| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আপাতত আমি
কিছু কথা থাকে যা সহজে বলা যায় না। ধর্ম, রাজনীতি, সংস্কৃতি...কতো কথাই না বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু বলা হয়ে ওঠে না। হয়তো বা সময়ের অভাবে, নাগরিক জীবনের ব্যস্ততার গ্যাঁড়াকলে কিংবা ভয়ে। বন্ধুত্ব হারাবার ভয়ে, লোকলজ্জায় পড়বার ভয়ে, টিটকিরি কিংবা হুমকি শুনবার ভয়ে। এসব থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য একটা আড়ালের বড্ড দরকার ছিল। তাই আপাতত আমি মুখোশের আড়ালে।
গত ৬এপ্রিলের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গতকাল অনুষ্ঠিত হোলো হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের “ঢাকাঅবরোধ” কর্মসূচী। ইসলাম অবমাননাকারীদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবি আদায়ের জন্য মতিঝিলশাপলা চত্বরে তাদের মহাসমাবেশ আয়োজিত হয়। লাখ লাখ মানুষ এই সমাবেশে যোগদান করে ১৩দফার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করেন। সরকারের ১৩ দফা দাবি নিয়ে দ্বিমতথাকলেও তারা সমাবেশ করবার অনুমতি প্রদান করে, কেননা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেকোনোনাগরিক ও সংগঠনের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবার অধিকার আছে। কিন্তু আমরা দেখেছিগতকালের সমাবেশ শান্তিপূর্ণ থাকে নি। বায়তুল মোকাররমের সামনে ফুটপাতের অনেক বইপোড়ানো হয়েছে জার মধ্যে অনেক কুর’আন শরীফও ছিল। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগকরায় ১ কথায় গতকালের রাতের ঢাকা শহর নরকে পরিণত হয়েছিল। শেষরাতে সমন্বিত বাহিনীর(পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি) অভিযানের মাধ্যমে মতিঝিল থেকে হেফাজত কর্মীদের বিতারণকরা হয়। অনেকের দাবি, এ সময় উচ্ছেদকল্পে সমন্বিত বাহিনী এক বর্বরোচিত গণহত্যাচালায়। কেউ বলছেন প্রায় দেড় হাজার নিরস্ত্র ইবাদাত ও জিকিররত এবং ঘুমন্ত মানুষেরউপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। একুশে টেলিভিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলাহয়েছে সংখ্যাটা ২৫০০।তবে কেউ কেউ বলছেন পুরোটাই গুজব, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবারবুলেট ছাড়া আর কোনো অস্ত্র ব্যবহার করা হয় নি। কেউ মারা যায় নি।
কথা ১ # হ্যাঁ, মানুষ আসলেই মারা গিয়েছে। গতকাল মধ্যরাতের আগে খুব সম্ভবত সংখ্যাটাছিল ১০ (সুত্র : প্রথমআলো)। কিন্তু মধ্যরাতে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে কিনা সে ব্যাপারেনিশ্চিত করে কিছু বলা না গেলেও হওয়ার সম্ভাবনাটাই বেশি। যাদের সন্দেহ আছে, ফেসবুকেরবিভিন্ন পেজগুলোতে দেওয়া ছবিগুলো একটু দেখে নিবেন। বেশিরভাগ লাশেরই গলা থেকে রক্তপড়ছে। রাতে ট্রাক দিয়ে লাশ নিয়ে যাবার ছবি সময় ও একুশে টিভির কাছে থাকলেও তাদেরকেটা প্রকাশ করতে দেয়া হয় নাই। একুশে টিভির ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।
কথা ২ # কুর’আন পোড়ানোসহ অগ্নিসংযোগ, লুঠতরাজ ও অন্যান্য সহিংসতার বিষয়ে সরকার তথাআওয়ামী লীগের দাবি হেফাজতের সাথে জামায়াতে ইসলামি ও ছাত্র শিবির জগ দিয়ে একত্রেএসব চালায়। অপরপক্ষে আরেকটি সূত্রানুযায়ী, গতকাল নৌপরিবহন মন্ত্রী শ্রমিকনেতাশাহজাহান খানের নেতৃত্বে ও উপস্থিতিতে শ্রমিক-পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এনায়েতখান, শ্রমিকনেতা উসমান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাচ্চুচেয়ারম্যান পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোহিতায় অসংখ্য যুবলীগ-ছাত্রলীগ-শ্রমিকলীগেরক্যাডারদের সংগঠিত করে একত্রে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আক্রমন চালায়।মুসুল্লিরা পিছু হঠার সাথে সাথে তারা কুরান ও ধর্মীয় বইতে আগুন দেয়া, মসজিদেআগুন দেয়া ও ভাংচুর-লুটপাট চালায়। হামলার সময় সার্বক্ষনিক পুলিশ পাহারায় এই ঘটনাঘটে। ঘটনার অনেক ছবি সাংবাদিকরা তুললেও হলুদ সংবাদণীতির কারনে সেগুলো কোন পত্রিকাপ্রকাশ করছেনা। প্রত্যক্ষদর্শী ও উপস্থিত সাংবাদিকরা এই ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।তবে আমার মতে, যে কুর’আন মাদ্রাসার ছাত্ররা ছোটবেলা থেকে যত্ন সহকারে হিফজ করত,যার আইন প্রতিষ্ঠিত করতে তারা মৃত্যুবরণ করতেও দ্বিধা করছেন না, মতিঝিল চত্বরেসমাবেশ চলাকালীন অবস্থায় তারা কোনোভাবেই, কোনো যুক্তিতেই কুর’আন পোড়াতে পারেন না।তারপরেও নিশ্চিত সত্যটা আমি জানি না, কারণ সব জায়গাতেই কিছু কুলাঙ্গার থাকতে পারে।
কথা ৩ #আরটিভি, এনটিভি ও একুশে টিভিতে কিছুক্ষণ দেখানো হলেও দিগন্ত টিভিতেই সত্যিকারঅর্থে সমাবেশ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু দিগন্ত টিভি নাকি এখন বন্ধ করেদেয়া হয়েছে। নাখালপাড়ায় নাকি সব স্যাটেলাইট চ্যানেলই বন্ধ। সত্যি-মিথ্যা জানি না।
কথা ৪ #প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনের কোথাও রাতে চালানো গণহত্যার কথা বলা হয় নি। (যদিতা হয়ে থাকে)
কিছুক্ষণআগে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবের মুখে শনা ভাষ্যমতে, তার স্ত্রীর ভাই সমাবেশেযোগদান করে। শেষ রাতে সমন্বিত বাহিনী চারদিক থেকে তাদেরকে ঘিরে ধরে প্রথমে টিয়ারশেল ও পরে ব্রাশফায়ার করে। তারা যে যেদিকে পারে ছুটে প্রান বাঁচায়। তার সাথে আশাপরিচিত কাউকে সে খুঁজে পায় নি। লাশগুলো সত্বর সেখান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়।
১ জনপ্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য দিয়ে লেখা শেষ করছি।
বাংলাদেশের কৃষি ব্যাংকের নৈশ্য-নিরাপত্তা প্রহরীআনোয়ারঃ
সময় রাত ২.৪০ বা ৫মিনিট কম বেশি । চারিদিকে সাইরেন, গুলি, গ্রেনেড, আল্লাহ্, আল্লাহু আকবার চিৎকার । মানুষ পালাবার জন্য অলি-গলি ও বিভিন্নভবনের দিকে ছুটছে । সমস্ত ভবন বন্ধ । জীবন বাচাবার জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এরসামনে চা এর দোকানে দুই জন মানুষ লুকানোর চেষ্টা করছিলো । কাছাকাছি থেকে কয়েকজনতাদের গুলি করতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। যারা গুলি করলো তারা সামনে চলে গেল। পিছনথেকে কয়েকজন এসে ওদের নিথর দেহ টেনে পুলিশের গাড়িতে তুলল। দুইজন পুলিশ কি যেন একটামেডিসিন ছিটিয়ে দিতেই সব লাল রক্ত পানির মত হয়ে গেল । আমি আরও অনেক সময় ওইজায়গাটার দিকে নির্বাক তাকিয়ে চোখের পানি ফেললাম ।
শুধু আমি নয়, আশেপাশের সবনৈশ্য-নিরাপত্তা প্রহরীর একই অভিজ্ঞতা ।
হেআল্লাহ! তুমি আমাদের ধৈর্য দাও! তুমি আমাদের সত্যিটা জানার তাওফিক দাও! কারণ তুমিইতো বলেছ, “আর বলো, ‘যখন সত্য এসে মিথ্যার সামনে দাঁড়ায়, মিথ্যা বিলুপ্ত হয়। কারণমিথ্যা তার প্রকৃতিগত কারণেই বিলুপ্ত হবে।’ ’’ (সূরা ইসরা ১৭ : ৮১)
Click This Link
©somewhere in net ltd.