নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সমৃদ্ধ আগামীর প্রত্যেয়

আনিসুর রহমান এরশাদ

আমি আমার দেশকে অত্যন্ত ভালবাসি ।

আনিসুর রহমান এরশাদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আনিসুর রহমানের একগুচ্ছ কবিতা

০৪ ঠা মার্চ, ২০১০ রাত ৯:৫৮

(এক)

সত্যিকারের স্বাধীনতা

আনিসুর রহমান



স্বাধীনতা পাওয়া শেষ সফলতা নয়,

সুখের ঠিকানা যদি পাওয়া না হয়।

সেরা জীবের শান্তি নাই, মুক্তির আশায়-

স্বপ্নভরা চোখে চেয়ে থাকি,

মনের কোণে রঙ্গীন ছবি আঁকি।



দুঃখের আগুন বহে, বুকে আগুন জ্বলে,

পংকিলতার সাগরে সমাজ ভেসে চলে।

অন্তরেতে ব্যথার নদী,

নবপ্রেরণার শক্তি না দাও যদি-

কে জাগাবে নতুন সাড়া?



দুঃখী মানুষের সুনিবিড় অন্তর ছোয়ে-

প্রাণচঞ্চলতা, কর্মতৎপরতা আনব বয়ে।

মৌমাছির মধুর গুঞ্জরণ-

দু’নয়ন কাড়ে, জুড়ায় মন।

যোগ্য আদর্শবান মানুষের সন্ধান সারাক্ষণ।



আশার প্রদীপ যাব জ্বালিয়ে-

হতাশা-ভয়ের সাগর পেরিয়ে।

হুশহীন মানুষের বিশৃঙ্খলা নয়,

নিয়ন্ত্রহীন স্বেচ্ছাচারিতায় হয়ে যাবে ক্ষয়।



চাই সত্যিকারের স্বাধীনতার সুফল।

আমরা শক্তি, আমরা বল।

সাজায়ে সুন্দর ধরণী স্বপ্নীল-

উজ্জ্বল উচ্ছল প্রাণে অনাবিল-

শান্তি মুক্তির ঠিকানা চাই,

শান্তি চাই, মুক্তি চাই।



(দুই)

মাগো তুমি

আনিসুর রহমান



পৃথিবীতে মাগো তুমি খোদার সেরা দান,

সবার চেয়ে প্রিয় বলে এ’মন প্রাণ।

দরদ মাখা তোমার স্নেহের নেইকো তুলনা,

তোমার আদর পেতে মনে জাগে বাসনা।

কষ্টে-যন্ত্রণাতে আমার চোখে এলে পানি,

আঁচলে অশ্রু মুছে, শুনাও শান্তনার বাণী।

মায়াবী হাত মাথায় রেখে আর্শির্বাদ কর যখন,

সকল দুঃখ- বেদনা ভূলি আমি তখন।

তোমার স্নেহে ভালবাসায় ভরেছে আমার মন,

পেতে তোমার সোহাগ চাইযে সারাক্ষণ।

উপদেশ দিয়ে তুমি যখন কর দু’আ,

পূরণ হয়ে যায় মনের সকল চাওয়া পাওয়া।

মাগো তুমি বড়ই ভাল, নেই যে কোন তুল,

সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির মাঝে তুমি ফুটন্ত এক ফুল।

মাগো তুমি আমার বড়ই বেশী আপন,

তোমার মুখে হাসি দেখলে তৃপ্ত হয় জীবন।





(তিন)

বাংলাদেশ

আনিসুর রহমান



সবুজে শ্যামলে ঘেরা বাংলাদেশ।

অপরূপ রুপময়, মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।

বড়ই প্রিয় জন্ম ভূমি, ভালবাসার এ’দেশ।



এখানে সুরভি ছড়ায় কত ফুলে,

ফসলের মাঠে নানা শস্য ফলে।

প্রকৃতিতে মনের মাধুরী মেশা

প্রেমেরে স্বর্গ, সুন্দর এই দেশ।



পূর্ণিমা রজনীর চাঁদের আলো,

জোৎস্নার প্লাবনে মন কাড়িল।

পাখির গানের সুরে প্রাণটা জুড়ায়,

ষড় ঋতুর রূপ হৃদয় ভরায়।

সৌন্দর্যে ভরা রুপের নেইকো শেষ,

স্বপ্ন- আশা মিশানো এ’দেশ।



সোনার বাংলায় কত জলধারা বহে,

উর্বর জমিতে জন্মায়ে ধন্য কহে।

নাড়ীর বন্ধনের টান বড়ই মধুর,

নয়ন জুড়ায় দেখে সোনালী ভোর।

নানা সম্পদে ভরা এ’দেশ।

আমার প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ ।





(চার)

বিবর্ণ বিশ্বাস

আনিসুর রহমান



গভীর স্তব্ধতা বিরাজ করছে,

রক্তাক্ত মাঠে পড়ে আছে লাশ।

দেহটা আবেগে কাঁপছে,

চোখের ভ্রু ভেজা, ভেজা সবুজ ঘাস।



অথৈ লাবণ্য-কণা চোখে পড়ে,

ব্যস্ত হৃদয় নিয়ে আত্মঘাতী যুবক।

জোৎস্নারাত উজ্জ্বল সৌন্দর্য ভরে,

শব্দহীন কান্নায় ফেঁটে যায় বুক।



কেন বিবর্ণ বিশ্বাস? নেই জাগরণ,

বেদনানাশক বৃষ্টির কি হয়েছে মরণ?

মৃদু মৃদু ঢেউয়ে রূপ চমৎকার,

কিন্তু প্রচন্ড কুয়াশাচ্ছন্ন সব।

আনন্দ, হাস্যোজ্জ্বল রোদের দৃশ্য দেখার!

রক্তে রক্তে লাল, এতে বিস্ময় অনুভব।



(পাঁচ)

সোনালী কথিকতা

আনিসুর রহমান



সবুজের মাঝে ফুটা সাদা কাশফুল,

পিপঁড়াও পরিশ্রম প্রিয় এতে নেই ভুল।

সমালোচিত হতে চায়না কেউ,

নিরুদ্দেশ ঠিকানায় নিঃসঙ্গের ঢেউ।

পৃথিবীকে বশ করার প্রচেষ্টায়,

লুকানো আনন্দ আর স্বার্থকতায়,

তারুণ্যের অবয়ব উঠুক ফুটে।

উজ্জ্বল শব্দাবলীর বিচরণশীলতা

বেদনায় মোড়ানো সূর্যের মতো।

তুঙ্গ-বসন্তবেলার অভ্যর্থনার কাছে

কবিত্বের শক্তি বেড়ে গেছে।

অপাংক্তেয় ভেবে দূরে ঠেলে দেয়া,

হৃদয়ের সোনালী কঠিকতা মুছে যাওয়া।

রক্তাপ্লুত অমোঘ প্রান্তরে

অতৃপ্তির ছায়া ভাসে,

তবুও স্বয়ংক্রিয় স্বস্নেহে উজ্জ্বলতা হাসে।







(ছয়)

সোনালী স্বপ্ন

আনিসুর রহমান



জীবনের পথটাই ভাসমান,

মরু মরীচিকার মতই ধাবমান।

মননের বিস্তারের সুযোগ অল্প,

তবু বিনিদ্র চোখে সোনালী স্বপ্ন।



দেখি বিপন্ন বিস্ময়ে তাকায়ে

উদভ্রান্ত মৃদুভীতি শংকা,

যখন গভীরতা মাঁপি হৃদয়ে

রক্তাক্ত জনপদ দেখে,

বন্দ হয় মানসিক গরজ ডংকা।



লাল গোলাপের সুখ অশ্রু দেখেও,

মন্ত্রমুগ্ধ কথোপকথন শুনেও,

দুর্বিসহ সময় কাটে;

মানবতার দুশমনদের কর্ম দেখে।



চাই না, যুদ্ধ, রক্তের খেলা,

চাই, সন্ত্রাসমুক্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।

সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি,

সুখী সমৃদ্ধশীল মানবীয় আবাস চাই।



(সাত)

স্বপ্নময় সংগীত

আনিসুর রহমান



ফুলে ফুলে সুশোভিত নিকুঞ্জের রূপ

দেখলে নয়ন জুড়ায়।

ঝমঝমে বৃষ্টির সুমধুর সূর

হৃদয়ে প্রশান্তি ছড়ায়।



টুপটাপ শিশিরের ছন্দ

সকল ক্লান্তি ভূলায়।

ভোরের সোনালী শুরু

প্রাণটা আনন্দে ভরায়।



সূর্যের নানা রঙ্গের হাসি

বড় বেশী ভালবাসি।

প্রসন্ন বাতাস বহে যখন

স্বপ্নিল স্বপ্নেরা ভিড় করে তখন।



রোদ্দুরে আছে সুখের বেসাতি

সবি যেন স্বপ্নময়,

আনন্দ আড্ডাতেই শুধু সময়

কাটানো আর নয়।



দীর্ঘশ্বাস ফেলবেনা আর।

প্রতিজ্ঞাবদ্ধ স্বপ্নময় সংগীত নিয়ে এগুবার।



(আট)

নব স্বপ্নের আয়োজন

আনিসুর রহমান



বাংলার সবুজ প্রান্তর

বৌকালি রৌদ্রে উদ্ভাসিত;

ভোরের বেলার সূর্য

রক্তিম কৌশলে আবর্তিত।

আকাশে গোধূলির আভা

চুম্বন পরশে প্রতিফলিত।

ক্লান্ত প্রকৃতিতে বিরাজমান প্রশান্তি

ক্লান্তি ভূলাতে পেরে আনন্দিত।

কিন্তু আমি নীরাবেগ,

বেড়োচ্ছে দীর্ঘশ্বাস;

কিঞ্চিত আলোর ছোয়া

দিচ্ছে নানা আশ্বাস।

বিষাক্ত রক্তের জমাট বেধে

ব্যাথায় টনটন বুক,

বায়ুমন্ডলে মিশে যাচ্ছে আর্তনাদ।

ভাবছি কোথায় সুখ?

সুখ পেতে ত্যাগের মনোভাব,

জানি বড় বেশী প্রয়োজন।

স্বার্থভুলে দুঃখ ঠেলে

নব স্বপ্নের আয়োজন।









(নয়)

হৃদয়ে বাংলাদেশ

আনিসুর রহমান



স্নিগ্ধ সূর্য কিরণ,

ঝলমলে দিন,

জোৎস্না প্লাবিত রাত,

শেফালী ফুলের সৌরভ,

পূর্ণ যৌবনা নদী

প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর।

নদীর পার ঘেঁষে ফুঁটা অজস্র কাশফুল

মৃদু বাতাসে আন্দোলিত;

সাদা কাশের বন

যেন সাগরে ঢেউ উঠা।

সত্যি রুপসী বাংলা,

সোনার বাংলা,

আমার প্রিয় বাংলাদেশ।

হৃদয়ে বাংলাদেশ।



(দশ)

মানবতার জয়ধ্বনি

আনিসুর রহমান



কোকিলের গানের কণ্ঠ-

শুনা যায়না,

চঞ্চল কল কাকলী ও

আজ চলে না।



শুল্কা তিথির আলোচ্ছায়া

অন্ধকার রহস্যে ঘেরা,

স্নিগ্ধ সুন্দর চাঁদনী রাত

তবু হৃদয়টা কষ্টে ভরা।



ভোমড়ার গুণ গুণ গান,

আনন্দোচ্ছল তবু হয় না প্রাণ।

ফুল বাগানে নানা পুষ্প রূপ,

মনটা তবুও বড় নিশ্চুপ।

মায়াবী হিমেল হাওয়া বয়,

তবু আবেগ যেন পেয়েছে লোপ।



আনন্দ অতিসায্যের নন্দনকানন,

তবু বড় হাহাকার।

অনন্ত বিশ্বাস ভঙ্গের তান্ডবলীলা,

প্রতিটি মুহুর্ত কষ্টের।



কেননা, মনুষত্ব আজ পরাজিত;

পশুত্বের দানবীয় শক্তি আনন্দিত।

এ আনন্দ বেশীদিন টিকবে না আর,

মানবতার জয়ধ্বনি শুনব আবার।







(এগার)

সংগ্রামময় স্বাধীনতা

আনিসুর রহমান



বাংলা মায়ের আচলের নীচে,

সুখের নিন্দ্রিতিতে অন্তরম চেতনা।

মুক্তিপণ মানুষের অধিকার আদায়ে,

ঘুমন্ত প্রতিভার জাগরিত উচ্ছাসে

জনতার উত্তাল সমুদ্র।



মানুষের আর্তনাদ

মুখরিত আকাশ বাতাস,

নিস্তব্ধ রজনীতে নিরস্ত্র জনতার উপর

ক্ষমতা লোভীদের ঝাঁপিয়ে পড়া,

সিংহের গর্জন বাড়ায়ে তোলে।

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মত হুংকার ছাড়ে

প্রতিবাদ মুখর তরুণেরা!



হানাদারদের চমকে উঠা!

রক্তের জবাব রক্ত দিয়ে, রক্ত নিয়ে

চাপা ক্ষোভ তখন দাবানল।

পৈশাচিক দানবীয় থাবার বর্বরতা,

নৃশংস পাশবিকতা,

মানা যায় না, মানতে পারেনি,

নিয়েছে ভয়ংকর নানা পদক্ষেপ।



জীবন দিতে রাজি অধিকার নয়,

উর্ধ্ব এ শির নোয়াবার নয়।

আমাদের সংগ্রামময় স্বাধীনতা

ভূলবার নয়।







(বার)

স্বাধীনতার লাল সূর্য

আনিসুর রহমান



বুকের উপর নিষ্ঠুর আঘাত,

তাজা রক্তে রঞ্জিত রাজপথ,

মর্মস্পর্শী সে দৃশ্য।



বড়ই হৃদয় বিদারক সে পরিস্থিতি,

অনাকাংখিত নির্মম বাস্তবতা,

বেদনাদায়ক নির্দয়তা।



দেশের মায়ায় দামাল ছেলেরা

জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে,

বিপ্লবী সংগ্রামীরা যায় এগিয়ে।



স্বাধীনতার রক্তিম লাল সূর্যের উদয়

সেতো ত্যাগের মহিমায় চির ভাস্বর।



(তের)

আমার প্রিয় বাংলাদেশ

আনিসুর রহমান



রূপ বৈচিত্র্যের নীলানীকেতন,

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছবির মতন।

অনুপম দৃশ্যের নেই যেন শেষ,

নয়নাভিরাম আমার দেশ,

আমার প্রিয় বাংলাদেশ।



মাঠের ফসলে চক্ষু জুড়ায়,

একেঁ বেকেঁ নদী বয়ে যায়।

দাড়িয়ে পর্বত মাথা উচু করে,

অরণ্যের দৃশ্যাবলী মন কাড়ে।

সবুজের সমারোহ নয়ন ভূলায়,

ক্লান্তি অবসন্নতা তাড়ায়।

তিলোত্তমা সদৃশ মনোমুদ্ধকর রূপ

পত্রপল্লবের মর্মর ধ্বনি স্বরুপ।

হর্ষোৎফুল্ল করে তোলে মন।

পুষ্পমাল্য শোভিত ব্যক্তিত্ব

চাঁদের প্রদীপ হাতে চেয়ে থাকে।

নদীর রূপালী স্রোতধারা,

অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা,

স্রষ্টার সৃষ্টি এ বসুন্ধরা।

তার মাঝে সর্বশ্রেষ্ট

আমার প্রিয় বাংলাদেশ।





(চৌদ্দ)

মধুর স্বপ্ন

আনিসুর রহমান



মিষ্টি সন্ধ্যায় বর্ষণ,

আওয়াজ রিমঝিম,

মধুময় পরিবেশ।



বটগাছের নেতৃত্বে বন

অপরাজেয় সৈনিকসম,

উচুঁ মাথা লাগছে বেশ।



ভালবাসায় ভরা সুন্দর মন,

যদিও অধিকার কম

আছে মধুময় স্মৃতির রেশ।



ছন্দময় স্মৃতি এখন

বর্ণীল পাখা মেলে-

ঘুরছে অবিরাম;

মধুর স্বপ্ন অশেষ ।



স্বপ্ন সুন্দর পৃথিবী গড়ার।

শান্তি সুখের ঠিকানা করার।







(পনের)

মুগ্ধ আমি

আনিসুর রহমান



দূর্বাঘাসের উপর শিশির

প্রভাতী সূর্য রশ্মিতে উজ্জ্বল;

অনুপম সে দৃশ্য।

প্রকৃতির রূপলাবণ্য

করেছে ভাবুক, সৌন্দর্য রসিক,

মুগ্ধ আমি।



সবুজ প্রশস্ত মাঠ,

শ্যামল শস্য ক্ষেত্র,

ফুলময় বৃক্ষরাজি,

তৃণ গুল্ম শোভিত অরণ্য,

বড়ই মনোরম এ শোভা।

সৌন্দর্যের মায়া কাজল

ম্্ুগ্ধ আমি।



ছায়া ঢাকা শান্ত নিবাস,

পাখির মিষ্টি মধুর গান,

সবুজ শ্যামল পল্লী,

তাজা গোলাপ ও রজনীগন্ধা,

নয়ন জুড়ায়, হৃদয় কাড়ে।

ম্্ুগ্ধ আমি।





(ষোল)

জীবন সংসার

আনিসুর রহমান



জাগতিক বাস্তবতায় সৃষ্ট সোনালী সংসার;

প্রয়োজন সত্য-সঠিক ভাবে তৈরী করার।

আদর সোহাগ মাখা নিষ্পাপ মুখ

গৃহে আনে শান্তি; পায় সঙ্গ সুখ।

ভূল বুঝাবুঝিতে নেমে আসে দুঃখ।



স্নেহ-মায়া-মমতায় গড়া চোখের মনি,

জীবন সংগ্রামে জড়ায় সব রূপের খনি।

উজ্জ্বল রূপালী হাসিতে কাটে কারো জীবন খানি;

কষ্ট-বেদনায় ঝরে কারো চোখের পানি।



প্রাণমাতানো হাসিতে করলে গৃহ গঠন,

ফুলের রূপের মত হয় মধুর বন্ধন।

প্রীতি-ভালবাসায় মেখে চাঁদ বদন,

মমতাময়ী আঁখিতে দেখায় রঙ্গীন বিশ্ব ভূবন।

শান্তির সোনালী স্থল দরদী প্রাণ।

প্রাণপ্রিয় ফুটন্ত গোলাপ সমান।



নিকুঞ্জে চন্দ্র মুখেরা হাসি খুশি

সুখে-শান্তিতে থাকাটাই ভালবাসি।

বড়ই বৈচিত্রময় এ জীবন সংসার;

প্রাণবন্ত উল্লাসের জন্যে প্রয়োজন নিরাপত্তার।



(সতের)

জাতীয় কবি

আনিসুর রহমান



তারুণ্যের অগ্নি ঝরেছিল ঝরছে, ঝরবে

ধূমকেতুর ঔজ্জ্বল্য নিয়ে আবির্ভূত

জাতীয় কবির লেখায়।

অন্যায়ের মৃত্যু ঘটেছে

চির যৌবনাধিকারী তারুণ্যের মূর্তপ্রতীক

অগ্নিবীণার কবির কথা মালায়।

সাম্য আর মানবতার গান গেয়েছে

মহা বিদ্রোহের তুর্যবাদক

বিদ্রোহী কবি নজরুল।

সদা প্রাণোচ্ছল, চেহারা হাস্যোজ্জ্বল,

যুক্তিনিষ্ট বক্তব্য তার;

সুনিপুণ শব্দচয়ন, সুচারু বাক-বিন্যাস

গতিশীল রচনার সমাহার।

স্বমহিমায় ভাস্বর যার কথামালা,

অনিরুদ্ধ যৌবন শক্তির গতিময়তা

যা জাতির রক্তে তুলে তরঙ্গের নৃত্য খেলা।

বন্ধন অসহিষ্ণু চিত্তের আগ্নেয় দুর্দমতা।

জাতীয় কবি নজরুল

আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার।



(আঠার)

একুশ মানে

আনিসুর রহমান



একুশ মানে,

নব যৌবনে চির গৌরবের দৃঢ় চেতনা;

স্বাধীন আকাশ তলে বিপুল উদ্দীপনা,

মাথা উচুঁ করে জীবনে পথ চলা,

সাহসী বীর দামাল ছেলেদের প্রাণচঞ্চলতা।



একুশ মানে,

হৃদয়ের ভক্তি ও অন্তরের শ্রদ্ধার মিশ্রণে

সঠিক সুন্দর পবিত্র এক বাস্তবতা।

অসংখ্য প্রাণের স্পন্দন ও আন্তরিকতায়

স্বপ্ন ও বিশ্বাসের গভীরতা।



একুশ মানে,

শান্তি-মুক্তির আশায় স্বপ্নভরা চোখ,

আর মনের কোণে আকাঁ রঙিন ছবি।

মানুষের সুনিবিড় অন্তরের ছোঁয়ায়

সুন্দর স্বপ্নীল ধরনী সাজানোর প্রত্যাশা।



একুশ মানে,

উজ্জ্বল উচ্ছল দেশপ্রেমিকদের সুমহান আত্মত্যাগ।

শিল্পীর মেধাবী মনন ফুটে ওঠা

সুক্ষ্ম তুলির সযতœ ছোঁয়ার সাথে

তাজা লালরক্তের মিশ্রণে সৃষ্ট করুণ দৃশ্য।



একুশ মানে,

রক্তিম সূর্যের উদয়ে ঝমকানো আলো।

মুক্তির লাল সবুজ পতাকার সম্ভাবনা।

বিয়োগ ব্যথায় সৃষ্ট ব্যথার নদী পেড়ায়ে

ভাষা শহীদদের চির সফলতার স্বাক্ষর।



(উনিশ)

উৎসর্গিত প্রাণ

আনিসুর রহমান



পৌর-ভাগাড়ে নগর-শকুনের উল্লাসের মত

পাপ-সিন্ধুর গরল-পিয়ালায় মুখ লাগাচ্ছে যত

ঘন-সিয়ার হা-ঘরে বাড়ছে তত।



রোনাজারি-আহাজারি অবিরাম বাড়ছে,

তমসাবৃতা হয়ে কুপমন্ডুকেরা দামিনী বেগে চলছে।

হন্তারকের ঋদিধতে উন্মন ব্যথাতুর,

সায়াহ্ন আধার কেটে আর আসছেনা ভোর।



গহীন হলমাতে বাট-চলা চড়ই কঠিন,

সবাকারে বিবর-গেরা সরণি পেড়ায়েই

বাঁজাতে হবে শান্তির বিষাণ বীন।

অসাধ্যকে সাধ্য করতে অচেনাকে চিনতে হবে,

মানবতা ব্েিরাধী শক্তির অপ্রাকৃত দাবী বন্ধ করতে হবে।



মধু-কুঞ্জে বসে মারফতি গেয়ে,

ভৈরব বাজ-খাইয়ের ভ্রুকুটিতে ভীত হয়ে,

হেলায় বিস্রস্ত ভাবে সময় কাটায়ে,

পূণ্যে নিস্পৃহ থেকে দাঙ্গা কাটায়ে,

শান্তির জন্যে প্রশ্নাকুল চোখে তাকায়ে

থাকাতে নেই কোন লাভ।



প্রত্যাগত বিহঙ্গের মত নিষ্পলক দৃষ্টি,

চক্ষু থেকে ক্ষীয়মান হাস্যোজ্জ্বলতার বৃষ্টি,

গাফলতে তকদিরে পেরেশানির সৃষ্টি,

এযে ভীষন ভয়াবহ পরিণতি-পরিণাম।



জিজ্ঞাসু মনে যদি হয় শুধু কৈফিয়ত অবিরত,

দৃঢ় সংকল্প না নিয়ে সিদ্ধান্ত হীনতায়

নিকুঞ্জে সফেদ ঊর্ণাজালের অনিশ্চয়তার মত,

অসম্ভব সর্বরী কেটে সেতারা হেলাল জেগে উঠা।



যখন সমীর বহে কুহেলি ফেলে মাধবীর বুকে,

তখন যারা পুষ্পারতি করে পাথার পারের স্বপ্ন দেখে,

জ্ঞানী নহে, মূর্খ তারা।

আসুন, মৃত্যুপণে, চিরসুখী হবার আকিঞ্চনে

পুলকে উদঘাটন হবে কস্তুরী,

গিরি-সি:স্রাবের মত পবিত্র হয়ে সর্বক্ষণে

অকুতোভয়ে স্বর্ণ শ্যামবাসী যদি শান্তির নিশান ধরি,

যামিনী পেড়িয়ে জলধি মাড়িয়ে

সত্য ন্যায়ের স্বনিল যদি গেয়ে উঠি,

সঠিক পথে চলার স্বপ্ন দেখি,

সুন্দর জীবন গড়তে মনকে প্রস্তুত রাখি,

সফলতা আসবেই তবে।



শয়তানের উৎক্ষিপ্ত শক্তি দেখে,

মৌন দর্শকের ভূমিকা রেখে,

সঘন অশান্তি তাড়াতে চিৎকার করা মূল্যহীন।

দিবা উৎসবের মাঝে স্রষ্টাকে স্মরি,

পাপের পথে যবনিকা তুলে ধরি,

আসুন মানবতার কল্যাণে জীবন গড়ি।



(বিশ)

শান্তিময় আবাস

আনিসুর রহমান



বিপর্যস্ত রক্তমাংস, বাড়ছে সন্ত্রাস,

রক্তপ্লুত শার্ট, তবু তন্দ্রালস!

আকাঙ্খিত সুন্দর নেই কেন?



নক্ষত্র আছে অবিকল চঞ্চল,

বিশ্বস্ত রকমের আলোতে উজ্জ্বল।

কিন্তু বিমর্ষ স্মৃতি মনে পড়ে কেন?



রঙ্গিন সন্ধ্যার ভীড়ে

নিজস্ব হৃৎপিন্ডটাও নড়ে।

কেন বাতিলের হাতে খোলা তলোয়ার?

প্রসারিত মাঠের ফসল,

উঠন্ত তারুণ্যের যৌবন-বল;

অশ্রু মুছে দিতে ব্যর্থ কেন?



শৈশবের সেতু বয়ে উঠা কৈশর

বিজয়ী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে জানায় উদার আমন্ত্রণ।

তবু বর্ণালী চিৎকার কেন ভেসে আসে কানে?



পূর্ণিমায় কানন ঘেরা পুষ্পরূপ-

অমাবস্যার অন্ধকারে নিশ্চল নিশ্চুপ।

কেন সুখে ঘেরা বসতি ঘীরে আগুন?

স্রষ্টার নৈপুণ্যতায় ঘেরা চন্দ্রালোকে

প্রকৃতি ছন্দ বেশে বৈচিত্র সৌন্দর্য মেখে।

তারপরও দেখি কেন করুণাহীন আকাশ?



তৃষিত আত্মার দুরন্ত ছুটে চলা,

সজীব কিশোরের অভিলাস মেলা,

কিন্তু কঠিন হয়ে উঠেছে কেন জমিন?

অগ্নিবলয়ের প্রান্তে দাঁড়ায়ে

দুঃস্মৃতির মিনার ভেঙ্গে ফেলায়ে

রক্তময়ীরা কি এখন ও জাগবেনা?



প্রশ্নের উত্তর মিলবে কবে?

সমস্যা গুলোর হবে সমাধান!

সোনালী সে দিনের প্রত্যাশা হৃদয়ে

শান্তিময় আবাসের জন্যে হৃদয়ে টান।



(একুশ)

স্বপ্নের দেশ গড়ব

আনিসুর রহমান



সূর্য্য আলোকিত শুভ্র প্রভাতের প্রতীক্ষায়

চন্দ্র শোভিত মন মোহিনীরাত কেঁটে যায়।

মরণের মাঝেও কেউবা শান্তি খুজে পেতে চায়,

আছে অনেকেই এমন দুঃখ কষ্ট-যন্ত্রণায়।



অন্ধকার রজনী শেষে যেমন প্রভাত আলোময়,

দুঃখের দহন শেষে তেমনি জীবন মধুর হয়;

জীবন যুদ্ধে বিজয়ী হতে সাহসের প্রয়োজন হয়।

প্রকৃতির বিরুপ ধ্বংসস্তুপ দেখে ভয়ে হতাশায়

সর্বস্বহারা অজস্র মানুষের আহাজারি শুনা যায়।



গগণ ফাঁটানো বজ্রের আওয়াজের মত

মম স্মৃতি পটে ভেসে উঠে করুণ দৃশ্য শত।

বিরুপ প্রকৃতিতে বিরহ ব্যথায় অন্ধকার মনে-

রিক্ত-জীর্ণদের আত্মার দীর্ঘশ্বাস ও ব্যথা প্রাণে।

কন্টক শয্যায় কাটে যাদের রাতের প্রহর,

সহযোগিতার হস্ত প্রশস্ত না করে, করতে বলে সবর,

অর্থ-বিত্তশালীদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধতার

এ’খবর নহে সুখকর।



শতো ব্যাথার সঞ্চায় করে প্রাণে;

বিদীর্ণ হওয়া, ছুড়ে মারা, সহস্র বিষ বাক্যবাণে,

প্রতিবাদ, প্রতিরোধ গড়ে না তুললে

ফাগুন লাগাবেই আগুন হৃদয়ের স্মৃতি কোনে।

সোনালী সংসার শুরু মেহেদী মাখা হাত নিয়ে,

ক্লান্তি ভরা রুগ্ন দেহে আশা যায় নিরুদ্দেশ হয়ে।



ধরণীর নরকান্তরে নবজাতক কেঁদে উঠে,

মুক্তির নিশ্চয়তা বিধানে দেশ প্রেমিকেরা ছুটে।

জীবনছন্দ বিষন্নতায় ঢাকা পড়া যাদের,

রাশি রাশি হাসি দিলেও কাঁদতেই হবে তাদের;

যদি সংকট থাকে

উদার মন ও দৃঢ় সংকল্পের অভাব মোছনের।



স্মৃতির ছবি আঁকা জোৎস্না রাতে চঞ্চল হৃদয়ে,

পুলকিত প্রাণে স্মৃতিকে দোলায়ে,

মানসúটে হীরার অলংকারে কোমল অঙ্গ ভাসায়ে,

মেঘরাশি চুল ও মুক্তা ঝরা হাসিতে মন জুড়ায়ে,

রূপসী গ্রামের স্বর্গ ঘরের সুন্দরী মেয়ে নিয়ে,

সোনার তরী খুজতে ঘুরে শ্যামল গাঁয়ে,

লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণটাই বেশী।



নির্জন রাতে নিশাচর প্রাণীর মতো যারা খোঁজে,

সবুজের মত তৃণচাঞ্চল্যে চোখ বুঁজে,

শুধু ভালবাসার মূল্য বসন্ত প্রভাতেই দেখে,

চারিধারে কুঞ্জ পল্লব ঘিরে রেখে,

রজনিগন্ধা-হাস্নাহেনার সুবাস জরায়ে সমব্যথায়-

মধুর কাকলীতে পূর্ণ সময় কাটে যাদের,

পলাশ শিমুল কৃষ্ণচূড়ার রূপকি ভূলায় তাদের?



হৃদয়ের রক্তে রাঙা তপ্ত অশ্রু জলে,

দোলন চাঁপায় তোমার পরশ যাবে বিফলে।

কবিতার বিষয়বস্তু যদি হয় জীবন তরীর গল্প,

স্বপ্নের দেশ গড়ার আশা নহে মোটেই স্বল্প।



(বাইশ)

কঠিন সিদ্ধান্ত

আনিসুর রহমান



চাঁদ ঝলমল সিক্ত বেলাভূমিতে দাড়ায়ে

রক্তের কাঁটায় বিষন্নতা অনুভব করি।

মাটির সবুজ ঘাসের ছোঁয়ায়

মনে স্নেহের পরশের শূণ্যতা ভরি।

সূর্যাস্তের মনোলোভা আভায়ও

বড় যন্ত্রণা বাজে রক্তে নিভৃতে;

ফুলের ইশারাতেও আঁখির অঙ্গনে

রূপে রূপসী পৃথিবী কাঁদে যন্ত্রণাতে।

মসৃণ বাগানেও কাঁটা বিধেঁ পায়ে

যন্ত্রণা আসে মৃদুমন্দ ছবি হয়ে।

জলের বুকেও বিষম ভয়ের বাসা,

জাগে মনে চোখ বন্দ ছুটের প্রত্যাশা।



উজ্জ্বলতা হারাচ্ছে তারার অজস্র ছবি,

যেন পাপড়ি ছেঁড়া গোলাপের কান্না স’বি।

মায়াহীন রৌদ্রে পুড়ে প্রিয় কত মুখ!

ভয়ঙ্কর রক্তের ফোয়ারা দেখে কেঁপে উঠে বুক।

বসন্তের কোকিল ডাকে হয়ে সুখ উচ্ছল,

ঋতুচক্রে বাঁধা নিয়মে সজীব সকল।



তবু কেন যে নির্জন আশ্বাস খুঁজতে যেয়ে,

গচ্ছিত রাখা বিশ্বাস পেয়ে,

করছে অগ্নিকে সংশয়ে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা।

ফলে ইদানিং রক্তিম গোলাপও বেশ সচকিত,

মেঘাচ্ছন্ন আকাশ রক্তের ফোয়ারা দেখে ভীত।

মায়ার সবুজ বনে যায় রক্তের ধারা বয়ে,

বুকের নিঃশ্বাস রৌদ্রে মিশে গিয়ে,

কেউবা অঢেল স্ফুর্তিতে বিস্ফোরিত হয়;

অমানুষ ওরা, ওদের কর্মে স্তম্ভিত হৃদয়।



অস্থি মজ্জা মাংস সঁপে দিয়ে পরের অকল্যাণে,

ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী চক্র বিশ্ব সন্ত্রাসী হয়ে।

বিকৃত রুচি করছে প্রকাশ কর্মে, স্বপ্নে, ধ্যানে।

আযৌবন, আজীবন প্রতিবাদের স্রোতে অবিরাম;

নির্মম, নির্দয় তীক্ষ্ম দৃষ্টির বিরুদ্ধে সংগ্রাম।

মুঠি শিথিল হবে না, সদিচ্ছার ও মরণ হবে না।

রক্তিম উৎফুল্লে ফুল ফোঁটানোতে বাঁধা পাবে না।



চন্দ্রের আঙ্গুলে আল্পনা আঁকতে রাজি,

অন্যায়ের বিরুদ্ধে রেখে জীবন বাজি।

দিনান্তে অন্তত একবার এ’কাননে

প্রজাপতি যেমনি উড়ে উড়ে বসে,

অজস্র পাখির গান শ্রবণে,

শস্যের শোভা স্বভাব উজ্জলতায়;

তেমনি তীর্থ পথিকের নম্রতার ন্যায়

এলোমেলো গুছায়ে দূর করব অন্যায়।

অনেক রক্ত দেখেছি ইরাকে আফগানে,

আর নহে রক্ত দেখা;

কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি মনে প্রাণে।



(তেইশ)

সুঘ্রাণ রেখে বুকে

আনিসুর রহমান



স্মৃতির সুনন্দ শুভ্র হাওয়া,

অন্তর চক্ষুতে আকাঁ হাসির ছোয়া,

হৃদয় স্পন্দন বেড়ে যাওয়া,

সবি’ সুললিত সময়ের চলন্ত ছায়া।



কিন্তু নির্জন অরণ্যে গিয়ে,

কিংবা নদীর ধারে

বসে অন্তরঙ্গ হৃদয় নিয়ে,

ভাবি সংশয়ে বিক্ষত

অবিশ্বাসের স্রোতের কৌশল;

রক্তের গভীর সান্নিধ্যের অনুভূতি

হয় তখন সবল।



রক্তমাখা সাঁজে ভালবাসার হৃদয়,

বিষন্ন গম্ভীর ডাকের স্বর গতিময়।

রক্তমাংস খুঁড়ায় বাসি হাওয়া

অন্তিম নিঃশ্বাসে পৃথিবীর মায়া।



বলে বৃষ্টির আর্তস্বর-মানুষ স্বার্থপর,

কেঁপে কেঁপে উঠে সুসজ্জিত ঘর।

হৃদয়ে ক্লান্তি আসে, বিষন্নতা কান্নায় ভেসে,

সুর্যাস্তের রক্তজবা বেদনার পাহাড় ঘেষে।



মেরুদন্ড, রক্তের বন্যার স্রোতে ভেঙ্গে গেছে।

মণিমুকুটের জ্বলাটাও নিভে গেছে।

বিশ্বাসের ঘটেছে নির্বাসন।

দুঃখে বিপন্ন দিল্টা সারাক্ষণ।



দেখে পূর্ণিমার অফুরন্ত চাঁদের হাসি,

ললাটে সৌভাগ্যের ছোঁয়া ভালবাসি।

সুকর্মে আগ্রহীদের প্রতিশ্রুতি হবে অকৃপণ,

শতাব্দী পেড়ালেও সুঘ্রাণ রেখে বুকে সারাক্ষণ।



(চব্বিশ)

মাকে মনে পড়ে

আনিসুর রহমান



ক্যাম্পাসের সম্মুখে মুক্ত মাঠে

রয়েছে রঙ বেরঙের শত ফুল ফুটে।

যখনি দেখি সেই ফুলের রূপ,

মনের পর্দায় ভেসে ওঠে মায়ের মুখ।



নানান রুপের সমাহারে পুষ্পকানন

রূপ তাদের নেই কারো মায়ের মতন।

সাধারণ রূপ নয় সে রূপের খনি,

বড়ই প্রিয় যেন চোখের মণি।



মায়ের মত আপন নেই কেহ ভবে,

এত নিরাপদ আশ্রয় দ্বিতীয় নাহি পাবে।

মায়ের যত্নে গড়া আমার এই দেহ,

তার চেয়ে বেশী প্রিয় নেই আর কেহ।



আমি বড় বেশী ভালবাসি মাকে,

ছুটে যেতে চায় মন দেখতে তাকে।

যখন অতি বেশী মাকে মনে পড়ে,

নানান শূণ্যতা এসে ধরে ঘীরে,

আবেগে চোখের জল ঝরে পড়ে।



(পচিশ)

সোনার বাংলাদেশ

আনিসুর রহমান



গাঢ় সবুজ প্রকৃতিতে শত রূপের সমন্বয়,

স্বচ্ছ পানির দ্বারা টলমলে জলাশয়।

পুষ্প সৌরভে মন মাতায় ফুল,

নানান সুস্বাদু ফলে হয় মনটা ব্যকুল।

বিভিন্ন পাখিদের সৌন্দর্যের ধরণ,

বৈচিত্রময় দৃশ্য করে হৃদয় বরণ।



উন্মাতাল বঙ্গোপসাগরের পাশে

শ্রাবণের বৃষ্টিতে সবই যেন হাঁসে।

অন্যরকম শোভা শীতের কুয়াশায়,

হরিণের তৃষ্ণার্ত চোখে হাহাকার বাড়ায়,

গ্রীষ্মের বাতাসে উত্তাপ ছড়ায়।



ঋতু বৈচিত্রের মাঝে, এক দারুণ অনুভূতি,

সহজেই ফলে সোনা, নেই কষ্ট অতি।

ভূমির উর্বরাশক্তি গুণেই চাষার হয়না ক্ষতি।



কামানের সামনেও কৃষক অন্যায়ের প্রতিবাদ করে,

কান্ত-সরলমনাদের দেশের প্রতি আন্তরিকতা বাড়ে।

এ আমার দেশ, গৌরবের দেশ, সোনার বাংলাদেশ

রূপসী বাংলায় ভালবাসার নেইকো শেষ।







(ছাব্বিশ)

দেশপ্রেম

আনিসুর রহমান



আমাদের দেশ, সোনার বাংলাদেশ

এখানে সহজেই ফলে সোনা।

সম্পদে ভরপুর দেশের মাটি

অযুত সম্ভাবনার এ দেশ।



আছে নক্ষত্র শোভিত উদার নীলাকাশ,

জ্যোস্নার স্নিগ্ধ আলো,

অপরুপ আলোক গগণ,

রূপের নেই কোন শেষ।



আছে উর্বর জমি আর সোনালী ফসল।

প্রাকৃতিক সম্পদ আছে,

প্রকৃতির সৌন্দর্য আছে,

নয়নাভিরাম দৃশ্য সবুজ-শ্যামল।

সহজ-সরল জীবন, কোমল হৃদয়,

সবাই শান্তি-মুক্তির প্রত্যাশায়।



স্বার্থপর মানসিকতা আর দেশপ্রেমের অভাব

বড়ই অনাকাংখিত এ স্বভাব।

এ সমস্যার সমাধান হলে এগিয়ে যাবে দেশ

সবার মাঝে দেশপ্রেমিক থাকতে হবে বেশ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.