নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

"সবাই আল্লাহওয়ালা, আল্লাহওয়ালী হয়ে যাও"

আমার ঘুম পায় না

আমার ঘুম পায় না › বিস্তারিত পোস্টঃ

শবে বরাতে হালুয়া-রুটি ও রকমারি খাদ্য প্রস্থত ও বিতরণ করার সঠিক ইতিহাস

১৬ ই জুলাই, ২০১০ বিকাল ৪:৩৬

শবে বরাত উপলক্ষে [/sb]বিশেষ করে আমাদের দেশ ও তার আশপাশের দেশসমূহে যে রুটি হালুয়ার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে তার পিছনে ইতিহাস রয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ববর্তী যামানায় বর্তমানের মতো বাজার, বন্দর, হোটেল-রেস্তোরাঁ ইত্যাদি সর্বত্র ছিল না। তখন মানুষ সাধারণত সরাইখানা, লঙ্গরখানা, মুছাফিরখানা ইত্যাদিতে ছফর অবস্থায় প্রয়োজনে রাত্রিযাপন করতেন। অর্থাৎ মুছাফিরগণ তাদের ছফর অবস্থায় চলার পথে আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত জনের ঘর-বাড়ি না পেলে সাধারণত সরাইখানা, মুছাফিরখানা ও লঙ্গরখানায় রাত্রিযাপন করতেন। আর এ সমস্ত মুছাফিরখানা, লঙ্গরখানা ও সরাইখানার দায়িত্বে যারা নিয়োজিত থাকতেন তারাই মুছাফিরদের খাবারের ব্যবস্থা করতেন। বিশেষ করে মুছাফিরগণ শ’বে বরাতে যখন উল্লিখিত স্থানসমূহে রাত্রি যাপন করতেন তাদের মধ্যে অনেকেই রাত্রিতে ইবাদত-বন্দেগী করতেন ও দিনে রোযা রাখতেন। যার কারণে উল্লিখিত স্থানসমূহের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিগণ খাবারের ব্যবস্থা করতেন যাতে মুসাফিরদের রাত্রে ইবাদত-বন্দেগী করতে ও দিনে রোযা রাখতে অসুবিধা না হয়।

আর যেহেতু হালুয়া-রুটি ও গোশত-রুটি খাওয়া সুন্নত সেহেতু তারা হালুয়া-রুটি বা গোশত-রুটির ব্যবস্থা করতেন। এছাড়াও আরবীয় এলাকার লোকদের প্রধান খাদ্য রুটি-হালুয়া বা রুটি-গোশত। তারা ভাত, মাছ ইত্যাদি খেতে অভ্যস্ত নয়। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে শ’বে বরাত উপলক্ষে হালুয়া-রুটির প্রচলন আমাদের দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, কোন আমলের ক্ষেত্রেই বদ রসম বা বদ প্রথার অনুসরণ করা জায়িয নেই। এখন মাসয়ালা হচ্ছে- কেউ যদি শবে বরাত উপলক্ষে রসম-রেওয়াজ না করে বা নিজের ইবাদত-বন্দেগীর ব্যাঘাত না ঘটিয়ে উক্ত হালুয়া-রুটির ব্যবস্থা করে তাহলে তা অবশ্যই জায়িয।

শুধু তাই নয় বরং যদি কেউ তার নিজের ইবাদত-বন্দেগী ঠিক রেখে অন্যান্যদের জন্য যারা রাত্রিতে ইবাদত-বন্দেগী করবে ও দিনে রোযা রাখবে তাদের ইবাদত-বন্দেগী ও রোযা পালনের সুবিধার্থে হালুয়া-রুটি বা গোশত-রুটি অথবা গোশত-পোলাও, গোশত-খিচুরী, মোরগ-পোলাও, তেহারী, বিরিয়ানী আমাদের দেশে প্রচলিত খাদ্যসমূহের কোন প্রকারের খাদ্যের ব্যবস্থা করে তা অবশ্যই নেকীর কারণ হবে। কারণ হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, হযরত আব্দুল্লাহ বিন সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “হে লোক সকল! তোমরা সালাম-এর প্রচলন কর, মানুষকে খাদ্য খাওয়াও, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা কর এবং রাতের বেলায় মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামায পড় তাহলে শান্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।” (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, দারিমী)

তবে সতর্ক থাকতে হবে যে, এই কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে যাতে এমন পরিশ্রম ও এমন সময় ব্যয় না হয় যাতে করে কারো শবে বরাতের ইবাদতে ঘাটতি হয়। আরো উল্লেখ্য যে, খাদ্য বিতরণ যেন আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে বরং এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন অভাবগ্রস্তদের প্রাধান্য দেয়া হয়।

অতএব প্রমাণিত হলো যে, শবে বরাতে লোকদের ইবাদত-বন্দেগী ও রোযা পালনের সুবিধার্থে হালুয়া-রুটি ও রকমারি খাদ্যের ব্যবস্থা করা সম্পূর্ণরূপে কুরআন ও সুন্নাহ সম্মত।

কাজেই প্রত্যেক মুসলমান ও বিধর্মী সরকারের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো তারা যেন শবে বরাত উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করে সরকারিভাবে সারাদেশে তথা সারাবিশ্বে শবে বরাত পালন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। (আমীন)

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +৭/-৪

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই জুলাই, ২০১০ বিকাল ৪:৪০

আকাশদেখি বলেছেন: ধন্যবাদ

২| ১৬ ই জুলাই, ২০১০ বিকাল ৫:৩৯

মৃধা জুয়েল বলেছেন: আমার জানা মতে হাদিস শরীফে শবে বরাতের উল্লেখ আছে। তবে কোন খাবার দাবারের আয়োজন করার উল্লেখ নেই। এবং এই রাত্রিতে ইবাদতের অনেক ফজিলত রয়েছে। যা মানুষের জীবনে অনেক উপকারে আসে। এবং এই রাত্রিতে ইবাদত করলে অনেক সওয়াব হাসিল করা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে যে হারে খাবার দাবারের আয়োজন করা হয় তা মোটেই হাদিসে নেই। তাই হাদিস শরীফে শবে বরাত সর্ম্পকে যা উল্লেখ রয়েছে আমাদের তাই পালন করা প্রয়োজন। এর বাইরে অন্য কিছু করা ঠিক নয়। কারন আমাদের আল্লাহ পাক আমাদের তার নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) কে অনুসরন ও অনুকরণ করতে বলেছেন। যেহেতু আমাদের নবীর আমলে নবী তার সাহবাদের শবে বরাত উপলক্ষে কোন প্রকার খাবার দাবার আয়োজন করতে বলেন নি। তাই আমাদের উচিত শবে বরাতে বিশাল আকারে কোন প্রকার খাবার দাবারের আয়োজন না করা। কারণ খাবার দাবার আয়োজন করা যদি খুবই জরুরী হত তাহলে অব্যশই হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর বিষয়ে হাদিসে বর্ণনা করতেন। তাই আমাদের নবী যা করেন নি আমাদের তা করা কি ঠিক হবে?

৩| ১৬ ই জুলাই, ২০১০ বিকাল ৫:৫৬

পানকৌড়ি বলেছেন: জেনে ভালো লাগলো ।

৪| ৩১ শে জুলাই, ২০১০ ভোর ৫:৪২

কি নাম দিব বলেছেন: আপনাকে একটা কথা বলি, আপনি লেখা পোস্ট করার আগে একজন ভালো আলেম কে দেখিয়ে নিবেন।

অতএব প্রমাণিত হলো যে, শবে বরাতে লোকদের ইবাদত-বন্দেগী ও রোযা পালনের সুবিধার্থে হালুয়া-রুটি ও রকমারি খাদ্যের ব্যবস্থা করা সম্পূর্ণরূপে কুরআন ও সুন্নাহ সম্মত।
আপনি যে এই উপপাদ্য প্রমাণ করলেন, এইটা সঠিক না। যে হাদীসের রেফারেন্স দিয়েছেন সেটা শবেবরাতের দিন পালন করতে হবে এমন কিছু বলা নেই। এক বিষয়ের হাদীস নিয়ে অন্য বিষয়ে মিলিয়ে ফেলাটা ঠিক না।

এই লেখাটাও দেখতে পারেন এই লেখাটাও দেখতে পারেন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.