নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্যকোথাও অন্য কোনোখানে- বিজয়ের গানে!

http://www.myspace.com/423882880/music/songs/31785002

অন্যআনন

আবেগের চোখে নয়, সম্ভাবনার চোখে

অন্যআনন › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার উপন্যাসের নারীরা - হুমায়ূন আহমেদ

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৫২

[জনপ্রিয় উপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ অনেকদিন পর নিজ নারী ভাবনা, লেখক নারী ভাবনা নিয়ে কিছু বললেন। ওনার দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রীকে নিয়েও বললেন। জনমনে ওনাকে নিয়ে নানান কথাবার্তা তখন হয়েছে। কিন্তু হুমায়ূন মুখ খোলে নি। চুপ করেছিলেন। পাঠকদের মনে এখনো এ লোকটির রহস্যময় চরিত্র নিয়ে নানান আগ্রহ! হয়তো, অনেকের আগ্রহ একদমই দমে গেছে। সম্প্রতি ওনার স্ক্রিপ্টে সিনেমা হলো- দারুচিনি দ্বীপ। যেখানে গ্ল্যামার বিউটিরা নায়িকা হয়েছিলো। কিছুদিন আগে এ বছরের লাক্স সুন্দরী আয়োজনে ঘোষণা দিলেন, গ্ল্যামার বিউটিদের নিয়ে তিনি আবার কাজ করবেন। হুমায়ূন আহমেদ আসলে যতোই বয়সের ভারে ন্যুব্জ হোন না কেন, তারুন্যের গ্ল্যামার নিয়ে উনি চির নবীন থাকতে চান!

ব্লগার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলাম লেখাটি]



আমি বিয়ে করেছি অল্প বয়েসী একটি মেয়েকে। তার সামনে পাকা চুল নিয়ে ঘুরতে ভালো লাগেনা। বৃদ্ধ মানুষকে দেখতে কার ভালো লাগে। এ কারণে চুলে কলপ লাগাই, রংচটা শার্ট পরি। বয়সকে কমিয়ে ফেলার হাস্যকর প্রচেষ্টা আর কি।

আমার লেখা উপন্যাসে নারী চরিত্রের সংখ্যা আমার অজানা- যেমন অজনা কতোগুলো উপন্যাস প্রকাশ হয়েছে। একেক উপন্যাসের নারী চরিত্র একেক রকম। আলাদা ভাবে বলতে গেলে ডিফিকাল্ট হয়ে যাবে। তাছাড়া জেনারেলাইজেশান করাটাও ঠিক হবে না। হিমু বা মিসির আলীকে তৈরি করেছি। কিন্তু এভাবে আলাদা কোনো নারী চরিত্র তৈরি করিনি। আমার নারী চরিত্রের মধ্যে কোনোটা আনন্দময়ী নারী, কোনোটা ক্ষুব্ধ নারী প্রতিমা। কোনোটা রাগী, কোনোটা স্বাভাবিক। কেউ থাকবে হাসি খুশি এটাই নিয়ম। অনেকে বলেন, আমার নারী চরিত্রের মধ্যে অদ্ভুত একটা ব্যাপার থাকে। কিন্তু আমি বিষয়টি সেভাবে দেখিনা। এভাবে আসলে চরিত্রগুলো সৃষ্টি করা হয়নি। হিমুর ভালোবাসার কারণে রূপার চরিত্রটি আলাদা। ওই উপন্যাসের সব চরিত্রই রহস্যময়। এতোগুলো নারী চরিত্রের মধ্যে আমি কখনো খুঁজে ফিরিনি স্বপ্নের নায়িকাকে। কিংবা প্রেমিকাকে। উপন্যাসের কোনো নারী চরিত্রকেও ওভাবে প্রেমিকা বলে ভাবিনি। প্রেমিকারাতো আলাদা কিছু নয়। তাছাড়া এ বুড়ো বয়সে আর প্রেমিকা খুঁজতে যাবো কোথায়! তবে লেখার অর্থে কোনো নারীকে খুঁজিনি। কারণ আমার সৃষ্টির সব চরিত্রই নিজের মনের মতো করে গড়া।



আমার জনপ্রিয়তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন করেন। বলেন কিভাবে সম্ভব হলো জেনারেশান গ্যাপ ঘুঁচিয়ে ফেলা। এর উত্তর আমি কখনো বলতে পারবো না। এটা বলতে পারবেন মনস্তত্তবিদরা । কেন বাকের ভাইয়ের জন্য মিছিল হয়? আমার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়, আর কেনোই বা বহুব্রীহি নাটকের জন্য ডাক্তাররা আমাকে গালিগালাজ করেন , সেটা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।



আমার উপন্যাস পড়ে অনেকেই নাকি হাসতে পারেন। তবে, এর জন্য আলাদা কোনো পরিশ্রম করতে হয়না আমাকে। আসলে একটা জিনিস প্রথমে দেখে ভালোলাগতে হবে, পরে তার শিল্পমূল্য বিচার করা হবে। মাথার মধ্যে যখন যেটা আসে, সেভাবে লিখি। লেখক হিসেবে আমার চোখে ১০টি মেয়ে ১০ রকম। মেয়ের সৌন্দর্য ব্যাপারটার সংজ্ঞা কেউ দিতে পারেন না। এটা মনের ব্যাপার। যেমন আমার প্রথম লেখা " শঙ্খনীল কারাগার"- এর নায়িকা কালো। কিন্তু সে সুন্দর। আফ্রিকান মেয়েদের দেখলে আমাদের অনেকেরই হয়তো ভালোলাগবে না। বড় বড় চোখ, দাঁত। কিন্তু সে দেশে অনেকেই তাদের জন্য পাগল।



আমার সৃষ্টির মধ্যে সবার চেয়ে আলাদা চরিত্রটি আমি নিজে। আমি সবার থেকে একটু্ আলাদা। জীবনটাকেও সেভাবে দেখি- সে কারণে আমার উপন্যাসের মধ্যে সবার থেকে আলাদা একটা চরিত্র থাকে।



বিঃদ্রঃ " আমার উপন্যাসের নারীরা", হুমায়ূন আহমেদের এ লেখাটি, মঙ্গলবার ১৮ সেপ্টেম্বর ভোরের কাগজের বৈকালীন আয়োজন 'দিনের শেষে' তে প্রকাশিত। সেদিন ছিলো, দিনের শেষের ২য় বর্ষপুর্তি।

মন্তব্য ১৬ টি রেটিং +৭/-২

মন্তব্য (১৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৫৮

মোজাম্মেল হোসেন (ত্বোহা) বলেছেন: ৫

২| ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৪

নীলাঞ্জনা বলেছেন: অন্যআনন আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই পোস্টটির জন্য।

৩| ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৭

অন্যআনন বলেছেন: ধন্যবাদ, নীলাঞ্জনা ও ত্বোহা।

৪| ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৯

মন মণষা বলেছেন: যাক, তোমার লেখার জন্য ওঁর সম্পর্কে অনেক দিন পর পড়া হল। যদিও ওঁর ছক বাঁধা গতানুগতিক লেখার জন্য ৭/৮ বছর আগেই ওঁর বই পড়া বাদ দিয়েছি।
কিন্তু তোমার না অন্য বিষয় নিয়ে লেখার কথা ছিল ?

৫| ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২২

অন্যআনন বলেছেন: দাদা, ওগুলো ঈদসংখ্যার আয়োজন হিসেবে রেখে দিয়েছি। ব্লগীয় ঈদসংখ্যা বলে একটা ব্যাপার আছেনা! তুমি কি এখনো অফিসে?

৬| ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২৩

চতুরভূজ বলেছেন: ৫
ভাল লেগেছে।

৭| ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২৫

সুন্দর সমর বলেছেন: হুমায়ূন আহমেদের নারী নিয়ে কথকতা আর একটু খোলামেলা হওয়া উচিত ছিল। যেভাবে শাওনকে পটালেন, তার আগে আর কাদের পটাতে চেষ্টা করেছিলেন, জানালে ভাল করতেন। লেখক ভাল হলেই মানুষ ভাল হবে এমন কোন কথা নেই। কেতকী কুশারী ডাইসনের লেখা থেকে জানি বৃদ্ধ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তরুণী ভিক্টোরিয়া ওকাম্পার স্তন আকড়ে ধরেছিলেন। (ফল যেভাবে ধরে সে ভাবে)

৮| ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২৬

অন্যআনন বলেছেন: চতুরভুজ, ভাই , আমরা জানি চতুরভূজ মানে চারকোণা। আপনার প্রোফাইলের ছবিটিতে চারকোণা ব্যাপারটি আসলে কি?

৯| ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২৮

অন্যআনন বলেছেন: কেতকী কুশারী ডাইসনের মতো অন্যকেউ হয়তো হুমায়ূন প্রয়াত হলে ( আল্লাহ না করুক) সবকিছু আমাদের জানাবেন। তবে, জোস একটা তথ্য দিলেন বস!

১০| ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪৬

মন মণষা বলেছেন: @সুন্দর সমরঃ
যা বলেছেন...এর পর থেকে তো রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনলেই হাসি পাবে...হাঃ...হাঃ...হাঃ

১১| ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪৮

চতুরভূজ বলেছেন: অন্যআনন, চতুরভূজ চারকোনা এবং Square আবার, চতুর + ভূজ- ভূজ শব্দের অর্থ বাহু, অর্থাত্ত, যার সকল বাহুই সমান। আমি আমার নিজেকে সকল দিকেই সমান মনে করি।
আর প্রাফাইলের ছবিটা বলতে বোঝাচ্ছে মানুষের বাহ্যিক একটা Organ যা কথা বলার সময় ব্যাবহৃত হয়ে থাকে, ব্লগ ভাষার প্রকাশ বলেই এধরনের প্রোফাইল ব্যাবহার। আশাকরি আপনাদের সকল প্রশ্নের জবাব পেয়েছেন।

১২| ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫৫

অন্যআনন বলেছেন: ও আচ্ছা, আপনি চারকোণা, দিয়েছেন অষ্ঠাধরের ছবি। কিন্তু ত্রিভুজ ভাই কি তাহলে নিজেকে সকল দিক দিয়ে সমান মনে করেনা? প্রোফাইলে দিয়েছেন চশমার ছবি। তবে, আপনার ব্যাখ্যাটা ভালো লেগেছে!

১৩| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১:৫১

আলী বলেছেন: আমার চোখে ১০টি মেয়ে ১০ রকম। মেয়ের সৌন্দর্য ব্যাপারটার সংজ্ঞা কেউ দিতে পারেন না। এটা মনের ব্যাপার।

১৪| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সকাল ৮:৩৮

শামনগড় বলেছেন: ভালো লেখা..৫

১৫| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:০৩

স্বপ্নশিকারী বলেছেন: ৫

১৬| ০৭ ই মে, ২০১০ ভোর ৪:১৮

স্পর্শের বাহিরে বলেছেন: ভাই লিঙ্ক আছে?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.