| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সারাদিন সামুতে বাবাদের নিয়ে অনেক লেখা পড়লাম। অনেকেই বাবাকে নিয়ে নিজ নিজ আবেগ অনুভুতি প্রকাশ করেছেন, বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সত্যিই তাদের বাবারা ভাগ্যবান এ রকম সন্তান জন্ম দিয়ে। সন্তান কিছু বলুক না ই বলুক-প্রকাশ করুক আর নাই করুক ; বাবা মাত্র ই পিতৃত্বের আনন্দ অনুভব করে। আসলে বাবা হওয়া যে আনন্দের, কতই না অনুভূতির তা যে- বাবা না হয়েছে, তাকে হাজার উপমা দিয়ে বুঝানো যাবেনা।
আমার মনে পড়ে --আমার বড় ভাইয়ের বন্ধু (বর্তমানে পল্লী বিদ্যুতে কর্মরত)---যার কথায় সবর্দা উচ্ছাস, ছোট ভাই বন্ধু সব মহলে লাফিং ষ্টক। অনেক দিন তার খোজঁ নেই, সংসার নিয়ে ব্যস্ত। হঠাৎ এক দিন সন্ধ্যা নাগাদ আমদের বাসায় আসলো, এলোমেলো চুল, খালি পা, লুংগী পড়া (যিনি ইন করা প্যান্ট পড়া বাদে কখনই বের হতেন না)।
এসেই ধরা গলায় আমার মাকে বললো যে, তাঁর সদ্য ভুমিষ্ঠ সন্তান তীব্র জন্ডিসে আক্রান্ত, ইনকিউবেটরে হিট দেয়া হচ্ছে। তখন আমি ভাবি- হায়ারে সন্তান সন্তান করে কেমন হয়ে গেছে লোকটা..., এত রিএ্যাকট করার কি আছে?
আজ আল্লাহর রহমতে আমার সাড়ে তিন বছরের একটা বাচ্চা আছে। জানু/২০১০ কোন এক সকালে সিজাররিয়ান অপারেশন শেষে যখন বাচ্চাকে আমার কাছে দেয়া হলো- তখন শুধু অনুভুতি ”এ আমার, ১০০% আমার।
সে হাসলে আমি হাসি, সে কাদঁলে আমি কষ্ট পাই। সে ব্যাথা পেলে হয়তো তার শারিরীক কষ্ট হয়, কিন্তু তার চেয়ে বেশী মানসিক কষ্ট আমার হয়। শরীর খারাপ করলে রাত সে যতটা জাগতে বাধ্য হয়, ইশ্বর স্বাক্ষী তার চেয়ে বেশী রাত আমি নির্ঘুম থাকি। পরদিন অফিসে ক্লান্ত লাগলেও, কখনই তাকে এতটুকুও দায়ী ভাবতে মন টানে না। মাঝে মাঝে আমার স্ত্রী আমার বাবার বিরুদ্ধে তাকে কটু কথা বলার অভিযোগ করলে, পাত্তা না দিয়ে তৎক্ষনাৎ মনে হয় আমার পুত্রবধু যদি কোনদিন আমার দিকে এমন অভিযোগের আংগুল তুলে।।।।।।।
©somewhere in net ltd.