| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গত ১০ জুন, ২০১৩ তে প্রথম আলোর সম্পাদকীয়তে মোহাম্মদ কায়কোবাদ স্যারের একটি লেখা ছাপা হয়, যেই লেখায় তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার অনুদান এবং অনুদানকৃত এই সকল গবেষণার ফলাফল স্বরূপ গবেষণা পত্রে প্রকাশের উপর বিশ্লেষণ ধর্মী আলোচনা করেন। অনলাইনে স্যারের লেখাটির লিঙ্ক এবং লেখাটি হুবহু তুলে দেয়া হল।
শিক্ষা গবেষণা বাংলাদেশে গবেষণার বিরল সাফল্য
মোহাম্মদ কায়কোবাদ | তারিখ: ১০-০৬-২০১৩
(লিঙ্কঃ http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-06-10/news/359242 )
স্যারের লেখার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে আমাদের প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজি, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ব্ববিদ্যালয় ল্যাবের পক্ষ থেকে সম্পাদকীয়তে ছাপানোর জন্য একটি লেখা পাঠানো হয়, যা ল্যাবের তরুন গবেষকদের লিখা। প্রথম আলোতে পাঠানো মূল লেখাটি ছিল নিন্মরুপ।
“বাংলাদেশে গবেষণার বিরল সাফল্য” এবং আমাদের কিছু কথা
সামসাদ রজ্জাক, মাহজাবিন আমিন, তাসলিমা হক, সাবরিনা এম ইলিয়াস, সুদীপ বিশ্বাস, শাবনাম জামান এবং প্রফেসর জেবা ইসলাম সেরাজ: প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজি ল্যাব, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ব্ববিদ্যালয়।
ঠিক সময়টা মনে নেই, কবে-কখন পড়েছিলাম ‘নিউরণের অনুরণন’ বইটি । কিন্তু আমাদের এই ছোট্ট জীবনে সবচাইতে ভাবিয়েছে এই বইটি, ভাবিয়েছে বইয়ের প্রতিটি পাতার প্রতিটি শব্দ। অন্যরকম এক সম্মোহনী শক্তি অনুভব করেছি । হয়তবা তার কারনে নতুন কিছু আবিস্কারের নেশা এখন আমাদের মত তরুণ প্রজন্ম কে গবেষণা মুখী করছে। সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছু পাল্টেছে, পাল্টেছে আমাদের প্রত্যাশা, আমরা এখন আমাদের স্বপ্নগুলোকে নিয়ে ভাবতে ভয় পাই না। আমাদের দরকার প্রফেসর জাফর ইকবাল কিংবা প্রফেসর কায়কোবাদ এর মতন স্বাপ্নিক মানুষ , যারা স্বপ্ন ফেরি করে বেড়ান, ভালো কিছু করার স্বপ্ন। তাই স্বভাবতই আমাদের প্রফেসর দ্বয়ের প্রতি আমাদের প্রত্যাশার পরিমাণ টাও অনেক অনেক গুণ বেশি। আমরা আশা করি তাদের কাছ থেকে গঠনমূলক সমালোচনা, যা সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।
গত ১০ জুন, দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রফেসর মোহাম্মাদ কায়কোবাদ “ বাংলাদেশ গবেষণার বিরল সাফল্য ” শিরোনামে লিখা প্রবন্ধটি আমাদের বিস্মিত ই করেনি, রীতিমতো বেশ কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। শ্রদ্ধেয় শিক্ষক খুব সহজে জীববিজ্ঞান ও তাত্ত্বিক / জড়বিজ্ঞানের গবেষণার মধ্যে একটা ব্যবধান একে দিয়েছেন শুধুমাত্র প্রকাশিত পেপার এর উপর ভিত্তি করে। উদাহরণ হিসেবে উনি টেনে এনেছেন তাঁরই বিভাগের অপর এক অধ্যাপকের কথা, উনি বলেছেন তাঁর মাত্র (!) ৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার প্রোজেক্ট থেকে এক বছরে ১৫ টি পেপার প্রকাশিত হওয়ার কথা। সম্মানিত পাঠক আমরা টাকার অঙ্কটার আগে একটা বিস্ময় সূচক চিহ্ন দিয়েছি, ব্যাপারটা ভুল করে হয়নি, কারণটা ব্যাখ্যা করছি। আমাদের জীববিজ্ঞান গবেষকদের মাঝে অনেক ই আছেন যাদের এক বছরে ১৫ টার চাইতে বেশি পেপার প্রকাশিত হয়েছে, তাও আবার কোন অনুদান ছাড়া। কিভাবে সম্ভব হল? হয়েছে কেবল বায়োইনফরমেটিক্স এর কল্যাণে । যার একটা রেফারেন্স শ্রদ্ধেয় স্যার দিয়েছেন খুব গর্বের সাথে, যেখানে উনি বলছেন অস্টিন এর বিশ্ববিদ্যালয় এর কথা। আমরাও খুবই আগ্রহী হয়ে পেপারটা ডাউনলোড করেছি, কিন্তু স্যার হয়তো খেয়াল করেননি যে ওই কাজটার জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচাইতে বড় গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্সিটিউট অফ হেলথ (এন.আই.এইচ), যাদের এক একটা অনুদান আমাদের তৃতীয় বিশ্বের যেকোনো প্রোজেক্ট এর চাইতে সাধারনত কয়েক গুণ বেশি হয়। তাহলে স্বভাবত ওই পেপার বা সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য অনুদান ৮০ কোটির বেশি ই হবে ।
এখন আসি পাটের জিনোম সিকুয়ান্সিং প্রোজেক্ট এর প্রসঙ্গে। এখন ও পর্যন্ত স্যার এর বক্তব্য অনুযায়ী ৮০ কোটি টাকার প্রোজেক্ট এর ফলাফল ৪.০৭ ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর এ প্রকাশিত একটি মাত্র পেপার। শ্রদ্ধেয় স্যার এই প্রোজেক্টের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়েও বেশ সংশয় প্রকাশ করেছেন। স্যার নিশ্চয় খেয়াল করেছেন, ৪.০৭ এ প্রকাশিত পেপারটি কিন্তু পাটের জীবন রহস্য উন্মোচনের উপরে না, এইটা ছিল অনেকটা প্রোজেক্ট এর বাই-প্রোডাক্ট। স্পষ্ট করে বলতে গেলে এইটা ছিল পাটের একটা ক্ষতিকর ছত্রাকের জীবন রহস্য উন্মোচনের উপরে। পাটের জিনোম সিকুয়ান্সিং এর পেপারটি এখন ও প্রকাশিত হয়নি, তবে এই প্রোজেক্ট এর মূল গবেষক প্রফেসর মাকসুদুল আলম এর আগে পেপের জিনোম সিকুয়ান্সিং এর পেপারটি ৩৬.২৮০ ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টরের বিখ্যাত নেচার সাময়িকীর ৪৫২তম ভলিউমে প্রকাশ করেছিলেন ২০০৮ সালে। আশা করা যায়, পাটের জীবন রহস্য উন্মোচনের মূল পেপারটি ও তার কাছাকাছি কোন ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টরের জার্নালে প্রকাশিত হবে। জীবন রহস্য উন্মোচনের যে প্রক্রিয়া তা আসলে বেশ জটিল। জীববিজ্ঞান এর কোন প্রজাতির পুরো পরিধিকে একটা ছকে ফেলতে চাইলে শুধু মাত্র সিকুয়ান্সিং এর ফলাফল পর্যাপ্ত নয়, সাথে আরও অনেক প্রাসঙ্গিক ব্যাপার আছে যার কাজ এখন প্রফেসর মাকসুদুল আলম এর পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ পাট গবেষণা কেন্দ্রে চলছে।
স্যার তার লেখায় পাটের জিনোম সিকুয়ান্সিং এর পরবর্তী আশাবাদ নিয়ে বেশ হতাশা ব্যক্ত করেছেন। স্যার হয়তোবা আশা করছিলেন খুব তাড়াতাড়ি নতুন নতুন উন্নত প্রজাতি উদ্ভাবন হবে যা আমাদের পাটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবে এবং আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রসঙ্গত আমরা আমাদের ল্যাবের কার্যক্রমের একটা ছক দিয়ে উন্নত প্রজাতি উদ্ভাবনের প্রক্রিয়াটা ব্যাখ্যা করছি। আমাদের ল্যাব প্রধানত লবন ও খরা সহিষ্ণু অধিক ফলনশীল নতুন ধান প্রজাতি উদ্ভাবনের উপর কাজ করছে। এই কাজের ব্যাপ্তি এবং প্রকাশনা আমাদের ল্যাব ওয়েবসাইট (http://www.pbtlabdu.net/ ) এ পাওয়া যাবে। সাধারনতঃ এক একটা নতুন প্রজাতি উদ্ভাবন খুব সময় সাপেক্ষ ব্যাপার যা অনেকাংশে নির্ভর করে তার পূর্ববর্তী প্রজাতির জীবনকাল এর উপর। একটা প্রজাতি উদ্ভাবন তার কয়েকটা জেনারেশন (আনুমানিক ৬) পর্যন্ত মনিটর করা হয় শুধুমাত্র বিশেষ ভাবে নির্মিত নেট হাউসে, যা পরবর্তীতে মাঠে লাগিয়ে তার কার্যক্ষমতা যাচাই বাছাই করে তবে তা কৃষকদের হাতে পৌঁছানো হয়। এখানে প্রতিটি জেনারেশনে নিবিড় পর্যবেক্ষণ দরকার পরে কারণ প্রতিটি প্রজন্মে কাঙ্ক্ষিত চরিত্রের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারলেই তবে সফলভাবে উন্নত প্রজাতি উদ্ভাবন করা সম্ভব। অর্থাৎ এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সাধারণ ভাবে ৫-৮ বছর সময় দরকার। এই প্রক্রিয়াটা কেবল আমাদের ক্ষেত্রে ই নয় বরং সমগ্র পৃথিবীর সব দেশেই এই নিয়ম অনুসরণ করার মাধ্যমে নতুন প্রজাতি উদ্ভাবন করা হয়। সুতরাং, পাটের জীবন রহস্য প্রোজেক্ট ই যেখানে এখনো প্রক্রিয়াধীন সেখানে পরবর্তী আশাবাদ এইভাবে গুঁড়িয়ে দেয়া আসলে কি উচিত ? উদাহারন হিসেবে মানুষের জিনোম সিকুইয়েন্সিং প্রোজেক্ট এর প্রসঙ্গ আনা যায়। আমরা যারা একটু জীববিজ্ঞানের খোঁজ খবর রাখি তার নিশ্চয় জানি এই পুরো প্রোজেক্ট টা শেষ করতে ১৫ বছর সময় লেগেছিল, যা ড্রাফ্ট আকারে প্রকাশিত হয়েছিলো ২০০৩ সালে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত , প্রকাশিত হওয়ার ১০ বছর পরেও, আমরা আমাদের জটিল রোগ যেমন ক্যান্সার, এইডস, মস্তিষ্কের রোগ ইত্যাদি সম্পর্কে তেমন স্বচ্ছ কোন ধারণা করতে পারিনি, কিন্তু তাই বলে গবেষণার অনুদান কমে যায়নি বরং তা আগের চাইতেও অনেক বেশি গুণ বেড়েছে।
প্রসঙ্গত আরও উল্লেখ্য, একটা গবেষণা ফলাফল কোথায় পাবলিশ হল তা পরিমাপ করা হয় তা জার্নাল এর ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর এর উপরে। আর এক একটা জার্নালের ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর কেমন হবে তা সম্পূর্ণ ভাবে নির্ভর করে ওই জার্নালে প্রকাশিত পেপারটা কি সংখ্যায় সাইটেড হল তার উপর। আবার একটা পেপার এর সাইটেশন নির্ভর করে প্রকাশিত পেপারটার টপিক নিয়ে কতো বেশি কাজ হচ্ছে তার উপর। এই নিয়মে জার্নাল গুলো ও একই ভাবে কাস্টওমাইজড। তাহলে বোঝা যাচ্ছে, যে কোন গবেষণার মূল্য পরিমাপের মাপকাঠি হিসেবে যদি পেপার প্রকাশনাকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয় তাহলে প্রথমে আমাদের জানতে হবে সে আলোচ্য বিষয়টা নিয়ে গবেষণার জায়গাটার ব্যাপ্তি কতটুকুন।
স্যার তার লেখায় আমরা যারা গবেষণা করি তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যথার্থ বলেছেন। এই প্রসঙ্গে তাঁর দেয়া সাজেশান্স গুলো কাজে লাগানো যেতে পারে। যেমন তিনি দক্ষ গবেষকবৃন্দের ডেটাবেইস তৈরি এবং নিয়মিত আপডেট করার তাগিদ দিয়েছেন যা খুবই সময়োপযোগী মতামত। গবেষণার অর্থ বরাদ্দের জন্য বিভিন্ন জটিলতা নিরসনে তাঁর স্পষ্ট অবস্থান আসলে আমাদের সামনে এগুনোর সাহস যোগাবে।
অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার হলেও সত্য যে, প্রথম আলোতে লেখাটি ছাপানো হয় ঠিকই কিন্তু মূল লেখাটিকে কেটে ছেটে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে ছাপানো হয়। এর ফলে সত্যিকার প্রতিক্রিয়া পাঠকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। প্রথম আলোতে ছাপানো প্রতিক্রিয়াটির অনলাইন লিঙ্ক এবং লেখাটি নিচে তুলে দেয়া হল।
প্রতিক্রিয়া
গবেষণার সাফল্য ও আমাদের কথা
জেবা ইসলাম সেরাজ, সামসাদ রাজ্জাক, মাহজাবিন আমিন, তাসলিমা হক, সাবরিনা এম ইলিয়াস, সুদীপ বিশ্বাস ও শাবনাম জামান | তারিখ: ১৯-০৬-২০১৩
(লিঙ্কঃ http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-06-19/news/361470 )
আজ ১৯ জুন, ২০১৩ সকালে সম্পাদকীয়তে লেখাটা দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। কারণ, আমি অনেক দিন আগেই মূল লেখাটা দেখে ছিলাম। নতুন করে আবারো প্রথম আলোতে লেখে কি কোন লাভ হবে, আবারও কেটে ছেটে অন্য কিছু বানিয়ে নিজেদের মতো করে ছাপিয়ে দিবে। সত্যিকারের চিত্র তুলে ধরার জন্যই সব লেখা গুলো একসাথে করে শেয়ার করা।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে জুন, ২০১৩ সকাল ১০:৩৩
খেয়া ঘাট বলেছেন: লিখাটি পড়লাম।
আপনাদের আরো সাফল্য কামনা করছি। নিজের দেশকে আরো বেশি আলোকিত করবেন দেশে এবং দেশের বাইরে -এই প্রত্যাশা থাকলো।