নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একদিন সবকিছু গল্প হয়ে যায়...

আহমাদ মোস্তফা কামাল

জন্ম : ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৬৯; মানিকগঞ্জ। পৌষের কোনো এক বৃষ্টিভেজা মধ্যরাতে এদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম হয়েছিলো আমার, মায়ের কাছে শুনেছি। হঠাৎ বৃষ্টির সেই শীতের রাতে আঁতুর ঘরে মার পাশে দাইমা নামক আমার অ-দেখা এক মহিলা ছাড়া আর কেউ ছিলো না। উঠোনে রেখে দেয়া প্রয়োজনীয় সাংসারিক অনুষঙ্গ বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে দাইমা বাইরে গেলে প্রায়ান্ধকার ঘরে জন্ম হয়েছিলো আমার। জন্মেই দেখেছিলাম, আমার চারপাশে কেউ নেই- মা ছাড়া। আজ, এই এতদিন পর- আমার চারপাশে সহস্র মানুষের ভিড়- তবু মার কাছে ফিরতেই ভালো লাগে আমার। যোগাযোগ : [email protected] [email protected]

আহমাদ মোস্তফা কামাল › বিস্তারিত পোস্টঃ

না এলেই ভালো হতো...!

৩০ শে মে, ২০০৮ রাত ১১:২৮

(জীবনানন্দ দাশের কবিতা নিয়ে সামান্য কিছু কথা। ভালোলাগা শেয়ার করতেও ভালো লাগে!)



জীবনানন্দ দাশের কবিতায় মাঝে মাঝে অদ্ভুত কিছু ডিলেমা (ভালো বাংলা প্রতিশব্দ খুঁজে পাচ্ছি না! 'অসঙ্গতি' বলা যায়?) চোখে পড়ে।



অনেকদিন আগে মুহম্মদ জাফর ইকবাল তাঁর কপোট্রনিক সুখদুঃখ গ্রন্থের একটি গল্পে এই ধরনের একটি বিষয় নিয়ে মজা করেছিলেন। একটি রোবটকে-



'এইখানে সরোজিনী শুয়ে আছে,- জানি না সে এইখানে শুয়ে আছে কিনা'



লাইনটি শুনিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, এই লাইনটি সম্বন্ধে তোমার কি মত?

রোবটের উত্তর ছিলো- 'চিন্তায় অসঙ্গত কোনো মানুষের উক্তি'!!



এরকম একটি লাইন রোবটকে নয় শুধু, মানুষকেও বিভ্রান্ত করতে পারে। মনে হতেই পারে, এর অর্থ কি? কেন এই ডিলেমা তৈরি করেন কবি?



কিন্তু এরচেয়ে অনেক সহজবোধ্য পংক্তি পড়েও কখনো কখনো বিভ্রান্ত হন কেউ কেউ। উদাহরণ দিচ্ছি। সৈয়দ শামসুল হক আমাদের প্রবীণ কবিদের একজন। তাঁর পাঠ অভিজ্ঞতা বা বোঝাপড়া নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। কিন্তু 'বনলতা সেন'-এর প্রথম কয়েকটি পংক্তি পড়ে তিনিও যে মারাত্নক বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন, সেটি বোঝা গেছে তাঁর ' জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন : কিমিয়ার সন্ধানে' লেখাটি পড়ে। (কিমিয়া বলতে তিনি বুঝিয়েছেন কেমিস্ট্রি বা রসায়ন।)



'হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,

সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে

অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে

সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;

আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,

আমারে দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।'



এই হচ্ছে প্রথম কয়েকটি পংক্তি। সৈয়দ হক লিখেছেন-



কবিতাটি যখন আমরা শুনি, অথবা মনে মনে আওড়াই, তখন কি একবারও আমাদের মনে হয়- হাঁটিতেছি কথাটা সমুদ্রের সঙ্গে কীই না অসঙ্গত! হাজার বছর ধরে আমি জল ভ্রমিতেছি পৃথিবীর বুকে- কেন নয়? কেন হলো 'হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে' যখন তার পরেপরেই আসছে সমুদ্রের কথা? জল ভ্রমিতেছি, জল ভাঙিতেছি- এমন লেখাটাই তো 'স্বাভাবিক' ছিলো! কবি তা লেখেন নি, আর আমরাও অবলীলায় ওই গৃহস্থ-সুলভ সদযুক্তি ও স্বাভাবিকতাটি উপেক্ষা করে অগ্রসর হই। কবিতার কিমিয়া এভাবেই আমাদের গার্হস্থ্য অভ্যস্ত মনটিকে নাড়িয়ে দেয়, ভেঙে দেয় আমাদের সকল 'স্বাভাবিকতা', শব্দের সকল প্রত্যাশিততা, এবং অনুভবের নীলিমায়।



শেষের কথাটি খুব সত্যি বলেছেন তিনি। কবিতা আমাদের গার্হস্থ্য অভ্যস্ত মনটিকে নাড়িয়ে দেয়, ভেঙে দেয় আমাদের সকল 'স্বাভাবিকতা'। কিন্তু কবিতাটি বুঝতে ভুলও করেছেন তিনি। কেন পথ হাঁটিতেছি, কেন জল ভ্রমিতেছি নয়- এইসব প্রশ্ন ওই না বোঝার ফল। কিন্তু ভুলটা কোথায়? ভুলটা হচ্ছে পড়ার ধরনে। তিনি কবিতার প্রথম দুই লাইন পড়েছেন এভাবে-



হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,

সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে




ফলে তার মনে হয়েছে যে, কবি সাগরেও হাঁটার কথা বলছেন!



আসলে পড়তে হবে এভাবে-



হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,

সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে

অনেক ঘুরেছি আমি;




পড়ার সময় প্রথম লাইনটি ‌'পথে' পর্যন্তই, কিন্তু দ্বিতীয় লাইনটি শেষ হবে তৃতীয় লাইনের মাঝামাঝিতে, অর্থাৎ 'অনেক ঘুরেছি আমি' পর্যন্ত। অর্থাৎ পথে তিনি হাঁটেনই, আর সাগরে ঘোরেন!



একটি কবিতার ভুল পাঠ একজন প্রবীণ কবিকেও কিভাবে বিভ্রান্তিতে ফেলে এটি তার প্রমাণ দেয়। যাহোক, সৈয়দ হকের প্রসঙ্গ টানা হয়েছে তাঁকে অসম্মান করার উদ্দেশ্যে নয়, একটি উদাহরণ হিসেবে। এই লেখাটি স্রেফ জীবনানন্দের কবিতার ব্যাপারে আমার নিজের মুগ্ধতা প্রকাশের জন্য লেখা, অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই এর।



জীবনানন্দের বহু কবিতা আমার প্রিয়, অসম্ভব প্রিয়। একটির উদাহরণ দেই। তাঁর 'রূপসী বাংলা'র একটি কবিতা-



এইসব ভালো লাগে : জানালার ফাঁক দিয়ে ভোরের সোনালী রোদ এসে

আমারে ঘুমাতে দ্যাখে বিছানায়- আমার কাতর চোখ, আমার বিমর্ষ চুল

এই নিয়ে খেলা করে : জানে সে যে বহুদিন আগে আমি করেছি কি ভুল

পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমাহীন গাঢ় এক রূপসীর মুখ ভালোবেসে

পউষের শেষরাতে আরো আমি দেখি চেয়ে আবার সে আমাদের দেশে

ফিরে এলো, রং তার কেমন তা জানে ওই টসটস ভিজে জামরুল

নরম জামের মতো চুল তার- ঘুঘুর বুকের মতো করুণ আঙুল

পউষের শেষরাতে নিমপেঁচাটির সাথে আসে সে যে ভেসে



কবেকার মৃত কাক; পৃথিবীর পথে সে তো নাই আজ আর

তবু সে ম্লান জানালার পাশে উড়ে আসে নীরব পাখায় সোহাগে

মলিন পাখনা তার খড়ের চালের হিম শিশিরে মাখায়

তখন এ পৃথিবীতে কোনো পাখি জেগে এসে বসেনি শাখায়

পৃথিবীও নাই আর- পেঁচা শুধু একা একা সারারাত জাগে

'কি বা হায় আসে যায়' বলি আমি, 'তারে যদি কোনোদিন না পাই আবার?'

নিমপেঁচা তবু হাঁকে :'পাবে নাকো কোনোদিন- পাবে নাকো কোনোদিন-

পাবে নাকো কোনোদিন আর'





কবিতার প্রথম দিকের পংক্তিগুলো দেখুন। ভোরের সোনালী রোদ এসে যে বিষণ্ন মানুষটিকে নিয়ে খেলা করে, সে ফেঁসে গেছে- ' পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমাহীন গাঢ় এক রূপসীর মুখ ভালোবেসে'। এই পঙক্তিটি একটু ব্যাখ্যা করি।



'রূপসী' শব্দটিই একজন নারীর বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। যদি আমরা শুধু 'রূপসী' বলে তৃপ্তি না পাই তখন বলি: 'খুব রূপসী' 'দারুণ রূপসী' 'সাংঘাতিক রূপসী' 'ভয়াবহ রূপসী' ইত্যাদি। শব্দগুলো খেয়াল করা দরকার। 'খুব রূপসী' ঠিক আছে, 'দারুণ রূপসী'ও মানা যায়। কিন্তু 'সাংঘাতিক' বা 'ভয়াবহ' শব্দগুলো তো নেতিবাচক। ওগুলো আমরা ব্যবহার করি কেন? কারণ, ইতিবাচক শব্দগুলোর মোলায়েম ধরণ দিয়ে আমরা এই আবেগটি যথার্থভাবে প্রকাশ করতে পারছি না! সেই রূপসী যে কতোখানি রূপসী সেটা বোঝাতেই পারছি না, ফলে এইসব নেতিবাচক শব্দ আমাদেরকে ব্যবহার করতে হচ্ছে!



জীবনানন্দের অবস্থাটা দেখুন। আমার ধারণা, (ধারণা ভুল হতে পারে, বলাইবাহুল্য) তিনি প্রথমে 'পৃথিবীর সবচেয়ে রূপসী' লিখেছিলেন, কিন্তু লিখে তাঁর মনে হলো- রূপসীর রূপটা ঠিক বোঝানো গেলো না। এরপর লিখলেন- 'পৃথিবীর সবচেয়ে গাঢ় এক রূপসী'। কিন্তু এবারও হলো না। এরপর লিখলেন সেই অভূতপূর্ব লাইন-'পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমাহীন গাঢ় এক রূপসীর মুখ ভালোবেসে' (এরকম একটি লাইন সম্ভবত সারা পৃথিবীর কবিতা ঘেঁটেও পাওয়া যাবে না।) ক্ষমাহীন কেন? কারণ, এই রূপ ক্ষমা করে না, দেখলে প্রেমে পড়তেই হবে। অর্থাৎ যে দেখবে তার আর কোনো বিকল্প থাকবে না ওই রূপসীর প্রেমে পড়া ছাড়া!



এর পরের লাইনগুলো পড়লে রূপসীকে আরেকটু ভালোভাবে বোঝা যাবে।

ওই একই রূপসী সম্বন্ধে তিনি বলছেন- 'রঙ তার কেমন তা জানে ওই টসটস ভিজে জামরুল'

(জামরুলের মতো নয় কিন্তু! জামরুল জানে! )



এরপর- 'নরম জামের মতো চুল তার'

(বনলতা সেনের চুল নয় এটি! 'চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা' নয়- 'নরম জামের মতো চুল'। )



এরপর- 'ঘুঘুর বুকের মতো করুণ আঙুল'

(হায়, এই উপমা কিভাবে ব্যাখা করবো! 'ঘুঘুর নরম বুক' তো শুধু অনুভবের বিষয়। একটা ঘুঘুকে হাতের মধ্যে নিলে, ওই মায়াবী-করুণ পাখিটির নরম বুক যেভাবে বেদনায় ও বিহ্বলতায় কাঁপে, তা কি বলে বোঝানো যাবে? ওই রূপসীর আঙুলও তো তেমনি!)





কিন্তু তিনি যে বললেন- 'বহুদিন আগে আমি করেছি কি ভুল'! ভুল? এ কি কেবলই ভুল? হ্যাঁ, ভুলই তো! এরকম রূপসীকে ভালোবাসলে জীবনটা তো এলোমেলো হয়ে যাওয়ার কথা! তাদেরকে যে পাওয়া যায় না, ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থাকে তারা!



আর শেষে নিজেকেই সান্ত্বনা দিচ্ছেন- 'কি বা হায় আসে যায়' বলি আমি, 'তারে যদি কোনোদিন না পাই আবার?'



কিন্তু সান্ত্বনায় কাজ হচ্ছে না। কী প্রকাণ্ড হাহাকার জেগে উঠছে দেখুন- নিমপেঁচা তবু হাঁকে :'পাবে নাকো কোনোদিন- পাবে নাকো কোনোদিন- পাবে নাকো কোনোদিন আর' !!



'পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমাহীন গাঢ় এক রূপসীর মুখ' ভালোবাসলে এই হাহাকার জন্ম নেবেই। জীবনানন্দেরই নিয়েছিলো, নিজের কথা আর না-ই বা বললাম!



(তবে এই রূপসীকে কেউ যদি 'রূপসী বাংলা' ধরে নেন, তাতেও অসুবিধা নেই। আমি একজন নারীকে কল্পনা করেই এর ব্যাখ্যা করেছি!)



পাঠকের বোধহয় এতক্ষণে ধৈর্যচু্যতি ঘটে গেছে, লেখাটি বরং শেষ করা যাক আরেকটি ছোট্ট উদাহরণ দিয়ে। তাঁর 'সুচেতনা' কবিতাটির শেষের কয়েকটি পংক্তি এরকম :



মাটি পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে কখন এসেছি,

না এলেই ভালো হতো অনুভব করে;

এসে যে গভীরতর লাভ হলো সে-সব বুঝেছি

শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে;

দেখেছি যা হলো হবে মানুষের যা হবার নয়-

শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়।




এখানেও সেই ডিলেমা। অন্তত আপাতদৃষ্টিতে তাই মনে হয়।



মাটি পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে কখন এসেছি,

না এলেই ভালো হতো অনুভব করে;




এই পংক্তি দুটো পড়ে কি মনে হয় না, এই মানবজন্মের ঘরে না এলেই ভালো হতো! এই যন্ত্রণাদগ্ধ জীবনের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে এ কথা তো আমাদের মনে হয়ই। কিন্তু তার পরের পংক্তিতেই তিনি বলছেন-



এসে যে গভীরতর লাভ হলো সে-সব বুঝেছি



হ্যাঁ, তাই তো! 'না এলেই ভালো হতো' এরকম কখনো কখনো মনে হয় বটে, কিন্তু এসে যে 'গভীরতর' লাভও হলো! এই মনুষ্যজীবন না পেলে দেখা কি হতো 'শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়'?

মন্তব্য ৬৫ টি রেটিং +৩২/-৩

মন্তব্য (৬৫) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে মে, ২০০৮ রাত ১১:৩৮

অদ্ভুত আঁধার এক বলেছেন: আমি ব্যাখা করতে পারবনা লিখাটা পড়ে কিরকম ভাল লাগল।
জী দা আমারও প্রিয় কবি,
এক ধরনের বিষন্ন আনন্দ অনুভব করি তার কবিতায়,
মন ভাল থাকলে বিষন্ন হয়ে যায়
আর মন খারাপ থাকলে উলটো
মন ভাল হয়ে যায়...

ধন্যবাদ...............
শুভেচ্ছা নিন.........

৩০ শে মে, ২০০৮ রাত ১১:৫১

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: আপনার মন্তব্যটি পড়েও ভালো লাগলো আমার।

'মন ভাল থাকলে বিষন্ন হয়ে যায়
আর মন খারাপ থাকলে উলটো
মন ভাল হয়ে যায়...'

হা হা হা... জীবনানন্দ আপনাকেও এরকম ভোগান্তিতে ফেলেন!

আমাকেও!!

২| ৩০ শে মে, ২০০৮ রাত ১১:৫৭

অ্যামাটার বলেছেন: অনেক বড় পোষ্ট, অনেকটা স্কিমিং করে পড়লাম,
সত্যি বলতে কি, আপনার সাহিত্য সমালোচনার স্টাইলটা আমার ভাল লাগে নি।
যুক্তি খন্ডনের আগে জীবনানন্দ দাশের সম্বন্ধে কয়েকটা কথা বলি;

জীবনানন্দ দাশ ত্রিশের দশকের একজন আধুনিক কবি,বস্তুত রবীন্দ্র ঘরণার বাইরে জীবনানন্দ-ই প্রথম বাংলা কাব্যকে একটা আধুনিক রুপ দিয়েছেন।
একটা প্রবাদ আছে, "কবিতা সয়তানের শারাব!"---এটা ডোধহয় একমাত্র জীবনানন্দের জন্যই পারফেক্ট।
তার সব সাহি্ত্যকর্মের মধ্যে একটা কেমন যেন হাহাকার শোনা যায়___যেন একটু ভালবাসার জন্য, একটু সহানুভূতির জন্য এমনকি করুণার জন্যও কাঙাল...
বন্ধু বুদ্ধদেবের ভাষায় 'নির্জনতম কবি' ।

এখন আসাযাক আপনারট উল্লেখিত অসঙ্গতিগুলো নিয়ে,
দেখুন,
প্রত্যেক কবিই তার কাব্যসৃষ্টির সময় নিজেই রাজা...তার স্বাধীনতা আছে কাব্যের ব্যাকরণের শৃঙ্খল না মানার...
জদিও জীবনানন্দের কাব্য ব্যাকরণ সম্মত;
আর জীবননন্দের সৃষ্টিরকর্মের স্বাদ সম্পূর্ণ অন্যরকম, একেবারেই ভীন্ন, এইকারণে সে এক্সট্রিম কোনকিছুকে বিশেষায়িত করতে গিয়ে হয়ত নেগেটিভ শব্দ ব্যাবহার করেছে,
আর অন্য কিছু উদাহরণ দেওয়া যাক, ড় মাপের সাহিত্যিকের ছোঁয়ায় অনেক সময় ব্যাকরণ বহির্ভূত কিছু-ও এর অংশ হয়ে যায়, যেমন কবিগুরুর কাবুলিওয়ালা!
আসলে কাবুলি-র পরে ওয়ালা শব্দটা কিন্তু বাংলা ব্যাকরণ সমর্থন করে না, শুধু কাবুলি হবে।
অফটপিক:
'সোনালি ডানার সঙ্খচিল'--কবিতা টা কি আছে?
থাকলে কি পাওয়া যাবে?

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১২:০২

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: আমি তো তাঁর ব্যাকরণ নিয়ে কথা বলিনি। ভুল করেছেন তা-ও বলিনি। বরং আমার ভালো লাগার কথাই বলেছি।

কবিতাটির কথা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। পড়ে আপনাকে পাঠিয়ে দেবো।

৩| ৩০ শে মে, ২০০৮ রাত ১১:৫৮

ফাহমিদুল হক বলেছেন: ভালো লাগলো।
আপনার ব্যাখ্যা পড়ে জীবনানন্দ বরাবরের মতোই ক্ষমাহীন গাঢ় মুগ্ধতা সৃষ্টি করে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১২:০৩

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো! সর্বনাশ!!

৪| ৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১২:০১

রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: "রূপসী" শব্দটি আপনি প্রায়ই আপনার গল্পগুলোতে ব্যবহার করেন; একটা গল্পের নায়িকাকে কি সবসময়/বেশিরভাগ সময় রূপসী হতেই হয়? এব্যাপারটা আমার ভালো লাগেনা একদমই...

পোস্ট ভালো, ধন্যবাদ।

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১২:০৮

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: এই অভিযোগটি আমাকে আরো অনেকবার শুনতে হয়েছে। কিন্তু খুব কম গল্পেই আমি রূপসীদের রূপ বর্ণনা করেছি। অর্থাৎ এই এই থাকলে একজন নারী রূপসী হয়, আমি সেরকম বোঝাতে চাইনি। প্রত্যেক প্রেমিকের কাছে তার প্রেমিকা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম রূপসী। অন্যের চোখে সে রূপসী না-ও হতে পারে। আমার গল্পে সেই অর্থে 'রূপসী' ব্যবহার করি।

ধন্যবাদ শাহেদ, প্রশ্নটি করার জন্য।

৫| ৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১২:১২

ফারহান দাউদ বলেছেন: জীবনানন্দের কবিতা নিয়ে কথা বলার মত ধৃষ্টতা এখনো আমার হয়নি,কোনদিন হবার কথাও নয়। তবে এইটুকু বলটে পারি শুধু,ভাল লাগে,ভাল লাগবে,ব্যাখ্যাতীত এক ব্যাপার,ঘুঘুর নরম বুকের মতই অনুভবের জন্য। লেখাটা খুব ভাল লেগেছে।

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১২:৪৯

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

৬| ৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১২:১৪

রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: সেক্ষেত্রে মাঝেমাঝে রূপসীর অন্যান্য প্রতিশব্দগুলোও ব্যবহার করলে পারেন।

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১:০৮

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: ঠিক আছে, তাই করবো।

৭| ৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১২:২৩

রণদীপম বসু বলেছেন: এ পোস্টের মন্তব্য করতে যাওয়াটাই হবে আমার জন্যে বড় বোকামি। কেননা এ মুহূর্তে এটার যোগ্য মন্তব্য আমার আয়ত্তের বাইরে।

আমি নিশ্চিৎ, আপনি গল্প লেখার পাশাপাশি চমৎকার কবিতাও আমাদেরকে উপহার দিতে সক্ষম। প্রয়োজন কেবল আপনার ইচ্ছা আর ক্ষমাহীন মগ্নতা !

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১:০৩

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: কবিতা? সর্বনাশ! ওটা আমার ধরাছোঁয়ার বাইরে।

কিছু কিছু মাধুর্য কিছু কিছু মানুষের কাছে চিরকাল অধরাই রয়ে যায়, কবিতার আমার কাছে সেরকমই একটা ব্যাপার।

আমার বন্ধুদেরকে আমি প্রায়ই বলি,- যা-ই লিখি না কেন, আমি শেষ পর্যন্ত একটি কবিতাই লিখতে চাই। অর্থাৎ কবিতার মতো সুন্দর একটা গল্প! কিন্তু সত্যি সত্যি কবিতা লেখা আমার পক্ষে কোনোদিনই সম্ভব হবে না। আমার সেই সাহসই নেই।

তবে আপনার মন্তব্যের আবেগটুকু ধরতে পেরেছি আমি। এই ভালোবাসার উত্তর হয় না। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

৮| ৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১২:৪৪

অনন্তমৈথুন বলেছেন: জানলাম, আমি অনেক কিছু শিখলাম!!

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১:০৫

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: ভালোলাগা শেয়ার করেছি, আর কিছু নয়!

৯| ৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১:১৭

মুজিব মেহদী বলেছেন: আহমাদ মোস্তফা কামালের ফেসবুক স্ট্যাটাসে কিছুদিন থেকে লক্ষ করছিলাম সম্ভবত এরকম একটি বাক্য যে, জীবনানন্দের কবিতাগুলো খুব ভাবাচ্ছে'। এই ভাবনাই অর্থময় হয়ে উঠল এই আলোচনায় ; এবং বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এর অভিঘাত তাঁর আরো আরো কাজকেও ছুঁয়ে যাবে হয়ত। বলতে কী, আলোচনাটি আমার ভালো লেগেছে।

মুহম্মদ জাফর ইকবালের রচনার চরিত্রমুখের সংলাপের উদাহরণ সহযোগে জীবনানন্দের কবিতা প্রসঙ্গে ডিলেমা (অসঙ্গতি) হিসেবে তিনি যে জায়গাকে শুরুতেই সামনে এনেছেন, এটি বস্তুত অসঙ্গতি নয়। কবিতায় এটি একটি অলংকার হিসেবে স্বীকৃত। বাংলায় একে সম্ভবত 'বিরোধাভাস' বলা হয়। বাংলা কবিতায় জীবনানন্দ এই অলংকারের মাস্টার।

সৈয়দ শামসুল হকের 'বনলতা সেন' ব্যাখ্যার ত্রুটি হিসেবে তিনি কবিতাটির প্রারম্ভাংশের ভুলপাঠকে দায়ী করেছেন। এ প্রসঙ্গে কীভাবে পাঠ করে সৈয়দ হক ভুলটা করলেন ও কীভাবে পাঠ করলে ভুলটা করতেন না তা দেখিয়ে তিনি সত্যি চমৎকৃত করলেন।

আমি অবশ্য দু'ভাবে পাঠেই রাজি ; এবং সৈয়দ হক যেভাবে পড়ে 'হাঁটিতেছি' ক্রিয়ার বদলে 'ভ্রমিতেছি' ক্রিয়ার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, আমি অবশ্য তাও বলতে চাই না। কারণ আমি জানি, কবিতায় ক্রিয়ার ব্যবহারই কবিকে সবচে থাবায়, সবচে' ক্লিশে অনুভূতি দেয়। ওকে দুমড়ে মুচড়ে স্থানচ্যুত করে নতুন রূপ না দিতে পারলে কবিতার ধার বাড়বে না। জীবনানন্দ সেটা করেছেন, পরবর্তী সময়ে সেটা আরো প্রকট হয়েছে।

ভ্রমণকে ক্লান্তিকর বুঝাতে 'ভ্রমিতেছি'র চেয়ে 'হাঁটিতেছি'ই সঠিক। বিলাসবহুল জাহাজে চড়ে এক সাগর থেকে অন্য সাগরে যাওয়ার চেয়ে সাগরের তীর ধরে হেঁটে এক থেকে অন্যে গমন অনেক বেশি ক্লান্তিকর।

সবশেষে 'অ্যামাটার'-এর মন্তব্যটা নিয়ে কিছু কথা। উনি এই আলোচনার অসঙ্গতি হিসেবে যা বলতে চাইলেন, তা এ লেখার ক্ষেত্রে খাটে না বলেই মনে হলো। আর জীবনানন্দের ''সোনালি ডানার সঙ্খচিল" নামে কোনো কবিতা কখনো চোখে পড়ে নি। অ্যামাটার হয়ত বনলতা সেন গ্রন্থের 'হায় চিল' কবিতাটির কথাই বলতে চেয়েছেন। যেটা শুরু হয়েছে এভাবে--

হায়, চিল সোনালি ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে
তুমি আর কেঁদো নাকো উড়ে উড়ে ধানসিড়ি নদীটির পাশে!
................................................................................

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ২:১৯

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: জীবনানন্দের কবিতাগুলোর অভিঘাত আমার আরো আরো কাজকেও ছুঁয়ে না যাওয়াই ভালো, মুজিব ভাই। ব্যাপারটা আসলেই ভোগান্তির। কাজকর্মগুলো এলোমেলো হয়ে যায়।
যাই হোক, বিরোধাভাস শব্দটিই সঠিক শব্দ এক্ষেত্রে। আমি তখন এই শব্দটি খুঁজে পাইনি। ধন্যবাদ আপনাকে শব্দটি মনে করিয়ে দেবার জন্য।

আপনি যে অর্থে দু-ভাবেই কবিতাটি পড়তে রাজি, সৈয়দ হক কিন্তু তা করেননি। তিনি একভাবেই পড়েছেন, এবং সেই বোঝার আলোকেই পুরো কবিতাটি ব্যাখ্যা করেছেন। সেটাকে আমার ভুল বলে মনে হয়েছে বলেই এটা উল্লেখ করেছি।

আপনার অন্য কথাগুলোর সঙ্গে আমার দ্বিমত নেই।

১০| ৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১২:৫৬

নাদান বলেছেন: অসাধারন একটা লেখা।

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১:০৬

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

১১| ৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৩০

সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: অসাধারণ...........।
জীবনানন্দ আমার প্রিয় কবি......তাঁকে নিয়ে এত সুন্দর লেখা।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
অনেক ভালো থাকবেন।
শুভেচ্ছা।

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ২:২৩

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও।

শুভেচ্ছা নিন।

১২| ৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৩৬

মুজিব মেহদী বলেছেন: দুঃখিত। আমার মন্তব্যে দুটো ভুল আছে। শুদ্ধ করে দিচ্ছি।

চতুর্থ প্যারায় চতুর্থ লাইনের 'থাবায়' হবে 'ভাবায়'

'হায় চিল' কবিতার উদ্ধৃতিতে প্রথম লাইনে 'হায়'-এর পরে কমা হবে না, হবে 'হায় চিল'-এর পরে।

১৩| ৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ২:০২

একরামুল হক শামীম বলেছেন: জীবনানন্দের বহু কবিতা আমার প্রিয়, অসম্ভব প্রিয়।
প্রিয় পোস্টের তালিকায় যোগ করলাম।

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ২:২৫

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা আপনাকে।

১৪| ৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ২:১৬

না বলা কথা বলেছেন: আশ্চর্য্য হইলাম। এই জনপ্রিয় অতি সহজ সরল কবিতাটি সৈয়দ হকের মতো কবির বুঝতে না পারার জন্য।
টিভির পর্দায় মাঝে মাঝে অতি উচুঁ জায়গার মানুষের বিদঘুটে আর ভুল আলাপ আলোচনা দেইখা মনে হয়, এই দেশটা চলতাছে কেমনে?
একটা মাত্র সূত্র-আর তা হইলো তেলাতেলি।

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ২:৩২

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: কবিতাটি খুব সহজ সরল না, মনে হয়। কোথাও কোথাও বুঝতে অসুবিধা হলেও হতে পারে।

তবে, যে জায়গাটিতে সৈয়দ হক যে ভুল করেছেন সেটি বিস্ময়কর। কবিতা পড়ার সময় শুধু লাইন ধরে ধরে পড়লে তো হয় না, বাক্যটি আসলে কোথায় গিয়ে শেষ হয়েছে, কিংবা সম্পূর্ণ হয়েছে, সেটি বুঝে নিয়ে পড়লে ভালো হয়।

টিভি পর্দার কথা বললেন, ওটা নিয়ে আর কি বলবো? আপনার মতোই আমারও মনে হয়- দেশটা চলছে কিভাবে?

১৫| ৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ২:৪৮

রন্টি চৌধুরী বলেছেন: হাজার বছর ধরে আমি পথ হাটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি;

এই আপাতসহজ অথচ জটিলতর লাগে আবৃত্তিকারদের কাছে। এই কবিতার প্রতিটা লাইন ধরে ধরে একসময় ঘেটে দেখতে হয়েছে আবৃত্তির প্রয়োজনে। সৈয়দ শামসুল হকের কেন এ বিষয়টি এড়িয়ে গেল বা কেন তিনি প্রথমলাইনটিকে মিলিয়ে নিলেন অন্যগুলোর সাথে জানছি না।
কিন্তু সচরাচর আবৃত্তির সময় কেউ এ ভূলটি করে না।

কবিতা বিশ্লেষনটি যথেষ্ট ভাবনার খোরাক যোগায়...কবিতাপ্রেমীদের চেয়েও আবৃত্তিকারদের বেশী কাজে লাগবে এটি বলেই আমার ধারনা।

আ্যামাটারের উল্লেখ করা হায় চিল কবিতাটি আবৃত্তি করতে যেয়েও কিন্তু আবৃত্তিকারদের জটিলতায় পড়তে হয়।

কারো কারো মতে জীবনানন্দ আবৃত্তি খুব সহজসরল ব্যাপার। তা যে কি রকম সহজসরল তা ভূক্তভোগী মাত্রই জানে!

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ৩:১৭

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: সৈয়দ হকের ব্যাপারটি আমাকেও বিস্মিত করেছে।

আবৃত্তিকাররা ভুল করেন না, করার সুযোগই নেই, করলে তার আবৃত্তি তো মাঠে মারা যাবে। তবে অনেক জ্ঞানি-গুণী পাঠকও ভুল করেন।

জীবনানন্দের কবিতা আবৃত্তি করা সহজ ব্যাপার এইটা কেউ মনে করেন নাকি? যিনি মনে করেন, আপনার সঙ্গে তার পরিচয় থাকলে আমার রেড স্যালুট পৌঁছে দেবেন!!!

শুভেচ্ছা রইলো আপনার জন্য।

১৬| ৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ২:৫৪

বাফড়া বলেছেন: কবিতায় ''নরম জামের মত চুল'' চুল পড়ে আমি এই মিনিং টা ডিডাক্ট করে ছিলাম যে নরম জাম?- কোন জাম নরম হয়? নিশ্চয়ই পাকা জাম। - পাকা জামের রং কি? কালো রং অবশ্যই। - অ, তাহলে কবি খুব কালো রংয়ের চুল বোঝাতে ''নরম জামের মত চুল'' বলেছেন!!!?

আমার এই মিনিং বের করাটা কি ঠিক হলো, না কি জানতে পারলাম না পড়ে। দয়া করে জানাবেন।

এখানে একটা কথা বলা দরকার- আমি কয়েকদিন লিটরেচার পড়ে এমন অবস্হা হয়েছে যে এখন যেখানে কোন হিডেন মিনিং নাই সেখানেও কি একটা খুজে পাই; মনে হয় কবি এই খানে উপমা দিয়ে কি একটা বলে ফেলেছে যা না বের করলেই নয়। আমার বন্ধুরাও একই সমস্যায় ভূগছে। হতে পারে উপরে আমার দেয়া কবিতার লাইনের ব্যাখ্যাটাও ঐ একই সমস্যাপ্রসূত!! (সমস্যাপ্রসূত বলে কোন শব্দ কি আদৌ আছে? হিক..)

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ৩:১২

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: 'সমস্যাপ্রসূত' বলে কোনো শব্দ না থাকলেও অসুবিধা নেই। এই মাত্র শব্দটা তৈরি হলো বলে ধরে নেয়া যাক। নতুন শব্দ তৈরি করাটা তো মজার ব্যাপার।

'নরম জামের মতো চুল' নিয়ে আপনার ব্যাখ্যাটাও সঠিক। তবে এর সঙ্গে আরেকটি বিষয় যোগ করলে কেমন হয় ভেবে দেখুন। নরম জাম হাতে নিলে আপনার অনুভূতি কেমন হয়? (সম্ভবত এই অনুভূতিটি প্রকাশযোগ্য নয়!!) ওই চুলে হাত রাখলেও এরকম অনুভূতি হতে পারে। চুলের বর্ণনা কেবল রঙেই শেষ হবে কেন, অর্থাৎ দেখাতেই শেষ হবে কেন, স্পর্শটাও নিয়ে আসুন। ব্যাখ্যা আরো বের করা যায়। শেষ হবে না, মনে হয়।

হিডেন মিনিং বের করাটাই বোধহয় পড়ার গভীরতম শর্ত। যে কথাগুলো লেখা হয় তার বাইরেও অনেক কথা রয়ে যায়। ইন বিটুইন লাইনস বলে একটা কথা আছে। অর্থাৎ দুটো লাইনের মাঝে যে সাদা জায়গাটুকু থাকে, সেখানে আসলে অনেক কথা লেখা আছে। কবি সেই ধরনের পাঠক প্রত্যাশা করেন (আমার ধারণা) যিনি ওই না বলা কথাগুলোও আবিষ্কার করবেন। মানে, হিডেন মিনিং আবিষ্কার করবেন।

আপনার মন্তব্যটি পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা নিন।

১৭| ৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ৩:২২

বাফড়া বলেছেন: কিন্তু মনে একটা প্রশ্ন জাগে প্রায়ই- কবিরা কি আসলেই এইসব অর্থে লাইন গুলো লিখেন, শব্দগুলো ব্যাভার করেন? নাকি আমরা অত্যুতসাহী পাঠকরা বসে বসে ''নরম জামের মত চুলের'' কোন অর্থ বের করে ফেলি যা কবি আদৌ বোঝাননি? কিংবা হয়তো কবি স্রেফ ছন্দের/মাত্রার খাতিরে কথাগুলো লিখেছেন হয়তো?

দুঃখের ব্যাপার এই যে কোন কবির সাথে পরিচিতি নেই বাস্তব জীবনে যাকে জিগ্যেস করে জেনে নিতে পারি যে দোস্ত ক্রিটিক/পাঠকের কি আসলেই যা বুঝিয়েছ তা বুঝেছে, নাকি যা বোঝাওনি তাও আগ্রহী হয়ে আরোপ করেছে তোমার কবিতায়?

আপনার ভাবনা জানাবেন।

বাই দ্য ওয়ে নতুন শব্দ আবিষ্কার (!!) ও আপনার মন্তব্য ভালো লাগা দুটোই মন ভাল করে দিল

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ৩:৫৬

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: 'কবিরা কি আসলেই এইসব অর্থে লাইনগুলো লিখেন, নাকি আমরা বসে বসে ''নরম জামের মত চুলের'' কোন অর্থ বের করে ফেলি যা কবি আদৌ বোঝাননি?'- আপনার এই প্রশ্নের উত্তরে আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি যে, কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন বা চাননি সেটি তেমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার নয়। পাঠক কীভাবে কবিতাটিকে নিচ্ছেন সেটি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগতভাবে আমি পাঠকের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করি। পাঠক যখন একটি কবিতা বা গল্প বা উপন্যাস বা অন্য যে কোনো ধরনে লেখা পড়তে বসেন, তখন তিনি নতুন করে ওই লেখাটিকে নির্মাণ করেন, নতুন অর্থ আবিষ্কার করেন। সেজন্যেই একটি কবিতার বহুমাত্রিক ব্যাখা করা সম্ভব হয়। আর তা যদি না-ই হয়, তাহলে সেটি সফল সৃষ্টি নয়।

একটি কবিতার ব্যাপারে কবিকৃত ব্যাখ্যাটিকেই শেষ ব্যাখ্যা বলে ধরে নেবার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখি না। আমি সেটি নেই-ও না। লেখার সময় একজন কবি যে ঘোরের মধ্যে থাকেন, চেতন ও অবচেতনের যে বহু বহু প্রসঙ্গ-অনুসঙ্গ তাঁর মনে ভিড় করে, তিনি নিজে কিভাবে সচেতন হয়ে তার ব্যাখ্যা করবেন?

কবিতাকে নিজের মনের মতো গ্রহণ করতে পারি বলেই তো কবিতা এত সুন্দর হয়ে ওঠে আমাদের কাছে। কেন তাহলে নিজের ব্যাখ্যাটিকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করবেন না বলুন?

আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি প্রশ্নটি উত্থাপন করে এই কথাগুলো আমাকে বলার সুযোগ করে দেবার জন্য।

১৮| ৩১ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:১১

বাফড়া বলেছেন: ব্যখ্যা মনপূত হয়েছে, সাথে উত্তর ও পাওয়া গেল। ধন্যবাদ। আবারো কথা হবে নিশ্চয়ই। আপাতত ধন্যবাদ দেবার দরকার নেই; কারন উত্তর দেবার জন্য আরো বেমক্কা প্রশ্ন আসবে মওকা বুঝে, খিক খিক

৩১ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:২৫

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: হা হা হা।

১৯| ৩১ শে মে, ২০০৮ সকাল ১০:৪৮

মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: কখনো ডাকলে আমাদের জীবনানন্দ পাঠের আড্ডায় আসবেন?

৩১ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৫

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: অবশ্যই আসবো।

তবে একটু আগেভাগে জানালে ভালো হয়, কারণ জীবনের নানা জটিলতা অবসর সময় কেড়ে নিয়েছে।

২০| ৩১ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১:৫১

রবিউলকরিম বলেছেন: জীবনানন্দকে আমার সবচাইতে পারফেকশনিস্ট বলে মনে হয়। আর যতি চিহ্নের ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি তো গুরু। হক সাহেব তার যতিচিহ্নের মর্মটা কেন এড়িয়ে গেলেন বুঝলাম না।

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,/

সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি;/

আমাদের অনেক লেখকই যোতিচিহ্নের ব্যপারে আনাড়ি। আমিও। যেখানেই ফাঁক ওখানেই ,-;। বসিয়ে দেই।
কিন্তু তুই জীবননানন্দকে নিয়ে বসলি কেন? এমনিতেই চন্দ্রগ্রস্ত মানুষ তুই। আল্লাই জানে...

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১০:০৭

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: যতিচিহ্নের প্রসঙ্গটি তুলে ভালো করেছিস। সৈযদ কীভাবে এই ভুল করেছেন তার আরেকটি সূত্র পাওয়া গেলো। ওই প্রবন্ধে কবিতাটি তিনি উদ্ধৃত করেছেন এইভাবে-

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে;
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;

অর্থাৎ দ্বিতীয় লাইনের শেষে তিনি একটি ; চিহ্ন বসিয়ে দিয়েছেন! আমি জীবনানন্দর কবিতার একাধিক সংকলন ঘেঁটে দেখেছি, দ্বিতীয় লাইনের শেষে ; চিহ্নটি নেই। সৈয়দ হক ওটা কোথায় পেলেন? নাকি কবিতার কিমিয়া নিয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনার সুবিধার্থে তিনি জীবনানন্দের ওই 'ভুল'টা নিজ উদ্যোগে ঠিক করে দিলেন!!

থ্যাংকস দোস্ত, প্রসঙ্গটা তোলার জন্য!

গল্প নিয়ে তো অনেক হলো, ক্লান্ত-অবসন্ন লাগতে শুরু করেছে। কবিতা এই ক্লান্তি থেকে মুক্তি দেয় কিছুটা। আর জীবনানন্দ তো আমার সর্বদা পাঠ্য, জানিসই তো!

আচ্ছা, চাঁদে পাওয়া মানুষদের যেমন চন্দ্রগ্রস্থ বলা হয়, তেমনি জীবনানন্দ-পাওয়া মানুষেদের একটা কিছু নাম দেয়া যায় না!!!!

২১| ৩১ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১:৫৮

বিগব্যাং বলেছেন: রবিউলকরিম বলেছেন: আর যতি চিহ্নের ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি তো গুরু।


বাপধন রবিউলকরিম তো ভালো পয়েন্ট ধরেছো ... এটা আগে এভাবে খেয়াল করিনি... সাবাস...

৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১০:০৮

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: সাবাস!

২২| ৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১০:২১

রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: ভাই রে ভাই এই পোস্টে কী চলতাছে এইসব?

০১ লা জুন, ২০০৮ রাত ২:২৯

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: কেন রে ভাই, কী চলতাছে?

২৩| ৩১ শে মে, ২০০৮ রাত ১০:৪৬

মৃদুল মাহবুব বলেছেন: ভালো লাগলো।

০১ লা জুন, ২০০৮ রাত ২:৩০

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: ধন্যবাদ মৃদুল।

২৪| ০১ লা জুন, ২০০৮ রাত ২:৩৬

মৈথুনানন্দ বলেছেন: pretty interestin'! কপোট্রনিক গপ্পোটা জানা ছিল না - মজা পাইলাম। :) তবে সরোজিনীকে নিয়ে এতো সংশয়ের কোনো কারণ তো দেখিনা। সবাই জানে জীবুদা স্কেজফ্রেনেক ছিলেন। ঐ লায়নটা তারই ছাপ রেখে গ্যাচে - আবার এমনও হতে পারে কবির ব্যক্তব্য ছিল যে সরো হয়তোপাল্টে গ্যাচে।

আমার শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ --- যার প্রভাব থেকে আমি আজও বেরিয়ে আসতে পারিনি --- তবে পরবর্তীকালে আমার অন্তমিল ও মেলডে-এলেমেন্টগুলো জীবনমুখী গাইয়ে অঞ্জন দত্ত দ্বারা ভীষণভাবে প্রভাবিত।

০১ লা জুন, ২০০৮ রাত ২:৫১

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: জীবুদা স্কেজফ্রেনেক ছিলেন! এইটা আবার আমার জানা ছিলো না!! গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন, ভাই।

জীবনানন্দ থেকে আমিও বেরুতে পারিনি। বেরুতে চাইও না।

২৫| ০১ লা জুন, ২০০৮ রাত ৯:৫১

ফয়েজ রেজা বলেছেন: অনেক বড় লেখা তাই পড়িনি। না পড়েই..... ভাল হয়েছে। খুব সুন্দর।

০৪ ঠা জুন, ২০০৮ রাত ৩:২৯

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: পোংটা পোলাপান!!

ছড়া লেখা কেমন চলে?

২৬| ০২ রা জুন, ২০০৮ সকাল ১১:১৭

রবিউলকরিম বলেছেন: নাম তো দেয়া যায়ই,- জীবনগ্রস্থ।

জীবনকে ভালোবাসবা, আর জীবনবাবুকে ভালোবাসবা না; তা তো হয় না। তাই না?
একে অপরের সমার্থক।

০৪ ঠা জুন, ২০০৮ রাত ৩:৩১

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: জীবনগ্রস্থ!! হা হা হা.........

২৭| ২৮ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৭:০৫

অমিত আহমেদ বলেছেন: দুর্দান্ত পোস্ট!

০১ লা জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৫৪

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: ধন্যবাদ।

২৮| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৫১

কঁাকন বলেছেন: মুগ্ধ করা পোষ্ট

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৫৯

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: বুঝছি, আপনি আমার ব্লগের পিছনে লাগছেন! :( :) ;)

২৯| ০১ লা মে, ২০০৯ ভোর ৪:৪৫

আমি সাইরাজ বলেছেন: প্রিয়তে নিলাম
এতো সুন্দর একটা লেখার জন্য অভিনন্দন।

০৩ রা মে, ২০০৯ দুপুর ২:০০

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

৩০| ২৯ শে মার্চ, ২০১১ দুপুর ২:৪১

বৃষ্টিধারা বলেছেন: অনেক ভালো লাগা রেখে গেলাম ....

শুভ কামনা ।

৩১| ০১ লা এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:২৬

মেহবুবা বলেছেন: পোষ্ট পড়ে জীবনানন্দের কবিতার মত মনে হল ।
জীবনানন্দের কবিতা পড়তে গিয়ে কেবলই হোচট খেতে হয় , যেন এসব বোধ ছিল , সবার বোধ এমনই হয় কিছু অস্বচ্ছ ঝাপসা ; নিজের অনুভুতির অবোধ প্রকাশ ।

ধন্যবাদ, পরিশ্রমলব্ধ পোষ্টের জন্য ।

৩২| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১২:৪০

রেজওয়ান তানিম বলেছেন: বেশ লাগল পোস্ট টা ।

আসলে জীবনানন্দের লেখায় আমি যেটা লক্ষ্য করেছি, তিনি লিখেছেন আমাদের তার মত করে ভাবাবার জন্যে, কেবল কবিতা লেখার জন্য নয় ।

আর আমরা তাই জীবনানন্দের কবিতায় নিজেকে খুজে পাই তার নিজের ভাবনায় চিন্তায় ।

বছর চারেক আগে আমার কাছে জীবনানন্দের কবিতা ভাল লাগত না । মনে হত ঘুমপাড়ানি । কিন্তু এখন আমি অনুভব করছি এর নির্জনতা ।

ধন্যবাদ পোস্টের জন্য

৩৩| ০১ লা নভেম্বর, ২০১১ সকাল ৮:৪৫

লাইলী আরজুমান খানম লায়লা বলেছেন: ভাল লাগা রেখে গেলাম

৩৪| ১৩ ই নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:১২

টুকিঝা বলেছেন: ভয়ংকর ভাল লাগলো, এত গভীর ভাবে কখনো কবিতা পরা হয়নি, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে পরা উচিৎ ছিল। সোজা প্রিয়তে।

৩৫| ২৯ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১২:৩১

মাহী ফ্লোরা বলেছেন: এত সুন্দর করে লিখেছেন। ভীষণ ভাললাগার কবিতা গুলোকে এভাবে অনুভব করা সত্যিই অদ্ভুত । ভাললাগা রইলো অনেক বেশি।

৩৬| ২৭ শে আগস্ট, ২০১৩ রাত ৩:২৭

ডি মুন বলেছেন: অসাধারণ , আমি এমন প্রাঞ্জল কবিতা-ব্যবচ্ছেদ আর পড়িনি , সত্যিই অদ্ভুত সুন্দর

৩৭| ১৫ ই জুন, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৪৯

রোমেল চৌধুরী বলেছেন: একটু সংযোজন করি।
পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমাহীন গাঢ় এক রূপসীর 'মুখ' ভালোবাসে।
লক্ষ্য করুন, একটির উপরে আরেকটি বিশেষণ জুড়ে দিয়ে, 'বিশেষণ'-কে আরো বিশেষায়িত করে, যথার্থ করে তোলাই নয় শুধু। ভালোবাসার 'বস্তু'-টিকে পুঙ্খানুপুঙ্খ করে তোলার কী সচেতন প্রচেষ্টা! 'পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমাহীন গাঢ় এক রূপসীকে ভালবেসে' নয়, রুপসীর 'মুখ' ভালোবেসে! একে কি বলবো? 'জড়াত্মরোপ' বলা যায় কি?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.