নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিরবতা আগেও ছিল, এখনো আছে.........

অর্যমা

নিরবতা

অর্যমা › বিস্তারিত পোস্টঃ

স্ক্রিন প্লেঃ শর্ট ফিল্ম (অবাধ যৌন চর্চা)

০৭ ই মে, ২০১৩ ভোর ৪:২৩

SEQUENCE 01

INT - OLD BOOK SHOP – DAY

অগোছালো দোকান। এক কোনে ময়লা পড়া সিগমুন্ড ফ্রয়েডের ছবি।

চেয়ারে বসে বিষন্ন নয়নে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে কবির, দুই হাত মাথার পিছনে, প্লাষ্টিকের চেয়ারটাকে রকিং চেয়ার বানিয়ে দুলছে।

জামানের প্রবেশ।

জামান

কি কবির ভাই, এরকম গোমড়া মুখ করে বসে আছেন কেন? ছ্যাকা খেয়েছেন নাকি?

উত্তরের অপেক্ষা না করেই কবিরের সামনের চেয়ারে বসে পড়ে।

কবির

জামানের প্রশ্ন যেন কানেই ঢুকেনি। তারপর হঠাৎ দোলা থামিয়ে দেয়।

নাহ্‌।

পুনরায় দুলতে শুরু করে।

জামান

আচ্ছা, তাহলে তো বেশ ভালো কথা।

(প্রসঙ্গ পালটে)

গতকালের আলোচনায় আপনার একটা কথা আমার খুব মনে ধরেছে। আপনি বলেছিলেন, দেশে যেন যৌন চর্চা স্বাধীণ করা হয়, একসিলেন্ট ভাবনা!

একটি সিগারেট ধরায়, আরেকটি কবিরের দিকে বাড়িয়ে দেয়, কবির নেয় না, হাত নামিয়ে নেয় জামান।

জামান (CONT`D)

ভেবে দেখলাম এর ফলে বর্তমানে নারী পুরুষের মধ্যে পরস্পরের প্রতি যে অশ্লীল আকর্ষন বিদ্যমান তা একেবারেই থাকবে না। এতে করে দেশে নারীর উপর যে যৌন অত্যাচার হয় তাও কমে আসবে এবং দেশে পতিতালয়ের কদর থাকবেই না বলতে গেলে।

কবিরের দিকে মুখ বাড়িয়ে দেয় জামান।

জামান (CONT`D)

কেননা তখনতো আর বিবাহবর্জিত সম্পর্ক অবৈধ নয়, যৌন চাহিদাও লজ্জা বা লুকানোর ব্যাপার নয়।

পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে জামান।

জামান (CONT`D)

কবির ভাই, শুনছেন তো?

কবির কোন কথা না বলে চুপচাপ থাকে এবং কথা যে শুনছে এর প্রমাণ স্বরূপ দোলা থামায়।

জামান (CONT`D)

তো ভাই যা বলছিলাম, আমাদের মত গরীব এবং অশিক্ষেতের দেশে এরকম উঁচু স্তরের ভাবনা কিন্তু একদিনে সবার দ্বারা গৃহীত হবে না, এর জন্য সংগ্রাম চালাতে হবে বহুদিন।

থেমে দম নেয় জামান। কবির এক দৃষ্টিতে জামানের দিকে তাকিয়ে থাকে।

জামান (CONT`D)

এবং তার আগ পর্যন্ত যাদের যৌন চাহিদা পরিপূর্ণ ভাবে পূরণ হয় না, হোক বিবাহিত বা অবিবাহিত, তাদের কিন্তু পতিতালয় ছাড়া গতন্তর নেই। এক্ষেত্রে আবার নারীরা এ সুজোগ পাবে না, তাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে সেই সুদিনের জন্য যেদিন যৌন হবে অবাধ।

কবির চুপ থাকে। জামান প্রসঙ্গ পাল্টায়।

জামান (CONT`D)

আজ না আপনার আর সোহেল ভাইয়ের যাবার কথা, বিশেষ কাজে, গিয়েছিলেন নাকি?

কবির

(রূঢ় গলায়)

জামান ভাই যদি একটু চুপ থাকতেন তো ভালো হয়, আমার প্রচন্ড মাথা ব্যাথা।

জামান

(অপমানিত)

অ, আচ্ছা। সরি ডির্স্টাব করার জন্যে, আজ তবে উঠি।

কবির

আচ্ছা যান।

CUT TO

SEQUENCE 02

EXT – IN FRONT OF OLD BOOK SHOP – DAY

জামান দোকান থেকে বের হতেই সোহেলের সাথে দেখা হয়।

সোহেল

কি ব্যাপার? আজ এতো তারাতারি চলে যাচ্ছেন?

জামান

কি করব আর। কবির ভাইয়ের দেখলাম মন মেজাজ বিশেষ সুবিধার নয়।

সোহেল

তা তো থাকবেই না, অন্তত এরকম পরিস্থিতিতে...

(প্রসঙ্গ পালটে)

চলেন চা খেয়ে আসি।

CUT TO

SEQUENCE 03

EXT – TEA STALL – DAY

দুজন বসে আছে। দোকান থেকে ভেসে আসছে গান, “যৌবন আমার লাল টমেটো...” দোকানদার চা দেয়।

জামান

(দোকানদারকে)

সাউন্ডটা কমিয়ে দেন।

মাথা ঝাকিয়ে দোকানদার চলে যায়।

সোহেল

কি আর বলব, গিয়েছিলাম, জানেন তো?

জামান

হ্যা শুনেছি, কাজ হয়েছে?

সোহেল

কি করে যে বলি। আচ্ছা বলেই ফেলি, কাউকে বলবেন না প্লীজ।

জামান

(মৃদু হাসে)

আচ্ছা বলব না।

সোহেল

(উত্তেজিত)

মাসে যাই একবার, তাও যদি কাজ না হয় তো কেমন লাগে বলেন তো ভাই?

জামান

অবশ্যই খারাপ লাগে।

সোহেল

গিয়ে শুনি মেয়ে শর্ট, টাকা নাকি বেশি লাগবে। কোন রকমে দালালকে ম্যানেজ করে আমি আর কবির মেয়ে চয়েস করছি......

সোহেল চুপ হয়ে যায়, জামান আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকে।

সোহেল (CONT`D)

এমন সময় দেখি সেখানের এক ঘর থেকে.....

জামান

কী?

সোহেল

(অনুরোধ)

কাউকে বলবেননা ভাই।

জামান

আরে ভাই বলেন তো।

সোহেল

(গলা নামিয়ে)

দেখি এক ঘর থেকে কবিরের আব্বা কাম সেরে বের হল।

জামান

(চিৎকার)

কি বলেন!

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জামান।

জামান (CONT`D)

(হতাশায়)

কবে যে দেশে যৌন চর্চা অবাধ হবে!

SEQUENCE 04

INT – KABIR’S HOUSE – EVINING

সিড়ি দিয়ে কবির উঠে, দরজার সামনে দাড়ায়, মুখে দ্বিধার ছাপ। কলিং বেলে হাত দিয়ে থাকে, কিন্তু বাজায় না। হঠাৎ হাতের চাপ লেগে কলিং বেল বাজে।

কবিরের বাবা

কে? (V.O)

কবির চুপ থাকে ও ঘামে।

কবিরের বাবা

(অধৈয্য হয়ে জোরে বলে)

কে? (V.O)

কবির দ্রুত সিড়ি দিয়ে নেমে যায়।

CUT TO

SEQUENCE 05

EXT – RAIL STATION – EVINING

কবির দাঁড়িয়ে রেল স্টেশনের ব্যাস্ততা দেখে। সামনে দিয়ে ট্রেন চলে যায়। কবির রেল লাইনে নেমে ট্রেনের পেছনে হাটে। ধীরে ধীরে কবির ও ট্রেনের দূরত্ব বাড়ে। কবির হাটার গতি বাড়ায়, কিন্তু ট্রেনের সাথে তার দূরত্ব বেড়েই চলে। এক সময় ট্রেন ছোট হতে হতে দূরে অদৃশ্য হয়ে যায়। ক্লান্ত কবির ধীর গতিতে হাটে। এক সময় সেও রেল লাইনের এক বাকে হারিয়ে যায়।

FADE OUT

মন্তব্য ২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই মে, ২০১৩ সকাল ৮:৫৮

মুর্তজা হাসান খালিদ বলেছেন:

এই ফিল্মের ম্যাসেজ তাইলে কি?

২| ০৯ ই মে, ২০১৩ রাত ১১:০২

অর্যমা বলেছেন: সেটা দর্শকের নিজস্ব ব্যাপার, তিনি কি ম্যাসেজ পেলেন। আমি কেবল অবস্থাটা তুলে ধরলাম, ম্যাসেজ দেয়া আমার কাজ নয়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.