| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাসুল (সাঃ), সাহাবী, তাবেইন এবং তাবেতাবেইনদের অনুসরন করাই হলো সালাফী মানহাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য। কিন্তু পবিত্র কোরআন তাবেইন বা তাবেতাবেইন তো বটেই, সকল সাহাবীকে অনুসরনের নির্দেশ দেয় না। সুরা তওবার ১০০ নং আয়াতে আল্লাহপাক কেবল আনসার এবং মুহাজির সাহাবীদের প্রতি সন্তুষ্ট হওয়ার কথা বলেছেন। আনসার এবং মুহাজিরদের যারা অনুসরন করে তারাও জান্নাতি। কাজেই আল্লাহর রাসুল এবং আনসার-মুহাজির সাহাবীদের অনুসরন করা বাধ্যতামূলক। সাহাবীদের মধ্যে অনেকেই নবী মৃত্যুর পর মুনাফেকীকে লিপ্ত হয়েছিলেন। হযরত তুলায়হা তো ইসলামই ত্যাগ করেছিলেন। অবশ্য পরে ইসলামে ফিরে এসেছিলেন। তাবেইন ইয়াজিদের মাত্র একটি ঘটনাই বেশী চাওর হয়েছে, তা হলো-কারবালা। অথচ এই তাবেইন ইয়াজিদ-বিন-মুয়াবিয়া হাররার যুদ্ধে মদীনায় সাহাবীর স্ত্রী কন্যাদের ধর্ষনের নির্দেশ দিয়েছিল। সাহাবীদের ছোট ছোট শিশু কন্যাদেরও ধর্ষন করা হয়েছিল। প্রায় ১০০০ অবৈধ শিশুর জন্ম হয়েছিল তার এই কীর্তির কারনে। অগণিত সাহাবীকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল। সাহাবী মুয়াবিয়া আহলে বাইতের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলেন। সাহাবী আমর ইবনুল আস ক্ষমতার জন্যে ইসলামের ইতিহাসে প্রথম ‘প্রতারকের’ দায়িত্বে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
সালাফি মানহাজের দ্বিতীয় নীতি হলো জামাআতকে শক্ত করে ধরে রাখা এবং মুসলিম শাসকদের আনুগত্য করা। এই দ্বিতীয় নীতিটিই মুলতঃ সালাফি মানহাজের প্রধান নীতি। একারনেই রাজাবাদশারা এই মানহাজ প্রতিষ্ঠার জন্যে কোটি কোটি রিয়াল খরচ করে আসছেন। সালাফি মানহাজ শক্তিশালী হওয়ার কারনেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজাবাদশা, আমির শেখরা নানা ইসলাম বিরোধী কাযকলাপে লিপ্ত হলেও তারা একটা মানদন্ডে ‘মুসলিম শাসক’। তাই তাদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলা সালাফি মানহাজ অনুযায়ী হারাম। এ নীতিকে পুঁজি করেই মুসলিম নামধারী রাজাবাদশা আমির শেখরা বংশপরম্পরায় মুসলিম সাম্রাজ্য শাসন এবং শোষন করে আসছেন।
উমাইয়া এবং আব্বাসীয় আমল থেকে নানাজাতের মিথ্যা হাদিছকে রাসুলের হাদিছ মর্মে চালিয়ে দেয়া হয়েছিল এবং তা দিয়েই এই মানহাজের সৃষ্টি করা হয়েছিল। রাজতন্ত্রের নিয়োজিত প্রধান মুফতিরাই মুলতঃ এই মানহাজের সৃষ্টি করেছিলেন।
মুলতঃ উমাইয়া এবং রাজতন্ত্র বান্ধব এই মানহাজ পযালোচনা করলে দেখতে পাবেন, এ মানহাজ আহলে বাইত বিদ্বেষী, যদিও একাজটা তারা করেন অত্যন্ত সূক্ষ ভাবে । আহলে-বাইতপ্রেমী মানেই তাদের কাছে শিয়াপন্থী। আর সালাফি মানহাজ মতে শিয়ারা জঘন্য প্রকৃতির কাফের। তাই সালাফিরা সবকিছুই শিয়াদের বিপরীত করেন। হযরত মুয়াবিয়া মুসলিম ছদ্মবেশেই মুসলিম সাম্রাজ্য শাসন করেছিলেন। সালাফিদের দৃষ্টিতে মুয়াবিয়া অনেক মর্য়াদাসম্পন্ন সাহাবী, মুয়াবিয়ার অনুসরনেই সালাফিরা বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। আর এই মুয়াবিয়া এবং উমাইয়ারাই ছিল নবীর বংশ ধ্বংসকারী। কালের পরিক্রমায় সালাফিরা ফুলে ফলে সুশোভিত হয়ে উঠেন এবং এখনো মুসলিম রাজাবাদশা আমির শেখরা এর ফায়দা তুলে আসছেন। রাজতান্ত্রিক সৌদি আরব শিক্ষা-দীক্ষা, শিল্প-সংস্কৃতি, মানবতা-সভ্যতা সবদিক থেকে চরমভাবে পিছিয়ে থাকা সত্বেও মানহাজের নামে কথিত সালাফি ধর্ম প্রচার করে নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করে চলেছে বিশ্বব্যাপী। আর এর জন্যে প্রচুর পেট্রোডলার ব্যয় করেন তারা। তাদের কথিত প্রতিষ্ঠান থেকে মগজ ধোলাই করে আসা কথিত ‘আলেম’ এবং ‘ডক্টর’ নামীয় এদেশের কিছূ মুর্খ মোল্লারা/ষাঁয়ক রাজতান্ত্রিক সালাফি মতবাদকে ‘সহীহ আকীদা’ নাম দিয়ে আকিদা ব্যবসায় লিপ্ত হয়েছেন এবং ধর্মের নামে সৌদিনীতি মানুষকে গেলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। লেবাসধারী এইসব মূর্খরা কথায় কথায় মানুষকে কাফের আখ্যা দেন। অথচ এই আকীদা বিষয়টি কোরআন-হাদিছের কোথাও নাই। আর কোরআন-হাদিছের কোথাও না থাকলে তা তো সুষ্পষ্ট বিদআত বলে তারাই প্রচার করেন। এবার বুঝে নিন শুভংকরের ফাঁকিটা কোথায়!
সালাফি মানহাজের তৃতীয় নীতি হলো, ধর্মীয় উদ্ভাবন (বিদআত) এবং ধর্মীয় উদ্ভাবক (মুবতাদিউন) সম্পর্কে অত্যন্ত সতর্ক থাকা। সালাফীরা ধর্মীয় উদ্ভাবনশীল (বিদআতী) জনগণের সমাবেশ থেকে দূরে থাকেন। এই বিদআতকে তারা শিরক থেকেও বেশী ঘুন্য মনে করেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাভাষী এক সালাফি ষাঁয়খ শবে বরাতের রাতে ইবাদত করার বিদআতের থেকে বেশ্যালয়ে যাওয়া অধিক ভালো মর্মে অভিমত দিয়েছিলেন। সালাফিরা বিদআততে কতটুকু ঘৃণা করে এটা হলো তার একটা নমুনামাত্র। এবার আসুন কোরআনের আলোকে বিষয়টা পযালোচনা করি। পবিত্র কোরআনে অন্ততঃ ৭০ বারেরও অধিক আল্লাহপাক বলেছেন, ‘‘তোমরা কি চিন্তা / গবেষনা করো না?’’ এই চিন্তা এবং গবেষনাকে পবিত্র কোরআন অনুমোদন দিয়েছে এবং মানুষের চিন্তাকে সম্প্রসারন করে উদ্ভাবন করাকে উৎসাহিত করেছে। অন্যদিকে সালাফিরা মানুষের এই উদ্ভাবনকে রুদ্ধ করে হারাম ঘোষনা করেছেন। এর প্রধান কারন হলো, যে কোন নতুন উদ্ভাবন রাজতন্ত্রের জন্যে খাতরা হয়ে উঠতে পারে। সালাফিরা মুলতঃ সনাতন নীতি অনুসরন করেন, তাদের ভাষায় যা সালফে সালেহীনরা করেছিলেন। এর বাইরে আর কিছুই নেই। জ্ঞান রুদ্ধ। চিন্তা রুদ্ধ। প্রশ্ন করা রুদ্ধ।
©somewhere in net ltd.