নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পথের শেষে পথের দেখা

পথের শেষে পথের দেখা › বিস্তারিত পোস্টঃ

আশুরার রোজার আসল রহস্য:

২১ শে জুন, ২০২৪ রাত ১০:৫৪

মহররম মাসের আশুরা নিয়ে যেসব কল্পকাহিনী রচিত হয়েছে-
• এই দিনে হযরত মূসা আঃ ও তার সাথীরা ফেরাউনের কবল থেকে উদ্ধার পান।
• আদম-কে এদিনেই জান্নাতে স্থান দেয়া হয় এবং পরবর্তীতে এই দিনেই পৃথিবীতে পাঠিয়ে নবী করা হয়।
• হযরত নূহ-এর সময়ে এই দিনে মহাপ্লাবন হয়।
• হযরত ইব্রাহীম আ. জন্ম নেন।
• মুসা আঃ এর শুত্রূ ফেরাউন ও তার সৈন্যদেরকে আল্লাহ তায়ালা এই দিনে নীল নদের পানিতে ডুবিয়ে মারেন।
• হযরত ইউনুছ আঃ মাছের পেট থেকে মুক্তি পান এই দিনে।
• হযরত আইয়ূব আঃ রোগ মুক্তি পান এই দিনে।
• ঈসা আঃ এই দিনে জন্ম নেন এবং পরবর্তিতে তাকে সশরীরে ঊর্ধ্বাকাশে এই দিনে উঠিয়ে নেয়া হয়।
১০ই মহররম আসলে যা ঘটেছে-(সিরাত ও ইতিহাসের আলোকে)
নবী মুহাম্মদ সা: এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন এই দিন কারবালার ময়দানে ইয়াজিদ-এর সৈন্যদের হাতে শাহাদাত বরন করেন।
ইহুদীদের রোজার প্রকৃত সত্য:
ইয়াম কিপ্পুর হচ্ছে ইহুদি বর্ষপঞ্জিকার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন তারা রোজা রাখেন।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপবাসের দিন তিশা বাব। আনুমানিক ২৫০০ বছর আগে এই দিনে ব্যবলনিয়া জেরুজালেমের প্রথম পবিত্র মন্দির ধ্বংস করে দেয় এবং প্রায় ২০০০ বছর আগে রোমানরা জেরুজালেমের দ্বিতীয় পবিত্র মন্দির ধ্বংস করে দেয়। সেই উপলক্ষ্যে তারা এই দিনটিকে পালন করে রোজা রাখে। এছাড়া ইহুদীদের আর কোন রোজা রাখার ইতিহাস নেই। ইহুদীরা ১০ই মহররম রোজা রাখে-এটা তৎকালীন রাজতন্ত্রের বানানো ইতিহাস। খুব সম্ভবতঃ কারবালার হৃদয় বিদারক ঘটনার স্মরনে সেকালে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা ১০ই মহররম যে রোজা রাখতেন, সেটাকে ভিন্নখাতে ঘুরিয়ে দিতেই মিথ্যা ইতিহাস রচিত হয়েছে।
সুন্নীদের প্রধান হাদিছগ্রন্থ বুখারিতে এসেছে — ‘ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করে দেখতে পেলেন যে, ইহুদিরা আশুরা দিবসে সিয়াম পালন করে।
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার? (তোমরা এদিনে সিয়াম পালন করছো কেন?) তারা বললো, এটা অতি উত্তম দিন। এই দিনে আল্লাহতায়ালা বনি ইসরাইলকে তাদের শত্রুর কবল থেকে মুক্তি দান করেছেন। ফলে এই দিনে মুসা আলাইহিস সালাম সিয়াম পালন করেছেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মুসা আলাইহিস সালামের অনুসরণের ক্ষেত্রে আমি তোমাদের অপেক্ষা অধিক হকদার। এরপর তিনি এ দিনে সিয়াম পালন করলেন এবং (অন্যদেরকেও) সিয়াম পালনের নির্দেশ দিলেন।’ (সহিহ বুখারি, হা. নং ২০০৪; সহিহ মুসলিম, হা. নং ১১৩০)
বুখারির আরেক বর্ণনায় উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন— (জাহেলি সমাজে) লোকেরা রমজানের সিয়াম ফরজ হওয়ার পূর্বে আশুরার দিনে সিয়াম পালন করতো। এ দিন কাবায় গিলাফ জড়ানো হতো। এরপর যখন রমজানের সিয়াম ফরজ হলো, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে এ দিন সিয়াম পালন করতে চায় সে পালন করুক। যে না চায় না করুক। (সহিহ বুখারি, হা. নং ১৫৯২)
অথচ এ হাদিছগুলোর কোন সত্যতা সীরাত বা ইহুদী ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে পাওয়া যায় না। ধারনা করা হয়, উমাইয়ারা কারবালার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করানোর লক্ষ্যে নবীর নামে এ ধরনের হাদিছ রচনা করিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এখনো রাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে আশুরার গুরুত্ব নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনা হলেও একবার কারবালা বা হুসাইনের নামটি মুখেও আনেন না।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.