নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ল্যাপটপ দিয়ে কীভাবে ইনকম করতে পারেন...

আমিরযাদ

আমিরযাদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

পবিত্র কোরআন ও হাদীসের আলোকে আহলে বাইত (আঃ)-ই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তা

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ১২:৪৩

بسم الله الرحمن الرحیم

“ আর তোমাদের মধ্যে এমন এক দল থাকা আবশ্যক যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে আহবান করবে এবং সৎ কাজের আদেশ করবে আর অসৎ কাজের নিষেধ করবে , এরাই হল সফলকাম ।” (সূরা-আলে-ইমরান , আয়াত-১০৪)

“ আর তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়িয়ে ধর পরস্পর বিচ্ছিন্ন (ফেরকাবন্দী) হইও না। ” (সূরা-আলে ইমরান , আয়াত-১০৩)

ইসলাম; অর্থ শান্তি ও আত্মসমর্পণ। ইসলাম গ্রহণ করার পর ধর্মের ব্যাপারে নিজের ইচ্ছা-চিন্তা-চেতনার কোন প্রকার প্রবেশ ঘটানোর কোন অবকাশ নাই। প্রতিটি কর্ম হতে হবে আল্লাহর নির্দেশিত ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য । সেটা নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, খুমস্, কোরবানী কিংবা অন্য যে কোন আমল হোক না কেন , নিজের ইচ্ছা প্রকাশের কোন অবকাশ নেই । মানুষ মানেই আল্লাহর দাস, (বান্দা) দাস কখনো আল্লাহর উপর হুকুম চালাতে পারে না। দাস আবার দু‘ প্রকারের-এক বাধ্যগত, দুই অবাধ্য। যারা বাধ্যগত দাস, তারা আল্লাহ্ ও রাসূল (সাঃ)-এর নির্দেশ মাথানত করে পালন করে থাক। আর যারা অবাধ্য দাস , তারা আল্লাহ্ ও রাসূল (সাঃ)-এর নির্দেশ অমান্য করে নিজের মনমত ইজমা -কিয়াস করে আল্লাহর নির্দেশের সীমালঙ্ঘন করে জাহান্নামের চির বাসিন্দা হয়।

কিন্তু অতি দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে ! আজকে আমরা পবিত্র ইসলামে, মুসলিম উম্মাহর মাঝে , যে ফেরকাবন্দী বা দল বিভক্তি দেখছি, তা আল্লাহ , রাসূল (সাঃ) কিংবা পবিত্র কোরআনকে কেন্দ্র করে হয়নি , হয়েছে খিলাফত বা ইমামতকে হস্তক্ষেপ করার কারনে। মহানবী (সাঃ)-এর পর উম্মতে মুহাম্মদীকে “ সিরাতে মুস্তাকিমের” পথে পরিচালিত বা দিকনির্দেশনা দিবে তা নিয়ে, রাসূল (সাঃ) আজকের দিনের অবস্থা সম্পর্কে ভালো ভাবে অবগত ছিলেন। কেননা একটি প্রসিদ্ধ হাদীসে মহানবী (সাঃ) বলেছেন, “ আমার উম্মতেরা আমার পর ৭৩ দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে, এদের মধ্যে ১টি দল পরকালে মুক্তি পাবে, আর বাকি দলগুলো পথভ্রষ্ট বা তারা জাহান্নামী হবে । ” সূত্রঃ-মুসতাদরাকে হাকেম , খঃ-৩ , পৃঃ-১০৯ ; মুসনাদে হাম্বাল , খঃ-৩ , পৃঃ-১৪ ; তিরমীজি , খঃ-৫ , হাঃ-২৬৪২ , ( ই , ফাঃ) ; “ মহানবী (সাঃ) এটাও বলেগেছেন-আমার উম্মতের একটি দল (মাযহাব) সর্বদাই হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।সূত্রঃ- সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৫ , হাঃ-৪৭৯৭ , ( ই , ফাঃ) ; সহীহ তিরমীজি-(সকল খণ্ড একত্রে) পৃঃ-৬৯৩ , হাঃ-২১৯০ , ( তাজ কোং) ; সহীহ্ বুখারী (সকল খণ্ড একত্রে) পৃঃ-১১১৩ , হাঃ-৬৮০৪ , ( তাজ কোং)।

মহানবী (সাঃ)-এর উম্মত হওয়ার পরও আমরা কেন জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবো? কারণ শুধু এটাই যে , মহানবী (সাঃ)-কে মুখে মানবো, ধর্ম পালন করবো নিজের মনমতো, আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) যাদেরকে অনুসরণ করতে বলেছেন, আমরা তাদেরকে আমলেই নিচ্ছি না। এবং রাসূল (সাঃ) অন্যত্র বলেছেন, “ আমার পরে এমন সব ইমাম হবে (নেতা হবে) যে আমার হেদায়েত অনুসারে আমল করবে না এবং আমার সুন্নাতকে আমলের উপযুক্ত মনে করবে না এবং শীঘ্রই তাদের মধ্যে হতে এমন লোকরা উঠে দাড়াবে, যাদের দেহ হবে মানুষের মত কিন্তু অন্তর হবে শয়তানের” ।সূত্রঃ-সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৬ , পৃঃ-২০ , ( আরবি); সহীহ্ মুসলিম-(সকল খণ্ড একত্রে) , পৃঃ-৭৫১ , হাঃ-৪৬৩৩ ; ( তাজ কোং)।

কিন্তু প্রশ্ন হল? এই অবস্থা থেকে মুক্তি বা“ সিরাতে মুস্তাকিমের” সত্যপথ পাওয়ার কোন দিকনির্দেশনা কি তিনি দিয়ে যাননি? যদি তিনি পথনির্দেশনা দিয়ে থাকেন, তাহলে তা আমাদের অবশ্যই অনুসন্ধান করা উচিত। আর যদি কোন পথনির্দেশনা না দিয়ে থাকেন , তবে বেশ কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন আমাদের সামনে এসে দাড়াবে। যথাক্রমে তিনি তাহলে কিভাবে রাহমাতাল্লিল্ আলামিন হলেন? যিনি উম্মতের সমস্যাকে শনাক্ত করতে সক্ষম, কিন্তু সমাধান দিতে পারেন না! কিয়ামতের দিন আমরা মহান আল্লাহর দরবারে অজুহাতের স্বরে বলতে পারবো যে, “ ইয়া রাব্বুল আলামিন পৃথিবীতে আমরা বিভিন্ন দলের বা মাযেহাবের দেখানো পথের অনুসরণ করেছি। কোন পথে চলতে হবে সেক্ষেত্রে রাসূল (সাঃ)-এর কোন দিকনির্দেশনা পাইনি। তাই আমরা জন্ম সূত্র বাপ-দাদাদের কাছে যে মাযহাব পেয়েছি , তারই অনুসরণ করেছি” । কিন্তু এরকম সকল প্রকারের বাহানার ভিত্তিকেই মহান আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনে বাতিল করে দিয়েছেন-“ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসূলদের আমি এজন্য প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূলদের আগমনের পর আল্লাহর সামনে, মানুষের কোন ওজর আপত্তি না থাকে ” (সূরা-নিসা, আয়াত-১৬৫); “ আমিই আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। আর এমন কোন উম্মত ছিল না, যাদের মধ্যে কোন সতর্ককারি আসেনি” (সূরা-ফাতির , আয়াত-২৪); “ আপনি তা কেবল সতর্ককারী মাত্র। আর প্রত্যেক কওমের জন্য আছে পথ প্রদর্শক ” (সূরা-রাদ , আয়াত-৭); “ আমি এ কিতাবের (কোরআনের) অধিকারী (ওয়ারিশ) করেছি তাদেরকে যাদেরকে আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে পছন্দ করেছি ” (সূরা-ফাতির, আয়াত-৩২) ।

সিরাতে মুস্তাকিম বলতে কাঁদের পথকে বুঝানো হয়েছে ?


পবিত্র কোরআনে“ সূরা ফাতিহাতে ” আমাদের“ সরল সঠিক পথে ও যাদের প্রতিতি আপনি নেয়ামত দান করেছেন তাদের পথে পরিচালিত করুন। ” বলতে কাদের পথকে বুঝানো হয়েছে ?
সালাবী তার তাফসীরে কাবীর গ্রন্থে (সূরা ফাতিহার তাফসীরে) ইবনে বুরাইদা হতে বর্ণনা করেছেন যে ,“ সিরাতে মুস্তাকিম ” বলতে“ মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর ইতরাত , আহলে বাইতের পথকে বুঝানো হয়েছে ” । ওয়াকী ইবনে যাররাহ সুফিয়ান সাওরী সাদী আসবাত ও মুজাহিদ হতে এরা সকলেই ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন , আমাদের সরল সঠিক পথে হেদায়েত কর , অর্থাৎ“ মুহাম্মাদ (সাঃ) ও তাঁর আহলে বাইতের পথ। ”
সূত্রঃ- ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-১১১ ; আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৫৪৪ ; বায়ানুস সায়াদাহ , খঃ-১ , পৃঃ-৩৩ ; তাফসীর আলী বিন ইবরাহীম , খঃ-১ , পৃঃ-২৮ ; সাওয়াহেদুত তানযিল , খঃ-১ , পৃঃ-৫৭ ; তাফসীরুল বুরহান , খঃ-১ , পৃঃ-৫২ ; মানাকেবে ইবনে শাহরে আশুব , খঃ-১ , পৃঃ-১৫৬ ; আল মোরাজয়াত , পৃঃ-৫৫ ; মাজমাউল বায়ান , খঃ-১ , পৃঃ-২৮ ; সাওয়ায়েকুল মোহরিকা , পৃঃ-১৬ ; কিফায়াতুল মোওয়াহহেদীন , খঃ-১ , পৃঃ-১৯২ ; রওয়ানে জাভেদ , খঃ -১ , পৃঃ-১০ ; তাফসীরে নূরুস সাকালাইন , খঃ-১ , পৃঃ-২০-২১ ; তাফসীরে নমূনা , খঃ-১ , পৃঃ-৭৫ ; তাফসীরে ফুরাত , খঃ-১ , পৃঃ-১০।

পবিত্র কোরআনে, মহানবী (সাঃ)-এর আহলে বাইত-এর
মুয়াদ্দাত ও অনুসরণ ফরজ করা হয়েছে ।


মহানবী (সাঃ) যে রেসালাতের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন , আল্লাহ তার বান্দার কাছ থেকে তাঁর রেসালাতের পারিশ্রমিক বাবদ মহানবী (সাঃ) -এর আহলে বাইত-এর মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) ফরয করে দিয়েছেন। যদি আমরা আহলে বাইতকে প্রাণাধিক ভালো না বাসি , আনুগত্য না করি , তাহলে আল্লাহর হুকুম অকার্যকর থেকে যাবে বা মানা হবে না, প্রিয় পাঠক পারিশ্রমিক ছাড়া আমল কবুল হবে কি? তাই আল্লার হুকুম হচ্ছে ।

“ বলুন, আমি আমার রিসালাতের পারিশ্রমিক তোমাদের কাছে কিছুই চাই না, শুধু আমার কুরবাদের মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) ব্যতিত।” (সূরা-শুরা, আয়াত-২৩) ।

হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে , যখন এই আয়াত নাযিল হলো তখন সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন ,“ ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কাঁরা আপনার নিকট আত্মীয় ? যাদের মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) পবিত্র কোরআনে উম্মতের উপর ফরজ করা হয়েছে। উত্তরে নবী (সাঃ) বললেন-আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন এর মুয়াদ্দাত (আনুগত্য) । ”সূত্রঃ- কোরআন শরীফ (শুরা , ২৩) (আশরাফ আলী থানভী) , পৃঃ-৬৯২ ; তাফসীরে মাজহারী , খঃ-১১ , পৃঃ-৬৩ (ই , ফাঃ) ; তাফসীরে নুরুল কোরআন (মাওলানা আমিনুল ইসলাম) , খঃ-২৫ , পৃঃ-৬৭ ; মাদারেজুন নাবুয়াত , খঃ-৩ , পৃঃ-১১৭ , শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দেস দেহলভী তাফসীরে দূররে মানসুর , খঃ-৬ , পৃঃ-৭ (মিশর) ; তাফসীরে যামাখশারী , খঃ-২ , পৃঃ-৩৯৯ , ( মিশর) ; তাফসীরে তাবারী , খঃ-২৫ , পৃঃ-২৫ (মিশর) ; তাফসীরে কাশশাফ , খঃ-৩ , পৃঃ-৪০২ ; খঃ-৪ , পৃঃ-২২০ (মিশর) ; তাফসীরে কাবীর , খঃ-২৭ , পৃঃ-১৬৬ (মিশর) ; তাফসীরে বায়যাভী , খঃ-৪ , পৃঃ-১২৩ (মিশর) ; তাফসীরে ইবনে কাসির , খঃ-৪ , পৃঃ-১১২ (মিশর) ; তাফসীরে কুরতুবি , খঃ-১৬ , পৃঃ-২২ (মিশর) ; তাফসীরে নাসাফী , খঃ-৪ , পৃঃ-১০৫ (মিশর) ; তাফসীরে আবু সাউদ , খঃ-১ , পৃঃ-৬৬৫ ; তাফসীরে জামে উল বায়ান , ( তাবারী) , খঃ-২৫ , পৃঃ-৩৩ ; তাফসীরে আল আকাম , খঃ-২ , পৃঃ-১২১ ; তাফসীরে বাহরুল মুহিয়াত (ইবনে হাইয়্যান) , খঃ-৯ , পৃঃ- ৪৭৬ ; তাফসীরে বিহার আল মাদিদ (ইবনে আজি) , খঃ-৫ , পৃঃ-৪৩১ ; তাফসীরে আবু সাউদ , খঃ-৬ , পৃঃ-৮০ ; তাফসীরে কাবীর , খঃ-১৩ , পৃঃ-৪৩২ ; তাফসীরে বাইদাবী , খঃ-৫ , পৃঃ-১৫৩ ; তাফসীরে আল নাসাফী , খঃ-৩ , পৃঃ-২৮০ ; তাফসীরে আল নিশাবুরি , খঃ-৬ , পৃঃ-৪৬৭ ; ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-১৭৩ , ( উর্দ্দু) ; আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-১০২ , ৫৮৭ , ( উর্দ্দু)।

আরো এরশাদ হচ্ছে:“ বলুন , যে পারিশ্রমিকেই আমি তোমাদের কাছ চেয়ে থাকি না কেন , তা তো তোমাদেরই জন্য। ” (সূরা-সাবা , আয়াত-৪৭)

হযরত আবু বকর (রাঃ) ও সে কথাটি বলেছেন যে ,“ মহানবী (সাঃ)-এর সন্তুষ্টি তাঁর আহলে বাইতের ভালবাসার মধ্যে নিহিত।” সূত্রঃ- সহীহ্ বোখারী , খঃ-৬, হাঃ-৩৪৪৭ , ৩৪৭৯, ( ই.ফাঃ); তাফসীরে ইবনে কাসির, খঃ-১৬ , পৃঃ-৫২৬ ; ( হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী , আহলে হাদীস)।

আল্লাহ্ সব সময় তার বান্দার মঙ্গল কামনা করে থাকেন। আল্লাহর ইচ্ছা তার বান্দারা যাতে পথভ্রষ্ট না হয়, সেই দিকে দৃষ্টি রেখে তাঁর রাসূল (সাঃ)-এর মারফত, বিদায় হজ্বে একলক্ষ বিশ হাজার সাহাবীদের মাঝে এরশাদ করেছিলেন।

হাদীসে সাকালাইন দু‘টি ভারী বস্তুর হাদীস
কোরআন ও ইতরাত , আহলে বাইত


হযরত যাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে , মহানবী (সাঃ)-এর শেষ বাণী যা তিনি বিদায় হজ্জে একলক্ষ বিশ হাজার সাহাবীদের মাঝে এরশাদ করেছিলেন:“ হে মানব সম্প্রদায়! আমি তোমাদের মধ্যে দু‘ টি সমপরিমাণ ভারি বস্তু রেখে যাচ্ছি যদি এ দু‘ টিকে আঁকড়ে ধরে থাক (অনুসরণ কর) তাহলে কখনই পথভ্রষ্ট হবে না। আর যদি একটিকে ছাড় তাহলে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। তার প্রথমটি হচ্ছে আল্লাহর কিতাব (কোরআন) দ্বিতীয়টি হচ্ছে আমার ইতরাত , আহলে বাইত [(আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন (আঃ)]; এ দু‘ টি কখনই পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন হবে না যতক্ষণ না হাউজে কাউসারে আমার সাথে মিলিত হবে। তাদের সাথে তোমরা কিরূপ আচরণ কর এটা আমি দেখবো” ।

সূত্র-সহীহ্ তিরমীজি , খঃ-৬ , হাঃ-৩৭৮৬ , ৩৭৮৮ (ই , ফাঃ) ; সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৫ , হাঃ-৬০০৭ , ৬০১০ , ( ই ; ফাঃ) ; মেশকাত , খঃ-১১ , হাঃ-৫৮৯২-৫৮৯৩ , ( এমদাদীয়া) ; তাফসীরে মাজহারী , খঃ-২ , পৃঃ-১৮১ , ৩৯৩ , আল্লামা সানাউল্লাহ পানিপথি (ইফাঃ) ; তাফসীরে হাক্কানী (মাওলানা শামসুল হক ফরীদপূরি) , পৃঃ-১২-১৩ (হামিদীয়া) ; তাফসীরে নূরুল কোরআন , খঃ-৪ , পৃঃ-৩৩ (মাওলানা আমিনুল ইসলাম) ; মাদারেজুন নাবুয়াত , খঃ-৩ , পৃঃ-১১৫ শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দেস দেহলভী , তাফসীরে মারেফুল কোরআন , খঃ-১ , পৃঃ-৩৭১ , মুফতি মোঃ সফী (ই , ফাঃ) ; কুরআনুল করিম (মাওলানা মহিউদ্দিন খান) , পৃঃ-৬৫ ; সিরাতুন নবী , খঃ-২ , পৃঃ-৬০৫ , আল্লামা শবলি নুমানী (তাজ কোং) ; আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া , খঃ-৫ , পৃঃ-৩৪৫ খঃ-৭ , পৃঃ-৬১৬ (ই , ফাঃ) ; কাতেবীন ওহী , পৃঃ-১৬৬ (ই , ফাঃ) ; আশারা মোবাশশারা (ফাযেলে দওবন্দ) , পৃঃ-১৬৩ (এমদাদীয়া) ; বোখারী শরীফ , খঃ-৫ , পৃঃ-২৮০ , ২৮২ , ( হামীদিয়া) ; রিয়াদুস সালেহীন , খঃ-১ , পৃঃ-২৫৫ (ই , সেন্টার) ; মাসিক মদিনা (জুন , ২০০৫) , পৃঃ-১৫ ; সুফি দশর্ন , পৃঃ-৩৩ , ৩৮ , ( ই , ফাঃ) ; দিওয়ানে মইনুদ্দিন , পৃঃ-৪৯১ (জেহাদুল ইসলাম) ; বিশ্ব নবী বিশ্ব ধর্ম (ফজলুর রহমান) , পৃঃ-১৮৮ (মল্লিক ব্রাদার্স কলকাতা) ; বিশ্ব নবী , পৃঃ-৫৩৩ (অধ্যাপক মাওলানা সিরাজ উদ্দিন) ; যে ফুলের খুশবুতে সারা জাহান মাতোয়ারা (মাওলানা আমিনুল ইসলাম) , প:-২৩০ ; শান্তির নবী , পৃঃ , ১৫৯-১৬২ , ( ফজলুর রহমান খান , দায়েমী কমপ্লেক্স) ; মাসিক সুরেশ্বর ,( মার্চ , ২০০১) , পৃঃ-১০ ; শাহাদাতে আহলে বাইত , পৃঃ-৮৪ , ( খানকা আবুল উলাইয়াহ) ; সাহাবা চরিত , পৃঃ-২৮ , ২৯ (মাওলানা , মোঃ যাকারিয়া) ; মহানবীর ভাষণ , পৃঃ-২১১ (আব্দুল কাইয়ুম নাদভী (ই , ফাঃ) ; আল মুরাজায়াত , পৃঃ-২৮ , ২২৩ (আল্লামা শারাফুদ্দীন মুসাভী) ; ওহাবী পরিচয় , পৃঃ-১৩৫-১৩৭ , ( রেদওয়ানিয়া লাইঃ ১৯৯০ ইং) ; ইসলামিয়াত , পৃঃ-৩৩ (ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী (ই , ফাঃ) ; রহমতে দো আলম মোহাম্মদ , পৃঃ-১১২ , ( ইস্টার্ন , লাইব্রেরী) ; যুলফিকারই মুর্তুজা , পৃঃ-১৫৪ (আটরশি) ; মদীনার আলো , পৃঃ-৫৮ (ডাঃ সুফী সাগর সাম্স , আজিমপুর দায়রা শরিফ) ; কাসাসুল আম্বিয়া , পৃঃ-৫২১-৫২২ (তাজ কোং , ১৪১০ , বাংলা) ; রাষ্ট্র ও খিলাফত , পৃঃ-২০৬ (মোহাঃ আলাউদ্দিন খান) ; হযরত আলী , পৃঃ-৫৬ (এমদাদিয়া) ; আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৫৬৮ (উদ্দু) ; ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-৬৭-৭৬ , ( উর্দ্দু) ; মাদারেজুন নাবুয়াত , খঃ-২ , পৃঃ-৫৮৫ (উর্দ্দু) ; সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৫ , পৃঃ-৩৭৪-৩৭৫ , হাঃ-৬১১৯ , ৬১২২ , ( আহলে হাদীস লাইব্রেরী) ; রিয়াদুস সালিহীন , খঃ-১ , পৃঃ-৩০৯ (হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী , আহলে হাদীস) ; সংক্ষিপ্ত তাফসীর আল মাদানী , খঃ-৮ , পৃঃ-১৫ (হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী , বংশাল , আহলে হাদীস) ; সিলসিলাত আল আহাদিস আস সাহীহাহ্ (নাসিরউদ্দিন আলবানী , কুয়েত আদদ্বার আস সালাফীয়া , খঃ-৪ , পৃঃ-৩৫৫-৩৫৮ , হাঃ-১৭৬১ , ( আরবী) ; ( নাসিরউদ্দিন আলবানীর মত এই হাদীসটি সহীহ্)।

মহানবী (সাঃ) সাহাবাদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন ,“ এখানে উপস্থিত লোকদের উচিত অনুপস্থিত ’ দের কাছে আমার এই বাণী (কিতাবুল্লাহর বিধান ও আহলে বাইত-এর সীরাত ও রেওয়ায়েত) পৌছিয়ে দেয়া , কেননা যাদের কাছে পৌছানো হবে , তাদের মধ্যে অনেক ব্যক্তি এমন আছে যে , শ্রবণকারীর চাইতে সংরক্ষণের দিক থেকে অধিকযোগ্য। আর তোমরা যেন আমার পরে কাফের হয়ে যেও না।” অর্থাৎ কুফরী আচরণে তৎপর হয়ো না। সূত্রঃ-সহীহুল বুখারী, খঃ-২ , হাঃ-১৭৩৯-১৭৪১ , ( তাওহীদ পাবলিকেশন্স); সহীহ্ আল বুখারী , খঃ-২ , হাঃ-১৬১৯-১৬২১ , ( আধুনিক , ১৯৯৮ইং ; সহীহ্ বোখারী , খঃ-৩ , হাঃ-১৬৩০-১৬৩২ , ( ই , ফাঃ , ২০০৩ইং ; সহীহ বোখারী শরীফ , পৃঃ-২৭৭ , হাঃ-১৬১৯-১৬২১ ; ( সকল খণ্ড একত্রে , তাজ কোং , ২০০৯ ইং)

মহানবী (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন যে ,“ আহলে বাইত-এর আগে যাওয়ার চেষ্টা করোনা তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে । তাদের থেকে সরে যেও না তাহলে দুঃখ কষ্ট তোমাদের চির সাথী হয়ে যাবে। তাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করোনা তাঁরা তোমাদের থেকে বেশি জ্ঞানী। ”সূত্র :-তাফসীরে দুররে মানসুর , খঃ-২ , পৃঃ-৬০ ; উসুদুল গাবা , খঃ-৩ , পৃঃ-১৩৭ ; সাওয়ায়েকুল মুহরেকা , পৃঃ-১৪৮ ; ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-৩৫৫ ; কানযুল উম্মাল , খঃ-১ , পৃঃ-১৬৮ ; হায়সামী , মাজমাউজ যাওয়ায়েদ , খঃ-৯ , পৃঃ-২১৭ ; আবাকাতুল আনোয়ার , খঃ-১ , পৃঃ-১৮৪ ; আল-সিরাহ আল হালবিয়া , খঃ-৩ , পৃঃ-২৭৩ ; আল তাবরানি , পৃঃ-৩৪২।

আল্লামা সানাউল্লাহ পানিপথি স্বীয় তাফসীরে লিখেছেন [(মহানবী (সাঃ)] আহলে বাইত (আঃ)-এর কথা এজন্য তাগিদ করেছেন যে, “ হেদায়েত এবং বেলায়েতের ব্যাপারে আহলে বাইতই পথপ্রদর্শক। তাঁদের উসিলা ব্যতিত কেউ আল্লাহর ওলীর মর্তবায় পৌছাতে পারবে না। আহলে বাইত (আঃ)-এর মধ্যে সর্বপ্রথম রয়েছেন , হযরত আলী (আঃ) অতঃপর তাঁর সন্তানদের মধ্যে হযরত হাসান আসকারী পর্যন্ত, এই সিলসিলা অব্যাহত থাক।” সূত্রঃ-তাফসীরে মাযহারী , খঃ-২ , পৃঃ-৩৯৩ (ই , ফাঃ) ; তাফসীরে নুরুল কোরআন , খঃ-৪, পৃঃ-৩৩ , ( মাওলানা আমিনুল ইসলাম)।

বিদায় হজ্বের ভাষণে“ মহানবী (সাঃ) আমাদেরকে কিতাবুল্লাহর বিধান ও আহলে বাইত-এর সীরাত ও রেওয়ায়েত অনুসরণ করতে হুকুম দিয়েছেন , গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে , সেই সময় মহানবী (সাঃ)-এর সঙ্গে প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার সাহাবার জামাত ছিল এবং মহানবী (সাঃ) সাহাবাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন যে, যদি কোরআন ও আহলে বাইত-এর একটিকেও ছাড় তবে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে, আর আমরা হলাম সাধারণ মানুষ আমরা যদি সেই দুটি বস্তুকে অনুসরণ না করি তবে পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা পাবো কি?”

আল কোরআনের ঘোষণাঃ-“ আমি যেসব স্পষ্ট নিদর্শন এবং হেদায়েত মানুষের জন্য নাযিল করেছি, কিতাবে তা বিস্তারিত (হক কথা) বর্ণনা করার পরও যারা তা গোপন করে তাদেরকে আল্লাহ্ অভিসম্পাত দেন এবং অন্যান্য অভিসম্পাতকারীরাও তাদেরকে অভিসম্পাত দেয়। ” (সূরা-বাকারা , আয়াত-১৫৯)

আরো এরশাদ হচ্ছে:“ নিশ্চয় যারা গোপন করে সে সব বিষয় যা আল্লাহ কিতাবে নাযিল করেছেন (হক কথা) এবং বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে , তারা আগুন ছাড়া নিজেদের পেটে আর কিছুই পুরতেছে না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। এরাই হল সে সকল লোক যারা হেদায়াতের বিনিময়ে গোমরাহী এবং ক্ষমার পরিবর্তে আযাব খরিদ করেছে। হায়! কতই না ধৈর্যশীল তারা আগুনের উপর ” ! (সূরা-বাকারা , আয়াত-১৭৪-১৭৫)

হায় আফসাস! সেই সব দরবারী আলেমদের জন্য যারা জেনে-বুঝে (হক কথা) ইল্ম গোপন করে“ কোরআন পরিপন্থি রাজতন্ত্রী রাজা-বাদশাদের খুশি করার জন্য অনন্তকালের আগুনকে বরণ করে নিচ্ছে ” ।

কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে , আহলে বাইত (আঃ)-এর এই সহীহ্ হাদীসটিতে আহলে বাইত (আঃ)-কে বাদ দিয়ে ,‘ সুন্নাহ ’ ও‘ হাদীস ’ শব্দ যোগ করা হয়েছে , যেমনঃ বিদায় হজ্বে রাসূল (সাঃ)‘ কোরআন ও সুন্নাহ বা হাদীস ’ রেখে যাবার কথা বলেছেন বলে প্রচার করা হয়। অথচ এটা সঠিক নয়! কিছু দরবারী আলেমরা অনেকভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন , যেমনঃ তারা বলেন , মহানবী (সাঃ) নাকি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ভাবে ভাষণ দিয়েছেন যেমনঃ কোথাও“ কোরআন ও সুন্নাহ ” বলেছেন , আবার কোথাও ,“ কোরআন ও হাদীস ” বলেছেন , যখন আমি বললাম ঠিক আছে সহীহ্ হাদীস দ্বারা প্রমাণ দেখাতে পারবেন। তখন আর সদুউত্তর আসে না , আমি পাঠকদের অবগতির জন্য প্রমাণ স্বরূপ বলছি ,“ কোরআন ও সুন্নাহ বা হাদীস ” এই হাদীসটি মুয়াত্তা ইমাম মালেক তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন মুরসাল হাদীস হিসাবে সেখানে সাহাবির ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন“ মেশকাত শরীফ ” খঃ-১ , হাঃ-১৭৭ , নুর মুহাম্মদ আজমী (এমদাদীয়া)ও“ তাহক্কীক মিশকাতুল মাসাবিহ ” , খঃ-১ , পৃঃ-১০৪ , হাঃ-১৮৬ , (আহলে হাদীস লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত) , সেখানে উল্লেখ আছে যে ,“ কোরআন ও সুন্নাহ বা হাদীস ” হচ্ছে (মুরসাল ও যইফ হাদীস) ; মাওলানা মুফতি মোঃ সফী ; তার সীরাতে“ খাতামুল আম্বিয়া” গ্রন্থের-৯৭-৯৮ ’ পৃষ্ঠায় বলেন , মহানবী (সাঃ) বিদায় হজ্বে সাহাবাদের সামনে বলেছেন“ শুধু কোরআন ” অনুসরণ করতে ;“ আর রাহীকুল মাখতূম ” আল্লামা সফিউর রহমান মোবারকপুরী , সালাফী , পৃঃ-৫২৩ , (প্রকাশনায়-তাওহীদ পাবলিকশন্স , ২০১১-ইং ,);“ আর রাহীকুল মাখতূম ” (সীরাত গ্রন্থ , অনুবাদ ও প্রকাশনা-খাদিজা আখতার রজায়ী ; জুন-২০০৩-ইং ,) আল কোরআন একাডেমী লন্ডন। আল্লামা সফিউর রহমান মোবারকপুরী , ওহাবী-সালাফী , আহলে হাদীসের আলেম , তার সীরাত গ্রন্থের-৪৭৬ , পৃষ্ঠায় বলেন , মহানবী (সাঃ) বিদায় হজ্বে একলক্ষ চব্বিশ হাজার সাহাবাদের সামনে বলেছেন“ শুধু কোরআন ” অনুসরণ করতে ;“ এই বিভ্রান্তির শেষ কাথায়” ? “ যারা বলেন. আল্লাহর কিতাব কোরআনই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এটা আরেক পথভ্রষ্টতা। ”সূত্রঃ-কুরআনুল করিম ; ( মাওলানা মহিউদ্দিন খান) , পৃঃ-৬৬। “ আর তাদের অধিকাংশ সত্যক অপছন্দ করে । ” ( সূরা-মুমিনুন , আয়াত-৭০) ; “ আর তাদের মধ্যে একদল সত্যকে জেনেও গোপন করে। ” ( সূরা-বাকারা , আয়াত-১৪৬) ; “ তোমরা সত্যক মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জেনে শুনে সত্যকে গোপন করো না। ” ( সূরা-বাকারা , আয়াত-৪২)

আহলে বাইত (আঃ)-গণই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তা


রাসুল (সাঃ)-এর প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবুজার আল গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , আমি রাসূল (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি ,“ আমার আহলে বাইত এর সদস্যগণ {আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন (আঃ) }। আমার উম্মতের জন্য তেমনি নাজাতে র তরী , যেমনি আল্লাহর নবী নুহ (আঃ)-এর তরী মহাপ্রলয়ের সময় তার জাতির জন্য আশ্রয় ও নাজাতে র তরী ছিল। অর্থাৎ যারাই হযরত নুহ (আঃ)-এর তরীতে উঠেছিল তারাই মহাপ্রলয় থেকে নাজাত পেয়েছিল (হযরত নূহের ছেলে তরীতে উঠেনি আল্লাহ্ তাকেও ক্ষমা করেন নি) তেমনি এই উম্মতের যারা আমার আহলে বাইতকে অনুসরণ করবে তারাই নাজাত পাবে এবং যারা অনুসরণ করবে না তারা সুষ্পষ্ট পথভ্রষ্ট (জাহান্নামী) হবে ” ।সূত্রঃ- মেশকাত শরিফ , খঃ-১১ , হাঃ-৫৯২৩ ; কাশফুল মাহজুব , পৃঃ-৭০ , ( দাতাগঞ্জ বকস) ; মাসিক মদীনা (সপ্টম্বর ২০০০) পৃঃ-৬ ; পীরের মর্যাদা ও ভুমিকা , পৃঃ-১১৪ , ( মুহাঃ মুখলেসুর রহমান এডভোকেট) ; জ্ঞানধারা , পৃঃ-১০৬ , ( মুখলেসুর রহমান) ; আস সাওয়ায়েকুল মুহরিকা (ইবনে হাজার হায়সামী) , পৃঃ-২৩৪ ; তাফসীরে কাবির , খঃ-২৭ , পৃঃ-১৬৭ ; মুসনাদে হাম্বাল , খঃ-২ , পৃঃ-৭৮৬ ; কানযুল উম্মাল , খঃ-৬ , পৃঃ-২৫৬ ; মানাকেবে ইবনে মাগজিলি , পৃঃ-১৩২ ; মুস্তাদরাকে হাকেম , খঃ-৩ , পৃঃ-১৫১ , খঃ-২ , পৃঃ-৩৪৩ , কেফায়াতুত তালেব , পৃঃ , ২৩৩ , আরবাইন নাবহানী , পৃঃ , ২১৬ , তারিখে খোলাফা , পৃঃ , ৩০৭ ; যাখায়েরুল উকবা , পৃঃ-২০ ; সাওয়ায়েকুল মুহরিকা , পৃঃ-১৫০ (ইবনে হাজার মাকিক) ; ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-৩৭০ , ৩০৮ ; মুয়াদ্দাতুল কুরবা , পৃঃ-৩৮ , ১১১ ; নুরুল আবসার , পৃঃ-১১৪ ; আল তাবরানি , খঃ-৩ , পৃঃ-৩৭-৩৮ ; হিলিয়াতুল আউলিয়া , খঃ-৪ , পৃঃ-৩০৬ ; আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৫৫৯ (উর্দ্দু) ; Al-Hakim recorded the tradition in his book ‘al-Mustadrak’ vol-২ , p-৩৪৩ and declared it as Sahih according to the condition of Muslim;Imam Jalaluddin Suyuti in his book ‘Al-Jame al-Saghir’ vol-২, p-৫৩৩, declared it as Hasan; Imam Al-Sakhawi in his book ‘Al-Baldanyat’ p-১৮৬, declared it as Hasan;

যারা আহলে বাইতকে বাদ দিয়ে অত্র‘ হাদীস’ খানা (কোরআন ও হাদীস বা সুন্নাহ্) উপস্থাপন করে থাকেন , তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ রইল। “ যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে প্রমাণ নিয়ে এসো” (সূরা-বাকারা , আয়াত-১১১) ; আমরা তা সানন্দে গ্রহণ করব। আর যদি প্রমাণ পেশ করতে অক্ষম হন , তাহলে মেনে নিন যে , নবীজি তার উম্মতকে“ কোরআন ও ইতরাত, আহলে বাইতকে-ই অনুসরণ করতে হুকুম করে গিয়েছেন” । ইসলামে ঈমান বা বিশ্বাসের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই। যেমন এরশাদ হয়েছে, “ দ্বীনের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই। নিশ্চয় সুস্পষ্ট হয়ে গেছে সৎপথ ভ্রান্ত পথ থেকে ” (সূরা-বাকারা , আয়াত-২৫৬) ।“ তাদের অধিকাংশই অনুমানের অনুসরণ করে চলে । সত্যর ব্যাপারে অনুমান কোন কাজেই আসে না…” (সূরা-ইউনুস , আয়াত-৩৬) । ঈমান হচ্ছে , বিশ্বাস , আগ্রহ এবং আমলের একত্রিত নাম সুতরাং শক্তি প্রয়োগের দ্বারা তা অর্জন করা যায় না। এর সঠিক পন্থা হচ্ছে , মানুষের বিজ্ঞতা ও জ্ঞানের নিকট. শান্তি ও আত্মসমর্পণের সুন্দর পরামর্শ ও সদুপদেশের আবেদন জানানো। যুক্তির মাধ্যম আল্লাহ্ ও রাসূল (সাঃ)-এর জ্ঞান ও হুকুমকে বাস্তবায়িত ও প্রচারের চাবিকাঠি হচ্ছে , ভদ্রতা প্রদর্শন এবং মানুষের হৃদয় , আত্মা ও চিন্তা শক্তির নিকট হেকমত-এর সাথে‘ দাওয়াহ্ ’ ও‘ নসিহত ’ পেশ করতে হবে।‘ দাওয়াহ্ ’ ও‘ নসিহত ’ পেশ করার , এটাই সঠিক পন্থা।

উপসংহার

“ যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে অতঃপর যা উত্তম তার অনুসরণ করে এরাই তারা যাদের আল্লাহ্ হেদায়েত করেছেন তারাই বুদ্ধিমান” । (সূরা-যুমার, আয়াত-১৮)

এ ধরণের ঐশী উপদেশসমূহ এ জন্য যে, মানুষ যদি তার বিবেক শক্তিকে সতেজ না রাখে এবং সত্যের অনুসরণের চেষ্টা না করে, তাহলে কল্যাণ লাভ করতে পারে না ও কৃতকার্য হতে পারে না। বরং সে ছলচাতুরী ও তোষামোদপূর্ণ কথাবার্তা ও কাজকর্মে লিপ্ত থাকে এবং অর্থহীন ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন চিন্তায় লিপ্ত হয়। মানুষ তখন সঠিক পথ থেকে বহু দূরে সরে পড়ে, কুপ্রবৃত্তির শিকার হয় এবং অজ্ঞতার জালে আটকা পড়ে যায়। কাজেই মানুষের সত্যান্বেষী বিবকশক্তি যদি মানুষের মাঝে জীবিত থাকে এবং সত্য অনুসরণের অভ্যাস তার মধ্যে স্বক্রিয় হয় উঠে তখন তার সামনে সত্যসমূহ একটির পর একটি উদ্ভাসিত হতে থাকে এবং প্রতিটি সত্যকে সে স্বাগত জানায় ও প্রতিদিনই কল্যাণ ও সৌভাগ্যের পথে এক ধাপ করে এগিয়ে যায়। সুতরাং আজকের মুক্তচিন্তার মানুষগণ যখন এ মহাসত্য“ আহলে বাইতের ফজিলত” জানবেন, তখন আশা করা যায়, তারাও সকল সংকীর্ণতা ঝেড়ে মুছে ফেলে, “ আহলে বাইতের নাজাতের তরীতে” আশ্রয় নেবেন। এবং আজকের যুগে জ্ঞানার্জন এর প্রদীপ জ্বেলে, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য আহলে বাইতের ফজিলতকে প্রচার করার কাজে গবেষণা করে যাচ্ছেন। তাদের জন্য“ যাজাক আল্লাহ্ খেইর” তাতে আশা করা যায়, “ মহানবী (সাঃ)-এর ইতরাত, আহলে বাইতের ফজিলত” গোপনকারীদের ব্যবসা আর বশি দিন চলবে না।

যারা সত্যকে জেনেও প্রত্যাখ্যান করেন, তাদের পরিনাম ফল ধ্বংস ছাড়া আর কি হতে পারে ? যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, সত্যকে মিথ্যার সিন্দুকে আটকিয়ে রাখা যায় না। সত্য আপন মহিমায় প্রকাশিত হবেই।

তাই নবী করিম (সাঃ)-এর আনুগত্যের পাশাপাশি তার সকল আদেশ নিষেধ উপদেশ মান্য করতে হবে। নচেৎ প্রকৃত ও পরিপূর্ণ মুমিন হওয়া যাবে না। বরং পথভ্রষ্ট হতে হবে। অতএব, মুমিন হতে হলে, পুলসিরাত অতিক্রম করতে হলে এবং জান্নাতে যেতে হলে জান্নাতের সর্দারদের আহলে বাইতদের“ আলী, ফাতেমা, হাসান ও হোসেইন” (আঃ)-কে জানতে হবে এবং তাদেরকে আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসতে হবে তাহলেই নিশ্চিত নাজাত। পরিশেষে এটাই বলতে চাই, আল্লাহ তায়ালা আমাদের যে অবকাশ দিয়েছেন তা ফুরিয়ে যাবার আগেই, বিবেককে জাগ্রত করুন। অধ্যয়ন করুন! বিচার করুন!! এবং সিদ্ধান্ত নিন!!!
“ কোরআন ও হাদীসের আলোকে আহলে বাইত (আঃ)-ই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তা” ।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা , আল্লাহ যেন সকলকে“ সিরাতে মুস্তাকিমের ” সত্য পথ বুঝার ও“ সিরাতে মুস্তাকিমের ” সত্য পথে চলবার তৌফিক দেন- আমিন।

“ আরজ গুজার”
মোহাম্মাদ নাজির হোসাইন


-------------------------
যারা ইসলামের সঠিক ইতিহাস এবং উক্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানতে চান, তাদের এই গ্রন্থ গুলো পড়ার অনুরোধ রইল।

মহানবী [সাঃ]-এর আহলে বাইত [আঃ]-এই নাজাতের উসিল
মহানবী (সাঃ)-এর আহলে বাইত (আঃ)-এই নাজাতের উসিলা

আহলে বাইত[আ:]-ই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তা
আহলে বাইত(আ:)-ই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তা

মারেফাতে ইমামাত ও বেলায়েত
মারেফাতে ইমামাত ও বেলায়েত

বিস্তারিত এই ব্লগ এঃ
Ahlulbayt Bangla Books

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.