ বড় আকারে দেখতেছিলাম মালিবাগের মৌচাক এলাকার , তালতলী ,
ফার্মগেইট , খিলগাওও ঢাকার নিউমাকেট ও গাওছিয়া মার্কেটের মাঝ দিয়ে যাওয়া রাস্তা ও ফুটপাথদখল করে
আপনার বিবরনের মত পশরা নিয়ে বসা প্রায় স্থায়ী অবকাঠামোর মত হকার আর সাধারণ ক্রেতাদের বেচাকেনার
দৃশ্য়। এর ফাকে ফাকেবাংলা চ্যনেলগুলি হতে সংবাদে সচিত্র দেখছিলাম বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হরেক পদের
নির্বাচনী অঙ্গিকার সমুহ।সে সময়ই ভাবনায় আশা কথাগুলি কবিতাকারে লিখে সামুতে দিয়েছি ঢেলে ।
সরকার যদি চায় তাহলে ঢাকার ভাসমান দোকানী, হকার ও ফেরিোওয়ালাদের জন্য বিভিন্ন বানিজ্যিক কেন্দ্র ও তার
আশেপাশে উপযুক্ত স্থানে বহুতল বিপনী বিতান নির্মানের জন্য দেশের রাজস্ব বাজেট হতে প্রয়োজনীয় অর্থের
সংস্থানের বাস্তব সম্মত পন্থাসহ, দাতা সংস্থা যথা বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি সহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী দেশসমুহ
হতে প্রজেক্ট এইড প্রাপ্তির জন্য একটি উপযুক্ত প্রকল্প দলীল/রূপকল্প তৈরী করে দিতে পারব ইনশাল্লাহ ।
আরো একটি কথা, আপনার মন্তব্যের বিবরণটি এত সুন্দর হয়েছে যে পুরা মন্তব্যটি তুলে নিয়ে আপনি এ বিষয়ে একটি
সতন্ত্র পোস্ট দিতে পারেন সামুতে , এখনই উপযুক্ত সময় ।
অনেক শুভেচ্ছা রইল।
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৩৬
নতুন নকিব বলেছেন:
ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ণ এই বার্তাটি সকলকে শুনিয়ে দেওয়ার জন্য। ভোটের আগে স্পষ্টভাবে দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রকাশ করা উচিত, ফুটপাথ কীভাবে দখলমুক্ত করা হবে। একইসাথে হকারদের পুনর্বাসনসহ সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও সঠিক এবং কার্যকর পদক্ষেপে নির্বাচনী অঙ্গীকার দরকার।
আবারও ধন্যবাদ আপনাকে।