| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শেষে আমরা সমগ্র জাতি এই নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনাতে মুখর। কেউ মনে করছেন এর ফলে আওয়ামীলীগের একটি রাজনৈতিক পরাজয় হয়েছে, কেউবা মনে করছেন বিএনপির, আবার কেউবা গনতন্ত্রের ।আমার ব্যক্তিগত অভিমত হল নির্বাচন এর মাধ্যমে দুই দলই রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে গনতন্ত্র পরাজিত হলেও দীর্ঘমেয়াদে গনতন্ত্র জয়লাভ করবে বলেই আমার মনে হয়।
প্রথমত, আওয়ামীলীগের দিক থেকে যদি আমরা দেখি তাহলে দেখব তারা ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন এর পর থেকে দেশে একটি দুর্বল গনতন্ত্র রেখে তাদের ২০০৯ সালের অসম্পূর্ণ নির্বাচনী ওয়াদা সম্পূর্ণ করতে ব্যস্ত রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এর প্রধান কারন তারা মনে করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে একদিন না একদিন তাদের জনগনের রায় এর সামনে আসতেই হবে।তারা এখনও ঠিক এতটা আত্মবিশ্বাসী নয় যে তারা জনগনের উপর আস্থা রাখতে পারে।ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে তাদের সমর্থিত মেয়র প্রার্থী জয়লাভ তাদের এই উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নিতে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে। বিএনপি সমর্থিত মেয়ররা জয়লাভ করলে যা করা অনেকটাই দূরহ হত। এর ফলে আওয়ামীলীগ তাদের নির্বাচনী ওয়াদার ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন শেষ করে জনগনের প্রকৃত রায় নেয়ার আত্মবিশ্বাস লাভ করবে।
দ্বিতীয়ত, বিএনপির দিক থেকে যদি আমরা দেখি জামায়াত এর মত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত দলকে নিয়ে বিগত তিনমাসের জনবিচ্ছিন্ন, সহিংস এবং অগনতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্যদিয়ে তারা ক্ষমতা দখলের যে অভিপ্রায় দেখিয়েছিল তা ছিল তাদের ভয়াবহ রকমের রাজনৈতিক ভুল।তারা নিজেরা যখন এই ভুল সিদ্ধান্ত থেকে বের হয়ে আসার উপায় পাচ্ছিল না তখন সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন এর মাধ্যমে তাদের এই ভুল সিদ্ধান্ত থেকে বের হয়ে আসার একটি সুযোগ করে দেয় যেটাকে সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপিকে দেয়া একটি রাজনৈতিক বিজয় হিসাবেই আমি দেখছি।সহিংস আন্দোলনের ফলে তাদের অধিকাংশ নেতারা জেলে থাকার কারনে তাদের নির্বাচনে প্রস্তুতির অভাব থাকায় এবং বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সমস্যা ও বাস্তবতার কারনে তারা আগেভাগেই বুঝতে পারে এই নির্বাচনে জয়লাভ তাদের জন্য কঠিন হবে।ফলে তারা পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত নির্বাচনের বিতর্ক বহুগুনে বাড়িয়ে তাদের পক্ষে আর একটি রাজনৈতিক বিজয় ছিনিয়ে নেয়।
তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদী গনতন্ত্রের দিক থেকে যদি আমরা দেখি তাহলে বলতে হয় একটি দল তাদের নির্বাচনী ওয়াদার অসম্পূর্ণ বাস্তবায়নের কারনে এবং আর একটি দল জনবিচ্ছিন্ন ও ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারনে বর্তমানে জনগনের রায় সম্পূর্ণভাবে গ্রহন করার সৎসাহস না দেখালেও এটা তারা ঠিকই আত্মউপলব্ধি করতে পেরেছে যে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে চাইলে তাদেরকে জনগনের কাছেই ফিরে আসতে হবে।এর আলামত হিসেবে আমরা দেখতে পাচ্ছি আওয়ামীলীগের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দ্রুতগতি এবং বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার বর্তমানের আপ্রান প্রয়াস। এর ফলে স্বল্পমেয়াদে বাংলাদেশের গনতন্ত্র ও জনগনের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও উভয়দলই এখন তৃণমূলের কর্মীদের নিয়ে দলকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করবে এবং দুর্নীতি বন্ধের প্রতি সচেষ্ট হবে বলেই আমি মনে করি।আর এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে সুসংহত হবে এদেশের গনতন্ত্র।
©somewhere in net ltd.