| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইফতেখার ভূইয়া
গণতন্ত্র মুক্তি পাক, পরিবারতন্ত্র নিপাত যাক

দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে আমার কোন ফয়দা হচ্ছেনা বুঝে বুকটা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছিলাম। ঐ সিদ্ধান্তটিকে আমি আজও একটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলো বলে মনে করি। তবে ইদানীং মনে হচ্ছে পত্রিকা পড়াও বন্ধ করে দিতে হবে।
বিভিন্ন পত্রিকা পড়তে পড়তে কোন না কোন একটা খবর মাথায় আটকে যায়, ভীষণভাবে ভাবায়, কখনো কখনো মানসিক পীড়ার কারন হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ কখনো কখনো দীর্ঘদিন বসে থাকে আমার মেমরিতে, অযাচিতভাবে বিনা অনুমতিতে আমার মানসপটে বার বার রিপিট হয় ঐ সংবাদের হেডলাইন। বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ অনাকাঙ্খিত অতিথির মতো মনের দরজায় এসে হাজির হয়। কখনো বিছানায় শুয়ে, শেভ করতে করতে, খেতে খেতে কিংবা ... । যাইহোক, তেমনি কয়েকটা খবর আমাকে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ভোগাচ্ছে।
১। আমেরিকায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশী পি.এইচ.ডি শিক্ষার্থীর বিৎভস মৃত্যুর খবর। আপনারা অনেকেই ইতোমধ্যেই জেনেছেন পুরো বিষয়টি। আমি প্রথম দিন থেকেই হুকড এবং শকড। এ ধরনের কোন খবরের জন্য কখনোই মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না। ঘাতক ছিলো প্যালেস্টাইন বংশোদ্ভুত, লও ঠ্যালা। যাদের ব্যাপারে বাঙালী এতটাই অবেগপ্রবণ, তাদেরই একজন! আমি বিস্তারিত জানি, জাস্ট বললাম আর কি! আরবদের ব্যাপারে আমার ধারনা খুব একটা উচুঁ দরের নয়। বিশেষ করে বাদামী চামড়ার মানুষ-জনের প্রতি তাদের আচরণের অনেক ইতিহাস আমার জানা হয়েছে। সারমর্ম খুব একটা সুবিধের নয়।
২। আবারও গণপিটুনিতে আরো এক হতভাগা বাংলাদেশীর মৃত্যু। পেশায় ট্রাক ড্রাইভার, স্ত্রী কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ার পর স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে চলে গেছে। রেখে গেছে ছোট্ট একটা বাচ্চা মেয়ে। ট্রাক ড্রাইভার বাবার মৃত্যুর পর মেয়েটির দায়িত্ব পড়েছে দাদা-দাদীর উপর। পুরো বিষয়টিই আমার মনে দাগ কেটে গেছে। বাচ্চাটার কথা মনে করে, ভীষণ কষ্ট পাই। সহায় সুযোগ থাকলে মেয়েটিকে বড় করার দায়িত্ব নিতাম কিন্তু সেটা হয়তো আপাতত সম্ভব নয়। আর এমন কত বাচ্চার দায়িত্ব নিতে পারবো একজন মানুষ হয়ে, সেটাও ভাববার বিষয়। পারলেও ওদেরকে মানুষ হতে দেখে যেতে পারবো বলেও মনে হয় না।
৩। সংরক্ষিত আসনে নারীদের মনোনয়ণ ও শপথ গ্রহন একটা ব্যর্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিষয়টিকে আমি সঠিক বলে মনে করি না। কেন করি না সেটাও বিস্তারিত বলার ইচ্ছে হচ্ছে না। হয়তো কোন একদিন সময় করে লিখবো।
৪। পরমাণু শক্তি ব্যবহারকারীর দেশের তালিকায় বাংলাদেশ। ভবিষ্যত কি বিস্ময় নিয়ে বাংলাদেশীদের জন্য অপেক্ষা করছে তা কেউ জানে না। খবরটি ভালো তবে এমন প্রশ্নপত্র ফাঁসের দেশের লোকজন দিয়ে হালচাষ, রিকশা চালানো সম্ভব হলেও পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র কতদিন কোন দুর্ঘটনা ছাড়াই চালানো সম্ভব সেটা নিয়ে আমার ব্যাপক সন্দেহ আছে। নিয়োগ নিয়ে ইতোমধ্যেই নয়-ছয় এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। রাশিয়া-ভারত যতদিন তদারকি করছে ততদিন হয়তো তেমন কোন সমস্যা হবে না তবে যখন এর দায়িত্ব পূর্ণাঙ্গভাবে বাংলাদেশীদের হাতে দেয়া হবে, সেদিন থেকেই কাউন্টিং শুরু করা যেতে পারে বলে আমার ধারনা। মনে থেকে প্রার্থনা করি, যেন কোন দুর্ঘটনা না ঘটে। বাংলাদেশীদের আবার গ্যাঞ্জাম লাগিয়ে দিয়ে অন্যকে দোষারোপ করার অভ্যেস অনেক পুরোনো। দায়িত্ববান মানুষের অভাব এ দেশে।
পত্রিকার পাতা উল্টালেই এমন অজস্র খবর চোখে পড়ে, মর্মাহত হই, নিজের ভেতর নিজেই ছোট হয়ে যাই ক্রমাগত। কখনো খুশি হ্ই, আবেগে আপ্লুত কিংবা নিউজিল্যান্ডের কাছে এক ম্যাচে হেরে যাওয়ার ব্যাথায় আহত। তবে কিছু করতে পারা অথবা না পারার এই দোদুল্যমান অবস্থা আমাকে বেশ অস্থির করে রাখে কয়েকদিন। এটা আমার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ভাবছি পত্রিকা পড়া ছেড়ে দেব নয়তো নেট কানেকশান। যা আছে দেখা যাবে ভবিষ্যতে। সবাই ভালো থাকুন।
ছবি কপিরাইট: ভেক্টইজি
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:০২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এদিকে খবরের কাগজ পড়া আমার নেশার মতো; অনলাইনেও আমি পেপার পড়ি সবচেয়ে বেশি। সারাদিন মাথায় ঘুরে এটা সেটা; এখন ঘুরছে এক হুজুর ১২ বছর বয়সী মেয়েকে রেইপ করার ঘটনা । এই ঘটনা পড়ার পর মন-মানসিকতা ভালো নেই ।