| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে যুদ্ধবিধস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করার পরে যে অমিয় সম্ভবনা নিয়ে দেশটির ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ছিল, যুদ্ধবিধস্ত দেশের বিধস্ত অর্থনীতির সুযোগ নিয়ে পরাজিত শক্তির কূটকৌশলে তখন সেই সম্ভবনা আর আলোর মুখ দেখেনি।বরং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা এবং সামরিক শক্তির হাতে ক্ষমতা, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির কালো হাতকেই শক্তিশালী করেছে দিনের পর দিন।এই দেশ এ বিভিন্ন সামরিক শক্তি ক্ষমতায় থাকার মোহে নানাভাবে তাদের ছাড় দিয়েছে।ফলশ্রুতিতে তারা হয়েছে আরো সংগঠিত।পরাজিত শক্তির সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে যুদ্ধাপরাধীরা ধীরে ধীরে তাদেরকে এদেশে অর্থনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে এমন অবস্থানে নিয়ে গিয়েছে যে আজ তারা সাবলম্বী।হাজার কোটি টাকার জঙ্গি অর্থায়ন আজ তাদের হাতে।দেশে বিদেশে তারা আজ কাড়িকাড়ি টাকা দিয়ে যে এই বিচারকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে তা আজ উন্মোচিত সত্য।তার চেয়েও বড় চিন্তার বিষয় হল তারা এদেশেই তাদের পক্ষে তিনশ্রেনীর বিপুল মানুষকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।
একশ্রেনীর মানুষ যারা চরম দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে।তারা তাদের সন্তানদের মুখে দুইবেলা অন্নের সংস্থান এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষালাভের নিমিত্তে এদের দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন মাদ্রাসার দ্বারস্থ হচ্ছে।এসব প্রতিষ্ঠান এর পাঠ্যসূচি ইচ্ছাকৃতভাবেই এমনভাবে রাখা হয়েছে যাতে তারা মুক্ত ও বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা করতে না পারে এবং একটি বিজ্ঞানবিমুখ ধর্মান্ধ গোষ্ঠীরুপে গড়ে ওঠে।ফলশ্রুতিতে যুদ্ধাপরাধীরা তাদেরকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করতে পারে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে।
দ্বিতীয়শ্রেনীর মানুষ যারা এদের জঙ্গি অনুদান থেকে নিয়মিত মাসোহারা পায়।এরা খুবই চতুর এবং জ্ঞানপাপী।এরা সংখ্যায় কম, সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং দেশে বিদেশে গোয়েবলসীয় প্রপাগান্ডা চালাতে তৎপর।
আর রয়েছে এক ধর্মভীরু মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী যারা আসলে দিকভ্রান্ত।এরা বিভিন্ন সময় দেশে ন্যায়বিচার ও সুশাসনের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ইসলামের ছায়ায় এসে আল্লাহর নিকট এর বিচার চেয়েছে।চতুর যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসররা এদেরকে ইসলামী শাসনের স্বপ্ন দেখিয়ে নিজেদের দলে ভিড়িয়েছে।এই তিনশ্রেনীর জনগনের মধ্যেই তারা ধীরে ধীরে বপন করেছে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প।
অপরদিকে সমাজের অপেক্ষাকৃ্ত অগ্রসরমান জনগোষ্ঠী এবং তাদের উত্তরসূরীরা আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশকে প্রগতি ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় সামিল করতে হয়েছে বদ্ধপরিকর।এ যেন দুই বিপরীত পথে সমাজের দুইমেরুর মানুষের একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে এক বিরুদ্ধযাত্রা।প্রগতিশীলদের কলমের জবাবে যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের ছত্রছায়ায় লালিত ধর্মান্ধরা হাতে তুলে নিয়েছে চাপাতি।কারন কলমকে তাদের খুবই ভয়।
কিন্তু আমাদের সবারই মনে রাখা উচিত যে একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কখনই সকল নাগরিকের অংশগ্রহন ছাড়া সম্ভব নয়।আমরা যদি এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে, যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের কালো থাবার হাত থেকে বের করে বিজ্ঞান ও প্রগতির পথে না আনতে পারি তাহলে হয়তবা যুদ্ধাপরাধীদের উওরসূরীরা তাদের নিয়ে ভবিষ্যতে আবার কোন নোংরা খেলায় মেতে উঠবে।আর এর শিকার হবে বাংলাদেশের সংখ্যা্লঘু সম্প্রদায়, প্রগতিশীল মুসলমান এবং মুক্তচিন্তার মানুষরা।যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হবার পর থেকেই দুষ্টচক্রের এই কূটকৌশলের বিষয়ে সবাই কমবেশি অবগত আছে।দিনে দিনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার দ্রুতগতির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এদের তৎপরতা।
আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনে করি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধ, মাদ্রাসা শিক্ষার যুগোপযোগী আধুনিকায়ন,দারিদ্রসীমার নিচে বাস করা জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে নিয়ে আসা, জঙ্গি অনুদানপ্রাপ্ত জ্ঞানপাপীদের চিহ্নিতকরন ও তাদের মুখোশ উন্মোচন এবং সাধারন ধর্মভীরু মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা খুবই জরূরী হয়ে উঠছে।এসব ছাড়া এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের কালোথাবা থেকে বের করে আনা খুবই কঠিন হবে। আমি চিন্তিত বোধ করি যখন দেখি দেশের সেরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদে আসীন ব্যাক্তি একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর পক্ষা্লম্বন করে এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানি প্রদান করে।এই বিষয়গুলোকে এখন আর ছোট করে দেখার উপায় নেই।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এদেশের মাটিতে যেভাবে হাজার বাধা বিপত্তি ও প্রতিকুলতা উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করা এবং রায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে, হচ্ছে এবং আশা করি হবে, ঠিক একইভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষা, সুশাসন, সাম্য এবং প্রগতি।যেখানে থাকবে না কোন সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প।বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠা পাবে একটি ৭১ এর চেতনার উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে।যেখানে যুদ্ধ হবে মেধার ও মননের। কলমের বদলে কলমই চলবে, চাপাতি নয়। তবে সেক্ষেত্রে ৭১ এর চেতনায় উদ্ভুদ্ধ সকল শক্তিকে যে কোন মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং ধারন করতে হবে অপরিসীম ধৈর্য এবং শক্তহাতে অসীম সাহস নিয়ে মোকাবেলা করতে হবে যেকোন প্রোপাগান্ডার আর যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের ইসলাম গেল ইসলাম গেল ধ্বনির বিরুদ্ধে দিতে হবে কঠোর জবাব।কারন নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশ এ সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করলে ধর্ম হারিয়ে যাবার প্রশ্নই আসেনা।
©somewhere in net ltd.