নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যতক্ষণ আছে এই দেহে প্রান, প্রান পনে সরাবো পৃথিবীর জঞ্জাল, এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে জাব---নবজাতকের কাছে এ আমার অঙ্গীকার।

আমি লিলিয়ান

নাম গন্ধহীন

আমি লিলিয়ান › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমরা ছয়জন এবং আমাদের চোখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচন ভাবনা

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৮:০১

বছর দেড়েক হল ইউরোপ এ এসেছি। আমি আমার চিরকালের আড্ডাবাজ স্বভাবখানি ত্যাগ করতে না পারার কারনে এই অল্প সময়েই ভাল কিছু বন্ধু জুটেছে।জুটেছে কিছু বান্ধবী। বাংগালি এবং বিদেশি দুই ধরনের। মজা করার করার উদ্দেশে আমরা প্রায়ই মিলিত হই এক জায়গায়, আড্ডা চলে অনেক রাত্রি পর্যন্ত, কখনও কখনও সারা রাত বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন গুলাতে। এই আড্ডার সময় আমরা বিভিন্ন বিসয় নিয়ে গল্পে, তর্কে মেতে উঠি একজন আরেকজনের সাথে। নির্ধারিত কোন বিষয় নিয়ে আড্ডা বা আলোচনা হয় না। সব ধরনের বিষয় নিয়েই গল্প বা আলোচনা হয়। আমি ব্লগ পরতে ভালবাসি। এক সময় আমি নিজেও কবিতা গল্প লিখতে পছন্দ করতাম। কিন্তু আজ প্রায় এক যুগ হতে চলল বলতে গেলে কিছুই লিখি না। কিন্তু একদিন আমার মনে হল আমাদের এই আড্ডার ব্যাপারগুলো নিয়ে ব্লগ লিখে ফেলা যায়। আর সেই চিন্তা থেকেই আজকে এই সামান্য লেখার প্রয়াস।



যাই হোক প্রারম্ভিকতা বোধয় অহেতুক লম্বা না করাই ভাল। বিদেশ বিভুইয়ে থাকা সত্ত্বেও আমরা সবাই দেশের খোঁজ খবর নিয়মিত রাখার চেষ্টা করি যে যার মত। বাংলাদেশের রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়েও আমরা কথা বলি। আমার আজকের লেখার বিসয়বস্তু বর্তমানে বাংলাদেশের একটি প্রকট রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে আমাদের বন্ধুদের মতামত এবং আমার নিজের মতামত। আর এই প্রকট সমস্যাটি হচ্ছে বাংলাদেশের আগামি নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকার ইস্যু। আমাদের আড্ডার নিয়মিত সদস্য আমরা পাচ বন্ধু,মিরাজ, জু্য়েল, টনি, রাসেল, আমি ও এক অতিকথনি বান্ধবী। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকার ইস্যু একটি অন্তত স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয় নিয়ে কোন প্রকার মতবাদ বা সমাধান আমার নিজেরও জানা নেই বা সেরকম কিছু উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি না।



আমাদের আলোচনার কোন এক পর্যায়ে সবার কাছে আমার একটি প্রশ্ন ছিল। প্রশ্নটি ছিল "নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে আজকের আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থানের পেছনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তাধারা কি বা কেমন"।



এই নিয়ে আমাদের নগণ্য কয়েকজন মানুষের চিন্তাধারা এখানে উত্থাপনের আগে আমি বলে রাখি আমরা কেউই রাজনীতির সাথে যুক্ত না , এটা একান্তই আমাদের যার যার ব্যক্তিগত মতামত।



আলোচনার শুরুতে প্রথম শুনেছিলাম মিরাজ ভাইএর মতামত। তার মতে বাংলাদেশের মিডিয়া এখন অনেক শক্তিশালী এবং তারা সোচ্চার যেকোনো অন্যায় এর বিরুদ্ধে। তাই এখন কোন সরকারই কারছুপির নির্বাচন করে পার পাবে না। ব্যক্তিগতভাবে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বেস পছন্দ করেন এবং তার বিশ্বাস তিনি নিরপেক্ষ নির্বাচন করবেন তা তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর অধীনে হোক বা অন্তর্বর্তী সরকার এর অধীনে হোক। এরপর জুয়েল ভাই এর মতামত অনুসারে যেভাবেই হোক নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ কারো অধীনে, অন্যথায় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না এবং দেশ আরেকবার একটি ভয়াবহ রাজনৈতিক সঙ্কটের মুখোমুখি হবে। অন্য দুজন বন্ধুরও মতামত একই রকম। তাদের কারো কারো মতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ তাকে ভুল ভাবে পরামর্শ দিচ্ছে তার নিজ দলের অধীনে নির্বাচন করে নিজেদের আবার ক্ষমতায় আনার যার ফলাফল হতে পারে চরম বিশৃঙ্খলার সুত্রপাত। যাই হোক তার মতামতের সাথে আমি কিঞ্চিৎ সহমত পোষণ করছি।



আরও একজন বান্ধবী আছে যার মতামত হল বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ যেটা করবে সেটাই ঠিক। যাই হক এই মন্তব্য আমাদের মাঝে খুব একটা গ্রহণযোগ্য হয়নি ।এটা কোন প্রকার সিরিয়াস আলোচনা ছিল না বা কেউ খুব চিন্তা-ভাবনা করে মতামত প্রদান করেনি।



সবশেষে সবাই যখন আমার কাছে আমার মতামত জানতে চাইল। তখন আমি সবাইকে যে উত্তর দিলাম তা বলার আগে আওয়ামী লীগ সমন্ধে আমার চিন্তা- চেতনা যা তা ব্যক্ত করা দরকার। আওয়ামী লীগ নামের এই দলটির ডাকে আমাদের মহান মুক্তিজুদ্ধ হয়েছিল ১৯৭১ এ। কিন্তু তার কিছু বছর পরে এই দলটিই চেয়েচিল মানুষের বাক-সাধিনতা কেড়ে নিতে। আমাদের স্বাধীনতা একটা শিশু পর্যায়ে থাকতেই তারা ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত তার গলাটিপে হত্যা করতে চেয়েছিল। এই দলটি আবার ২০০৭-০৮ সুযোগ পেয়েছিল এই দেশের সমস্ত কলঙ্কময় ইতিহাসকে মাটি দিয়ে নতুন করে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস সৃষ্টির, কিন্তু এবারও তারা সে সুযোগকে পদদলিত করে , দুর্নীতি ও গুম-হত্যার রাজনীতি শুরু করে, আবারও অন্য সবার মত দেশ ও জনগনের সেবা না করে তারা ব্যস্ত নিজেদের ক্ষমতা পাকাপাকি করার চেষ্টায় রত। আমি এখানে বিশেষ কিছু রাজনৈতিক দলের তুলনামুলক আলোচনা করছি না, দয়া করে কেউ সেরকম ভাববেন না। অন্য দলগুলোর কীর্তি-নামা আজ শুরু করলে আজ আর এই লেখা শেষ করা হবে না।



এবার আসল কথায় ফিরে আসি। আমার মনে হয় আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তা যে এই মুহূর্তে প্রধান বিরোধী দল নাজুক অবস্থায় আচে,আন্দোলনে তারা তাদের তুলনায় পিছিয়ে, তাই এই সুযোগে নিজেদের মত করে নির্বাচন করে সরকার গঠন করে ফেললে বিরোধী দল কিছু করতে পারবে না। কারন মাঠ দখলের জন্য উনাদের হাতে আছে ছাত্রলীগ মত ভয়ঙ্কর অস্ত্র। আরও একটা চিন্তা মনে হয় উনি করেছেন যেটা অন্নরা কেউ ভাবছে না। সেটা হল এবার যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসে তাহলে তাদের আবার ক্ষমতায় আসতে আবার ৫ বছর। আগামি ৫ বছর পরে উনার বয়স হবে ৭০, সেই বয়সে আর নির্বাচন করার মত শারীরিক অবস্থা নাও থাকতে পারে। তাই এবার তিনি একটি রিস্কি খেলা খেলতে চাচ্ছেন জাতে জর করে হক, ছলে-বলে কৌশলে হোক ক্ষমতা হাতে রাখা চাই-ই চাই। এবং এটাও হতে পারে তিনি হয়ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি আরও পাঁচ বছর পরে আর রাজনীতি করবেন না। তাই এইরকম একটু রিস্ক নেয়াই যায় তাতে যদি আর একবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায় তাতে মন্দ কি। আর যদি ক্ষমতায় না আসতে পারে তেমন কোন ক্ষতি নাই কারন বাংলাদেশের মানুষের যা ভুলোমন তারা পাচ বছর পর এই গুলা ঠিকই ভুলে যাবে।



আজ এখানেই সমাপ্তি দিব আমাদের কল্পনাপ্রসুত কিছু একান্তই ব্যক্তিগত মতামত। ধন্যবাদ সবাইকে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.